ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অনলাইন জুয়াকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে : অর্থমন্ত্রী


অনলাইন জুয়াকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

ডিজিটাল বেটিং এবং এর সাথে সম্পর্কিত আর্থিক অপরাধ দমনে সরকারের উদ্যোগ হিসেবে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬’-এর মাধ্যমে অনলাইন জুয়াকে ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ তথ্য জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ সংসদে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের প্রশ্নের জবাবে এমন তথ্য প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, চলতি বছরের ১০ এপ্রিলের ঘোষণা অনুযায়ী ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬’-এর ২০ ধারায় অনলাইন জুয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

অর্থমন্ত্রী আরো অবগত করেন, এই আইনের আওতায় সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার উদ্দেশ্যে কোনো পোর্টাল, অ্যাপ বা ডিভাইস তৈরি কিংবা পরিচালনা করা, অনলাইন জুয়ায় অংশগ্রহণ করা, এমন কার্যক্রমে সহায়তা বা উৎসাহ দেওয়া, জুয়ার প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়া এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়া-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের প্রচার বা বিপণন করা এসব শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে।

এই ধরনের অপরাধের জন্য দুই বছরের সর্বোচ্চ কারাদণ্ড, ১ কোটি টাকার অর্থদণ্ড কিংবা উভয় ধরনের দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, অনলাইন জুয়া এবং ডিজিটাল হুন্ডির কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত বা জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

তিনি জানান, সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর বিএফআইইউ অনলাইন জুয়া নিয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রস্তুত করে যা ২০২৬ সালের মে মাসে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর কাছে জমা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: নিউজিল্যান্ডের ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে আগাম ভোটগ্রহণ শুরু

এদিকে, সিআইডি এ ঘটনার উপরে একটি মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম এখন চলমান রয়েছে উল্লেখ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অনলাইন জুয়ার সাথে সম্পর্কিত লেনদেনের উপর বিএফআইইউ নজরদারি অব্যাহত রেখেছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য আরও গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে।

তিনি আরো জানান, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের ২৮ মে দেশের সকল মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জন্য একটি নির্দেশনা জারি করেছিল।

এ নির্দেশনায় এমএফএস সেবা প্রদানকারীদের মার্চেন্ট এবং গ্রাহকদের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে অনলাইন জুয়ার সাথে সম্পর্কিততা শনাক্ত করতে বলা হয়। যদি কোনো মার্চেন্ট বা গ্রাহক এ ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত থাকে তবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার নির্দেশ দেয়া হয়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার সুযোগ এসেছে: প্রধানমন্ত্রী

এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক অপরাধের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতন করতে নিয়মিত প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও সংসদকে অবহিত করেন অর্থমন্ত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশে পাচার হওয়া ঋণের অর্থ উদ্ধারে ৩০ ব্যাংকের উদ্যোগ : অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১৩ পি.এম


বিদেশে পাচার হওয়া ঋণের অর্থ উদ্ধারে ৩০ ব্যাংকের উদ্যোগ : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংক ঋণের অর্থ পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

আজ সংসদে কুড়িগ্রাম-১ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলামের টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের জন্য এটা একটি দেওয়ানি (সিভিল) প্রক্রিয়া। খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ব্যাংকগুলো ৯টি আন্তর্জাতিক আইনগত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর করে ‘নো উইন, নো ফি’ শর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

তিনি জানান, এসব আন্তর্জাতিক আইনগত প্রতিষ্ঠান অভিযুক্ত ঋণখেলাপিদের নামে বিদেশে থাকা অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদান করবে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, প্রথম পর্যায়ে ছয়টি মামলাকে কেন্দ্র করে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এগুলো হলো- সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা এবং ওরিয়ন গ্রুপ-সংক্রান্ত মামলা।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেক্সট স্কলারশিপে জাপানে মাস্টার্সে পরার সুযোগ পেয়েছেন খুবি ছাত্র নাঈম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ পি.এম


মেক্সট স্কলারশিপে জাপানে মাস্টার্সে পরার সুযোগ পেয়েছেন খুবি ছাত্র নাঈম

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী এস এম নাঈম জাপান সরকারের মর্যাদাপূর্ণ মেক্সট স্কলারশিপের আওতায় মাস্টার্সে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই) ডিসিপ্লিনের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় সুপারিশ ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হয়েছেন এবং জাপানের ইয়ামানাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে মাস্টার্স অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন।

জানা গেছে, নাঈম বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যাডভান্সড এআই অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস প্রায়োরিটি প্রোগ্রামের আওতায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবেন। তার গবেষণার বিষয় হবে স্মার্ট কৃষিতে অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) এবং ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর)-এর প্রয়োগ। তিনি মাও অ্যান্ড ঝু ল্যাবে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এই স্কলারশিপের মাধ্যমে তিনি শতভাগ টিউশন ফি মওকুফ, মাসিক ভাতা, যাতায়াতের বিমান ভাড়া, স্বাস্থ্যবীমা এবং গবেষণা সহায়তা পাবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে, নাঈম একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা, প্রযুক্তি এবং নেতৃত্বমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। তিনি জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, উদ্ভাবনী কার্যক্রম ও গবেষণায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি আই-ট্রিপল-ই খুলনা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট শাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রাউটার ক্লাবের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। একই সাথে, গ্রামীনফোন লিমিটেডে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেইনি হিসেবেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নাঈম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই আমি বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করেছি। একাডেমিক পড়াশোনা ছাড়াও গবেষণা, প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ আমাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করেছে। দীর্ঘ প্রস্তুতি, অধ্যবসায় এবং শিক্ষকদের দিকনির্দেশনার ফলস্বরূপ আমি এ সাফল্য অর্জন করেছি।’ ভবিষ্যতে জাপানে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে দেশের উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি খাতে অবদান রাখতে কাজে লাগাতে চান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালীগঞ্জের সেই আলোচিত সাইফুল হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ পি.এম


কালীগঞ্জের সেই আলোচিত সাইফুল হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের আলোচিত সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরই মধ্যে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। নিহত সাইফুল ইসলাম (৪৯) কালীগঞ্জের অলুয়া গ্রামের আলফাজ উদ্দিনের ছেলে ছিলেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. রেজাউল করিম (৫০), মো. নাঈম মিয়া (২৫) ও মো. আবু তাহের (৩২)। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আবু তাহের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মূল অভিযুক্ত রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ আরো জানায়, গত ২ জুন সকালে কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল বেড়িবাঁধ সড়কের পাশ থেকে সাইফুলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় ও মুখে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত ছিল। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বড় ভাই কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা ডিবি পুলিশকে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসা ও পূর্বশত্রুতার জেরে রেজাউল করিমের সঙ্গে সাইফুলের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জেরে ২ জুন রাতে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে সাইফুলকে নদীর তীরে একটি কলাবাগানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে কুপিয়ে হত্যা করার পর মরদেহ বেড়িবাঁধের পাশে ফেলে রাখা হয়। গাজীপুর জেলা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আবুল হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পকে ভর্ৎসনা করে মার্কিন কংগ্রেসে প্রতীকী প্রস্তাব পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১৮ পি.এম


ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পকে ভর্ৎসনা করে মার্কিন কংগ্রেসে প্রতীকী প্রস্তাব পাস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সিনেটে একটি প্রতীকী প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি হোয়াইট হাউসের জন্য তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার চেষ্টা করায় নতুন এক রাজনৈতিক ভর্ৎসনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, মঙ্গলবার সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে গৃহীত ওই প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছে, কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক অভিযানের অনুমোদন না দিলে যেন ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে মার্কিন বাহিনীকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়।

প্রস্তাবটি ‘কনকারেন্ট রেজল্যুশন’ হওয়ায় এটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য হোয়াইট হাউসে পাঠানো হবে না। ফলে, এর আইনগত কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

কিন্তু এর মাধ্যমে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে সেই যুদ্ধের বিরোধিতা করল, যা গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের ওপর হামলার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। সেই সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং লেবানন ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশকে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও ২০১৯ ও ২০২০ সালে যথাক্রমে ইয়েমেন ও ইরান-সংক্রান্ত সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ‘ওয়ার পাওয়ারস’ বিল পাস করেছিল কংগ্রেস। তবে ট্রাম্প সেগুলোতে ভেটো দেন এবং সিনেট সেই ভেটো অতিক্রম করতে ব্যর্থ ঘটেছিল।

মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ভোটাভুটির সমালোচনা করে এটি ‘ভুল সময়ে নেওয়া অর্থহীন সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি লেখেন, ‘এই সিনেটররা আমার কাজ আরও কঠিন করে তুলেছেন। কিন্তু আমি যেভাবেই হোক কাজটি সম্পন্ন করব, কারণ আমি সবসময়ই তা করে থাকি।’

এই ভোট এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রাথমিক সমঝোতা স্মারককে চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ দেওয়ার জন্য ৬০ দিনের কূটনৈতিক উদ্যোগ চালাচ্ছে। আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ।

সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ভোটাভুটির উদ্যোগ নেন। ট্রাম্পের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মিত্র যুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সমঝোতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পর তিনি রিপাবলিকানদের অবস্থান প্রকাশ্যে আনতে এই পদক্ষেপ নেন।

ভোটের আগে দেওয়া বক্তব্যে শুমার জানান, ‘রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের যুদ্ধ, গোপনীয়তা এবং ইরান-সংক্রান্ত বিপর্যয়কর চুক্তি নিয়ে বন্ধ কক্ষে যত খুশি সমালোচনা করতে পারে। কিন্তু এই যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হলে তাদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

এর আগে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদেও প্রস্তাবটি পাস হয়েছিল। সেখানে চারজন রিপাবলিকান সদস্য সব ডেমোক্র্যাট সদস্যের সঙ্গে একযোগে এর পক্ষে ভোট দেন, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও যুদ্ধসংক্রান্ত বিষয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিরল অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে ট্রাম্প সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।

১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, কোনো প্রেসিডেন্ট মার্কিন বাহিনীকে যুদ্ধে জড়ালে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়। যদিও উভয় দলের প্রশাসনই বিভিন্ন সময়ে এই আইনের প্রয়োগ নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে।

হোয়াইট হাউসের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা অসাংবিধানিক। তাদের মতে, ট্রাম্প ঘোষিত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

প্রশাসন আরও বলছে, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করলে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ও ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মাইক জনসন ভোটের আগে বলেন, আলোচনার সময় সেনাপ্রধানের ক্ষমতা সীমিত করা ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক সম্ভাবনা’।

তবে ডেমোক্রাট ও কিছু রিপাবলিকান সদস্যের মতে, সংঘাত আইনি সময়সীমার অনেক পর পর্যন্ত চলেছে এবং ট্রাম্প বারবার নতুন হামলার হুমকি দিয়েছেন।

যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও কংগ্রেসে উদ্বেগ বাড়ছে। এ সংঘাত বাণিজ্যপথে বিঘ্ন ঘটিয়েছে, জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে এবং নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন মার্কিন ভোটারদের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর থেকে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা দ্রুত এগিয়েছে। ওই চুক্তির লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা।

তবে এখনো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

মঙ্গলবার ইরান জানায়, গত বছর যুক্তরাজ্য ও ইসরাইলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থাকে দেওয়া হবে না। এর মাধ্যমে তারা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে, যেখানে তিনি বলেছিলেন তেহরান পরিদর্শকদের ফিরতে সম্মত হয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ইরান ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ের’ পারমাণবিক পরিদর্শন মেনে নিয়েছে।

এদিকে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ জানিয়েছেন, যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালীতে যে অবাধ নৌযান চলাচল ছিল, তা ‘আর কখনোই ফিরবে না’। যদিও প্রণালিটি সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে নতুন যোগাযোগব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%