০১:০৯ পি.এম
কিশোরগঞ্জ ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুককে পার্সেল পাঠিয়ে কাফনের কাপড় ও চিরকুটে প্রাণনাশের হুমকিদাতাদের অবশেষে প্রাথমিক ভাবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। গত ১৯ জুলাইয়ের ওই চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ, কল ট্র্যাকিং ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভৈরব পৌরসভারই কর্মরত একটি স্বার্থান্বেষী চক্রের জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আজ মঙ্গলবার ভৈরব পৌরসভা, ভৈরব থানা পুলিশ সহ কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে এই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা জানা যায়।
জিডির তদন্ত কর্মকর্তা,ভৈরব শহর ফাঁড়ি পুলিশের উপ- পুলিশ পরিদর্শক এসআই নুরুল হুদা জানান, আমরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করিতেছি,ইতিমধ্যেই পুলিশের বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে কয়েকজনকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।, আরো যারা সম্পৃক্ত আছে তাদের কে চিহ্নিত করার কাজ চলমান রয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তার কাজে বাধা সৃষ্টি এবং তাকে মানসিকভাবে আতঙ্কিত করতে ভৈরব পৌরসভারই একটি চক্র এই কান্ড ঘটিয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের স্বার্থে তাদের নাম এখনই আমরা বলতে চাচ্ছি না।
পুলিশ সূত্রে আরো জানাযায়, গত ১৯ জুলাই ভৈরব এসএ পরিবহণের মাধ্যমে পাঠানো হুমকি সংবলিত পার্সেলটির উৎস অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। কুরিয়ার তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পৌরসভা কার্যালয়ে সক্রিয় একটি বিশেষ চক্র এই ঘটনার নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করেছে। অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তারা ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুককে ভয়ভীতি দেখাতে এই পথ বেছে নিয়েছেন যাতে তাদের উদ্দেশ্য সফল করার জন্য।
দীর্ঘ চার বছর ধরে ভৈরব পৌরসভায় সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসা ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফারুক বলেন, পৌরসভার কোন বেআইনি আবদার ও দুর্নীতি প্রশ্রয় না দেওয়ায় একটি সুবিধাবাদী চক্র ক্ষিপ্ত হয়ে এই জঘন্য কান্ডটি ঘটিয়েছে। পুলিশ অপরাধীদের চিহ্নিত করায় আমি এবং আমার পরিবার স্বস্তি বোধ করছি, সে যেই হোক দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি করছি।
অপরদিকে, এই কর্মকর্তাকে হুমকি দাতাদের নাম পুলিশ এবং পৌর কর্মকর্তা না বলতে চাইলেও বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যাদের নাম তারা হলেন, ভৈরব পৌরসভা ট্রেড লাইসেন্স শাখার কম্পিউটার অপারেটর ১। মোঃ আল-আমিন ও পৌর অডিটোরিয়ামের ইনচার্জ
রাকিব হাসান সহ আরো একজনের নাম মূল অভিযুক্তকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, ঘটনার পর হইতে এই তিনজন সহ আরো বেশ কয়েকজন পৌরসভায় অনুপস্থিত রয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে পুলিশের গ্রেপ্তারের ভয়ে তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
ভৈরব পৌর সভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে,এম মামুনুর রশিদ জানান, অপরাধী যারা তাদের তথ্য পাওয়া গিয়েছে, বিষয়টি আইনগত ভাবে ব্যবস্হ্যা নিতে পুলিশ প্রশাসন কে বলা হয়েছে, পাশাপাশি পৌরসভার প্রসাশনের পক্ষ থেকে পৌর আইনে তাদেরকে যে প্রক্রিয়ায় বাতিল করা যায় আমরা সেই দিকে আগাচ্ছি।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়া এলাকায় মোঃ ফারুকের স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে আশুগঞ্জের হরিদাস নামে এক ব্যক্তির প্রেরিত এসএ পরিবহণের একটি পার্সেল আসে। ঐ সময় এই কর্মকর্তা তার দাপ্তরিক কাজে ভৈরব পৌরসভায় ব্যস্ত ছিলেন। তাঁর ছেলে পার্সেলটি গ্রহণ করে খুলে ভেতরে ১ গজ সাদা কাফনের কাপড়, গোলাপ জল, আগরবাতি এবং এক মাসের মধ্যে ভৈরব ছেড়ে না দিলে ‘পরিণতি ভয়ংকর হবে’ সংবলিত একটি চিরকুট পায়। ঘটনার পরপরই ভৈরব থানায় উক্ত পৌরসভার কর্মকত্তা একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন যার নং - ৮৮০/১৯-০৭-২৬ইং।
এলাকার স্থানীয়রা বলছে পৌরসভার এই ধরনের ঘটনা এই প্রথম, এদেরকে যদি শাস্তির আওতায় না আনা হয় তাহলে ভবিষ্যতে আরো বড় ধরনের অপরাধ সংগঠিত হতে পারে বলে মনে করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন