শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৫১ পি.এম
বি এম নূর আলম
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব ও সাইবার ল্যাব স্থাপন, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং একটি স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন। সরকারের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। পাশাপাশি, সাইবার অপরাধের মামলার তদন্তে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার জন্য দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
সাইবার অপরাধের কারণে পারিবারিক কলহ, মানসিক বিপর্যয় ও সামাজিক মর্যাদাহানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনলাইনে হয়রানি, হুমকি ও প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকেই মানসিক চাপ, ভয় ও হতাশায় ভুগছেন। ভুয়া আইডি খুলে মিথ্যা তথ্য, ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। এর ফলে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সাইবার অপরাধের ফলে আর্থিক ক্ষতি, মানসিক বিপর্যয়, সামাজিক অস্থিরতা ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। অনলাইন ও মোবাইল ব্যাংকিং এবং ভুয়া লিংকের মাধ্যমে প্রতারকরা মানুষের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, পাসওয়ার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে সেগুলো প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ‘সাইবার জালিয়াতি, হ্যাকিং ও অনলাইন হয়রানি-সংক্রান্ত যেসব মামলা সিআইডিতে আসে, সেগুলো পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাইবার অপরাধ দমনে নিয়মিত নজরদারি ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সাইবার অপরাধ তদন্তে কর্মরত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য সাইবার ট্রেনিং সেন্টার, ফরেনসিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (এফটিআই) ও ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলে (ডিটিএস) চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নতুন নতুন মডিউল যুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া পুলিশ সদরদপ্তরের উদ্যোগে সম্প্রতি দেশব্যাপী ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কোর্স চালু করা হয়েছে। এতে সিআইডির কর্মকর্তারাও অংশ নিচ্ছেন।’
সিআইডির তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাইবার অপরাধ-সংক্রান্ত জিআর (জেনারেল রেজিস্টার) ৩২টি ও সিআর (ক্রিমিনাল রেজিস্টার) ১৫৯টিসহ মোট ১৯১টি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া সাইবার অপরাধের অভিযোগে এক বছরে ১০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাইবার অপরাধ দিন দিন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।
অনলাইনে প্রতারণার ফাঁদ হিসেবে ঘরে বসে খণ্ডকালীন কাজ করে আয় কিংবা ইউটিউবের ভিডিওতে ‘লাইক’ দিয়ে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে সাধারণ গৃহিণী, শিক্ষার্থী ও বেকার তরুণদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। শুরুতে এক হাজার বা দুই হাজার টাকা বোনাস দিয়ে তাঁদের আস্থা অর্জন করা হয়। পরে বিভিন্ন ‘টাস্ক’ পূরণের নামে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করিয়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, শুধু গত এক বছরেই এ ধরনের আর্থিক প্রতারণায় সাধারণ গ্রাহকরা শত শত কোটি টাকা হারিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ‘সাইবার অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। পুলিশ যেকোনো অপরাধ দমনে তৎপর রয়েছে। সমাজ থেকে অপরাধ দমন ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার বুলিং ও অনলাইন প্রতারণার শিকার হয়ে অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। মিথ্যা সংবাদ ও ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে সমাজে আতঙ্ক, বিভ্রান্তি ও বিরোধ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তাঁরা বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতার অভাব, দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার, অপরিচিত লিংক ও ভুয়া ওয়েবসাইটে প্রবেশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ এবং সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব সাইবার অপরাধের ঝুঁকি বাড়ায়।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, ‘প্রযুক্তির জয়যাত্রার সমান্তরালে দেশজুড়ে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। এ অপরাধের জালে সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে পড়ছেন সমাজের সাধারণ ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ। ওটিপি শেয়ারিং, ভুয়া ফোনকল, ডিপফেক ভিডিওর মাধ্যমে প্রতারণা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ তাঁদের সারা জীবনের সঞ্চয় হারাচ্ছেন। অনেকে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, আবার কেউ কেউ মৃত্যুর দিকেও ধাবিত হচ্ছেন।’
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অচেনা কাউকে পিন বা ওটিপি দেওয়া যাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেন, ‘সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশ দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে। সাইবার অপরাধ দমনে সক্ষমতা বাড়াতে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) একটি সাইবার ল্যাব রয়েছে। এ ছাড়া কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমে (সিটিটিসি) একটি ফরেনসিক ল্যাব চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল অপরাধের মামলা তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হবে।’
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত রাজধানীর রমনা বিভাগে সাইবার অপরাধ-সংক্রান্ত ৮৮টি মামলা হয়েছে এবং ১৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লালবাগ বিভাগে ২২টি মামলায় ২৩ জন, ওয়ারী বিভাগে ১২টি মামলায় ২৪ জন, মতিঝিল বিভাগে ৩৩টি মামলায় ৪৯ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৫৩টি মামলায় ৪৯ জন, মিরপুর বিভাগে ৩৩টি মামলায় ২৭ জন, গুলশান বিভাগে ৩৮টি মামলায় ৩৭ জন এবং উত্তরা বিভাগে ২৬টি মামলায় ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়াতে সরকার ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব ও সাইবার ল্যাবের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে চলতি মাসে ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব ও সাইবার ল্যাব উদ্বোধন করা হয়েছে।
এছাড়া ১ অক্টোবর ঢাকায় একটি স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠন করা হয়েছে। ইউনিটটিতে ৪ হাজার ৫৯২ জন পুলিশ সদস্য ও অন্যান্য কর্মী রয়েছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত আইজিপি) নেতৃত্বে ইউনিটটি পরিচালিত হচ্ছে। বিভাগ, জেলা ও থানা পর্যায়েও সাইবার অপরাধ তদন্তের জন্য পৃথক কার্যক্রম বা ডেস্ক রয়েছে।
সম্প্রতি মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজে সাইবার অপরাধের মামলা তদন্তের ওপর ১০ দিনব্যাপী বিশেষ ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কোর্স পরিচালনা করা হয়। এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ৩৩২ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাঁরা পরবর্তী সময়ে মাঠপর্যায়ের তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কানাডার পশ্চিমাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে গ্রেনেড নিক্ষেপের মহড়ার ফলে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে প্রবল বাতাসের কারণে আগুন প্রশিক্ষণ এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে চার সেনা নিহত হন এবং আহত হন ৩৯ জন, যাদের মধ্যে ২৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের কাছে কানাডার সামরিক পুলিশের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ভেনেসা হানরাহান এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, শনিবার আলবার্টা প্রদেশের ওয়েনরাইট সামরিক ঘাঁটিতে গ্রেনেড লঞ্চার প্রশিক্ষণ এলাকায় আগুন লাগে। এই সময় সেখানে সামরিক মহড়া চলছিল। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ঘাঁটির অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
হানরাহান বলেন, বাতাসের দিক এবং গতিবেগ পরিবর্তিত হওয়ার ফলে আগুনের তীব্রতা অনেক বেড়ে যায়। আগুন প্রশিক্ষণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে, আগুনটি গ্রেনেড নিক্ষেপের ক্ষেত্রের ‘স্থায়ী বিপজ্জনক এলাকা’র মধ্যে থাকায় অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা সরাসরি সেখানে গিয়ে আগুন নেভাতে পারেননি।
শনিবার বিকেলে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় উচ্চমাত্রার যুদ্ধ প্রশিক্ষণ চলছিল। প্রিন্সেস প্যাট্রিসিয়ার কানাডিয়ান লাইট ইনফ্যান্ট্রি বাহিনীর তৃতীয় ব্যাটালিয়নের চার্লি কোম্পানির সদস্যরা ওই মহড়ায় অংশগ্রহণ করছিলেন।
শত্রুর অবস্থানে হামলার মহড়াও চলছিল
ওয়েনরাইট সামরিক ঘাঁটিটি কানাডার বিস্তীর্ণ তৃণভূমি অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে খোলা ঘাসের মাঠ, ঢেউখেলানো সমতল ভূমি এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গাছপালা রয়েছে।
ঘটনার সময় প্রায় ৮৪ জন সেনাকে দুটি দলে ভাগ করা হয়েছিল। এক দল গ্রেনেড নিক্ষেপের প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল, অন্য দল কৃত্রিম শত্রুর অবস্থানে হামলার অনুশীলন করছিল। একপর্যায়ে আগুন দ্বিতীয় প্রশিক্ষণ এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় চার সেনার মৃত্যু এবং ৩৯ জনের আহত হওয়ার ঘটনা কানাডার সামরিক বাহিনীর শান্তিকালীন সময়ের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
নিহত ও আহত সেনাদের মধ্যে নিয়মিত বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি রিজার্ভ সদস্যরাও ছিলেন। তারা লাটভিয়ায় সম্ভাব্য মোতায়েনের প্রস্তুতি হিসেবে এ প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিলেন। কানাডার সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযানটি লাটভিয়ায় পরিচালিত হচ্ছে।
ন্যাটো সদস্যদেরও প্রশিক্ষণ হয় এই ঘাঁটিতে।
ওয়েনরাইট কানাডার সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালিত বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটিগুলোর একটি। সেখানে নিয়মিত ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সেনাদের নিয়ে প্রশিক্ষণ মহড়ার আয়োজন করা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ কয়েক মাস এবং ১৯৪৬ সালের কয়েক মাস এই ঘাঁটি জার্মান যুদ্ধবন্দীদের আটককেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছিল।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একজন ক্রেতা ছেঁড়া ১০ রুপির নোট প্রদান করছিলেন। তবে ডেলিভারি কর্মী সেই নোট গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। এই কারণে তাকে মারধর করা হয়। অপমান সহ্য করতে না পেরে তিনি বাড়ি ফিরে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন।
আত্মহত্যার পূর্বে সামির একটি ভিডিও রেকর্ড করেন, যেখানে তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। গত মঙ্গলবার হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে।
দিল্লির ২৩ বছর বয়সী সামির হোসেন একটি জনপ্রিয় অনলাইন বিপণি সংস্থায় ডেলিভারি এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। ২১ অক্টোবর তার ২৪ বছরে পদার্পণের কথা ছিল। কিন্তু তার মৃত্যু ঘটেছে তার জন্মদিনের আগের দিনেই।
সামিরের ভিডিওতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘গরিব হওয়া কি অপরাধ?’ তিনি তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা দেন এবং সেই ক্রেতা ও তার নাতির শাস্তি দাবি করেন।
ভিডিওতে সামির বলেন, গত ৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ বিনোদ নগর এলাকায় রামপাল সিংহের বাড়িতে তিনি একটি অর্ডার পৌঁছে দিতে যান। সেখানে তাকে একটি ছেঁড়া ১০ রুপি নোট দেওয়া হয়, যা তিনি নিতে অস্বীকার করেন এবং নোটটি বদলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
তবে রামপাল তার কথায় বিরক্তি প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ করেন সামির। রামপাল বলেন, ‘আমার কাছে এটাই আছে। নিতে হলে নাও, না হলে চলে যাও।’ এরপর তিনি সামিরকে তিনবার থাপ্পড় দেন এবং গালিগালাজ করেন। তিনি সামিরের আর্থিক অবস্থার উপরে ব্যঙ্গ করেন।
ভিডিওতে সামির জানান, ওই ক্রেতা যথেষ্ট প্রভাবশালী ও ধনী। তিনি মনে করেন, পুলিশ তার অভিযোগ গ্রহণ করবে না। ভারতে ডেলিভারি এজেন্টদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা বা সুযোগসুবিধা নেই বলেও তিনি দাবি করেন। সামির বলেন, ‘আমার আত্মমর্যাদাকে সকলের সামনে নষ্ট করা হয়েছে। আমি পরিশ্রম করে রোজগার করছিলাম। বাবার থেকে কোনো দিন এক পয়সাও চাইনি। আমার মৃত্যুর জন্য ওরাই দায়ী।’
সামিরের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছে।
সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রাত্রিকালীন বিনোদনকেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে যান। এই সময় তার গাড়ির দিকে কাচের বোতল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
জেরুজালেমের জনপ্রিয় রাত্রিকালীন বিনোদনকেন্দ্র মাহানে ইয়েহুদা বাজারে এই ঘটনা ঘটেছে। টাইমস অব ইসরায়েল সংবাদে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মধ্যরাতে বাজারটিতে প্রচারণার অংশ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেতানিয়াহু। এ সময় তার গাড়িবহরের দিকে একটি কাচের বোতল ছোড়া হয়।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, বোতল নিক্ষেপের পর নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা ভিড়ের মধ্যে ছুটে যান। নিরাপত্তাকর্মীদেরকে বোতলটি ছুড়েছেন এমন ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করতে দেখা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই-আগস্টের শহীদদের স্মরণে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের উপস্থিতি না থাকার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, "যারা জুলাই-আগস্ট নিয়ে সারাদিন রাজনীতি করেন ও চিৎকার করেন, তারা দাওয়াত পাওয়া সত্ত্বেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হয়ে ধোঁকাবাজির পরিচয় দিয়েছেন।"
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু তারা উপস্থিত না হয়ে খোড়া যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, গত ১৯ অক্টোবর ওসমানী উদ্যানে সরকারের পক্ষ থেকে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ওই অনুষ্ঠানে সকল সমমনা, সহযোগী ও জোটের রাজনৈতিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। শুধু দাওয়াত কার্ড পাঠানোই নয়, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম টেলিফোনেও সবাইকে আমন্ত্রণ নিশ্চিত করেছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শহীদ মীর মুগ্ধ, আবু সাঈদ ও আনাসের বাবা এবং এক শহীদের মাকে সঙ্গে নিয়ে চার শহীদ পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভ ও দীর্ঘ ১০ বছর পর ওসমানী উদ্যানটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অথচ যারা জুলাই নিয়ে সারাদিন কথা বলেন, সেই সমস্ত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্তরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। বাংলাদেশের এই একমাত্র শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে গ্যাজেটভুক্ত ৮৩৪ জন শহীদের নাম লেখা রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্যের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, দাওয়াত কার্ডে বিরোধী দলীয় নেতার নাম না থাকায় তারা যাননি বলে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়। অনুষ্ঠানে প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় নেতা সাইফুল হক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন সাহেবের নাম দাওয়াত কার্ডে না থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তাদের মঞ্চে ডেকে নেন। তিনি বলেন, "আমাদের দাওয়াত গ্রহণ করে বিরোধী দল উপস্থিত হলে মানবিক প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রতিনিধিকেও মঞ্চে ডেকে নিতেন।"
জামায়াতে সেক্রেটারী জেনারেলের অন্য একটি বক্তব্যের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম বিরোধী দল ‘চকলেট’ পাচ্ছে; আমরা অতীতে বসার জায়গাও পাইনি, অথচ আপনারা সব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। নির্বাচনের সময় বেহেশতের কথা বলে ভোট নিয়ে এখন সস্তা রাজনীতি বন্ধ করুন। তারা ভোটের আগে মানুষকে বেহেশতের লোভ দেখায়, আবার পূজায় ঢাকের তালে নাচে; অথচ ভোটের পর এবার কোনো পূজায় তাদের পাওয়া যায়নি। তারা এখন এক দফার নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিশেষ কোনো ধর্ম বা গোষ্ঠীকে পুঁজি করে যারা রাজনীতি করছে, তাদের ফলাফল দেশের মানুষ ইতিপূর্বে দেখেছে। বিএনপি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে পুঁজি করে রাজনীতি করে না; এখানে সবাই বাংলাদেশি এবং সবার হৃদয় জয় করেই বিএনপি আবারও জনগণের দ্বারে যাবে।
প্রতিমন্ত্রী বাকস্বাধীনতার নামে অশালীন ভাষা প্রয়োগ না করার অনুরোধ জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, এরপরেও যদি অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়, তবে জাতীয়তাবাদী শক্তি তা মেনে নেবে না।
একই সঙ্গে দলের ভেতরের শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, বট বিএনপির মধ্যেও রয়েছে। আমাদের দলে কারা এসব করছে, তাদের চিহ্নিত করতে কাজ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিরোধী দলকে একতরফা আন্দোলন বা লং মার্চ বাদ দিয়ে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ৯ নভেম্বর থেকে সংসদ অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সংসদে অবাধে কথা বলার সুযোগ রয়েছে এবং স্পিকার বিরোধী দলকে যথেষ্ট সুযোগ দেন। সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া বা বারবার ওয়াকআউট করাও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। বিরোধী দলের সে অধিকার রয়েছে এবং ওয়াকআউট শেষে তারা আবার ফিরে আসে। সংবিধানে বিরোধী দলের ভূমিকা কী হবে তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি সদস্য পদ শূন্য রাখা হয়েছে। তবে তারা সেখানে সহযোগিতা করছেন না। তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে, সংঘাতের পথ ছেড়ে কমিটিতে সম্পৃক্ত হয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অংশ নিন এবং যেকোনো মুহূর্তে পাঁচজন প্রতিনিধির নাম দিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।
প্রেস ব্রিফিং শেষে প্রতিমন্ত্রী শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে প্রতিভাবান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ