ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মধুপুর বনাঞ্চলে বৃক্ষনিধনে উজাড় চলছে


মধুপুর বনাঞ্চলে বৃক্ষনিধনে উজাড় চলছে

পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ লাখ বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিলেও টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে এই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। বনাঞ্চলটি বৃক্ষনিধনের মাধ্যমে দখল হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে মধুপুর বনাঞ্চল বর্তমানে উজাড় হওয়ার পথে রয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের মধুপুরের প্রাকৃতিক শাল-গজারির বন অক্সিজেনের উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বর্তমানে এই মধুপুর বনাঞ্চলে চলছে বৃক্ষনিধনের মহোৎসব। কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বনের গাছ কেটে উজাড় করার অভিযোগ উঠেছে। দোখলা রেঞ্জের সদর বিট, চুনিয়া দক্ষিণ-পূর্ব ফেকামারি, জামবাইদ এলাকার প্রায় পাঁচ বিঘা বনভূমিতে পুরোনো শাল ও গজারি শত শত গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, দিনের পর দিন প্রকাশ্যে গাছ কেটে বনভূমি উজাড় করা হচ্ছে এবং পরে এসব জমি দখল করে বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষাবাদ করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে এসব গাছ কাটা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অপরদিকে, অরণখোলা বিটে বনের জমি দখল করে স্থায়ী পাকা ইমারত নির্মাণের অভিযোগও উঠেছে।

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য

পরিবেশবিদদের মতে, প্রাকৃতিক শালবন শুধুমাত্র গাছের সমষ্টি নয়; এটি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, মাটির গুণাগুণ রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুরোনো শাল-গজারি গাছ কেটে ফেলা হলে বনের স্বাভাবিক পুনর্জন্ম ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বনভূমি দখল করে কৃষিকাজ সম্প্রসারণ করা হলে প্রাকৃতিক বনের পরিমাণ আরো কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এ বিষয়ে পরিবেশকর্মী রাতুল মুন্সি জানান, "বন বিভাগের লোক বন কাটার পেছনে যুক্ত এটা পুরোনো গল্প।" তিনি বলেন, "বনের জীববৈচিত্র্য কেন দরকার সেই বিষয়গুলো নিয়ে যদি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা না যায়, তাহলে বন বাঁচানো সম্ভব হবে না।" তিনি আরও বলেন, "যারা সামাজিক বনের সুফলভোগী, তারাই বন কাটছে, যেটা বন বিভাগ জানে।" তিনি সতর্ক করে বলেন, "বন যেভাবে কাটা হচ্ছে, তাতে কাঠ জব্দ করে মামলা দিয়ে বন রক্ষা সম্ভব নয়।" এ বিষয়ে মানুষ সচেতন না হলে বন রক্ষা করা সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দোখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আমিনুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জামবাইদ এলাকার বন সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। তিনি বিট অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, ওই এলাকার বন কাটার বিষয়ে তারা অবগত আছেন এবং এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমানে গাছ কাটা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।

আরও পড়ুন: সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিদেশি সফর শেষে দেশে ফিরলেন

সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এসবি তানবির আহমদ ইমন জানান, "আমাকে তথ্য দেন, বিষয়টি আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব।"

টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নাজমুল আলম বলেন, "ইতোমধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ওখান থেকে সরানো হয়েছে। ছবিসহ তথ্য পাঠান, সঠিক তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের স্বর্ণ কেনার পেছনে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৬ এম


চীনের স্বর্ণ কেনার পেছনে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য

চীন মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি আর্থিক ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলার উদ্দেশ্যে স্বর্ণের মজুত বৃদ্ধি করছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা দেশের অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজেদের সঞ্চয় সুরক্ষিত রাখতে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।

পিপলস ব্যাংক অব চায়না (পিবিওসি) সেপ্টেম্বরে টানা ২৩তম মাসের মতো স্বর্ণ কেনার ঘোষণা দিয়েছে। ওই মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বাধিক পরিমাণ স্বর্ণ কিনেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণ কেনার মাধ্যমে বেইজিং বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভের ঝুঁকি কমানোর দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সরকারি ঋণ এবং পশ্চিমা দেশের অন্য দেশের সম্পদ জব্দ করার নজির উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনীতি ও গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য বিদেশে সম্পদ রাখার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, দেশে কেনা ও সংরক্ষণ করা স্বর্ণের জন্য অন্য কোনো সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হয় না। এ কারণে নিষেধাজ্ঞা বা সম্পদ জব্দের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পাওয়ার উপায় হিসেবে চীন স্বর্ণকে বিবেচনা করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সাধারণ মানুষের স্বর্ণ কেনার উদ্দেশ্য এক নয়। বেইজিং যেখানে আর্থিক ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কমাতে চায়, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নিজেদের সঞ্চয় সুরক্ষিত রাখার বিকল্প খুঁজছেন।

কতটা স্বর্ণ কিনেছে চীন?

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ২৩ টন স্বর্ণ মজুতে যোগ করেছে। এর ফলে দেশটির ঘোষিত স্বর্ণের মজুত বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৪১০ টনে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এটিই ছিল চীনের সবচেয়ে বড় মাসিক স্বর্ণ কেনার পরিমাণ।

সেপ্টেম্বরের শেষে চীনের মোট সরকারি রিজার্ভের ৮ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল স্বর্ণ। ২০২৪ সালের শেষে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক লেনদেন পরিচালনা এবং আর্থিক সংকট মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন সম্পদ রিজার্ভ হিসেবে সংরক্ষণ করে। সাধারণত বৈদেশিক মুদ্রা, বিদেশি সরকারের ঋণপত্র ও স্বর্ণ থাকে।

চীনের অভ্যন্তরেও স্বর্ণের ব্যক্তিগত চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে দেশটিতে স্বর্ণের বার ও মুদ্রা কেনার পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।

এমনকি স্বর্ণের দাম কমলেও বিনিয়োগকারীরা কেনা অব্যাহত রেখেছেন। চলতি মাসে স্বর্ণের দাম প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের মতে, শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং দেশটির সরকারি ঋণপত্রের উচ্চ মুনাফা স্বর্ণের দাম কমানোর পেছনে ভূমিকা রেখেছে। সুদের হার বাড়তে থাকায় সুদ দেয় এমন বিনিয়োগের আকর্ষণও বেড়েছে। ফলে নিয়মিত আয় পাওয়া যায় এমন সম্পদের তুলনায় স্বর্ণ কিছু বিনিয়োগকারীর কাছে কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

কেন স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে চীন?

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টভিত্তিক কমার্জব্যাংকের পণ্য গবেষণা বিভাগের প্রধান থু ল্যান নগুয়েনের মতে, চীনের স্বর্ণ কেনার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মার্কিন ট্রেজারি নামে পরিচিত দেশটির সরকারি ঋণপত্রের ওপর নির্ভরতা কমানো। চীনের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বড় অংশ ডলারভিত্তিক সম্পদে রাখা হয়েছে। তাই স্বর্ণের মজুত বাড়ানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি কমাতে চায় বেইজিং। নগুয়েন আল জাজিরাকে বলেন, ‘চীনের স্বর্ণ কেনা রিজার্ভকে আরও স্থিতিশীল করার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।’

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলারের বৈদেশিক সম্পদ জব্দ করে। এ ঘটনা দেখিয়েছে, বিদেশে রাখা রিজার্ভ কত দ্রুত ব্যবহার-অনুপযোগী হয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত তৈরি হলে চীনের বৈদেশিক সম্পদের কিছু অংশও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে; এমন আশঙ্কা রয়েছে। নগুয়েন বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে দেশে রাখা স্বর্ণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে। এটি অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল নয়। ফলে নিষেধাজ্ঞা বা সম্পদ জব্দের ঝুঁকিও অনেক কম।’

ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক ও রাজস্বসংক্রান্ত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি এটিকে প্রাথমিকভাবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা হিসেবেই ব্যাখ্যা করব।’

যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তে থাকা ঋণও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। চলতি বছরের শুরুতে দেশটির সরকারি ঋণ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস পূর্বাভাস দেয়, জনগণের হাতে থাকা ফেডারেল ঋণ ২০২৬ সালে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১০১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০৩৬ সালে ১২০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে। চীনের হাতে থাকা মার্কিন ঋণপত্রের বিষয়টিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্বর্ণকে তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছে দেশটি।

স্বর্ণ কিনছেন চীনা পরিবারগুলোও

চীনের সাধারণ মানুষের স্বর্ণ কেনার পেছনে রয়েছে ভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক উদ্বেগ। অন্য বিনিয়োগের ওপর আস্থা কমে গেলে সঞ্চয় ধরে রাখার বিকল্প হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ বাড়ে। নগুয়েন বলেন, ‘স্বর্ণের প্রবল চাহিদা আংশিকভাবে বিকল্প সঞ্চয়স্থানের অনুসন্ধানের প্রতিফলন হতে পারে।’

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল চীনের দুর্বল শেয়ারবাজারকে স্বর্ণের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে দেশটির আবাসন খাতও চাপের মধ্যে রয়েছে। অতিরিক্ত ঋণ ও অতিরিক্ত নির্মাণের কারণে বাড়ির দাম কমছে, ফলে আবাসন খাত অনেকের কাছে দুর্বল বিনিয়োগের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে।

ডলারের বৈশ্বিক অবস্থানে কী প্রভাব পড়বে?

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের স্বর্ণ কেনা বাড়লেও তা ডলারের বৈশ্বিক আধিপত্যের অবসানের ইঙ্গিত দেয় না। নগুয়েন বলেন, ‘ডলার থেকে বড় ধরনের সরে আসার ঘটনা হিসেবে এটিকে বর্ণনা করার ব্যাপারে আমি সতর্ক থাকব। ডলার এখনো বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা।’

তবে চীনসহ বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি নতুন রিজার্ভের বড় অংশ স্বর্ণে বিনিয়োগ করে এবং আগের তুলনায় কম মার্কিন সম্পদ কেনে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণপত্রের চাহিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস দুর্বল হতে পারে। এর প্রভাব নির্ভর করবে পরিবর্তনটি কতটা ব্যাপক ও দ্রুত ঘটে, তার ওপর।

নগুয়েনের মতে, ‘মূল বিষয় হলো, এটি ডলারকে আকস্মিকভাবে বর্জন করার পরিবর্তে ধীরে ধীরে রিজার্ভের বৈচিত্র্য বাড়ানোর প্রক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ প্রবণতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে না পড়া এবং দ্রুত গতি না পাওয়া পর্যন্ত মার্কিন অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব সীমিত থাকবে।’

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক লেনদেন পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সহজলভ্য বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়। এসব লেনদেনে ডলার এখনো প্রধান ভূমিকা পালন করে। তাই স্বর্ণ আর্থিক সুরক্ষা দিলেও ডলার রিজার্ভের সব কাজ সরাসরি প্রতিস্থাপন করতে পারে না।

আর কোন দেশ স্বর্ণ কিনছে?

নগুয়েনের মতে, চীন এমন একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, যা বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে দেখা যাচ্ছে। এই প্রবণতা বিশেষ করে উদীয়মান বাজারের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে লক্ষণীয়। তবে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুরো কারণের একটি অংশ মাত্র।

স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে পোল্যান্ডও গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা হয়ে উঠেছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ৩১ টন এবং জুলাইয়ে আরও ৮ টন স্বর্ণ কিনেছে।

তবে কোনো দেশের স্বর্ণের মজুত বেশি হলেই যে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটি বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কিনেছে, তা নয়। উদাহরণ হিসেবে, ভারত জুনে জানিয়েছে, তাদের ভৌত স্বর্ণের মজুত প্রায় ৮৮০ দশমিক ৫ টনে অপরিবর্তিত রয়েছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের মতে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ভারতের স্বর্ণের রিজার্ভে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। দেশটি ২০২৫ সালে প্রায় ৪ টন স্বর্ণ কিনেছে, যেখানে ২০২৪ সালে কিনেছিল ৭৩ টন।

চীন ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণ কিনলেও দেশটির মজুত যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক কম। ২০২৫ সালের শেষে চীনের স্বর্ণের মজুত প্রায় ২ হাজার ৩০০ টন হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮ হাজার ১৩৩ টন মজুতের এক-তৃতীয়াংশেরও কম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে সুপারট্যাংকারে আগুনের দাবি আইআরজিসির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ এম


হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে সুপারট্যাংকারে আগুনের দাবি আইআরজিসির

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে চলাচলের সময় একটি সুপারট্যাংকার নৌমাইনের আঘাতে আগুন লেগে যায়। বাহিনীটির দাবি, জাহাজটি অনুমোদনহীন দক্ষিণের পথ দিয়ে প্রণালি ছাড়ার চেষ্টা করার সময় এ ঘটনা ঘটে। তবে, জাহাজটির পরিচয়, ক্ষয়ক্ষতি এবং নাবিকদের অবস্থা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধের কারণে ইরানের কোন জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়নি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর সউদী আরবে ভ্রমণের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দেশটিতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইয়েমেনের সরকার অভিযোগ করেছে যে, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলার এক দিন পর হুথিরা এডেন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, এক মার্কিন সাংবাদিককে আক্রমণ এবং জলপাইগাছ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার কারণে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফরিদপুরে দেশের প্রথম ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ এম


ফরিদপুরে দেশের প্রথম ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত

ফরিদপুর জেলা পরিষদ দেশের প্রথমবারের মতো সফলভাবে ৬০ কিলোওয়াট উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (সোলার প্যানেল) ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে শুরু করেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিলও এই সরকারি অনুদানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে নিজেদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের ৪০ কিলোওয়াট চাহিদা পূরণ করে বাকি ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখা ও সদর ভিআইপি ডাকবাংলোর ভবনের ছাদে স্থাপিত এই সোলার প্যানেল সিস্টেমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখার ভবনের ছাদে ৪০ কিলোওয়াট এবং ভিআইপি ডাকবাংলোর ছাদে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। উদ্বোধনের সুবিধার্থে বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদ এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো-১) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সোলার প্যানেল স্থাপনকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মার্শ পাওয়ার টেকনোলজি লিমিটেড আগামী ২০ বছর এটি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে।

জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, "সারা বিশ্বেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ-সংকট দেখা দিয়েছে। নিজস্ব ও নবায়নযোগ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে আমরা বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে পারি, সেই প্রয়াস থেকে জেলা পরিষদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"

প্রকল্পটি সম্পর্কে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, ‘দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সেই সরকারি অনুদানের সঙ্গে জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল যুক্ত করে সফলভাবে এই প্ল্যান্ট বাস্তবায়ন করেছি। ফরিদপুরই প্রথম জেলা পরিষদ, যারা সোলার সিস্টেম চালু করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে শুরু করেছে। আমাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন প্রায় ৪০ কিলোওয়াট, বাকি ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ আমরা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করব।’

অনুষ্ঠানে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লক্ষ্মীপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরায় ৩৪ জেলে আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ এম


লক্ষ্মীপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরায় ৩৪ জেলে আটক

লক্ষ্মীপুরে মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকার করার জন্য ৩৪ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় দুই মণ ইলিশ এবং এক লাখ ২০ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। আটক জেলেদের বিরুদ্ধে চারটি মামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটক জেলেদের অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলেরা নদীতে ইলিশ শিকারে গিয়েছিল। দিনব্যাপী মৎস্য বিভাগ ও কোস্ট গার্ডের অভিযান চলাকালে ৩৪ জেলেকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ২ মণ ইলিশ জব্দ করা হয়, যা পরে স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। জব্দ হওয়া এক লাখ ২০ হাজার মিটার জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। আটক ৩৪ জেলেকে চারটি মামলায় ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, মেঘনা নদীর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মৎস্য বিভাগ ও কোস্ট গার্ড অভিযান চালিয়ে ৩৪ জনকে আটক করেছে। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মৎস্য বিভাগ জানায়, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমকে কেন্দ্র করে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মেঘনা নদীর রামগতির চর আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই সময় মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, কোস্ট গার্ড এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মেঘনা নদীতে অভিযান জোরদার করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%