মোঃ মাইদুল ইসলাম ভূরুঙ্গামারী কুড়িগ্রাম
১০:১৬ এম
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের চর খলিশাকুড়ি এলাকায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে, পুলিশ ও বিজিবির যৌথ অভিযানে ১৫ ফুট উচ্চতার একটি পরিপক্ব গাঁজাগাছ, গাঁজা সেবনের সরঞ্জামসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি মো. মজনু আলম (৫৫)কে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া মজনু আলম চর খলিশাকুড়ি (২ নম্বর ওয়ার্ড) গ্রামের মৃত নজির উদ্দিনের ছেলে বলে জানা যায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ভূরুঙ্গামারী থানার পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা চর খলিশাকুড়ি এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে মজনু আলমের বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার একটি পরিপক্ব গাঁজাগাছ এবং গাঁজা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মজনু আলম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় দুই যুবকের হাতে কামড় দিয়ে তিনি রক্তাক্ত হন। তবে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যদের তাৎক্ষণিক তৎপরতার কারণে তাকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুন এবং বিজিবির সোনাহাট কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. ফরিদুল ইসলাম খান। ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন আরও বলেছেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক নির্মূলে পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত মজনু আলমের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদারভাবে চলবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের সেলিম মিয়া হত্যা মামলার ৮ আসামিকে পঞ্চগড় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার (২৭ জুলাই) রাতে র্যাব-৯ (সুনামগঞ্জ) ও র্যাব-১৩ (নীলফামারী) এর একটি যৌথ টিম পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলার উত্তর গড়গড়িকান্দি গ্রামের কাজল মিয়া (৪০), ফুল মিয়া (৩০), দুলাল মিয়া (৩৮), হিরন মিয়া (৪৪), রাজিক মিয়া (৩৯), আতিক মিয়া (৩৪), আশিক মিয়া (৩৭) এবং রাজু মিয়া (২৪)।
র্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানিয়েছেন, জগন্নাথপুর থানার উত্তর গড়গড়িয়া গ্রামে সেলিম মিয়া হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের পঞ্চগড় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং এই মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, গত ১০ জুলাই জগন্নাথপুর উপজেলার উত্তর গড়গড়িয়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে জিয়াউল হক এবং একই গ্রামের মৃত ইসমাইল মিয়ার ছেলে জমির আলীর মধ্যে পূর্ব বিরোধের কারণে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় সেলিম মিয়া নিহত হন। এই ঘটনায় জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন বিদেশি হিউম্যানয়েড রোবট আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। মঙ্গলবার ঘোষিত এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় দুই ও চার পায়ের মানবসদৃশ বা উন্নত মানের যেকোনো নতুন রোবট যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না। বিশ্বের বৃহত্তম রোবট উৎপাদক দেশ হিসেবে এই সিদ্ধান্তের কারণে মূলত চীনই সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে।
রোবট আমদানির পাশাপাশি ডেটা সেন্টার ও সৌর প্যানেলে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ পাওয়ার ইনভার্টার আমদানিতেও মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রেনডান কার জানান, আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খলকে সুরক্ষিত রাখতেই এসব পণ্যকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের আশঙ্কা, বিদেশ থেকে আসা এসব ইনভার্টারের মাধ্যমে দূর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অচল করা অথবা ডেটা চুরি করা সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে মানবসদৃশ রোবটের মাধ্যমে আমেরিকানদের উপর নজরদারি চালানো, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা, কিংবা সাইবার হামলার মাধ্যমে রোবটগুলোর নিয়ন্ত্রণ হাতিয়ে নেওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এমনটি মনে করছে তারা। তবে এফসিসি স্পষ্ট করেছে, যেসব মডেলের রোবট আগেই অনুমোদিত হয়েছে, সেগুলো বিক্রিতে এই নির্দেশ বাধা হবে না।
মার্কিন সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীন দূতাবাস। তারা জানিয়েছে, বাণিজ্য সম্পর্কিত বিষয়কে রাজনীতিভুক্ত করা এবং ভিত্তিহীন অজুহাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার দীর্ঘদিনের বিরোধিতা করে আসছে বেইজিং। তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই আধিপত্যবাদী মানসিকতা ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় চীন প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে মানবতার কল্যাণে ব্যবহারের জন্য সব দেশকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইদানীং কলকারখানা ও গৃহস্থালির কাজের উপযোগী মানবসদৃশ রোবট তৈরিতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করছে। এমনকি ইলন মাস্কের টেসলা কিংবা বস্টন ডায়নামিকসের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিযোগিতায় পেছনে ফেলে তারা ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে নিজেদের উপস্থিতি বিস্তার করতে শুরু করেছে।
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলা ঘটেছে, যাতে একজন নিহত হয়েছে। এই ঘটনার পর ইউক্রেন ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়েছে। ইউক্রেন বলছে, হামলাটি অনিচ্ছাকৃত ছিল।
ইরান এ ঘটনার পর ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। একই সঙ্গে উভয় দেশই পরিস্থিতি উত্তপ্ত না করার ইঙ্গিতও দিয়েছে।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি জানান, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার সঙ্গে তাঁর টেলিফোনে কথা হয়েছে। ওই আলোচনায় ইউক্রেন জানায়, ইরানি জাহাজে হামলাটি ছিল অনিচ্ছাকৃত এবং কিয়েভ সংঘাতের পরিস্থিতি আরো জটিল করতে চায় না।
আরাঘচি বলেন, ইরান উত্তেজনা বাড়ানোর পক্ষে নয়, তবে ইরানের নাগরিক কিংবা দেশের স্বার্থের ওপর হামলা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি জানান, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অনিচ্ছাকৃত ভুলের কথা বলা হলেও, এতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। সুতরাং, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এক্সে লিখেছেন, তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি ও খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তিনি রাশিয়ার প্রতি ইরানের সব ধরনের সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানান। সিবিহা দাবি করেন, ইউক্রেনের সব সামরিক পদক্ষেপ শুধুমাত্র রাশিয়ার চলমান আগ্রাসনের জবাব হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। তিনি পরিষ্কার করে বলেন, বেসামরিক জাহাজ বা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করা ইউক্রেনের উদ্দেশ্য নয়। এ যুদ্ধের অবৈধতার বিষয়েও সিবিহা মন্তব্য করেছেন।
তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন এবং রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় ইরানকে আর কোন ধরনের সহায়তা না দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, যুদ্ধে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় বসবাসের অধিকার মানুষের রয়েছে। এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইউক্রেন একাধিক হামলা চালিয়েছে। কাস্পিয়ান সাগর অঞ্চলও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইরানি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হলেও ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানোর বিষয়টি আলোচনা কেন্দ্রে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ফেসবুক পোস্ট সীমাবদ্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় ভারত সরকার মেটার ওপর চাপ বাড়িয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা জানতে প্রতিষ্ঠানটির এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে তলব করেছে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (মেইটি)।
সরকারের দাবি, মেটা ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেও তাদের দেওয়া ব্যাখ্যা যথেষ্ট নয়। ঘটনাটি ২৩ জুলাই শুরু হয়। ওইদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি সেলফি ভিডিও প্রকাশ করেন এবং সেটি ফেসবুকে শেয়ার করা হয়।
ভারতের তরুণদের উদ্দেশে এটি ছিল তার প্রথম সরাসরি সেলফি ভিডিও। ভিডিওতে তিনি পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেন এবং জানান, সরকার এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু ভিডিওটি ফেসবুকে প্রকাশের কিছু সময় পর সেটি সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, যার ফলে অনেক ব্যবহারকারী পোস্টটি দেখতে পারেননি।
এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পরে মেটা জানায়, এটি তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়নি। তাদের দাবি, স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট ফিল্টারের একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির জন্য ভুলবশত পোস্টটি সীমাবদ্ধ হয়। পরে সেটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং প্রকাশ্যে দুঃখও প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে সরকারের অবস্থান ভিন্ন। তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস কৃষ্ণান বলেন, মেটা ভুল স্বীকার করেছে, এটি ইতিবাচক। কিন্তু শুধুমাত্র ক্ষমা চাইলেই বিষয়টি শেষ হয়ে যায় না। সরকার জানতে চায়, কীভাবে এমন ভুল হলো এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার ভাষায়, 'তারা ক্ষমা চেয়েছে এবং বলেছে যে ভুল হয়েছে। কিন্তু তাদের দেওয়া ব্যাখ্যায় আমরা সন্তুষ্ট নই। আমাদের আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।'
সরকারি সূত্রের দাবি, এ ঘটনায় মেটার বৈশ্বিক জননীতি বিভাগের প্রধানকে মেইটিতে তলব করা হয়েছে। সেখানে পুরো ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। সূত্রগুলো জানায়, মেটা সরকারকে জানিয়েছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট ফিল্টার প্রধানমন্ত্রী মোদির মূল পোস্টসহ সেটি শেয়ার করে তৈরি হওয়া অন্যান্য পোস্টও যাচাই করছিল। এই সময় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভুল করে মূল পোস্টটিও সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি মেটা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে রাষ্ট্রপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে।
কিন্তু সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা বলে দায় এড়ানো উচিত নয়। তাদের মতে, যদি সত্যিই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কারণে এমন ভুল হয়ে থাকে, তখন মেটার উচিত দ্রুত তাদের প্রযুক্তিকে আরো উন্নত করা। কারণ কোটি কোটি মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে থাকা একটি প্ল্যাটফর্মে এমন ভুল হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার আরো জানিয়েছে, এটি প্রধানমন্ত্রী মোদির একটি পোস্টের বিষয় নয়। প্রধান প্রশ্ন হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভারতের আইন মেনে চলছে কি না। সরকার নিশ্চিত হতে চায়, মেটার বৈশ্বিক নীতিনির্ধারকরা ভারতের উদ্বেগ সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত আছেন এবং স্থানীয় টিম সেসব বিষয় যথাযথভাবে জানাচ্ছে। এদিকে, বিজেপি নেত্রী প্রীতি গান্ধী প্রথম এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। তিনি ফেসবুকে পোস্ট সীমাবদ্ধ করার ঘটনার সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিডিও কেন সীমাবদ্ধ করা হলো।
এক্সে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ভারতের মানুষ কী দেখবে আর কী দেখবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার মেটাকে কে দিয়েছে। তার অভিযোগ, এই ঘটনা মেটার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির ওই ভিডিও প্রকাশের সময় দেশজুড়ে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছিল। ভিডিওতে তিনি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন একটি বিল সংসদে আনা হবে। পরদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেই বিলে মূল বিষয়গুলোর ওপর আলোচনা হওয়ার কথাও তিনি জানান। পরে ২৫ জুলাই আন্দোলনকারী সংগঠন তাদের ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের আরও কয়েকটি দাবি সরকার মেনে নেওয়ার পর তারা এ সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে, মেটাকে ঘিরে সরকারের নজরদারি বেড়েছে। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ব্যবহারকারী নাম (ইউজারনেম) সুবিধার প্রস্তাব নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে নোটিশ দিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। সরকারের আশঙ্কা, এই সুবিধা চালু হলে অনলাইন প্রতারণা, ফিশিং, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং ডিজিটাল জালিয়াতির ঘটনা বাড়তে পারে। এ ছাড়া ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্টের বিজ্ঞাপন প্রকাশের অভিযোগে মেটাকে কঠোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, জনমত গঠন ও তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখছে। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে এসব প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি, স্বচ্ছতা, ব্যবহারকারীর অধিকার এবং আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতে সরকার আরো কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাইবার বিশেষজ্ঞ পবন দুগ্গল বলেছেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটির অজুহাত দেখিয়ে কোনও প্ল্যাটফর্ম ভারতীয় আইন এড়িয়ে যেতে পারে না। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবার ব্যবহার যত বাড়বে, ততই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিও বাড়াতে হবে। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে সংসদীয় একটি কমিটি আগামী ৩ আগস্ট ইনস্টাগ্রামসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের তলব করেছে। একই বৈঠকে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদেরও উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ