১০:০৪ পি.এম
মাদারগঞ্জ উপজেলার ফুলজুর চৌরাস্তা মোড়ে তারা ব্যাপারী নামে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ইউরিয়া ও বিএডিসি সার অস্বাভাবিক দামে বিক্রির অভিযোগ করেছেন এলাকার কৃষকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারা ব্যাপারী একজন সরকার অনুমোদিত বিএডিসি অথবা বিসিআইসি ডিলার নয়, তবুও তিনি নারায়ণগঞ্জ বা ঘোড়াশাল থেকে ট্রাকে ইউরিয়া সারসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে আসছেন। স্থানীয় কৃষকদের কাছে তিনি এ সারগুলো বেশি দামে বিক্রি করে যাচ্ছেন, যেন দেখার কেউ নেই।
১৭ আগস্ট সরে জমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, তারা ব্যবসায়ী তার দোকানে ইউরিয়া (গুড়াশাল) সার প্রতি বস্তা ১৩শ ৫০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করছেন। বিএডিসি (ডিএপি) সার ১ হাজার ৫০ টাকার স্থলে ১৪’শ ৫০ টাকায় এবং টিএসপি ১৩৫০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ কৃষকদের উপর আর্থিক চাপ ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
আরও পড়ুন: সন্দ্বীপে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) সম্মেলন অনুষ্ঠিত
অন্যদিকে, তারা ব্যাপারীর কাছ থেকে অন্যান্য খুচরা ব্যবসায়ীরা বেশি দামে ইউরিয়া সার ক্রয় করে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। যখন কৃষকরা তারা ব্যাপারীর দোকান থেকে রশিদ চাইছেন, তখন তাকে বলেন যে তাদের কাছে সার বিক্রি করা হচ্ছে না।
এভাবে ফুলজুর চৌরাস্তা মোড়ের খুচরা ব্যবসায়ী তারা ব্যাপারী অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি করে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগী কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় প্রশাসনের সঠিক তদারকি না করার ফলে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা কৃষকদের উপর এইভাবে চাপ প্রয়োগ করে চলেছেন। ফুলজুর গ্রামের কৃষক রাজু মিয়া এবং সজিব মিয়া জানান যে, তারা সার কিনতে হচ্ছে এবং তাদের প্রত্যেককে সংবিধান অনুযায়ী দাম দিতে হচ্ছে, একজন কৃষক মাত্র বস্তায় ১৫০০ টাকা দিতে হচ্ছে।
এ ছাড়া দোকান থেকে কোনো ক্যাশ মেমো দেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সারের কোনো সংকট নেই। কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, মাদারগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে বিসিআইসির সার ডিলার মোট ৮ জন এবং বিএডিসি ডিলার রয়েছেন ৬ জন। সরকারি অনুমোদিত সার ডিলার মোট ২৬ জন থাকা সত্ত্বেও, কিভাবে একজন অবৈধ ব্যবসায়ী সার নিয়ে আসছেন এ নিয়ে এলাকার ডিলারদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে।
কৃষি অফিস জানায়, সরকারি ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের কাছে ইউরিয়া সার প্রতি কেজি ২৭ টাকা, ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ১৩শ ৫০ টাকা, বিএডিসি এমওপি ২১ টাকা কেজি দরে প্রতি বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা এবং টিএসপি ১৩শ ৫০ টাকা খুচরা মূল্যে বিক্রি করার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ৮ বছর ধরে বিদ্যুৎ খুঁটি-মিটার থাকলেও সুবর্ণচরের মোহাম্মদপুরে নেই বিদ্যুৎ
তবে, সরকারি ভর্তুকি মূল্যে এ নিয়মের তোয়াক্কা না করে তারা ব্যাপারী সরকারি নিয়ম অগ্রাহ্য করে সময়ের পর সময় অপকর্ম করে যাচ্ছেন, যেন দেখার কেউ নেই। তারা ব্যাপারী যে কোনো সরকারি অনুমোদিত সার ডিলার না হয়েও কীভাবে ট্রাকে ট্রাকে সার নিয়ে আসছেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সদোত্তর দিতে পারেননি।
মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, সারের কোনো সংকট নেই। যদি কেউ বেশি দামে সার বিক্রি করে কৃষকের অভিযোগ পায়, তবে ডিলার বা খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
কৃষক হয়রানি বন্ধের উপায়- বৈধ সার ব্যবসায়ীর সূত্রে জানা গেছে, যেসব অঞ্চলে বর্ষার-শরৎ মৌসুমে ৬ মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে, সেখানে রোপা-আমন, ভোটত্মা, তরিতরকারির চাষাবাদ তেমন হয় না। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলের কৃষকদের বর্ষা-শরৎ কালে সারের চাহিদা থাকে না, অথচ ঐসব এলাকার ডিলাররা প্রয়োজনের তুলনায় অধিক সার বরাদ্দ পায়। ফলে তারা তাদের বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন করে ট্রাকে-ট্রাকে বিক্রি করে। ইন contrast, জামালপুর জেলায় রোপা-আমন, ভোটত্মা, আঁখ, টাল তরকারি শাকসবজি প্রচুর পরিমাণ চাষাবাদ হয়, তাই বর্ষা ও শরৎ কালে কৃষকদের সার প্রয়োজন অত্যধিক থাকে। সে তুলনায় সার বরাদ্দ অপ্রতুল।
এক্ষেত্রে অবৈধ পথে সার আমদানির ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন সারের চাহিদা পূরণের জন্য যেন শুনে দেখেও না দেখার ভান করে নিরবতা পালন করে আছে। এই সুযোগে অসাধু মুনাফালোভী, অবৈধ কালোবাজারী সার পাচারকারি ব্যবসায়ীরা ভিন্নপন্থায় সারের আমদানি করে উচ্চমূল্যে সার বিক্রি করছেন।
আরও পড়ুন: দেশ প্রতিদিন পত্রিকার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ, অর্থ ফেরত ও পত্রিকার নিবন্ধন বাতিল করতঃ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক যাদুর শাস্তি চায় ভুক্তভোগীরা
শস্য উৎপাদনকারি কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতি কৃষকদের দাবি, যেসব অঞ্চলে বর্ষার-শরৎ মৌসুমে ৬ মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে, রোপা-আমন, ভোটত্মা, তরিতরকারির চাষাবাদ তেমন হয় না, সেসব হাওর অঞ্চলে মনিটরিং করে সার চাহিদামতো বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হলে কৃষকরা সঠিক সময়ে ন্যায্য মূল্যে সার পাবেন, ঠিক তেমনি অধিক মুনাফালোভী, কালোবাজারী ও সার পাচারকারিদের প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন