০৪:৫৮ এম
যুক্তরাজ্য সরকার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে যাচ্ছে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই ঘোষণার ফলে তেহরানের সঙ্গে লন্ডনের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বছরের পর বছর ধরে চলা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভেদ শেষে, গত সোমবার (১৩ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত শক্তিশালী শাখাকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত জানায়।
এই পদক্ষেপটি আইআরজিসি-কে সরাসরি নিষিদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য, যদিও আইনি পরিভাষায় এটি কিছুটা ভিন্ন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন
একই সঙ্গে ব্রিটিশ মন্ত্রীরা ‘ইসলামিক মুভমেন্ট অব দ্য কমপেনিয়নস অব দ্য রাইট’ এবং রাশিয়ান ফেডারেশন ভলান্টিয়ার কর্পসকেও নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর মধ্যে আইএমসিআর-এর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে ইহুদি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে একাধিক হামলার অভিযোগ রয়েছে, অন্যদিকে জিআরইউ হচ্ছে রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি আন্তর্জাতিক শাখা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সমস্ত প্রমাণ সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, এই সংগঠনগুলো যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে আসা হুমকি বা বিদেশি শক্তি-সংশ্লিষ্ট হুমকিমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
তাই যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার্থে এদের নিষিদ্ধ করা জরুরি ও অপরিহার্য।
আরও পড়ুন: ভারত মহাসাগরে ১৩ দিনের যৌথ মিশনে ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া
যুক্তরাজ্যের মাটিতে বেশ কিছু হুমকি, বিশেষ করে ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ টেলিভিশনের দুজন সাংবাদিককে হত্যার পরিকল্পনা এবং ব্রিটিশ লক্ষ্যবস্তুগুলোতে চালানো সাইবার হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে সরকার আইআরজিসি-কে নিষিদ্ধ করার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কনজারভেটিভ পার্টির আগের অবস্থানকে পুরোপুরি বদলে দেওয়া হলো, যারা আগে এই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
নতুন এই আদেশের ফলে যুক্তরাজ্যে যেকোনো উপায়ে আইআরজিসি-কে সমর্থন করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের মাঝেই যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তের ফলে তেহরানের সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পারদ আরও তলানিতে নামবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভারতে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া চালাতে চায় জাপান
ব্রিটিশ কর্মকর্তারা এর আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, আইআরজিসি-কে নিষিদ্ধ করা হলে প্রতিক্রিয়া হিসেবে তেহরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করতে পারে ইরান সরকার।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন