ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

নিত্যপণ্যের সঙ্গে লাগামহীনভাবে বাড়ছে ব্যবহার্যপণ্যের দাম, নেপথ্যে কারা?


নিত্যপণ্যের সঙ্গে লাগামহীনভাবে বাড়ছে ব্যবহার্যপণ্যের দাম, নেপথ্যে কারা?

নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে চলেছে লাগামহীনভাবে। ক্রেতাদের দুর্ভোগ প্রতিদিনই বাড়ছে। বাজারে চাল, ডাল ও ভোজ্যতেলের মতো খাদ্যপণ্যের দাম ইতোমধ্যে চড়া হয়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি, নিত্যব্যবহার্য সব পণ্যের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত তিন বছরে সাবান, টুথপেস্ট, ডিটারজেন্ট, নারিকেল তেল, সেভিং রেজারসহ নিত্যব্যবহার্য পণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফার লোভ, কৃত্রিম সংকট এবং অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে ভোক্তারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিস্থিতি এমন যে, জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ক্রেতাদের জন্য বাড়তি দামের তালা লেগে গেছে। ফলে ভোগ্যপণ্যের বাজারে ক্রেতারা সবদিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এ অবস্থায় জনসাধারণের জন্য আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। মাসের শুরুতে যে বেতন হাতে আসে, তা প্রয়োজন মেটাতে না মেটাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে মাছ-মাংসের কেনাকাটা কমিয়ে দিচ্ছেন। পছন্দের খাবারও বাদ দিতে হচ্ছে। এমনকি নিত্যব্যবহার্য অনেক পণ্যের কেনাকাটার তালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: ৬৪ কোটি টাকার গড়াই সেতুর নির্মাণকাজ ৬ বছরেও শেষ হয়নি

বুধবার রাজধানীর একাধিক ডিপার্টমেন্টাল স্টোর পরিদর্শন ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুচরা বাজারে মাঝারি আকারের প্রতি পিস লাইফবয় সাবান ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা তিন বছর আগে ৪০ টাকা এবং চার বছর আগে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বড় আকারের লাক্স সাবান ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৬৫ টাকা ছিল। ডিটারজেন্টের মধ্যে এক কেজি হুইল পাউডার ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা তিন বছর আগে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এক কেজি রিন পাউডার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। ১০০ টাকার পেপসোডেন্ট টুথপেস্ট এখন ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে জানান, "বিভিন্ন যৌক্তিক কারণে দেশে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা একটু বাড়তি মুনাফার সুযোগ খুঁজে পান। তারা বিভিন্ন অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। দেখা যায়, যৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম যা বাড়ার কথা, কারসাজি করে এর চেয়ে দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি করেন। এতে ক্রেতারা নাজেহাল হন। তদারকি সংস্থাগুলোর বেশকিছু আইন আছে, সেসব আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। আসলেই খতিয়ে দেখতে হবে, দাম কত বাড়ানো যৌক্তিক ছিল, আর কত টাকা বাড়ানো হয়েছে। অনিয়ম পেলে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে।"

অন্যদিকে, ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে এনার্জি বিস্কুট ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। মাঝারি সাইজের প্যাকেটজাত চানাচুর ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৩৫ টাকা। ওয়ানটাইম সেভিং রেজার ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ১৫-২০ টাকা ছিল। ২৫০ এমএলের প্যারাসুট বোতলজাত নারিকেল তেল ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ১৪৫ টাকা ছিল। ৪০০ টাকায় বিক্রি হওয়া অ্যারোসল ৫০০-৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২৪০ টাকার এয়ারফ্রেশনার এখন ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর মালিবাগ এলাকার একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে নিত্যব্যবহার্য পণ্য কিনতে এসেছেন মো. হানিফ হাওলাদার। তিনি যুগান্তরকে বলেন, "গত কয়েক বছরে নিত্যব্যবহার্য্য সব পণ্যের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। সবাই বাজারের নিত্য ভোগ্যপণ্য নিয়ে ব্যস্ত। এদিকে কারও নজর নেই। কোম্পানিগুলো যেভাবে পারছে এসব পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। মূল্য তদারকিতেও তেমন কোনো তোড়জোড় নেই। আমরা ভোক্তারা আসলে সবদিক থেকে নাজেহাল হচ্ছি।"

আরও পড়ুন: বিজিবির কাছে হস্তান্তরিত হলো বিএসএফের আটক দুই পুলিশ সদস্য

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা-পরবর্তীকালে নিত্যব্যবহার্য সব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। কারণ হঠাৎ করেই চাহিদা বাড়ায় তখন আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে পরিবহণ ভাড়াও বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন পণ্যের দামে। বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সব ধরনের পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আরও একদফা বেড়েছে। ফলে বেশি দামে পণ্য কেনার কারণে স্থানীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ড. এমকে মুজেরী বলেন, "মুক্তবাজার অর্থনীতি থাকবে। কিন্তু তার মানে এই নয়, এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা যা খুশি তাই করার সুযোগ পাবে। বিশ্বের অনেক দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি থাকলেও সরকারের হাতে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও থাকে। বাংলাদেশেও এ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখতে হবে। এর জন্য দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর মনিটরিং সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।"

বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ব্যবসায়ীদের সচেতনতা অনেক বড় ব্যাপার। তারা যৌক্তিক লাভ করবে এটাই আমরা চাই। কিন্তু কেউ যদি কারসাজি করে, এদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। অধিদপ্তরের আভিযানিক টিম প্রতিনিয়ত তদারকি করছে।

আরও পড়ুন: বিএসএফের ধরে নেওয়ার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে নিন্দা জানালেন গোলাম পরওয়ার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আয়ারল্যান্ডের গলফ রিসোর্টে ট্রাম্পের সফর ঘিরে একদিকে প্রশংসা, অন্যদিকে ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


আয়ারল্যান্ডের গলফ রিসোর্টে ট্রাম্পের সফর ঘিরে একদিকে প্রশংসা, অন্যদিকে ক্ষোভ

ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আয়ারল্যান্ডের আটলান্টিক উপকূলে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী ও অপরূপ সুন্দর ছোট্ট গ্রাম ডুনবেগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখা হয় না, বরং এখানে তিনি একজন গলফ রিসোর্টের মালিক হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের অনেকের মতে, তিনি এই প্রত্যন্ত এলাকায় কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করেছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ট্রাম্প শনিবার আয়ারল্যান্ডে আসছেন। দুই দিনের সফরের প্রথম অংশে তিনি কয়েক ঘণ্টার জন্য রাজধানী ডাবলিনে অবস্থান করবেন। এরপর তিনি দেশের পশ্চিমাঞ্চলে ডুনবেগে নিজের মালিকানাধীন ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল গলফ লিংকসে যাবেন। সেখানে বৃহস্পতিবার থেকে আইরিশ ওপেন গলফ টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে।

কাউন্টি ক্লেয়ারের দুর্গম উপকূলের বিশাল বালিয়াড়ির মধ্যে অবস্থিত এই গলফ কোর্সে টুর্নামেন্টটি দেখতে ৭৫ হাজার দর্শক সমাগম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ৮০ বছর বয়সী মার্কিন প্রেসিডেন্টের টুর্নামেন্টে উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। রোববার ফাইনাল রাউন্ড শেষে তিনি বিজয়ীর হাতে ট্রফি তুলে দেবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।

যদিও স্থানীয়দের একাংশ ট্রাম্পের রিসোর্ট থেকে আসা অর্থনৈতিক সুবিধার প্রশংসা করেন, আয়ারল্যান্ডের অন্যান্য স্থানে তার সফর নিয়ে ব্যাপক বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। দেশটিতে ট্রাম্প এখনও অত্যন্ত অজনপ্রিয়।

সানডে ইন্ডিপেনডেন্ট, আয়ারল্যান্ড থিংকস-এর এক জরিপে দেখা গেছে যে, আয়ারল্যান্ডের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ ট্রাম্পের এই সফরকে স্বাগত জানাচ্ছেন না।

শনিবার ডাবলিনে ‘ট্রাম্পকে স্বাগত নয়’ শিরোনামে একটি বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। গাজা, অভিবাসন ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে সেখানে বিক্ষোভকারীরা অংশ নেবেন।

সপ্তাহান্তে ডুনবেগ ও নিকটবর্তী শ্যানন বিমানবন্দর এলাকায়ও বিক্ষোভ হতে পারে। গত ১৮ মাসে ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীরা এই গলফ কোর্সটিকে দুইবার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ট্রাম্পের সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ডুনবেগের প্রধান সড়কে পুলিশ টহল দিচ্ছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম জটিল নিরাপত্তা অভিযান হিসেবে বিবেচিত একটি অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রায় ৪ হাজার আইরিশ ও মার্কিন নিরাপত্তাকর্মী যুক্ত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সশস্ত্র পুলিশ, স্নাইপার এবং ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যুৎমন্ত্রী চিকিৎসা ও সরকারি কাজে ১৩ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ড যাচ্ছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ এম


বিদ্যুৎমন্ত্রী চিকিৎসা ও সরকারি কাজে ১৩ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ড যাচ্ছেন

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন চিকিৎসা ও সরকারি কাজে। সফরের পর তিনি ২০ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছেন।

এই তথ্যটি বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা আরিফ সাদেক নিশ্চিত করেছেন। মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী আবদুল্লাহ আল কায়েস জানান, থাইল্যান্ডে চিকিৎসার পাশাপাশি মন্ত্রী সরকারি কাজও সম্পন্ন করবেন।

টুকু গত ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। তিনি সেখানে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মন্ত্রী ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপেও ভুগছেন।

এর আগে ব্যাংককে চিকিৎসার সময় তার হৃদ্‌যন্ত্রের একটি রক্তনালিতে স্টেন্ট বা রিং বসানো হয়েছিল। এবারও তিনি সেখানে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাবেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত সরকারে তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

এর আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ও টুকু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন এবং পরে ২০০৬ সালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে বেতন-ভিসা জটিলতায় ৪৫০টি অভিযোগ জমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৫ এম


মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে বেতন-ভিসা জটিলতায় ৪৫০টি অভিযোগ জমা

প্রতিবছর লাখ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে পাড়ি জমানোর স্বপ্ন নিয়ে বের হলেও সবার ভাগ্য বদলাতে পারে না। মালয়েশিয়ায় বৈধ কলিং ভিসায় গিয়ে অনেক বাংলাদেশি শ্রমিককে নিয়োগ-সংক্রান্ত ঋণের বোঝা, বকেয়া বেতন, ভিসা ও অভিবাসন জটিলতা এবং দেশে ফেরার প্রক্রিয়ায় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ২০২২ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রায় ৪৫০টি অভিযোগ জমা পড়েছে এসব সংকটের প্রতিকার চেয়ে।

হাইকমিশন জানিয়েছে, ৩৩০টির বেশি অভিযোগ নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে মধ্যস্থতা এবং মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশীজনের সহযোগিতায় সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বেতন পরিশোধে বিলম্ব বা বকেয়া, ভিসা নবায়ন, নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা এবং কর্মসংস্থান নিয়ে বিরোধ। অনেক শ্রমিক মালয়েশিয়ায় আসার আগে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে ঋণগ্রস্ত হন। প্রতিশ্রুত চাকরি বা বেতন না পেলে সেই ঋণের চাপ আরও বাড়তে থাকে।

মালয়েশিয়ায় কর্মরত একাধিক বাংলাদেশি শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদেশে আসার আগে চাকরি, বেতন ও কর্মপরিবেশ সম্পর্কে যে তথ্য দেওয়া হয়, বাস্তবে অনেক সময় তার সঙ্গে মিল পাওয়া যায় না। নতুন কর্মীরা এই কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন। এক শ্রমিকের ভাষ্য, "মালয়েশিয়ায় আসার পর বেতন ও চাকরির শর্ত নিয়ে সমস্যা হলে অনেক শ্রমিক শুরুতে বুঝতেই পারেন না কোথায় গেলে দ্রুত প্রতিকার পাওয়া যাবে।" ঋণের কিস্তি, পরিবারের খরচ এবং বৈধ কাগজপত্র ঠিক রাখার চাপ একসঙ্গে থাকায় তারা অনেক সময় সমস্যার মধ্যেই কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

আরেক শ্রমিক জানান, নিয়োগের সময় সব শর্ত পরিষ্কারভাবে লিখিত ও যাচাইযোগ্য থাকলে মালয়েশিয়ায় এসে অনেক বিরোধ এড়ানো সম্ভব। নিয়োগকর্তা পরিবর্তন, বেতন বকেয়া কিংবা ভিসা জটিলতার ক্ষেত্রে দ্রুত অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি। কমিউনিটি নেতারাও বলছেন, শ্রমিকের সমস্যা দেখা দেওয়ার পর সমাধানের চেয়ে নিয়োগের শুরুতেই অনিয়ম বন্ধ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর আগে চাকরির ধরন, বেতন, কর্মস্থল, আবাসন, নিয়োগকর্তা এবং অন্যান্য শর্ত যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

একজন কমিউনিটি নেতার মতে, শ্রমিকদের সুরক্ষায় বাংলাদেশি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা, সরকারি সংস্থা ও হাইকমিশনের মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয় প্রয়োজন। অভিযোগ নিষ্পত্তির পাশাপাশি একই ধরনের অভিযোগ যাতে বারবার না আসে, সেদিকেও নজর দিতে হবে। আরেক কমিউনিটি প্রতিনিধি বলেন, "শ্রমিকের কাছ থেকে অতিরিক্ত নিয়োগ ব্যয় আদায়, প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব চাকরির অমিল এবং বেতনসংক্রান্ত বিরোধ—এসব বিষয়ে শুরুতেই কঠোর নজরদারি থাকলে পরবর্তী সংকট অনেকটাই কমে আসবে।"

এদিকে, গত ৮ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে রেসপনসিবল বিজনেস অ্যালায়েন্স (আরবিএ) আয়োজিত ‘কমিটমেন্ট থেকে অ্যাকশন: সরবরাহ শৃঙ্খলে মানবাধিকার যথাযথ পর্যালোচনার সর্বোত্তম চর্চা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশ হাইকমিশন মালয়েশিয়ায় অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষায় বাংলাদেশের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও সর্বোত্তম চর্চা তুলে ধরে। আলোচনা চলাকালীন বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মনিকা অভিবাসী কর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, কর্মী, নিয়োগকর্তা, মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় করে অভিযোগের সমাধান, ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার নিশ্চিতকরণ, কল্যাণমূলক সহায়তা এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে হাইকমিশন কাজ করছে। হাইকমিশনের হিসাবে, প্রায় ৪৫০টি অভিযোগের মধ্যে ৩৩০টির বেশি সমাধান হওয়া শ্রমিকদের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে যেসব অভিযোগ নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, সেগুলোর দ্রুত সমাধানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কমিউনিটি নেতাদের মতে, শুধু অভিযোগ পাওয়ার পর প্রতিকার নয়, নিয়োগের প্রথম ধাপ থেকেই শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এতে একদিকে শ্রমিকের আর্থিক ক্ষতি কমবে, অন্যদিকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের সুনাম ও আস্থাও বাড়বে। শ্রমিকদের প্রত্যাশা, বিদেশে যাওয়ার আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও মালয়েশিয়ায় পাওয়া বাস্তব সুযোগের মধ্যে যেন কোনো ফারাক না থাকে। সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রতিকারই তাদের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম কিডনি জটিলতায় মারা গেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৬ এম


শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম কিডনি জটিলতায় মারা গেছেন

কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে শিশুসাহিত্যিক ও চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান আমীরুল ইসলাম মারা গেছেন। "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।"

১১ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ৭ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন প্রকাশক মঈন মুরসালিন এক ফেসবুক পোস্টে।

মঈন মুরসালিন জানিয়েছেন, আমীরুল ইসলামের কর্মস্থল চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর, বিকেল ৩টায় তার মরদেহ বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউজ প্রাঙ্গণে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। সেখানে বিকাল সাড়ে ৩টায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

পরে, মিরপুরের গোলারটেক ঈদগাহ জামে মসজিদে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার মায়ের কবরে তাকে সমাহিত করা হবে।

১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম। শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।

আমীরুল ইসলামের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক। তার প্রকাশিত সব বইই শিশুসাহিত্যভিত্তিক। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি শিশুদের জন্য গল্প, ছড়া ও বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল লেখা লিখেছেন।

সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি, দীর্ঘদিন গণমাধ্যমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন আমীরুল ইসলাম। তিনি চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%