০৩:৩০ পি.এম
দেশে বিক্রি হওয়া প্রতি চারটি টুথপেস্টের মধ্যে প্রায় তিনটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন বা এসডো কর্তৃক পরিচালিত বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ৩৪টি টুথপেস্টের ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করা হয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেলে সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিকের কণা রয়েছে।
শিশুদের জন্য তৈরি টুথপেস্টগুলোর মধ্যে কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা-তে ১৪০টি, মেরিল বেবি স্ট্রবেরিতে ৬০টি, মেরিল বেবি ওরেঞ্জে ৪০টি, পেপসোডেন্ট কিড ওরেঞ্জে ২০টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
পরীক্ষা করা টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত। মাইক্রোপ্লাস্টিক চারটি দেশের উৎপাদিত টুথপেস্টেই পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে, ভারতের ৫টির মধ্যে ১টিতে, থাইল্যান্ডের ২টির মধ্যে ১টিতে এবং ভিয়েতনামের ২টির দুটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করা হয়েছে। একটি টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা লক্ষ্য করা গেছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ডিজিটাল ‘মব সন্ত্রাস’: কারা এর পেছনে?
দেশে তৈরি এবং আমদানি করা উভয় ধরনের টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের জন্য বিক্রি হওয়া ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। এসব টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। বাকি ২টি নমুনায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।
এনভায়রনমেন্ট এন্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) গবেষণা দীর্ঘ ১ বছর ধরে চালিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। রবিবার (২৬ জুলাই) এসডো কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, সারাদেশের ২৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ এবং ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি এবং ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কেপি ব্যবহার করে বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে।
গবেষণার ফলাফলে জানানো হয়েছে, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্ট পরীক্ষা করে সবচেয়ে বেশি ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক (প্লাস্টিক কণা) পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেলে। এছাড়াও, ক্লোজ আপ রেড হট-এ ১৬০টি, ক্লোজ আপ মেন্থল ফ্রেশ-এ ১৬০টি, কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা স্ট্রবেরিতে ১৪০টি, সিগনাল গ্রিন টি-তে ১২০টি, পেপসোডেন্ট এডভান্স সল্ট-এ ১০০টি, হিমালায়া কমপ্লিট কেয়ার-এ ১০০টি এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।
তবে গবেষণায় বাংলাদেশে উৎপাদিত টুথপেস্টের মধ্যে জেনফ্রেশ, প্যারাসুট যাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো), ক্লোজ আপ রেড হট জিঙ্ক ফ্রেশ টেকনোলজিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। শিশুদের জন্য আমদানিকৃত কুডুমু অরেঞ্জেও শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি বলে তথ্য প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
আরও পড়ুন: কমলনগরে নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ শিকারের দায়ে চারজনকে কারাদণ্ড ও জরিমানা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন