সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৩২ পি.এম
বরিশালের মুলাদী ও বাবুগঞ্জের মাঝখানে আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর বহুল প্রতীক্ষিত মীরগঞ্জ সেতুর নির্মাণকাজ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ৯ মাস পরেও শুরু হয়নি। মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) সম্পন্ন হলেও নকশা অনুমোদন এবং ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায় প্রকল্পের মূল কাজ থমকে রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নকশা জমা দিলেও সেতুর নির্মাণস্থলে এখনো কোনো দৃশ্যমান কাজ শুরু হয়নি।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে সেতু, সংযোগ সড়ক এবং নদী শাসনের কাজ শেষ করে যান চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় বছর আগে পর্যন্ত মূল নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
গত বছরের ৭ ডিসেম্বর মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সড়ক ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তখন জানানো হয়েছিল চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নির্মাণকাজ শুরু হবে। কিন্তু জানুয়ারি পেরিয়ে গেলেও সেতুর কোনো দৃশ্যমান নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
মুলাদীর বাসিন্দা আক্কাস শিকদার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘৯ বছর ধরে শুনছি আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর সেতু হবে। ৯ মাস ধরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাথর দেখছি। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।’
হিজলার বাসিন্দা রব মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের বাসিন্দারা মীরগঞ্জ সেতুর অপেক্ষায় রয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে সেতুর প্রতিশ্রুতি শুনলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এখন আমরা সেতুর বাস্তব নির্মাণকাজ দেখতে চাই।’
সড়ক ও জনপথ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর একনেক সভায় মীরগঞ্জ সেতু প্রকল্প অনুমোদন পায়। প্রায় ১ হাজার ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য সেতুটির দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪৮৪ মিটার। এর মধ্যে মূল সেতু ৫৪৪ মিটার এবং ভায়াডাক্ট ৯৪০ মিটার।
প্রকল্পের আওতায় দুই প্রান্তে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি নদীর তীর রক্ষা, ভূমি অধিগ্রহণ, টোলপ্লাজা, সড়কবাতি, ড্রেন, ফুটপাত এবং কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পায়রা সেতুর আদলে কেবল-এক্সট্রাডোজড ধরনের এই সেতু নির্মাণে চীনের চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সয়েল টেস্ট সম্পন্ন করে গত আগস্টে নকশা অনুমোদনের জন্য জমা দিয়েছে। বর্তমানে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নকশাটি যাচাই-বাছাই করছে। পরবর্তীতে নকশা প্রণয়ন কমিটির অনুমোদন পেলেই মাঠপর্যায়ে নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তবে শুধু নকশা নয়, ভূমি অধিগ্রহণ নিয়েও জটিলতা রয়েছে। অ্যাপ্রোচ সড়কের জন্য মুলাদী ও বাবুগঞ্জ অংশে প্রায় ২১ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছে সওজ। জমির মালিকানা নিয়ে কিছু আপত্তি ও অভিযোগ থাকায় বিষয়টি তদন্ত করছে জেলা প্রশাসন।
বরিশাল জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সহকারী কমিশনার মুহাম্মদ শাফিনুর রহমান আকন্দ গণমাধ্যমকে জানান, মুলাদী ও বাবুগঞ্জ অংশে প্রায় ২১ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এর যাচাই-বাছাই চলছে। কিছু জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা রয়েছে এবং কিছু জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। এসব সমস্যা সমাধানের পর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। তবে তা কতদিন লাগবে, এখনই বলা যাচ্ছে না।
বরিশাল সওজের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাসুদ খান গণমাধ্যমকে বলেন, নকশার কারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। আগামী নভেম্বরে নকশা অনুমোদনের আশা করা হচ্ছে। এরপর ডিসেম্বরেই সেতুর নির্মাণকাজ দৃশ্যমান হবে।
প্রকল্প পরিচালক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফারহানা হুসনা গণমাধ্যমকে জানান, নকশা যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াগুলো শেষ হলে কাজ শুরু হবে। নকশার অনুমোদন পাওয়ার পর মূল সেতু নির্মাণে সমস্যা নেই। জমির প্রয়োজন অ্যাপ্রোচ ও সংযোগ সড়কের জন্য। আশা করা হচ্ছে, জমি অধিগ্রহণের কাজ সময়মতো শেষ হবে।
এদিকে আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মীরগঞ্জ সেতুর গুরুত্ব বাড়ছে। ভোলাকে বরিশালের সঙ্গে যুক্ত করার নতুন পরিকল্পনায় এই সেতুর মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টি রয়েছে। ফলে সেতুটিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা থাকলেও নির্মাণকাজের ধীরগতিতে স্থানীয়দের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : নগরের চকবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) অনুমোদনহীন পোস্টার ও ব্যানার অপসারণ করেছে এবং সড়ক দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
অভিযানের সময়, সড়কের ওপর নির্মাণসামগ্রী রেখে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে, সড়কে রাখা মালিকানাবিহীন প্রায় ১ হাজার ঘনফুট বালু ও কংকর জব্দ করা হয়েছে।
আজ চকবাজারের গুলজার মোড় ও প্যারেড কর্ণার এলাকায় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুবাইদা আক্তারের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
চসিকের সূত্রে জানা যায়, ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে প্যারেড কর্ণার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে সড়কের ওপর নির্মাণসামগ্রী রেখে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনার সত্যতা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয় এবং সড়কে রাখা মালিকানাবিহীন প্রায় ১ হাজার ঘনফুট বালু ও কংকর জব্দ করা হয়।
এছাড়া, গুলজার মোড় এলাকার বিভিন্ন স্থানে সাঁটানো অনুমোদনহীন পোস্টার ও ব্যানার অপসারণ করা হয়।
চসিক জানিয়েছে, জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে এবং নগরের সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে আগামী দুই দিনের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ইরানি সব এয়ারলাইনসের কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে পড়তে চলেছে বলে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে বিশ্বের কোথাও কোনো ইরানি বিমান সংস্থা স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে সক্ষম হবে না।
মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনবিসি-কে (CNBC) প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট বলেন, "বিশ্বজুড়ে ইরানের সমস্ত এয়ারলাইনসের ফ্লাইট এবং সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।"
ইরানের ফ্লাইটগুলো যেসব দেশে এখনও গ্রহণ করা হচ্ছে, সেসব দেশের উদ্দেশ্যে তিনি কঠোর বার্তা প্রদান করেন। তিনি বলেন, "ইরানি বিমান যদি আপনাদের বিমানবন্দরে অবতরণ করে, তবে আপনারা তাদের জ্বালানি দিতে পারবেন না, ল্যান্ডিং বা গ্রাউন্ড সার্ভিসেস সেবা দিতে পারবেন না এবং তাদের কোনো টিকিটও বিক্রি করতে পারবেন না। যদি কোনো দেশ বা সংস্থা এই নির্দেশ অমান্য করে, তবে তাদেরকে মার্কিন ডলারভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বের করে দেয়া হবে।"
উল্লেখ্য, গত ৮ সেপ্টেম্বর ইরানের এভিয়েশন খাতের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার একটি প্যাকেজ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বজুড়ে ইরানের অবশিষ্ট ২৭টি এয়ারলাইনসকে কার্যত মাটি কামড়ে বসে থাকতে বাধ্য করা (গ্রাউন্ড করা)। মার্কিন প্রশাসনের এই সর্বশেষ পদক্ষেপে তেহরানের আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগ খাত একটি চরম অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশের ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে, এমনটি জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ট্রানজিশনাল পিরিয়ড শেষ হওয়ার পরও প্রায় ৯২ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার লাভ করবে।
আজ চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। সাক্ষাৎটি চেম্বার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
জেমস গোল্ডম্যান জানান, ব্রিটিশ পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকার দুই বিলিয়ন পাউন্ডের একটি তহবিল গঠন করেছে। এই তহবিলের মাধ্যমে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা যুক্তরাজ্যে নিজেদের পণ্যের বাজার আরও সম্প্রসারণের সুযোগ পাবেন।
যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশের সুযোগ, পদ্ধতি ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে চেম্বারের সদস্যদের অবহিত করার জন্য শিগগিরই চিটাগাং চেম্বারে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।
সাক্ষাতে চেম্বার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রামকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দরসহ সামগ্রিক লজিস্টিক খাতে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্রিটিশ বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন তিনি।
লালদিয়া টার্মিনালের মতো বড় অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনার পাশাপাশি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনায়ও ব্রিটিশ বিনিয়োগের আহ্বান জানান আমিরুল হক। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে ফার্মাসিউটিক্যাল, স্টিল, টেক্সটাইল ও গ্রিন এনার্জিসহ বড় শিল্প খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করার অনুরোধ জানান তিনি।
সাক্ষাতে চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডাইরেক্টর অব ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সাকিব এরশাদসহ চেম্বারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে মাতৃভূমিকে মুক্ত করার সংগ্রামে চট্টগ্রামের বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মহান আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা পদাতিক একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এই প্রদর্শনীতে মঞ্চনাটক 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন', সংগীতানুষ্ঠান এবং শিশুদের আঁকা প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা হবে।
এই অনুষ্ঠানটি ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদ এবং সাংস্কৃতিক বিদ্যালয় তপোবন-এর সহযোগিতায় আগামী ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর বেইলি রোডে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে।
রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় নাট্যদল ঢাকা পদাতিকের ৩৮তম প্রযোজনা 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'। এটি ঐতিহাসিক নাটকটির ৪৭তম মঞ্চায়ন। নাটকটি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বীর সেনানী মাস্টারদা সূর্যসেনের বিচার ও হত্যাকাণ্ডের বিয়োগান্তক বিষয়বস্তু নিয়ে নির্মিত।
নাটকটির রচনা ও মূল নির্দেশনা প্রদান করেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যজন মাসুম আজিজ। তাঁর মৃত্যুর পর নাটকটির নবনির্দেশনার দায়িত্ব পালন করছেন দেশের প্রথিতযশা অভিনেতা ও নির্দেশক নাদের চৌধুরী। তিনি নাটকটির কিছু অংশে অলংকরণ ও মঞ্চ-পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
নাটকটি মঞ্চপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শক্তিশালী সংলাপ এবং নির্মাণশৈলীর কারণে এটি বর্তমানে নাট্যাঙ্গনের আলোচিত প্রযোজনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। ইতোমধ্যে ভারতের দিল্লিতে নাটকটির প্রথম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে এটি দর্শক ও নাট্যসমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
নবনির্দেশনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাদের চৌধুরী মন্তব্য করেন, "ট্রায়াল অব সূর্যসেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ নাটক। এর রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত মাসুম আজিজ ভাই। তাঁর প্রয়াণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু অংশে অলংকরণ করে নবনির্দেশনার কাজটি করেছি। নাটকে আমি মাস্টারদা সূর্যসেন চরিত্রে অভিনয় করছি। ইতিহাসভিত্তিক এই নাটক বর্তমান প্রজন্মের অবশ্যই দেখা উচিত।"
প্রায় ৪০টি চরিত্র নিয়ে নির্মিত নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো- সূর্যসেন, কল্পনা দত্ত, তারকেশ্বর দস্তিদার, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, অপর্ণা চক্রবর্তী, নির্মল সেন, ব্রিটিশ উকিল, নেত্র সেন ও বাঙালি উকিল। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন নাদের চৌধুরী, মাহবুবা হক কুমকুম, মনজুরুল ইসলাম নান্টু, সাবিহা জামান, মামুন উর রশিদ, শ্যামল হাসান, আক্তার হোসেন, রবিউল ইসলাম মিলটন, শাহনাজ পারভীন জয়া, তারেক আলী মিলন, কাজী সম্রাট, আতিকুর রহমান, আল আমিন স্বপন, সুমন ঘোষ, নূর, খাজা ফরিদউল্লাহ, জাহিদ প্রমুখ। নাটকটির আলোক পরিকল্পনায় রয়েছেন জাকারিয়া কিরণ, সংগীত পরিচালনায় আবুল বাশার সোহেল এবং মঞ্চ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছেন শ্যামল হাসান।
২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'-এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দেশ-বিদেশে একাধিক সফল মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে নাটকটি ইতিহাসভিত্তিক নাট্যপ্রযোজনার অন্যতম আলোচিত সংযোজন হিসেবে দর্শকমহলে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।
এবারের 'ট্রায়াল অব সূর্যসেন'-এর বিশেষ প্রদর্শনীর শুরুতে সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠ তপোবন-এর শিল্পীরা জাগরণমূলক দলীয় সংগীত পরিবেশন করবেন।
মিলনায়তনের প্রবেশপথে প্রদর্শিত হবে ঢাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আঁকা বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, চট্টগ্রাম যুবিবদ্রোহ, জালালাবাদ পাহাড় ও ধলঘাট যুদ্ধের ছবি। এছাড়া সেইসব যুদ্ধে শহীদ চট্টগ্রামের অমর বিপ্লবীদের ছবি এবং ট্রায়াল অব সূর্যসেন-এর বিভিন্ন প্রদর্শনীর প্রামাণ্যচিত্রও এতে প্রদর্শিত হবে।
অতিথিদের শুভেচ্ছা বক্তব্যের পরপরই শুরু হবে ট্রায়াল অব সূর্যসেন-এর মঞ্চায়ন। বিশেষ এই প্রদর্শনী সকলের জন্য উন্মুক্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ