০৯:৪১ এম
পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ লাখ বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিলেও টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে এই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। বনাঞ্চলটি বৃক্ষনিধনের মাধ্যমে দখল হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে মধুপুর বনাঞ্চল বর্তমানে উজাড় হওয়ার পথে রয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের মধুপুরের প্রাকৃতিক শাল-গজারির বন অক্সিজেনের উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বর্তমানে এই মধুপুর বনাঞ্চলে চলছে বৃক্ষনিধনের মহোৎসব। কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বনের গাছ কেটে উজাড় করার অভিযোগ উঠেছে। দোখলা রেঞ্জের সদর বিট, চুনিয়া দক্ষিণ-পূর্ব ফেকামারি, জামবাইদ এলাকার প্রায় পাঁচ বিঘা বনভূমিতে পুরোনো শাল ও গজারি শত শত গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, দিনের পর দিন প্রকাশ্যে গাছ কেটে বনভূমি উজাড় করা হচ্ছে এবং পরে এসব জমি দখল করে বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষাবাদ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে এসব গাছ কাটা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অপরদিকে, অরণখোলা বিটে বনের জমি দখল করে স্থায়ী পাকা ইমারত নির্মাণের অভিযোগও উঠেছে।
আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য
পরিবেশবিদদের মতে, প্রাকৃতিক শালবন শুধুমাত্র গাছের সমষ্টি নয়; এটি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, মাটির গুণাগুণ রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুরোনো শাল-গজারি গাছ কেটে ফেলা হলে বনের স্বাভাবিক পুনর্জন্ম ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বনভূমি দখল করে কৃষিকাজ সম্প্রসারণ করা হলে প্রাকৃতিক বনের পরিমাণ আরো কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এ বিষয়ে পরিবেশকর্মী রাতুল মুন্সি জানান, "বন বিভাগের লোক বন কাটার পেছনে যুক্ত এটা পুরোনো গল্প।" তিনি বলেন, "বনের জীববৈচিত্র্য কেন দরকার সেই বিষয়গুলো নিয়ে যদি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা না যায়, তাহলে বন বাঁচানো সম্ভব হবে না।" তিনি আরও বলেন, "যারা সামাজিক বনের সুফলভোগী, তারাই বন কাটছে, যেটা বন বিভাগ জানে।" তিনি সতর্ক করে বলেন, "বন যেভাবে কাটা হচ্ছে, তাতে কাঠ জব্দ করে মামলা দিয়ে বন রক্ষা সম্ভব নয়।" এ বিষয়ে মানুষ সচেতন না হলে বন রক্ষা করা সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দোখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আমিনুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জামবাইদ এলাকার বন সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। তিনি বিট অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, ওই এলাকার বন কাটার বিষয়ে তারা অবগত আছেন এবং এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমানে গাছ কাটা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।
আরও পড়ুন: সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিদেশি সফর শেষে দেশে ফিরলেন
সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এসবি তানবির আহমদ ইমন জানান, "আমাকে তথ্য দেন, বিষয়টি আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব।"
টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নাজমুল আলম বলেন, "ইতোমধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ওখান থেকে সরানো হয়েছে। ছবিসহ তথ্য পাঠান, সঠিক তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন