০৯:৪৮ পি.এম
বিশ্বের ১০০ কোটিরও বেশি শিশু জলবায়ুজনিত অন্তত তিনটি ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে ইউনিসেফ সতর্কতা প্রকাশ করেছে। সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্বের কিছু অঞ্চলে জিনিসগুলো তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি প্রভাবিত হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে, সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের এই সংস্থা একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় ২৪০ কোটি শিশুর বসবাসের স্থানের সাথে সম্পর্কিত আটটি জলবায়ুজনিত প্রভাবের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই আটটি প্রভাব হলো: উপকূলীয় বন্যা, নদীভিত্তিক বন্যা, খরা, ক্রান্তীয় ঝড়, তাপপ্রবাহ (যেখানে অন্তত টানা তিন দিন উচ্চ তাপমাত্রা থাকে, তবে দেশভেদে ভিন্ন হয়), চরম তাপমাত্রা, দাবানল ও বালুজড়।
প্রতিবেদনটিতে মূলত ১১০ কোটি শিশুর ওপর আলোকপাত করা হয়েছে, যারা অন্তত তিনটি ঝুঁকির সম্মুখীন। এর মধ্যে অধিকাংশ স্থানে সর্বাধিক মিল পাওয়া যায় এমন তিন ঝুঁকি হলো- খরা, চরম তাপমাত্রা (৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে) এবং তাপপ্রবাহ। এই তিনটির যৌথ প্রভাবে প্রায় ২৯ কোটি ৬০ লাখ শিশুকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এতে জড়িত রয়েছে নাইজেরিয়ার ৭ কোটি ৪০ লাখ, পাকিস্তানের ৩ কোটি ৪০ লাখ এবং ভারতের ৩ কোটি ২০ লাখ শিশু।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ বছরে এই ‘তিনটি বা তার বেশি’ ঝুঁকিতে থাকা শিশুর সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। বিশ্বের প্রায় সব শিশু অন্তত একটি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ২০০ কোটি শিশু অন্তত দুটি ঝুঁকির মুখে, যেখানে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ শিশু অন্তত চারটি ঝুঁকির সম্মুখীন। সাতটি বা তার বেশি জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে থাকা ১ লাখ ২৩ হাজার শিশুর মধ্যে প্রায় ৪৬ হাজার শিশুই রয়েছে মিয়ানমারে।
ইউনিসেফের প্রধান ক্যাথরিন রাসেল জানান, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ক্ষেত্রে শিশুরাই সবার আগে রয়েছে।’
শিশুদের জন্য সবচেয়ে খারপ পরিস্থিতি কোথায়- এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক টম স্লেমেকার এএফপি-কে জানান, ‘এর সংক্ষিপ্ত কোনো উত্তর নেই।’
স্লেমেকার আরও যোগ করে বলেন, ‘তবে সব অঞ্চল সমান নয়। কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র আমরা দেখতে পাই। এগুলো মূলত সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে বেশি কেন্দ্রীভূত।’
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের কিউবা পরিকল্পনা, ইরান থেকে ফেরার পথে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ইঙ্গিত
বাংলাদেশ, ভারত, নাইজেরিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো, যেখানে শিশু জনসংখ্যা বেশি, সেই দেশগুলো অন্তত তিনটি ঝুঁকির মুখে থাকা শিশুর সংখ্যা হিসাবে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। তবে শতকরা হারে সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলো, বিশেষ করে সাহেল অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অনেক ক্ষেত্রে জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের সীমিত সক্ষমতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটি বর্তমানে মানবিক সংকটে রয়েছে। সেখানে পানি, বিদ্যুৎ ও খাদ্যের প্রাপ্যতা সীমিত। প্রতিবেদনে উল্লিখিত যে, চাদের ৯৫ শতাংশের বেশি শিশু অন্তত তিনটি জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
বিশেষ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে যুক্ত রয়েছে আরও ৩৯টি দ্বীপরাষ্ট্র। এসব দেশের সামনে সীমিত মিঠাপানির উৎস, আমদানি নির্ভরতা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সহজে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ না থাকার মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বাবা-মেয়ের মৃত্যুর পর পুলিশের গাড়িতে হামলা ও বাসে আগুন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন