০১:২৬ পি.এম
জার্মানির বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা বা অন্য কোনো শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর মূল্য দিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ। সম্প্রতি লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।
, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে জার্মানি বর্তমানে ‘গুরুতর হুমকির’ মুখে রয়েছে এবং দেশটি ধীরে ধীরে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের পোশাকশিল্প: সংকট ও উত্তরণের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজন
গত ৪ আগস্ট পূর্ব জার্মানির লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে একটি বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন পাওয়া যায়। ওই সময় বিমানবন্দরে ইউক্রেনের কয়েকটি কার্গো বিমানও ছিল। তবে ড্রোনে থাকা বিস্ফোরক বিস্ফোরিত হয়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরণ ঘটানোর যন্ত্রে ত্রুটি থাকায় এটি বিস্ফোরিত হয়নি।
পুলিশ পরে বিস্ফোরকটি নিষ্ক্রিয় করে। তদন্তকারীদের ধারণা, কাছাকাছি থাকা একটি কার্গো বিমানের সঙ্গে আরেকটি ড্রোনের সংঘর্ষ হতে পারে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এ ঘটনার পেছনে রাশিয়ার হাত থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্য বদলাতে গিয়ে বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল: ইরান
তবে জার্মান সরকার সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী করেনি। মস্কোও এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরটি জার্মান সামরিক বাহিনী এবং ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোর সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি ইউক্রেনের অ্যান্টোনভ এয়ারলাইনসের একটি ঘাঁটিও। প্রতিষ্ঠানটি ইউক্রেনের বড় একটি অংশের আকাশপথে পণ্য পরিবহন করে।
আরও পড়ুন: ইরানকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান ডিএইচএলের জন্যও বিমানবন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ।
মের্জ বলেন, ‘আমরা কিছু সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি, যার কিছু দেশের বাইরের উৎস থেকে আসছে। এসব সমস্যা আমরা কোনোভাবেই উপেক্ষা করতে পারি না।’
তিনি আরো বলেন, হামলাকারীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা বড় ধরনের সম্পত্তির ক্ষতি, এমনকি মানুষের আহত হওয়া বা প্রাণহানির ঝুঁকিও নিতে প্রস্তুত। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা পরে লাইপজিগ বিমানবন্দরের কাছে আরো একটি ড্রোন খুঁজে পান।
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনডিআর ও ডব্লিউডিআর এবং সংবাদপত্র সুডডয়চে সাইটুং জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের কাছে হেক্সোজেন নামের একটি সামরিক বিস্ফোরকের চিহ্নও পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: তেল-সার-গার্মেন্টসকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্র চলছে: ত্রাণমন্ত্রী
নিউহার্ডেনবার্গে সরকারি জোটের এক বৈঠকের ফাঁকে মের্জ বলেন, সরকার এ ঘটনা নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও করেছেন মের্জ। তিনি বলেন, জার্মান সরকার দৃঢ়ভাবে ইউক্রেনকে সমর্থন করে যাচ্ছে এবং বর্তমানে জার্মানিই ইউক্রেনের সবচেয়ে শক্তিশালী সমর্থক। তবে এই সমর্থনের লক্ষ্য যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা নয়, বরং রাশিয়াকে শান্তি আলোচনায় বসতে বাধ্য করা।
জার্মানিকে এ ধরনের হামলা থেকে আরো ভালোভাবে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান মের্জ। এর মধ্যে শক্তিশালী ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া দেশে ও বিদেশে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে ক্ষমতা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে জার্মানি। এর মধ্যে হামলাকারীদের কম্পিউটার সার্ভারে সাইবার হামলা চালানোর মতো পদক্ষেপও থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগ, তদন্ত চলছে
সাম্প্রতিক কয়েক মাসে জার্মানির সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর, জ্বালানি টার্মিনাল, সমুদ্রবন্দর ও বিভিন্ন লজিস্টিক প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর দিয়ে বেশ কয়েকটি অননুমোদিত ড্রোন উড়তে দেখা গেছে। পুলিশ সতর্ক করে বলেছে, এসব ঘটনার কিছু রুশ এজেন্টদের পরিকল্পনা বা পরিচালনায় হয়ে থাকতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন