০৫:০১ পি.এম
লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পুলিশের দমন-পীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির ছাত্রদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিপুলসংখ্যক ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থক আহত হওয়ার পর রাহুল গান্ধী এ কথা বলেন।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস দলের সাংসদরা দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তিনি তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া নৃশংসতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি চান।
রাহুল গান্ধী বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ ভুল। দেশের তরুণদের সঙ্গে এভাবে আচরণ করা যায় না। তাদের ভবিষ্যৎ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন, আর সেই কারণেই তারা রাস্তায় নেমেছে।’ তাঁর মতে, শিক্ষার্থীরা শুধু শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নয়, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব বেড়েছে এবং এর ফলে তরুণদের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
তিনি আরো বলেন, ‘এটি শুধু শিক্ষা খাতের বিষয় নয়, বরং দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। তাই ছাত্রদের কণ্ঠস্বর শোনা উচিত এবং তাদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে।’
লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে ভর্তি আহত বিক্ষোভকারীদের দেখতে যাবেন। বিক্ষোভে আহতদের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তিনি হাসপাতালে যাওয়ার কর্মসূচি নিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে দলটি জানিয়েছে, তারা আর সংসদ অভিমুখে নতুন করে কোনো পদযাত্রা করবে না।
মঙ্গলবার দলের প্রধান অভিজিৎ দীপকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
তিনি বলেন, দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিপুলসংখ্যক সমর্থক আহত হওয়ার পর দল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য এখন আর কোনো আন্দোলনকারী, বিশেষ করে তরুণদের, ঝুঁকির মুখে না ফেলা। সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে আহত হওয়া ঘিটোর্নির ২৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বর্তমানে দিল্লির লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ (এলএইচএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হালকা আহত কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চোখে পেলেটের আঘাত পাওয়া আরেক বিক্ষোভকারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এ স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সিজেপির বিক্ষোভ চলাকালে আহত এক তরুণী দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে ভেন্টিলেটরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার আঘাতের কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং সরকারের জবাবদিহির দাবিতে হাজারো বিক্ষোভকারী সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করেন। মিছিল আটকে দিতে দিল্লি পুলিশ ব্যারিকেড বসায়। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সভাপতি অভিজিৎ দীপকে বিক্ষোভে আহত সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, পুলিশের পদক্ষেপে অনেক বিক্ষোভকারী, বিশেষ করে তরুণীরা, মারধরের শিকার হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দীপকে বলেন, আহত সমর্থকদের আরো ভালোভাবে সুরক্ষা দিতে না পারায় তিনি দুঃখিত। তিনি দাবি করেন, দিল্লি পুলিশের আচরণ ছিল অমানবিক এবং তাদের রক্ষা করতে তিনি আরো বেশি কিছু করতে পারতেন।
পোস্টে তিনি আরো অভিযোগ করেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রক্ষা করতে গিয়ে সরকার বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দীপকে আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে এবং তাদের কাছে ক্ষমা চাইতে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’
আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন