ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী


সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন বলেছেন, সরকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

আজ শুক্রবার নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে হত-দরিদ্র মানুষের মাঝে সাবমার্সিবল পাম্প, কৃষকদের মাঝে স্প্রে মেশিন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির জনগণের মাঝে কর্ম সহায়ক উপকরণ ও বৃত্তি প্রদান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য শিক্ষা গ্রহণকে অবৈতনিক করা হয়েছে। সকলের সন্তানকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর জন্য উৎসাহিত করতে হবে।

আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

তিনি জানিয়েছেন, পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি তাদের মানসিক উৎকর্ষতার জন্য খেলাধুলা এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চায় তাঁদের নিয়োজিত করতে হবে। মাদক এবং অনলাইন জুয়ার মতো সামাজিক ব্যধির হাত থেকে আমাদের সন্তাদের রক্ষা করতে হবে।

এ ব্যাপারে শিক্ষক এবং অভিভাবকবৃন্দকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ফারজানা শারমীন বলেন, এ দেশের কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ আর অবহেলিত থাকবে না। সরকারের নতুন বাজেট দেশের জনবান্ধব বদলে দেশে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

আগামী অর্থ বছরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন ভাতার পরিধি বাড়ানো হবে, এবং দূরারোগ্য রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসায় চিকিৎসা সহায়তাকে ৫০ হাজার টাকা থেকে এক লাখে উন্নীত করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কাজ করছে। গ্রামীণ জনপদে দ্রুততম সময়ে যে কোনো বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য গ্রাম আদালত কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ফেনীতে সাংবাদিককে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে সাবেক কাউন্সিলর আটক

জেলা পর্যায়ে লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে বিনামূল্যে একজন সহকারী জজের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলাও বিনামূল্যে পরিচালনা করে দেয়া হচ্ছে। দেশে কোনো মানুষ আর অসহায় থাকবে না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ বসাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাগাতিপাড়া থানার ওসি আব্দুল হান্নান, বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রশীদ চৌধুরী এবং বাগাতিপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. মোশাররফ হোসেন।

প্রতিমন্ত্রী এর আগে উপজেলা খাদ্য গুদামে চলতি মৌসুমের বোরো সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

তিনি বাগাতিপাড়া জিমনেশিয়ামে স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট এন্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রামও উদ্বোধন করেন।

আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে

প্রতিমন্ত্রী পরে লালপুর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে চাল, সেলাই মেশিন এবং হুইল চেয়ার বিতরণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি : কতটা মিলল হিসাব?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো. ওয়াকিলুর রহমান

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৬ পি.এম


প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি : কতটা মিলল হিসাব?

বাংলাদেশের কৃষি আজ এক অনন্য সাফল্যের গল্প। জনপ্রতি সীমিত আবাদি জমির ওপর নির্ভর করেই দেশের কৃষকেরা ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। কৃষি শুধু একটি অর্থনৈতিক খাত নয়; এটি দেশের খাদ্য ব্যবস্থা, গ্রামীণ জীবিকা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি। দীর্ঘদিন পর একটি গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে প্রণীত জাতীয় বাজেট ঘোষণার প্রেক্ষাপটে কৃষকের প্রত্যাশা ও বাস্তব প্রাপ্তির মধ্যে কতটা সামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।

বাংলাদেশের কৃষকের চাওয়া খুব বেশি নয়। তারা চান সাশ্রয়ী মূল্যে বীজ, সার, সেচ, বিদ্যুৎ ও কৃষিযন্ত্রের সহজলভ্যতা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হলে চান কার্যকর বীমা ও পুনর্বাসন সহায়তা। সর্বোপরি, তারা চান উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য, যাতে কৃষিকাজ একটি টেকসই ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে টিকে থাকে। কিন্তু বাস্তবতা প্রায়ই ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। অনেক ক্ষেত্রে কৃষকদের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কৃষি উপকরণ কিনতে হয়। আবার বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্য এবং সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকেও তারা বঞ্চিত হন। উদাহরণস্বরুপ-এবার বোরো মৌসুমে কৃষকেরা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।

এ বাস্তবতায় কৃষকের প্রত্যাশা পূরণে শুধু নীতিগত অঙ্গীকার যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের মূল্যায়ন তুলে ধরা হলো।

গত কয়েক বছরের বাজেট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কৃষি ও কৃষি-সংশ্লিষ্ট খাতে বরাদ্দের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও জাতীয় বাজেটে এর অংশীদারিত্ব ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়েছে। গত পাঁচ বছরে কৃষি খাতে মোট বাজেটের প্রায় ৫ থেকে ৮ শতাংশ হারে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) সংশোধিত বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ৫.৮১ শতাংশ, যা আগের বছরের ৬.৬৫ শতাংশের তুলনায় কম। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি-সংশ্লিষ্ট পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার ৮২১ কোটি টাকা। পরিমাণগতভাবে এটি আগের বছরের তুলনায় ১ হাজার ৩২ কোটি টাকা বেশি হলেও মোট বাজেটের অনুপাতে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৯৯ শতাংশে।

এখানেই কৃষকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে একটু ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জাতীয় বাজেট সামগ্রিকভাবে যেখানে ১৯.০৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, সেখানে কৃষি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি মাত্র ২.২৫ শতাংশ। খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, কৃষির আধুনিকায়ন এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধি—এসব জাতীয় অগ্রাধিকারের আলোকে কৃষি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির এই ধীরগতি কতটা যৌক্তিক, তা নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। কৃষিকে যদি সত্যিকার অর্থে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হয়, তবে বাজেটে তার প্রতিফলনও থাকতে হবে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৪৪ কোটি টাকা থেকে ৭ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে বরাদ্দ একটু বাড়ালো হয়েছে। অপরপক্ষে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দ ১ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা থেকে কমে মাত্র ৭০৫ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। একইভাবে ভূমি ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বাজেটেও কাটছাঁট করা হয়েছে। অথচ কৃষির সামগ্রিক উন্নয়ন একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। ফসল, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, পানি ব্যবস্থাপনা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে একটি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং অন্য খাতে সংকোচন কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

ভর্তুকির চিত্রও মিশ্র বার্তা দেয়। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ভর্তুকি বাবদ ৮৯ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও এটি চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা কম। বিশেষ করে কৃষি খাতে ভর্তুকির পরিমাণ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দ ১৭ হাজার কোটি টাকা থেকে মাত্র ১ কোটি টাকা বৃদ্ধি করে ১৭ হাজার ১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সামগ্রীক ভৃর্তুকি খাতে বরাদ্দের মাত্র ১৯.৯৯ শতাংশ কৃষি খাতে রাখা হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক বাজারে কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে এই সীমিত বৃদ্ধি কৃষকের জন্য কতটা সহায়ক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। প্রস্তবিত বাজেটে, ভূর্তুকি, প্রণোদনা ও চলতি হস্তান্তর অংশে ’অন্যান্য’ খাতে বেশ বড় বরাদ্দ ৩৩,৮১২ কোটি টাকা রাখা হয়েছে (চলতি অর্থবছর এই বরাদ্দ ছিল মাত্র ১৩,০৪১ কোটি টাকা) যা প্রয়োজনের নিরিখে কৃষি খাতে হস্তান্তর করলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।

তবে বাজেটে কৃষকের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক উদ্যোগও রয়েছে। কৃষক কার্ড কর্মসূচির জন্য ১ হাজার ৬২.৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষকের কাছে সরকারি সহায়তা আরও সহজে ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রণোদনা খাতে বরাদ্দ ৮০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে বেশ কিছু কর-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কৃষি কাজে ব্যবহৃত কীটনাশকের ওপর আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ও অগ্রীম কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ধান, গম, আলু, বীজসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষি পণ্যের উৎস কর (সোর্স ট্যাক্স) বিদ্যমান ১ থেকে ৫ শতাংশ হার কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি নির্ভরতা কমাতে ডাল, তৈলবীজ, মসলা ও ভুট্টা চাষে ৪ শতাংশ সুদে সহজ শর্তে কৃষিঋণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমাতে এবং কৃষকের আর্থিক চাপ হ্রাসে সহায়ক হতে পারে। যা খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা যায়।

আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো কৃষি মন্ত্রণালয় সাতটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এর মধ্যে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল সেবা প্রদান, মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও বিতরণ, ভূ-উপরস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জৈব সারের সর্বোত্তম ব্যবহার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘমেয়াদে এসব উদ্যোগ টেকসই কৃষি উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তবে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে বাজেটের সামঞ্জস্য বিচার করলে কিছু ঘাটতি স্পষ্ট হয়। কৃষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি, কৃষি বীমার সম্প্রসারণ, খাল খনন ও পুনঃখনন এবং কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেলেও এসব কর্মসূচির জন্য পর্যাপ্ত ও সুস্পষ্ট বরাদ্দ এখনও দৃশ্যমান নয়। বিশেষ করে কৃষি বীমা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি, সেচ অবকাঠামো উন্নয়ন, খাল পুনঃখনন এবং তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্ট-আপ তহবিল গঠনের বিষয়গুলোকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ‍উল্লেখ্য যে, ক্রিয়েটিভ ইকোনমির জন্য তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে তা হয়ত তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাজেটের গুণগত মান এবং সময়মত বাস্তবায়ন। বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেই কৃষকের কল্যাণ নিশ্চিত হয় না; প্রয়োজন এমন ব্যয় কাঠামো, যার সুফল সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছায়। বর্তমানে বাজেটের একটি বড় অংশ প্রশাসনিক ও অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় হয়, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব কৃষকের জীবনে সীমিত। তাই কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণ সেবা, বাজার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ অবকাঠামো এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। প্রয়োজনে এসব খাতে বিশেষ বরাদ্দের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, কৃষি খাতের বাজেট কেবল একটি মন্ত্রণালয়ের হিসাব নয়; এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান এবং টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষকের জন্য কিছু আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ থাকলেও বরাদ্দের সামগ্রিক চিত্র এখনও তাদের প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কৃষকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ব্যবধান যত কমবে, ততই শক্তিশালী হবে গ্রামীণ অর্থনীতি, নিরাপদ হবে দেশের খাদ্য ব্যবস্থা এবং টেকসই হবে জাতীয় উন্নয়ন। কৃষিকে ব্যয় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। কারণ কৃষক সুরক্ষিত থাকলে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং দেশও সুরক্ষিত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বান্দরবানের রুমায় ৪টি দোকানে অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে গেছে সবকিছু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৭ পি.এম


বান্দরবানের রুমায় ৪টি দোকানে অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে গেছে সবকিছু

বান্দরবানের রুমা উপজেলা সদরের থানা পাড়ায় বৃহস্পতিবার রাত ১১ জুনের রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে ৪টি দোকান ও কয়েকটি ঘর সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ঘটে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।

ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে জানা যায়, রাতের এই ভয়াবহ আগুন লাগার খবর পেয়ে রুমা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা সক্ষম হয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে চিং শৈ প্রু মারমা, মে ম্রা, চিং মারমা, চসিং রাখাইন ও সাইফুল ইসলামের দোকানগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এই ঘটনায় আশপাশের কয়েকটি বসতঘরও ভস্মীভূত হয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে বিশেষ অভিযানে আটক ২৯ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৯ পি.এম


বরিশালে বিশেষ অভিযানে আটক ২৯ জন

বরিশাল মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে এবং অপরাধ দমনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) ২৯ জনকে গ্রেফতার করেছে।

বিএমপি মিডিয়া সেল সূত্রে জানা জানা যায় যে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু করে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মহানগরীর চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পৃথক আভিযানিক দল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে ১০০ পিস ইয়াবাসহ একজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ৬ জন, নিয়মিত ও পূর্বের মামলায় ৫ জন, বরিশাল মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশ অনুযায়ী ১৫ জন এবং অন্যান্য আইনে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

মোট ২৯ জন অভিযুক্তকে অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে যে, বিএমপি সম্প্রতি বলেছে, মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রয়েছে : এরশাদ উল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২০ পি.এম


শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রয়েছে : এরশাদ উল্লাহ

চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার জন্য সরকার বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা তৈরি করছে। বর্তমান ঘোষিত বাজেটে স্টার্টআপ বিজনেস, গ্রিন এনার্জি ও রেইন হারভেস্টিংয়ের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় জেলার বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট এবং উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে, তিনি উপজেলার ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২টি কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। মেধা-বিজ্ঞান-উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ-প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক চেয়ারম্যান, সদস্য শওকত আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ইসহাক চৌধুরী, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজগর, বিএনপি নেতা হামিদুল হক মান্নান, শহীদুল্লাহ চৌধুরী, স্বপন শীল, মেহেদী হাসান সুজন ও এনামুল হক সজীব। ১৩টি স্টলের মধ্যে সারোয়াতলী ইব্রাহীম নূর মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রথম স্থান অধিকার করে, বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ দ্বিতীয় এবং পশ্চিম কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%