০৪:২৪ পি.এম
গত ২২ জুন, ২০২৬ তারিখে অনলাইন ডেস্ক থেকে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্তির জবাব হিসেবে চীন প্রতিরক্ষা ও বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) খাতের সঙ্গে জড়িত ১০টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের একমাস আগে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শুল্ক কমানোর বিষয়ে কাজ করার ব্যাপারে সম্মত হওয়া সত্ত্বেও প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে বিরোধ এখনো বিদ্যমান। সম্প্রতি, ওয়াশিংটন ৮০টি চীনা কোম্পানি এবং তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি নতুন কালো তালিকা প্রকাশ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবির ভিত্তিতে, এসব প্রতিষ্ঠান চীনের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করছে। এই তালিকায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আলিবাবা, বাইদু এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডির নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানি
এর জবাবে, চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের ‘চীনা সামরিক প্রতিষ্ঠান’ তালিকা সম্প্রসারণের প্রতিক্রিয়া হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে। বেইজিংয়ের মতে, এই পদক্ষেপ জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য গৃহীত হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা মার্কিন কম্পানির মধ্যে রয়েছে অ্যাভক্স, ওশকোশ ডিফেন্স, এমপি মেটেরিয়ালস এবং ইউএসএ রেয়ার আর্থ।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ধরনের ব্যবহারযোগ্য পণ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, চলমান সব ধরনের সংশ্লিষ্ট রপ্তানি কার্যক্রমও অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে যে, চীনের নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ মার্কিন সরকারের তথাকথিত চীনা সামরিক প্রতিষ্ঠান তালিকায় আরও প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্তির জঘন্য কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া। এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, এই পদক্ষেপ ‘জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার’ জন্য পরিচালক নিয়ে গৃহীত হয়েছে।
এই ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অ্যাভক্সও রয়েছে, যার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে মহাকাশ প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে এবং ওশকোশ ডিফেন্স সামরিক যানবাহনের একটি বহর তৈরি করে। এই তালিকায় মার্কিন বিরল মৃত্তিকা উৎপাদক এমপি ম্যাটেরিয়ালস এবং ইউএসএ রেয়ার আর্থও উল্লেখ রয়েছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের কিউবা পরিকল্পনা, ইরান থেকে ফেরার পথে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ইঙ্গিত
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে যে, রপ্তানিকারকদের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য সরবরাহ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং চলমান যেকোনো প্রাসঙ্গিক রপ্তানি কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা ‘যেকোনো দেশ বা অঞ্চলের সংস্থা বা ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে... যারা চীন থেকে উদ্ভূত দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থানান্তর বা সরবরাহ করে।’
চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে যুক্ত সংস্থাগুলো এখন থেকে ৪৬টি মার্কিন কম্পানির তৈরি পণ্য কিনতে পারবে না। এই তালিকায় বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানি লকহিড মার্টিন, রেথিয়ন এবং বোয়িংয়ের প্রতিরক্ষা বিভাগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া, জেনারেল ডাইনামিক্স এবং অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজ সহ যুক্তরাষ্ট্রের আরো কয়েকটি প্রধান সামরিক ঠিকাদার ও মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, চীনে কর্মরত মার্কিন বিনিয়োগ থাকা কম্পানিগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। এই নতুন সিদ্ধান্ত সোমবার থেকেই কার্যকর হবে।
এর আগে, চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির কারণে এসব কোম্পানি ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ওপর আগেই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। বর্তমানে, তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের নিরাপত্তায় সমর্থন দিয়ে আসছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তাইওয়ানের জন্য প্রস্তাবিত ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ এখন পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। মে মাসে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করলেও বাস্তবে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বাবা-মেয়ের মৃত্যুর পর পুলিশের গাড়িতে হামলা ও বাসে আগুন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন