ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোট ও বিজেপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা


দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোট ও বিজেপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা

ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আজ ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভে অংশ নিতে যাচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া জোট’। ‘চলো দিল্লি’ পদযাত্রাটি দুপুর ১২টায় মধ্য দিল্লির মিন্টো রোড-রাজীব চৌক এলাকা থেকে শুরু হয়ে রামলীলা ময়দানে শেষ হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার স্মরণে পাল্টা সমাবেশের আয়োজন করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশের কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রামলীলা ময়দানে ১০ হাজার পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিবাদস্থলের আশপাশে ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে।

রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি রোববার দিল্লিতে একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন: চীনের মাটিতে বাংলার ঘ্রাণ, সানইউয়ানলিতে বাংলাদেশিদের মিলনমেলা

বিরোধী জোটের এই কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আইসা নেত্রী নেহা বোরাও রামলীলা ময়দানে সমর্থকদের জমায়েতের আহ্বান জানিয়েছেন। আয়োজকদের দাবি, রাজধানীতে ১০ লাখ মানুষের সমাবেশ হতে পারে।

এদিকে, কর্মসূচি উপলক্ষে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। যন্তর মন্তর এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের সামনে জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আওয়ামী লীগের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশনের প্রয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩৮ এম


আওয়ামী লীগের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশনের প্রয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

সম্প্রতি ‘রিকনসিলিয়েশন’ নিয়ে কিছু আলোচনা শোনা যাচ্ছে। রিকনসিলিয়েশন শব্দের অর্থ হলো পুনর্মিলন, সমঝোতা অথবা বিরোধ মিটিয়ে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। ব্যক্তিগত এবং সামাজিক জীবনে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন নেই। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সংঘাত কমানো এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠার জন্য আলোচনা হতে পারে। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশনের প্রসঙ্গ উঠলে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।

কাদের সঙ্গে এই সমঝোতা হবে? কী শর্তে? কার উদ্যোগে? জনগণের কোন প্রয়োজন পূরণের জন্য? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এই উদ্যোগ কি ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে, নাকি অতীতের অন্যায়-অপরাধের দায় মিটমাট করে একটি রাজনৈতিক নেতৃত্বকে পুনর্বাসনের পথ তৈরি করবে?

লেখকের অবস্থান স্পষ্ট—দেশের সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে দায়মুক্তিমূলক রিকনসিলিয়েশনের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের কার্যকর সমাধান এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।

দেশের মানুষকে নিরাপত্তা ও স্বস্তি দিতে পারলে, তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারলে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করতে পারলেই স্থিতিশীলতার ভিত্তি শক্ত হবে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতাকে সেই কাজগুলোর পূর্বশর্ত হিসেবে দেখার যুক্তি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এই রিকনসিলিয়েশনের আলোচনার পেছনে কার কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে কিছু মানুষ হয়তো ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সম্ভাব্য উত্থান কিংবা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজন অনুভব করছেন। যদি এমন উদ্বেগ থাকে, তবে তা নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা হতে পারে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক শক্তির সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলার জন্য আরেকটি শক্তির অতীতের দায়কে গৌণ করে দেখা হবে গুরুতর রাজনৈতিক ভুল।

রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মোকাবিলা করতে হবে জনসমর্থন, গ্রহণযোগ্য কর্মসূচি, কার্যকর নেতৃত্ব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার মাধ্যমে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া দেশ পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে—এমন ধারণা জনগণের সামর্থ্য ও রাষ্ট্রের সম্ভাবনাকেই খাটো করে।

বিএনপিকে এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন, ত্যাগ ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা বহনকারী একটি দলের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং আওয়ামী লীগের অপরাধী নেতৃত্বের রাজনৈতিক পুনর্বাসন এক বিষয় নয়। রাজনৈতিক কৌশলের হিসাব করতে গিয়ে সেই পার্থক্য ভুলে গেলে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আস্থায় আঘাত লাগবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দুঃশাসন ভোলার নয়। আজ যে অবক্ষয়ের মধ্যে আমরা আছি, তা রাতারাতি তৈরি হয়নি; এর প্রতিকারও কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার ঘোষণায় হয়ে যাবে না।

আজ তরুণদের আচরণ, অসহিষ্ণুতা কিংবা সমাজে প্রতিহিংসার বিস্তার দেখে উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি তাদের কী শিক্ষা দিয়েছে, সে প্রশ্নও করতে হবে। যুক্তির পরিবর্তে শক্তি, যোগ্যতার পরিবর্তে পরিচয় এবং অধিকারের পরিবর্তে আনুগত্যকে গুরুত্ব দিলে সমাজে তার প্রভাব পড়বেই। বিগত আওয়ামী শাসনের ভূমিকা নিয়ে তাই প্রশ্ন তোলা সংগত। তবে সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার দায়িত্ব বর্তমানের রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও নিতে হবে।

জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানের নামে পরিচালিত কিছু কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন অবশ্যই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে সে দায়িত্ব পালন করতে হবে প্রমাণ, আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে। নিরাপত্তার প্রশ্নকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন কিংবা সমাজে নির্বিচার সন্দেহ তৈরির হাতিয়ার করা হলে মানুষের স্বাভাবিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কে কার সঙ্গে মিশছেন, কার রাজনৈতিক বিশ্বাস কী, কিংবা কে ধর্মীয় অনুশীলন করছেন—এসবের ভিত্তিতে কাউকে সন্দেহের চোখে দেখার পরিবেশ কাম্য নয়। মানুষ যেন প্রতিবেশীকে ভয় না পায়, আত্মীয়কে রাজনৈতিক পরিচয়ে বিচার না করে এবং মত প্রকাশের কারণে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন না হয়—এমন পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।

গণমাধ্যম ও শিক্ষিত সমাজেরও দায়িত্ব রয়েছে। উচ্চশিক্ষা বা ভাষার দক্ষতা থাকলেই বিশ্লেষণ নিরপেক্ষ হয়ে যায় না। ব্যক্তিস্বার্থ কিংবা দলীয় আনুগত্য থেকে অন্যায়কে আড়াল করা হলে জনপরিসর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একইভাবে ইসলাম বা ধর্মীয় অনুশীলন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়া বিদ্বেষপূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়া এবং সব ধর্মীয় প্রবণতাকে একই ছাঁচে ফেলা বিভ্রান্তি বাড়ায়। সমালোচনা হোক তথ্য, যুক্তি ও দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে।

পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অস্থিরতা, অপরাধ কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা থাকতে পারে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু অপরাধী যে পক্ষেরই হোক, তার বিচার একই মানদণ্ডে হতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কাউকে ছাড় দেওয়া কিংবা প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা—কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিশেষ করে গণপিটুনি ও পিটিয়ে মানুষ হত্যার মতো ঘটনাকে কোনো রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দিয়ে সহনীয় করা যায় না। বিগত সময়ের সহিংসতার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বর্তমানের প্রতিটি অপরাধ বন্ধ করার দায়িত্বও রাষ্ট্রকে নিতে হবে। অতীতের অন্যায় বর্তমানের অন্যায়ের অনুমোদন নয়।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশনের প্রয়োজন কোথায়? অপরাধ দমন, নাগরিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক আস্থা ফেরানোর জন্য প্রয়োজন কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা।

সরকারের প্রতি আহ্বান—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান ও পরিমাপযোগ্য পদক্ষেপ নিন। পুলিশ বাহিনীতে জনবলের ঘাটতি রয়েছে, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগ দিন। জনসংখ্যা, এলাকার বিস্তৃতি, অপরাধের ধরন এবং কাজের চাপ বিবেচনা করে থানাগুলোর জনবল ও সক্ষমতা নির্ধারণ করুন।

অপরাধ তদন্ত, সাইবার অপরাধ দমন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি সেবায় বিশেষায়িত জনবল গড়ে তুলুন। আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, প্রয়োজনীয় যানবাহন ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করুন। আমাদের করের অর্থ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে ব্যয় করা হোক।

তবে জনবল বৃদ্ধির সঙ্গে নিয়োগের স্বচ্ছতা, পেশাগত দক্ষতা, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতা বাড়বে, কিন্তু জবাবদিহিতা বাড়বে না—এমন ব্যবস্থায় মানুষের আস্থা ফিরবে না। পুলিশকে এমন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে, যেখানে অভিযোগ জানাতে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবশালী কারো সুপারিশ প্রয়োজন হবে না।

বিচার বিভাগের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিচারক এবং সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হোক। আদালতের অবকাঠামো, নথি ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা উন্নত করা হোক। তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার সমন্বয় বাড়িয়ে অযৌক্তিক বিলম্ব কমাতে হবে। দ্রুততার পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

প্রশাসনের যেসব দপ্তরে জনবলের ঘাটতিতে সেবা ব্যাহত হয়, সেখানেও পর্যাপ্ত যোগ্য জনবল নিয়োগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সেবার অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমানো, নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং অভিযোগের কার্যকর নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা, ঘুষ, হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

মানুষ সরকারি দপ্তরে গিয়ে সেবা চায়, বারবার ঘুরতে চায় না। মানুষ রাস্তায় স্বস্তি চায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে চায় না। মানুষ উপার্জনের নিরাপত্তা চায় এবং ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ চায়। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা ছাড়া এসব প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। একজন প্রকৌশলী হিসেবে লেখক মনে করেন, এ খাতের সংকটকে কেবল তাৎক্ষণিক সরবরাহের সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না; পরিকল্পনা, ক্রয়, উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার সমন্বিত মূল্যায়ন প্রয়োজন।

স্বল্প মেয়াদে সরবরাহের ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান, বিদ্যমান স্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি, সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থার উন্নয়ন, জ্বালানি সাশ্রয় এবং নবায়নযোগ্য শক্তির বাস্তবসম্মত ব্যবহার বাড়াতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রকৃত চাহিদা, কারিগরি যৌক্তিকতা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি জনস্বার্থ বিবেচনায়।

এ খাতের সব গুরুত্বপূর্ণ ক্রয়প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার চেষ্টা থাকতে হবে। কী কেনা হচ্ছে, কেন কেনা হচ্ছে, কত দামে এবং কোন প্রক্রিয়ায় সরবরাহকারী নির্বাচন করা হচ্ছে—এসব তথ্য যথাসম্ভব প্রকাশ করা হোক। দরপত্র, মূল্যায়নের মানদণ্ড, চুক্তিমূল্য, গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এবং বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে মানুষকে জানানো হোক।

গোপনীয়তার প্রয়োজন থাকলে তার সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করা উচিত। জরুরি প্রয়োজনের অজুহাতে জবাবদিহিতা এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। বরং জরুরি ক্রয় ও বড় ব্যয়ের ক্ষেত্রে কার্যকর নিরীক্ষা ও স্বাধীন তদারকি আরো গুরুত্বপূর্ণ। এতে অনিয়মের সুযোগ কমবে এবং সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় সমস্যা থাকবে, চ্যালেঞ্জও আসবে; কিন্তু সেগুলোর সমাধান করতে হবে নীতি, দক্ষতা, জনবল, বিনিয়োগ এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে। একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতা দক্ষ প্রশাসনের বিকল্প নয়; রাজনৈতিক পুনর্বাসন নাগরিক নিরাপত্তার বিকল্প নয়।

আওয়ামী লীগের শাসনামলের অভিযোগগুলোর বিচারও একই সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। অপরাধের দায় ব্যক্তির ভূমিকা ও প্রমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অপরাধের দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন না; আবার কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে অপরাধীও বলা যাবে না। এই নীতিই ন্যায়বিচারের দাবিকে শক্তিশালী করে।

কোনো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হলে তার লক্ষ্য, শর্ত এবং সীমারেখা জনগণের কাছে স্পষ্ট থাকতে হবে। নির্যাতিত মানুষ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বক্তব্য শুনতে হবে। তাদের অগোচরে তাদের ন্যায়বিচারের দাবি নিয়ে দর-কষাকষির নৈতিক অধিকার কারো নেই।

লেখক শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চান। সেই লক্ষ্য অর্জনে জনগণের আস্থা, আইনের শাসন এবং কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানই সবচেয়ে বড় শক্তি। কোনো বিদেশি পছন্দ, গোপন সমঝোতা কিংবা সুবিধাবাদী রাজনৈতিক হিসাব জনগণের ইচ্ছার বিকল্প হতে পারে না।

দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার নামে আওয়ামী লীগের সঙ্গে দায়মুক্তিমূলক রিকনসিলিয়েশন নয়। অগ্রাধিকার দিন আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের সমাধান এবং প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়ে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায়।

দেশের মানুষকে নিরাপত্তা দিন, ন্যায়বিচার দিন, হয়রানিমুক্ত সেবা দিন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা দিন। এসব কাজের মধ্য দিয়েই স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা তৈরি হবে। সেই আস্থার কোনো বিকল্প রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে না।

লেখক: প্রকৌশলী; সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সভাপতি, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বুয়েট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বার্সেলোনার কোচ হিসেবে শততম জয় পেলেন হ্যান্সি ফ্লিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩৮ এম


বার্সেলোনার কোচ হিসেবে শততম জয় পেলেন হ্যান্সি ফ্লিক

বার্সেলোনার ডাগআউটে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন হ্যান্সি ফ্লিক। সম্প্রতি কাতালান ক্লাবের হয়ে একটি বিশেষ কীর্তি গড়েছেন তিনি। দেপোর্তিভো আলাভেসকে ৬-১ গোলে পরাজিত করার ম্যাচে বার্সেলোনার কোচ হিসেবে শততম জয় অর্জন করেছেন ফ্লিক। এই মাইলফলকে পৌঁছাতে তার প্রয়োজন পড়েছে মাত্র ১৩১ ম্যাচ।

বার্সেলোনার ইতিহাসে দ্রুততম ১০০ জয়ের তালিকায় ফ্লিক বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন। এই পথে তিনি পেপ গার্দিওলাকে পেছনে ফেলেছেন। গার্দিওলা বার্সার কোচ হিসেবে ১৩৯ ম্যাচে শততম জয় অর্জন করেছিলেন। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন লুইস এনরিকে, যিনি ১২৬ ম্যাচে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।

২০২৪-২৫ মৌসুমে বার্সেলোনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফ্লিক অসাধারণ ছন্দে রয়েছেন। প্রথম মৌসুমে তিনি দলকে ৪৪ ম্যাচে জয়ী করেছেন। পরবর্তী মৌসুমেও একই সংখ্যক জয় তার দখলে রয়েছে। চলতি মৌসুমে ১৪ ম্যাচের মধ্যে ১২টিতে জয় পেয়েছে তার দল।

মোট ১৩১ ম্যাচে ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনার জয় সংখ্যা ১০০টি। এই সময়ে হার হয়েছে ২১ ম্যাচে এবং ড্র ১০টিতে। জয়ের হার দাঁড়িয়েছে ৭৬ দশমিক ৩ শতাংশ। তার অধীনে বার্সেলোনা ৮৪ শতাংশ ম্যাচে হার এড়াতে সক্ষম হয়েছে।

ফ্লিকের বার্সেলোনার আক্রমণভাগই সবচেয়ে বড় শক্তি। চলতি মৌসুমে ১৪ ম্যাচে দলটি ৪৮ গোল করেছে, যা প্রতি ম্যাচে তিনটিরও বেশি। একাধিক ম্যাচে পাঁচ গোল করার পাশাপাশি রেসিং স্যান্টান্ডারের বিপক্ষে সাত গোলও করেছে তারা।

চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার হার মাত্র দুটি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির কাছে এবং লা লিগায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে হেরেছে দলটি। টানা দুই হারের পর আলাভেসের বিপক্ষে বড় জয় দিয়ে আবারও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে ফ্লিকের শিষ্যরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমাজে সহানুভূতির অভাব ও নাগরিক দায়িত্ববোধের সংকট: শিক্ষক ড. নাজিবুর রহমানের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩৯ এম


সমাজে সহানুভূতির অভাব ও নাগরিক দায়িত্ববোধের সংকট: শিক্ষক ড. নাজিবুর রহমানের মৃত্যু

‘একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না?

এটি শিল্পী ভূপেন হাজারিকার কালজয়ী গান ‘মানুষ মানুষের জন্য’-এর একটি অত্যন্ত আবেগঘন ও জনপ্রিয় লাইন। গানটির মূল থিম হলো মানবতার ডাক, যেখানে মানুষকে স্বার্থপরতা ভুলে একে অপরের বিপদে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। গানের মূল অংশটুকু হচ্ছেÑ

‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য
একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না? ও বন্ধু...’

সমাজে একা বাঁচার সুযোগ নেই। একজন মানুষের বিপদে অন্য একজন মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিপদে এগিয়ে আসা দয়া বা করুণা নয়, বরং এটি মানবতার পরিচায়ক। মানুষের প্রতি মানুষের সহজাত দায়িত্বই এটি। কিন্তু এই মানবিকতা যেন হারিয়ে গেছে। মেট্রোরেলের একজন শিক্ষকের মৃত্যু সেই সত্যকে পুনর্ব্যক্ত করছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান গত ২৪ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসেছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বিকাল ৩টার দিকে তিনি শাহবাগ স্টেশন থেকে উত্তরায় তার বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে মেট্রোরেলে ওঠেন। ট্রেনটিতে প্রচণ্ড ভিড় ছিল। শেওড়াপাড়া ও কাজিপাড়া স্টেশনের মাঝামাঝি ট্রেনটি যাওয়ার পর ড. নাজিবুর হঠাৎ প্রচণ্ড অসুস্থতাবোধ করেন। দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ছিলেন যে, পাশে বসে থাকা যাত্রীদের কাছে বসার জন্য অনুরোধ জানান। তিনি কয়েকবারই বলতে থাকেন আমি প্রচণ্ড অসুস্থতাবোধ করছি কেউ একজন আমাকে একটু বসতে দিন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কেউ তার আকুতি কিংবা অনুরোধে সাড়া দেয়নি, একটি আসন ছেড়ে দিয়ে তাকে বসতে দেয়নি।

বসার অনুরোধ করার মাত্র এক-দুই মিনিটের মধ্যেই তিনি মেট্রোরেলের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। তার ছেলে নাকিবুর রহমানের ধারণা, ট্রেনের ভেতরে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তেই তার বাবা স্ট্রোক করে এবং জীবনাবসান হয়। ট্রেনটি উত্তরা উত্তর স্টেশনে পৌঁছালে আনসার সদস্য ও কর্তৃপক্ষের সহায়তায় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা শরীর পরীক্ষা করে জানান, তিনি আগেই মারা গেছেন।

এই মৃত্যু নিয়ে তার ছেলে নাকিবুর রহমান একটি পোস্ট দেন। তিনি লেখেন, ‘ছেলে হিসেবে আজীবন একটাই আক্ষেপ থাকবে, কেউ যদি আব্বুকে ট্রেনের আসনে একটু বসতে দিতেন, তাহলে হয়তো তিনি এভাবে মেঝেতে লুটিয়ে না পড়ে কারো কোলে মাথা রেখে শান্তিতে বিদায় নিতে পারতেন।’ তবে নাকিবুর এ নিয়ে কারো দোষারোপ করতে চান না। তার একটিই অনুরোধ গণপরিবহনে মানুষ প্রবীণ ও অসুস্থ যাত্রীদের প্রতি যেন একটু সংবেদনশীল ও সহনশীল হয়।

মানুষের অন্তর কি মরে গেছে!

একটি আধুনিক গণপরিবহনে একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ও স্পষ্টত অসুস্থ মানুষ বসার আকুতি জানানোর পরও কারো সিট ছেড়ে না দেওয়াটা নাগরিক সংবেদনশীলতার চরম অবক্ষয়ের কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে।

ব্যস্ত শহরে যান্ত্রিক জীবনের কারণে মানুষের মাঝে এক ধরনের তীব্র আত্মকেন্দ্রিকতা বা অন্যের বিপদে চোখ বন্ধ করে রাখার যে প্রবণতা তৈরি হচ্ছে, এটা তারই নির্মম উদাহরণ।

গণপরিবহনে প্রবীণ বা অসুস্থদের অগ্রাধিকার দেওয়ার যে স্বাভাবিক সামাজিক ও নৈতিক নিয়ম রয়েছে, তা পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে এ ঘটনা তারই প্রমাণ।

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে, অবকাঠামোগতভাবে আমরা আধুনিক হলেও সামাজিকভাবে সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণের দিক থেকে কতটা পিছিয়ে পড়ছি। মানুষ এতটাই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে যে, চারপাশের অন্য মানুষের কষ্ট, প্রয়োজন বা সংকট তাকে স্পর্শ করল না, যাকে নাগরিক উদাসীনতা বলা যায়।

যে কোনো সভ্য সমাজে প্রবীণ, শিশু, গর্ভবতী নারী কিংবা অসুস্থ মানুষকে নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে জায়গা ছেড়ে দেওয়া একটি ন্যূনতম সামাজিক শিষ্টাচার। এই ন্যূনতম সৌজন্যটুকু হারিয়ে যাওয়া সমাজের নৈতিক কাঠামোর ভাঙনকেই বোঝায়।

অথচ পৃথিবীতে মানবিকতার কত সুন্দর উদাহরণ আছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য ব্রিটিশ তরুণ নিকোলাস উইন্টন সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় ৯টি ট্রেনের ব্যবস্থা করে তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়া থেকে ৬৬৯ জন ইহুদি শিশুকে ইংল্যান্ডে পাচার করে জীবন বাঁচিয়েছিলেন। তিনি প্রায় ৫০ বছর এই ত্যাগের কথা কাউকে জানাননি। পরে তার স্ত্রী ঘরের চালার গোপন নথিতে শিশুদের তালিকা খুঁজে পাওয়ায় বিশ্ববাসী এই নীরব নায়কের খোঁজ পায়।

কোনো কোনো মানুষ নিজের জীবন বিলিয়ে দেয় পুরো সমাজকে আলোর পথ দেখাতে। ইতিহাসে এমন অনেক চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী আছেন, যারা মহামারি বা সংক্রামক রোগের ওষুধ আবিষ্কারের সময় নিজের শরীরেই প্রথম সেই মরণব্যাধির জীবাণু প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষা করেছেন, যেন মানবজাতি বেঁচে যায়।

২০১১ সালে জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণের পর যখন প্রাণঘাতী তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে, তখন দেশের শত শত প্রবীণ নাগরিক (যাদের বয়স ৬০ বছরের উপরে) তরুণদের সরিয়ে দিয়ে নিজেরা সেই বিপজ্জনক এলাকা পরিষ্কার করার দায়িত্ব নেন। তাদের যুক্তি ছিল‘আমাদের আয়ু তো শেষের দিকে, তেজস্ক্রিয়তায় ক্যানসার হতে কয়েক বছর লাগবে, ততদিনে আমরা হয়তো স্বাভাবিকভাবেই মারা যাব। কিন্তু দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ এখনো পড়ে আছে, তাই তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি আমরাই নেব।’

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় যখন বোমা বর্ষণে পুরো আলেপ্পো শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছিল এবং মানুষ জীবন বাঁচাতে শহর ছাড়ছিল, তখন আলা আল-জলিল নামের একজন সাধারণ অ্যাম্বুলেন্স চালক শহর ছাড়েননি। তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরে ফেলে যাওয়া এবং অনাহারে থাকা শত শত বিড়াল ও পরিত্যক্ত প্রাণীদের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলেন এবং নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের সমুদ্র উপকূলে ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী ও সাধারণ নাগরিকদের দ্বারা পরিচালিত একটি সংস্থা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশন। এর সদস্যরা কোনো বেতন বা আর্থিক লাভ ছাড়াই ঝড়-তুফানের রাতে উত্তাল সমুদ্রে লাইফবোট নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন শুধুমাত্র ডুবন্ত অপরিচিত কোনো মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য।

বিভিন্ন দেশে গণপরিবহন ব্যবহারের সংস্কৃতি

জাপানের গণপরিবহন ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে তাদের শৃঙ্খলার জন্য বিখ্যাত। রেলে বা বাসে ওঠার জন্য জাপানিরা প্ল্যাটফর্মে নিখুঁত একক লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন। কেউ ধাক্কাধাক্কি বা লাইন ভাঙার কথা চিন্তাও করে না।

জাপানি সংস্কৃতিতে প্রবীণদের প্রতি সম্মান ওমোতেনাশি বা আতিথেয়তার অংশ। যদিও আত্মমর্যাদাশীল অনেক জাপানি প্রবীণ সহজে অন্যের দয়া নিতে চান না, তবুও তরুণরা অত্যন্ত বিনীতভাবে এবং কোনো রকম শোরগোল না করে প্রবীণ বা অসুস্থদের বসার জায়গা ছেড়ে দেন।

লন্ডনের টিউব (পাতাল রেল) এবং বাসে সাধারণ মানুষের মাঝে সহমর্মিতা বাড়াতে লন্ডনের পরিবহন কর্তৃপক্ষ একটি চমৎকার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা চালু করেছে। সেটা হচ্ছে অনুগ্রহ করে আমাকে একটি আসন দিন লেখা বিশেষ ব্যাজ ও কার্ড প্রদান। ট্রেনে কোনো যাত্রী এই ব্যাজ পরা কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলে মুহূর্তের মধ্যে নিজে থেকে উঠে দাঁড়িয়ে তাকে বসার জায়গা করে দেন। কোনো প্রশ্ন বা দ্বিধা ছাড়াই নাগরিকরা এই দায়িত্ব পালন করেন।

সিঙ্গাপুরের ‘কেয়ার জোন’ এবং মানবিক সংস্কৃতিÑসিঙ্গাপুরের গণপরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত আধুনিক হলেও তারা মানবিক মূল্যবোধকে প্রযুক্তির ওপরে স্থান দিয়েছে। অনেক বড় মেট্রো স্টেশনে সুনির্দিষ্ট কিছু এলাকা থাকে যেগুলোকে বলা হয় ‘হার্ট জোন’। এখানে প্রবীণ, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বা শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা দাঁড়ালে সাধারণ সহযাত্রীরা নিজে থেকে এগিয়ে আসেন এবং তাদের হাত ধরে নিরাপদে ট্রেনে বা বাসে চড়ে আসন পেতে সাহায্য করেন।

সিঙ্গাপুরে সংরক্ষিত আসনগুলোতে কোনো সুস্থ তরুণ বসে থাকলেও প্রবীণ কেউ কামরায় প্রবেশ করা মাত্রই তরুণরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সিট ছেড়ে উঠে দাঁড়ান।

জার্মানি এবং ফ্রান্সে ট্রেনে উচ্চস্বরে কথা বলা বা ফোনে জোরে কথা বলা নিষিদ্ধ। তারা বিশ্বাস করে, সহযাত্রীদের মানসিক শান্তি নষ্ট না করাও এক ধরনের মানবিকতা।

বাসে বা ট্রেনে সাধারণ আসন ফাঁকা থাকলেও কেউ প্রবীণ বা গর্ভবতী নারীদের জন্য নির্ধারিত আসনে বসেন না। আর যদি পুরো ট্রেন পূর্ণ থাকে, তবে প্রবীণ বা স্পষ্টত কোনো অসুস্থ মানুষ ভেতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে একাধিক তরুণ আসন ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতিতে কনফুসীয় মূল্যবোধের গভীর প্রভাব রয়েছে, যা প্রবীণদের সর্বোচ্চ সম্মান দিতে শেখায়।

কোরিয়ান সাবওয়েতে প্রবীণদের জন্য নির্দিষ্ট আসনগুলো ট্রেন পুরোপুরি উপচে পড়া ভিড় থাকলেও কোনো তরুণ বা সুস্থ মানুষ ভুলেও ব্যবহার করেন না। আসনগুলো প্রবীণদের জন্যই ফাঁকা রাখা হয়, যাতে তারা যে কোনো স্টেশনে উঠেই সরাসরি বসতে পারেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিষ্ঠাচার ও নৈতিকতা শিক্ষার গুরুত্ব দেওয়া হোক

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল জিপিএ-৫ বা সনদ পাওয়ার জায়গা নয়, এটি মানুষ গড়ার কারখানাও। প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত কেবল মুখস্থ করার জন্য ‘ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ বই না রেখে, ব্যবহারিক শিষ্টাচার শেখানো উচিত। যেমনÑকীভাবে লাইনে দাঁড়াতে হয়, প্রবীণ ও অসুস্থদের কীভাবে সাহায্য করতে হয়, এবং অন্যের অধিকারকে কীভাবে সম্মান জানাতে হয়।

যেহেতু সংকটটি গণপরিবহনে তীব্রভাবে প্রকাশ পেয়েছে, তাই পরিবহন মন্ত্রণালয় ও ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড কিছু সৃজনশীল পদক্ষেপ নিতে পারে।

মানবতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ সম্পর্কে নবীজির শিক্ষা

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন দর্শন ও শিক্ষা হলো মানবতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের সর্বশ্রেষ্ঠ স্মারক। আজকের অবক্ষয় থেকে আমাদের প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে নবীজি (সা.)-এর শিক্ষায় তাদের গড়ে তুলতে হবে।

বড়দের প্রতি সম্মান ও ছোটদের প্রতি স্নেহপ্রবণ হওয়ার অনন্য উপদেশ দিয়ে গেছেন নবীজি (সা.)। সুনানে আবু দাউদের এক হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান জানায় না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’

নবীজির এই শিক্ষা যদি আমাদের জানা থাকত, তাহলে মেট্রোরেলে ওই প্রবীণ শিক্ষকের প্রতি আমরা অবহেলা করতাম না। অসুস্থ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড. নাজিবুর রহমানের অনুরোধ শোনামাত্রা আমরা মেট্রোরেলে নিজের আসন ছেড়ে দিয়ে তাকে বসতে দিতাম। তাহলে সেটা হতো নবীজির (সা.)-এর শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন।

নবীজি (সা.) মানুষের উপকার করাকে শ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসেবে বলে গেছেন। তিনি বলেছেন, সমাজসেবা ও পরোপকার ঈমানের অঙ্গ এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল।

আল মুজামুল আওসাদ-এর একটি হাদিসে আছে, নবীজি (সা.) বলেন, ‘মানুষের মধ্যে সেই সর্বোত্তম, যে মানুষের সবচেয়ে উপকার করে।’ মেট্রোরেলে যখন একজন যাত্রী হিসেবে শিক্ষক ড. নাজিবুর রহমান তীব্র অসুস্থতায়ে ছটফট করে সিটে বসতে চাইছিলেন, তখন মোবাইল বা ল্যাপটপে মগ্ন না থেকে কিংবা না শোনার ভান করে অনুরোধ অগ্রাহ্য করা ঠিক হয়নি।

ওই যাত্রীদের কেউ যদি তাকে সাহায্য করতে নিজের আসনটি ছেড়ে দিতেন, তাহলে নবীজির (সা.) দৃষ্টিতে তিনি নফল ইবাদতের চেয়েও উত্তম কাজ করার সওয়াব পেতেন।

নবীজি (সা.) তাঁর সাহাবিদের রাস্তার অধিকার (হক) আদায়ের উপদেশ দিয়ে গেছেন। সাহাবিরা যখন নবীজিকে (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, রাস্তার হক কী? তখন নবীজি (সা.) অন্য বিষয়ের সঙ্গে বলেছিলেন, ‘পথহারাকে পথ দেখানো এবং বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করা’ (সহীহ বুখারী)।

ড. নাজিবুর রহমানকে সাহায্য করা যে একটি দ্বীনি ও নৈতিক দায়িত্ব ছিল এ হাদিস থেকেও আমরা তার শিক্ষা পাই।

নবীজি (সা.) মুসলিম উম্মাহকে একটি দেহের সঙ্গে তুলনা করেছেন। পারস্পরিক সহমর্মিতার অভাব দূর করতে নবীজি (সা.)-এর অনন্য একটি হাদিস আছে। সহীহ মুসলিম শরীফের এই হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, ‘মুমিনদের পারস্পরিক মহব্বত, দয়া ও অনুগ্রহের উদাহরণ একটি দেহের মতো। যখন দেহের কোনো অঙ্গ অসুস্থ বা ব্যথাতুর হয় তখন পুরো দেহ জাগ্রত থেকে ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তার সঙ্গে শরিক হয়।’ নবীজি (সা.)-এর এই শিক্ষা জীবন্ত থাকলে মেট্রোরেলের পুরো কামরায় ড. নাজিবুর রহমানের সাহায্যের আবেদনে যাত্রীদের অস্থির হয়ে ওঠার কথা ছিল। নবীজির (সা.) ওই শিক্ষা সমাজকে আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে বের করে আনতে পারে।

নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো মুমিনের একটি সংকট দূর করবে, আল্লাহ তার কিয়ামতের দিন একটি বড় সংকট দূর করবেন’ (সহীহ মুসলিম)।

নবীজির (সা.) এসব শিক্ষা কেবল বইয়ের পাতায় বা বক্তব্য-ওয়াজ মাহফিলে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। চর্চা করতে হবে। তাহলে কোনো অসুস্থ মানুষ, কোনো প্রবীণ মানুষ বিপদগ্রস্ত হবেন না, সাহায্য পাবেন।

পবিত্র কোরআনের শিক্ষা

পবিত্র কোরআনের মূল বাণীই হলো মানুষের প্রতি দয়া, ইনসাফ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করা।

পবিত্র কোরআনে মানুষের জীবনের মূল্যকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সূরা মায়িদাহর ৩২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মানুষের জীবন রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করল।’ মেট্রোরেলে অসুস্থ শিক্ষক ড. নাজিবুর রহমানকে বসার জায়গা দেওয়া বা দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার ক্ষুদ্র উদ্যোগটি কোনো যাত্রী তখন করলে সেটি হতে পারত পবিত্র কোরআন অনুযায়ী মানুষের জীবন বাঁচানোর দৃষ্টান্ত। যা পুণ্য হিসেবে গণ্য হতো।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে মুমিনদের একে অপরের ভালো কাজে হাত বাড়াতে বলেছেন। সূরা মায়িদাহর ২ নম্বর আয়াতে আছে, ‘সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে তোমরা একে অপরের সাহায্য করো। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সাহায্য করো না।’ পবিত্র কোরআনের এই নির্দেশ অমান্য করে মুখ ফিরিয়ে রাখা সামাজিক অপরাধ। পবিত্র কোরআনে আত্মকেন্দ্রিকতা ও উদাসীনতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মানুষের কষ্ট দেখেও না দেখার ভান করার অভ্যাসের সমালোচনা করা হয়েছে।

সূরা মাউনের ৪-৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘ধ্বংস সেই নামাজিদের জন্য যারা ছোটখাটো সাহায্য করতেও অস্বীকৃতি জানায় বা উদাসীন থাকে। এখানে মাউন শব্দের অর্থ নিত্যদিনকার ছোট-খাটো সাহায্য। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ মানুষকে পারস্পরিক আচরণের ক্ষেত্রে দয়াশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

সূরা ফালাকের ১৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, অতঃপর সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয় যারা ঈমান এনেছে এবং পরস্পরকে ধৈর্য ও দয়া-সহানুভূতির উপদেশ দেয়।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ সুস্পষ্টভাবে অহংকার ও নিষ্ঠুরতা বর্জন করার কথা বলেছেন। অহংকারবশত অন্যের প্রয়োজনকে গুরুত্ব না দেওয়া কোরআনের দৃষ্টিতে চরম অপছন্দনীয় আচরণ।

লোকমান হাকিম তার সন্তানকে উপদেশ দিতে গিয়ে যা বলেছিলেন তা সূরা লোকমানের ১৮ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘অহংকারবশত তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না, এবং পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো দাম্ভিক, অহংকারীকে পছন্দ করেন না।’ ড. নাজিবুরের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ পবিত্র কোরআনের এই সহমর্মিতা ও জীবন রক্ষার শিক্ষাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুসরণ করতে হবে।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক (বর্তমানে সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্ধ্যার পর রাস্তায় শিক্ষার্থীদের পেলে গ্রেফতার: ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩৯ এম


সন্ধ্যার পর রাস্তায় শিক্ষার্থীদের পেলে গ্রেফতার: ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী সতর্ক করে বলেছেন, সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দেখা গেলে তাদের গ্রেফতার করা হবে। কিশোর গ্যাং নির্মূলে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, এ অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চলমান থাকবে।

শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ হলে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক অপরাধ দমনের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এই সমাবেশের আয়োজন করেছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ।

অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে ডিআইজি বলেন, "ছেলে-মেয়েদের ওপর অভিভাবক ও শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণ নেই।" তিনি উল্লেখ করেন, যে বয়সে তাদের বই-খাতা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সে সময় বিকালে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। তিনি আরও বলেন, "বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে শিস দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।" পারিবারিক শাসন ও নজরদারির অভাবের কারণে কিশোর গ্যাং তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডিআইজি বলেন, "আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কিশোর গ্যাং এই দেশ থেকে নির্মূল করব। কিশোর গ্যাং বলতে কিছু থাকবে না। এটি পুরোপুরি নির্মূল করতে আমাদের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।"

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান। বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মাবুদ, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান এবং জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, কক্সবাজার শহরে বহুমাত্রিক অপরাধ সংঘটিত হয়। জেলা পুলিশ সম্প্রতি অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%