০৫:০৭ পি.এম
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মার তীব্র ভাঙনের কারণে স্থানীয় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। গত দুই মাসে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় ৫০০ বিঘা ফসলি জমি। চলমান এই ভাঙন পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত, যেখানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন পানচাষিরা। আবাদি জমি ও পানের বরজ হারিয়ে শত শত মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এর ফলে এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী কুচিয়ামোড়া পানবাজার চরম হুমকির মুখে রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ও জুনিয়াদহ ইউনিয়নের মাধবপুর, লিসেনদিয়া, রায়টা ও আরকান্দি এলাকায় প্রায় দুই হাজার বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। এসব জমির অধিকাংশে পানের চাষ হতো। এলাকাবাসীরা জানান, প্রতিদিন গড়ে ৯ থেকে ১০ বিঘা জমি নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। নদীর পানি কমার পর ভাঙনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
রায়টা এলাকার পানচাষি নাসিম হোসেন জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে তার চার বিঘা জমি ও ২২০ পিলি পানের বরজ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আয়ের উৎস হঠাৎ হারিয়ে তার পরিবার এখন চরম সংকটে রয়েছে। বাধ্য হয়ে তার ছোট ভাই বিদেশে কাজের সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছেন। একই এলাকার মাধবপুরের কৃষক আব্দুল জলিল জানান, নদীর পাড়ে তার সাত বিঘা আবাদি জমি ছিল, যা ভাঙতে ভাঙতে এখন মাত্র চার কাঠায় এসে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপি নেতার উপর হামলা/গ্রেপ্তার ১
এই এলাকার পান চাষের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম পুরোনো কুচিয়ামোড়া পানবাজার। এই বাজারের সঙ্গে হাজারো কৃষক ও ব্যবসায়ীর জীবিকা জড়িত। গত এক বছরে কৃষকদের প্রায় ৩০ হাজার পিলি পানবরজ নদীতে তলিয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে স্থানীয় অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা সুলতানা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত দুই ইউনিয়নের ৩২০ জন পানচাষির তালিকা তৈরি করে জেলায় পাঠানো হয়েছে। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিরুল আরাফাত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে কৃষকদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।
তবে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, পাঁচ কিলোমিটার ভাঙন এলাকার মধ্যে তিন কিলোমিটার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধ করা এখন সম্ভব নয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যা অনুমোদন হলে কাজ শুরু হবে। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অচিরেই এই এলাকার বাকি আবাদি জমিও পদ্মার বুকে হারিয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় ট্রেনে কাটা পড়া নারীর মরদেহের ওপর দিয়ে গেল আরেক ট্রেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন