০২:৫১ পি.এম
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিসিক শিল্প নগরীর একটি সিলগালাকৃত গুদাম থেকে প্রশাসনের জব্দ করা প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের ৯৯ মেট্রিক টন নিষিদ্ধ কীটনাশক উধাও হয়ে গেছে। এই ঘটনায় রহস্য উন্মোচনের জন্য বিসিকের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল তদন্ত শুরু করেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তিন সদস্যের এই তদন্ত দল দুর্ঘটনাস্থল, সংশ্লিষ্ট গুদাম এবং আশেপাশের এলাকা সরজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
বিসিকের পরিচালক আরিফুল হকের নেতৃত্বে এই তদন্ত দলে ছিলেন জেনারেল ম্যানেজার ফরহাদ হোসেন ও সারোয়ার হোসেন। তদন্ত কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর উপ-পরিচালক নুরেল হক, সৈয়দপুর বিসিকের শিল্প নগরী কর্মকর্তা মশিউর রহমান, শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম মিন্টু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ এবং থানা পুলিশের প্রতিনিধিরা।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ জুন সৈয়দপুর বিসিক কার্যালয়ের সামনের একটি গুদাম থেকে সরকারঘোষিত নিষিদ্ধ এসিআই কোম্পানির 'বিফার ৫ জি' বালাইনাশক গোপনে সরিয়ে ফেলার সময় অভিযান চালায় প্রশাসন। তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), কৃষি কর্মকর্তা, র্যাব ও পুলিশের উপস্থিতিতে পরিচালিত সেই অভিযানে ট্রাকে লোড করা এবং গুদামে রাখা মোট ৯৯ মেট্রিক টন কীটনাশক জব্দ করা হয়। পরে সব কীটনাশক ওই গুদামে রেখে তা সিলগালা করে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: গোমস্তাপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ১৮ বস্তা সার জব্দ ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা
উক্ত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এসিআই কোম্পানির স্থানীয় ডিলার 'মেসার্স মনোয়ার ট্রেডার্স'-এর স্বত্বাধিকারী মনোয়ার হোসেন সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৫৬ দিন জেল খাটার পর বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন এবং মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। গুদামের মূল চাবিটি হস্তান্তরিত হয়েছিল মামলার বাদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণের জিম্মায়।
পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে গত ২৯ জুলাই (২০২৬) জব্দকৃত ওই বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কীটনাশক ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে নীলফামারীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হাসান বিসিকের সিলগালা গুদামে যান। কিন্তু গুদামের তালা খুলে দেখা যায়, ৯৯ মেট্রিক টন কীটনাশকের পুরো চালানটিই গায়েব হয়ে গেছে। ভেতরে মেঝেতে ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় পড়ে ছিল মাত্র ১২৩টি ছেঁড়া-ফাটা এক কেজির প্যাকেট। পরে সেই কয়টি প্যাকেট বিসিক কর্মকর্তার জিম্মায় রেখে গুদামটি পুনরায় তালাবদ্ধ করা হয়।
গুদাম থেকে মালামাল উধাও হওয়ার বিষয়ে মেসার্স মনোয়ার ট্রেডার্সের মালিক মনোয়ার হোসেন সরকার জানান, 'আমার জব্দকৃত মালামাল সিলগালা অবস্থায় ছিল। কে বা কারা সেখান থেকে কীটনাশক সরিয়েছে তা আমার জানা নেই।'
গণমাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশের পর বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতরভাবে নেয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিসিকের তিন সদস্যের এই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় তিনজন গ্রেপ্তার
তদন্ত শেষে কমিটির প্রধান বিসিক পরিচালক আরিফুল হক বলেছেন, 'আমরা সার্বিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি এবং সরজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছি। সংগৃহীত সব তথ্য পর্যালোচনা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। যেহেতু এটি বিসিকের একটি অভ্যন্তরীণ বিভাগীয় তদন্ত, তাই এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন