০৬:২৩ এম
কক্সবাজারে বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের ফলে একটি মুখপোড়া হনুমান এবং ১২টি কচ্ছপ উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। এ অভিযানের সময় পাচারকারী চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোকে দেশের বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল বলে বনবিভাগ জানিয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৫টার দিকে, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের অধীনে চুনতি বনরেঞ্জের একটি বিশেষ দল কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ভাঙ্গারমুখ বাজার এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালানোর মাধ্যমে এসব বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে।
অভিযানটি নেতৃত্ব দেন চুনতি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ। আটক ব্যক্তিটি হচ্ছেন মো. হাদিস রহমান (৪০)। তিনি ঢাকা জেলার মিরপুর-১১ নম্বরের রোড নং-৩ কাঁচাবাজার সংলগ্ন এলাকায় বাস করেন।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
বনবিভাগ গণমাধ্যমকে জানাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে বিরল ও সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছিল। গোপন খবরের ভিত্তিতে বনবিভাগ জানতে পারে যে, চকরিয়ার একটি বাড়িতে পাচারের উদ্দেশ্যে কয়েকটি বন্যপ্রাণী মজুদ করে রাখা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে একটি মুখপোড়া হনুমান এবং ১২টি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়।
একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে হাদিস রহমানকে আটক করা হয়। চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলো সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর তালিকাভুক্ত। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে মামলা করা হয়েছে এবং পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াসিন নেওয়াজ জানান, বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী শিকার, হত্যা, আটক, ক্রয়-বিক্রয় ও পাচার গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। এর জন্য অপরাধের ধরন ও প্রাণীর গুরুত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১২ বছর কারাদণ্ড এবং ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, একটি শক্তিশালী সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের বন থেকে বন্যপ্রাণী সংগ্রহ করে ঢাকা হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীগুলোকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে বনবিভাগ জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন