ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাতকানিয়ায় সাঙ্গুর ভাঙনে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে, স্থানীয়দের জীবনযাত্রা বিপন্ন


সাতকানিয়ায় সাঙ্গুর ভাঙনে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে, স্থানীয়দের জীবনযাত্রা বিপন্ন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নে সাঙ্গু নদীর ভাঙনের ফলে বেড়িবাঁধ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে প্রবল বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীতে সৃষ্ট তীব্র স্রোতে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাচ্ছে। বসতঘর, কবরস্থান, মসজিদ, গ্রামীণ সড়ক এবং ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে, ভাঙনকবলিত সড়ক দিয়ে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গত জুলাই মাসের শুরুতে প্রবল বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চৌধুরীপাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে, যার ফলে এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেড়িবাঁধের জরুরি মেরামতের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে নদীভাঙন রোধে ১৫০ মিটার এলাকায় জিও টিউব স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও সম্প্রতি কাজ শুরু হয়েছে, নতুন করে নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। কাজ চলাকালে বেড়িবাঁধের বেশ কিছু অংশ সাঙ্গু নদীগর্ভে ধসে পড়েছে, ফলে আপাতত জিও টিউব স্থাপনের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কটিয়াদী ও মনোহরদীতে আড়িয়লখাঁ নদে অবৈধ জালের বাঁধ, মৎস্য সম্পদ হুমকির মুখে

পটিয়া পানি উন্নয়ন শাখা-১-এর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম জানান, নদীভাঙনের কারণে নির্ধারিত স্থানের বেড়িবাঁধের বেশ কিছু অংশ ধসে পড়েছে। এ অবস্থায় আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে। এরপর ভাঙন প্রতিরোধে টেকসই পদ্ধতি নির্ধারণ করে কাজ শুরু করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হক, মোহাম্মদ জামাল এবং মোহাম্মদ ফোরকান জানান, বর্ষা এলেই সাঙ্গু নদীর ভাঙন নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের। নদীর স্রোতে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বসতবাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, ফসলি জমি এবং চলাচলের সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরো বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে। তাই সাময়িক মেরামতের পরিবর্তে নদীর স্রোত এবং ভাঙনের ধরন বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বেড়িবাঁধ রক্ষার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে বরাদ্দ করা ১৯ লাখ টাকার কাজ দ্রুত পুনর্মূল্যায়ন করে টেকসইভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে মদপানে অসুস্থ হয়ে ২ যুবকের মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ১

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ওএমএসের চাল-আটা মিলছে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ এম


ফেনীতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ওএমএসের চাল-আটা মিলছে না

ফেনীতে ওএমএসের চাল ও আটা না পাওয়ায় দীর্ঘ দুই থেকে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেককেই খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। সরেজমিনে শহরের একাধিক ওএমএস কেন্দ্র পরিদর্শন করে জানা গেছে, জনপ্রতি পাঁচ কেজি চাল ও পাঁচ কেজি আটা কেনার সুযোগ রয়েছে। প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং আটা ২৪ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। ভোর থেকেই নিম্ন আয়ের মানুষের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় বিক্রয়কেন্দ্রের সামনে। সপ্তাহে একদিন বা দুদিন পণ্য কেনার সুযোগ মেলে। বরাদ্দ কম থাকায় অনেককে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে বিশ্বব্যাপী খাদ্যসংকট এবং দেশে চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে রাজধানীর পলাশী বাজার এলাকায় ওএমএস কার্যক্রম শুরু করে সরকার। দরিদ্র মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বল্পমূল্যে চাল ও আটা বিক্রির এই কর্মসূচি পরে দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা হয়। ২০১০ সালে ফেনী পৌরসভায় এই কার্যক্রম চালু হয়।

শুরুর দিকে ফেনী পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে ছয়টি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ওএমএস কার্যক্রম পরিচালিত হতো। ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এ কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়েনি। ফলে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিনের বেশি এ কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পাশের জেলা কুমিল্লায় কয়েক দফায় বাড়িয়ে ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা ৩২ করা হয়েছে। নোয়াখালীতে ১৭টি, চাঁদপুরে ১৫টি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১২টি কেন্দ্র রয়েছে। এসব জেলার তুলনায় ফেনীতে বিক্রয়কেন্দ্র কম থাকায় স্থানীয় চাহিদার পুরোটা পূরণ করা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। ফলে নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ চাহিদা অনুযায়ী কম দামে চাল ও আটা কিনতে পারছেন না।

ফেনী পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার মো. আকবর হোসেন জানান, কোনো সপ্তাহে দুদিন, আবার কোনো সপ্তাহে তিন দিন পণ্য বরাদ্দ পান তিনি। প্রতি বরাদ্দে ৭৫০ কেজি চাল ও ৭৫০ কেজি আটা দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিক্রি শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ চাল ও আটা সংগ্রহ করেন। তবে কেন্দ্র ও বরাদ্দ কমের কারণে অনেককেই খালি হাতে ফিরে যেতে হয়। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন এক টন করে চাল ও আটা বরাদ্দ দেওয়া হলে মানুষের চাহিদা কিছুটা পূরণ করা সম্ভব হবে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে ওএমএস কার্যক্রম শুরুর সময় ফেনী পৌরসভার জনসংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার। বর্তমানে তা বেড়ে ২ লাখ ৭৮ হাজারে দাঁড়িয়েছে। সূত্রটির হিসাবে এ সময়ে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪২ শতাংশ।

এছাড়া ফেনীতে স্টার লাইন গ্রুপের ১৭টি শিল্পকারখানা, আবুল খায়ের ম্যাচ ফ্যাক্টরি, কোয়ালিটি জুটমিলসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হাজারো শ্রমিক কাজ করেন। তাদের অনেকে স্বল্পমূল্যে খাদ্যপণ্য কিনতে ছুটে আসেন। কিন্তু পর্যাপ্ত বিক্রয়কেন্দ্র ও বরাদ্দ না থাকায় অনেকেই ওএমএসের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ফেনীর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আলাউদ্দিন ঢালী বলেন, ফেনী পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে ওএমএসের কেন্দ্র রয়েছে মাত্র ছয়টি। একদিন ১ থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে কার্যক্রম চালানো হলে পরদিন ৭ থেকে ১২ নম্বর ওয়ার্ডে চালু রাখা হয়। এভাবে এক এলাকায় বিক্রি বন্ধ রেখে অন্য এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।

তিনি আরো বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন তিন টন চাল ও আটা ট্রাকের মাধ্যমে বিক্রির বরাদ্দ থাকলেও ফেনীতে এ ধরনের কোনো বরাদ্দ নেই। ফলে এখানে ওএমএসের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। বিক্রয়কেন্দ্র ও বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি চালুর প্রয়োজনীতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

জেলা ওএমএস কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, ফেনীতে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা কম নয়। অন্য জেলা থেকেও অনেকে কাজের সন্ধানে এ জেলায় আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ওএমএসের বিক্রয়কেন্দ্র বাড়ানো হয়নি, যা দুঃখজনক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেড়েছে ছিনতাই, নারীরা টার্গেটে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ এম


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেড়েছে ছিনতাই, নারীরা টার্গেটে

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই মহাসড়কে প্রতি রাতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এমনকি দিনের বেলাতেও প্রকাশ্যে ঘটছে ছিনতাই। এর ফলে যাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সিএনজি অটোরিকশা ও মিশুক চালকের ছদ্মবেশে নারীদের টার্গেট করে ছিনতাই করা হচ্ছে। দিন-দুপুরে ঘটে যাওয়া ছিনতাইয়ের কারণে মহাসড়কে চলাচলকারী নারী যাত্রী ও জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে গেছে।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ দৈনন্দিন কাজে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাতায়াত করেন। স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতের জন্য সিএনজি অটোরিকশা ও মিশুক অন্যতম সহজ মাধ্যম। চালক বেশে যাত্রী উঠিয়ে নির্জন স্থানে পৌঁছালে, সেই চালকরাই ছিনতাইকারী হয়ে উঠছেন। কিছু ঘটনার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন যে, চালকের সঙ্গে সহযোগীও ছিল।

গত ১৮ অক্টোবর দুপুরে, মিশুক নিয়ে রোগী দেখতে ট্রেনিং সেন্টার থেকে হাড়িসর্দার এলাকায় যাচ্ছিলেন চৌদ্দগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জিনিয়া জামান। পথিমধ্যে মহাসড়কের অফবিট হোটেলের সামনে পেছন থেকে আসা সিএনজি অটোরিকশা থেকে তার হাতে থাকা ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে যায়। এতে অন্তঃসত্ত্বা ওই চিকিৎসক পড়ে আহত হন।

গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে ছিনতাইয়ের শিকার হন হাছিনা বেগম নামের অপর এক নারী। সিএনজিতে থাকা চালক ও যাত্রীবেশে ছিনতাইকারী চক্র তাকে অজ্ঞান করে মহাসড়কের ফালগুনকরা দিঘী ও মাজারের মাঝামাঝি একটি নির্জন স্থানে মারধর করে তার দুটি কানের দুল, মোবাইল ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। ওই নারীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়।

মিয়াবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নিরঞ্জন কুমার বলেন, ‘মহাসড়কে আমাদের টহল জোরদার করা হয়েছে, হাইওয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত আছে। মহাসড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার্থে টহল টিমকে আরো সক্রিয় করা হয়েছে।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আরিফ হোসাইন এসব ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, ‘প্রায়ই কিছু কিছু সিএনজি অটোরিকশার মধ্যে লোক বসে থাকে এবং পথের মধ্যে যাত্রী উঠিয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। আমরা এসব অবৈধ সিএনজি-অটোরিকশা ও চালক যারা এসব কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রায়ই অভিযানে নামি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবারও বড়পর্দায় ফিরছেন এশা দেওল, মুক্তি ২০ নভেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৭ এম


আবারও বড়পর্দায় ফিরছেন এশা দেওল, মুক্তি ২০ নভেম্বর

১৪ বছরের বিরতি ভেঙে বলিউড কিংবদন্তি ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনির কন্যা এশা দেওল 'তুমকো মেরি কসম' সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে কামব্যাক করেন। ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমায় একজন ডিফেন্স লয়ার হিসেবে তিনি রাজকীয় প্রত্যাবর্তন করবেন এবং আবারও রুপালি পর্দায় ফিরছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘না তুম জানো না হাম’ খ্যাত নায়িকা এবার ‘প্রতাপ’ সিনেমার মাধ্যমে ফিরছেন। এই সিনেমাটি অ্যাকশন-ড্রামা ঘরানার এবং এতে তিনি ‘পুনম’ চরিত্রে অভিনয় করবেন।

প্রদীপ রঙ্গওয়ানী ও ইউভি ফিল্মস প্রযোজিত এই সিনেমায় এশার চরিত্রের ‘লুক’ ইতিমধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে। পারিবারিক গল্পের উপর ভিত্তি করে নির্মিত সিনেমায় দেখা যাবে, পুনম জীবনের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে আত্ম-অনুসন্ধান, নীরবে লড়াই এবং নিজের অন্তর্নিহিত শক্তিকে চিনে নেয়।

সিনেমার ‘মোশন পোস্টার’ ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে অভিনেতা অমিত সাধকে এক দক্ষ এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্টের চরিত্রে দেখা যাচ্ছে। ক্ষমতা, ন্যায়বিচার এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পরিণতি নিয়ে তৈরি ‘প্রতাপ’-এ ব্যক্তিগত সংঘাতের সঙ্গে মিশেছে টানটান নাটকীয়তা।

সচিন সরাফের গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ‘প্রতাপ’ সিনেমায় এশা ও অমিত ছাড়াও অভিনয় করেছেন তিগমাংশু ধূলিয়া, সীমা বিশ্বাস ও মিলিন্দ গুনাজী। সিনেমার প্রচার-ঝলক আগামী ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত হবে এবং এটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে আগামী ২০ নভেম্বর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়ের জন্য যে ৩ আমলে সহজে হয় সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৭ এম


বিয়ের জন্য যে ৩ আমলে সহজে হয় সিদ্ধান্ত

বিয়ে মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি শুধুমাত্র দুটি মানুষের বন্ধন নয়, বরং ভালোবাসা, প্রশান্তি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের মাধ্যমে একটি সুন্দর পরিবার গড়ে তোলার বৈধ ও পবিত্র মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা মানুষের মধ্যে জোড়ায় জোড়ায় সম্পর্কের ব্যবস্থা করেছেন এবং বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর জীবনে ভালোবাসা ও প্রশান্তি দান করেন।

বর্তমান সময়ে নানা সামাজিক বাধা, অতিরিক্ত প্রত্যাশা, আর্থিক অসচ্ছলতা ও পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের জটিলতার কারণে অনেকের বিয়ে সময়মতো হচ্ছে না। কেউ উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে পাচ্ছেন না, আবার কেউ পারিবারিক ও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতায় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেকেই মানসিক কষ্ট ও হতাশায় ভুগছেন।

ইসলাম বিয়েকে সহজ করতে উৎসাহিত করেছে। বিয়ের সামর্থ্য অর্জন করলে তা অযথা বিলম্ব না করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা, তাঁর কাছে দোয়া করা এবং পবিত্র জীবনযাপনের চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে মনে রাখতে হবে, নির্দিষ্ট কোনো আমল করলেই দ্রুত বিয়ে হয়ে যাবে এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ নেই। বরং দোয়া, ইবাদত ও বৈধ উপায়ে জীবনসঙ্গী খোঁজার পাশাপাশি আল্লাহর ফয়সালার ওপর আস্থা রাখতে হবে।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা আর-রুম, আয়াত: ২১)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও সামর্থ্যবান যুবকদের বিয়ের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে। কেননা, বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহর দায়িত্ব, আল্লাহর পথে জিহাদকারী, চুক্তিবদ্ধ দাস যে মুক্তির অর্থ পরিশোধ করতে চায় এবং ওই ব্যক্তি যে পবিত্রতা রক্ষার উদ্দেশ্যে বিয়ে করতে চায়।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৬৫৫)

তাহলে বিয়ের জন্য অপেক্ষার সময় হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং বাস্তবসম্মতভাবে বিয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত। কোরআন-হাদিসের আলোকে এমন তিনটি আমল তুলে ধরা হলো, যা বিয়ের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা ও তাঁর সাহায্য কামনায় করা যেতে পারে।

১. বেশি বেশি দোয়া করা

দোয়া মুমিনের অন্যতম শক্তি। জীবনের যেকোনো প্রয়োজন ও সংকটে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া উচিত। বিয়ের জন্যও নিজের ভাষায় আন্তরিকভাবে দোয়া করা যায়। আল্লাহর কাছে একজন নেককার, উত্তম চরিত্রের ও দ্বীনদার জীবনসঙ্গী চাওয়া যায়। পাশাপাশি নিজের চরিত্র সংশোধন, হালাল উপার্জনের ব্যবস্থা এবং বিয়ের পথ সহজ করে দেওয়ার জন্যও প্রার্থনা করা উচিত।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যখন আমার বান্দারা তোমার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তখন (বলে দাও) আমি তো নিকটেই। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৬)

তবে দোয়া করার পাশাপাশি বৈধ উপায়ে পাত্র-পাত্রী খোঁজা, পরিবারকে সম্পৃক্ত করা এবং অযৌক্তিক সামাজিক বাধা কমানোর উদ্যোগও নিতে হবে।

২. কোরআনের একটি দোয়া পড়া

নেককার জীবনসঙ্গী ও উত্তম পরিবার লাভের জন্য পবিত্র কোরআনে বর্ণিত একটি সুন্দর দোয়া নিয়মিত পড়া যেতে পারে। দোয়াটি হলো,

আরবি: رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا উচ্চারণ: রব্বানা হাব লানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ‘ইউনিন, ওয়াজ‘আলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।

অর্থ: ‘হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের চোখের প্রশান্তি দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ বানিয়ে দিন।’ (সুরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৭৪)

এই দোয়ায় শুধু জীবনসঙ্গী পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং এমন পরিবার গঠনের প্রার্থনাও রয়েছে, যে পরিবার আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং নেক আমলের পথে চলতে সহায়ক হবে। ফরজ নামাজের পর, নফল ইবাদতের সময় কিংবা অন্য যেকোনো সময়ে দোয়াটি পড়া যায়। তবে বিয়ের জন্য এটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় বা নির্দিষ্ট নিয়মে পড়তেই হবে এমন কোনো সহিহ প্রমাণ নেই।

৩. নফল নামাজ আদায় করে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া

জীবনের কঠিন সময়ে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল। বিয়ের বিষয়ে দুশ্চিন্তা, অনিশ্চয়তা কিংবা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও নফল নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন তুলে ধরা যায়।

হজরত হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে কোনো কঠিন বিষয় উপস্থিত হলে তিনি নামাজ আদায় করতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৩১৯)

তাহলে বিয়ের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে নফল নামাজ আদায় করা যেতে পারে। নামাজ শেষে আন্তরিকভাবে দোয়া করতে হবে, যেন আল্লাহ উত্তম জীবনসঙ্গী নির্বাচন সহজ করে দেন এবং কল্যাণকর সময়ে বিয়ের ব্যবস্থা করে দেন।

এ ক্ষেত্রে ‘সালাতুল হাজত’ নামে প্রচলিত নামাজের নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলেমদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তাই কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতিকে নিশ্চিতভাবে সুন্নত বা দ্রুত বিয়ে হওয়ার পরীক্ষিত আমল হিসেবে প্রচার না করে সাধারণ নফল নামাজ আদায় করে দোয়া করাই নিরাপদ।

বিয়ে দেরি হওয়াকে নিজের অযোগ্যতা কিংবা আল্লাহর অসন্তুষ্টির নিশ্চিত প্রমাণ মনে করা উচিত নয়। প্রত্যেকের পরিস্থিতি ও জীবনের বাস্তবতা আলাদা। তাই দোয়া ও ইবাদতের পাশাপাশি পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিতে হবে, অযৌক্তিক প্রত্যাশা কমাতে হবে এবং হারাম সম্পর্ক থেকে বেঁচে থাকতে হবে। আল্লাহর কাছে এমন জীবনসঙ্গী চাইতে হবে, যিনি দুনিয়ার জীবনে প্রশান্তি এবং আখিরাতের কল্যাণ অর্জনে সহযোগী হবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%