০৫:১০ পি.এম
বরিশালে অস্ত্র মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ নেতা মাইনুল ফকির ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাক কাটা’ রুবেল প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একাধিক মামলার আসামি হয়েও তারা এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের গ্রেফতার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, বরিশালের কর্নকাঠি এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা মাইনুল ফকির বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরও তার কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং বরিশাল নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ‘নাক কাটা’ রুবেল ও গাজা রফিকের নেতৃত্বাধীন একটি বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি পুনরায় সক্রিয় হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৭ ডিসেম্বর বরিশাল নগরীর রিফিউজি কলোনি এলাকায় মাইনুল ফকির, ‘নাক কাটা’ রুবেল, গাজা রফিক ও তাদের সহযোগীরা প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে গুলিবর্ষণ করেন। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ অনলাইন নিউজ পোর্টাল তালাশ বিডি-তে প্রকাশিত হলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
এরপর তালাশ বিডির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাসুদুর রহমান আসলাম অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিকের ওপর চাপ সৃষ্টি শুরু হয় এবং সংবাদ সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিটে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের খেলার মাঠসংলগ্ন সড়কে তাকে অবরুদ্ধ করা হয়। এ সময় অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রকাশিত সংবাদ অপসারণের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। সংবাদ মুছে না ফেললে প্রকাশ্যে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় বরিশাল নগরীর সিএন্ডবি চৌমাথা, নথুল্লাবাদ ও সদর রোড এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনাতেও মাইনুল ফকিরের সম্পৃক্ততা ছিল। এ বিষয়ে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের একটি অস্ত্র মামলায় মাইনুল ফকিরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এরপরও তিনি প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং তার সহযোগীরাও এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অবিলম্বে মাইনুল ফকির, ‘নাক কাটা’ রুবেল ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন