রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:২৬ পি.এম
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সম্প্রসারিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখার জন্য বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামা করছে।
বাজারে চাহিদা অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার জোগান থাকা সত্ত্বেও, গত মাসে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বাস্তবায়নের জন্য ধাপে ধাপে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি এবং টাকার মান হ্রাস করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি ডলারের দাম পূর্বের অবস্থানে ফিরে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসের শুরুতে আন্ত ব্যাংকে ডলারের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দাম ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল। এরপর সেটি বৃদ্ধি পেয়ে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় পৌঁছেছিল।
তবে আজ ডলারের দাম ১২২ টাকা ৭৮ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুসারে, আজকের (০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সর্বনিম্ন মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—
মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা
ইউএস ডলার : ১২২ টাকা ৭৮ পয়সা
ইউরো : ১৪২ টাকা ৫৮ পয়সা
পাউন্ড : ১৬৬ টাকা
কানাডিয়ান ডলার : ৮৮ টাকা ৭০ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৭ টাকা ৪২ পয়সা
চায়নিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ৩০ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৬ টাকা ৮৯ পয়সা
ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৯ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ৩৯ পয়সা
সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৯৭ পয়সা
কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৭১ পয়সা
কুয়েতি দিনার : ৩৯৬ টাকা ৯৪ পয়সা
আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৪৬ পয়সা
*মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।
আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাস আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার ও অফিসিয়াল রেটের মধ্যে ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
যদিও আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়নের ফলে সম্প্রতি ডলারের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছিল।
তবে বর্তমানে সেটি পূর্বের অবস্থানে ফিরে এসেছে। আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য এটি কিছুটা স্বস্তিদায়ক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালে বন্যা ও ব্যাপক ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১৩৩১ জনে পৌঁছেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ছিল ১৩৪১, এবং পরবর্তী সময়ে দুপুরের বুলেটিনে ১৩৪৪ জনের কথা বলা হলেও, জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) শনিবার সন্ধ্যা ৬টার বিজ্ঞপ্তিতে নিহতের সংখ্যা ১৩৩১ জন হিসেবে নিশ্চিত করেছে।
ভারতের বার্তা সংস্থা
সূত্রে রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর) নেপাল পুলিশের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে এখনো নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তাদের মধ্যে আপার ত্রিশূলি-১ প্রকল্পের টানেল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক চীনা নাগরিক।
নেপাল সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ভারতীয় বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দলের সদস্যরাও উদ্ধার কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে।
চিলিমে এবং অন্যান্য দুর্গম টানেলগুলো থেকে পানি, কাদা ও ভারী ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কাজ যৌথভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, নেপাল সরকারের চাহিদা অনুযায়ী এখন পর্যন্ত সাতটি বিমানে ৯৫ টন ত্রাণসামগ্রী এবং টানেল, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞসহ ৫৪ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী টিম কাঠমাণ্ডু পাঠানো হয়েছে। ভারতে রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছাতে সমস্যা হলেও সংযোগ সড়ক তৈরি করে উদ্ধার কার্যক্রমকে গতিশীল করার চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ মন্তব্য করেছেন যে, পাকিস্তানের অন্যান্য প্রদেশগুলোর কারণে পাঞ্জাব প্রদেশ অধিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ত্রি-সীমান্ত এলাকা, যা পাঞ্জাব, সিন্ধু ও বেলুচিস্তানের সীমানার মিলনস্থল, এবং অন্যান্য প্রদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে মূলত এই হুমকিগুলো উদ্ভূত হচ্ছে।
এসব হুমকির মোকাবেলায় যৌথ তল্লাশি চৌকিগুলোকে আরো শক্তিশালী করা হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম
এক প্রতিবেদনে জানায়, লাহোরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে আলোচনা করেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের কন্যা মরিয়ম।
আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে ‘কোনো ধরনের আপস করা হবে না’ বলে তিনি সতর্ক করেছেন। সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ নির্মূলে সম্ভাব্য সব ধরনের উপায় ও সম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পাঞ্জাবের সঙ্গে পাকিস্তানের তিনটি প্রধান প্রদেশ সিন্ধু, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ার সীমান্ত রয়েছে।
মরিয়ম নওয়াজ বোঝাতে চেয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশের চেয়ে দেশের অভ্যন্তরে অন্যান্য প্রদেশ থেকে আসা সন্ত্রাসী ও সশস্ত্র গ্যাংগুলো পাঞ্জাবের দৈনন্দিন আইন-শৃঙ্খলার জন্য অধিক বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
পাঞ্জাবের দক্ষিণে সিন্ধু প্রদেশ অবস্থিত। এই দুই প্রদেশের মাঝে সিন্ধু নদীর অববাহিকায় থাকা চর ও জঙ্গল ঘেরা দুর্গম অঞ্চলটি ‘কাচ্চা’ এলাকা নামে পরিচিত। যুগের পর যুগ ধরে ওই এলাকা ভারী অস্ত্রে সজ্জিত বিভিন্ন অপরাধী ও ডাকাতদলের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে পরিচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দরিদ্র ও অসহায় পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তুলতে জামালপুর সদর উপজেলার তুলশীচর ইউনিয়নে দশটি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ছাগল বিতরণ করেছে সামাজিক ও মানবিক সংগঠন Unity CareX।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) তুলশীচর ইউনিয়নের ডৌয়াতলা সাখাওয়াত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ছাগল বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো, দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলা।
অনুষ্ঠানে Unity CareX-এর চেয়ারম্যান সৌরভ নির্ভান বলেন, শুধু এককালীন সহায়তা প্রদান নয়, দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য স্থায়ী আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। ছাগল পালনের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারগুলো ভবিষ্যতে নিজেদের আয় বাড়াতে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় সংগঠনের অন্যতম সদস্য শহর আলী বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ছাগল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন Unity CareX-এর চেয়ারম্যান সৌরভ নির্ভান, বিশেষ অতিথি চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ তারকা তরিক মৃধা, সংগঠনের সদস্য জাফর ইকবাল, লুৎফর রহমান লিখন, শেখ ফরিদসহ অন্যান্য সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আয়োজকরা জানান, দরিদ্র পরিবারকে শুধু সাময়িক সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে তাদের আয় করার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার মাধ্যমে জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই Unity CareX-এর অন্যতম লক্ষ্য। এ ধরনের মানবিক ও স্বাবলম্বীকরণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
ছাগল পেয়ে উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, এই সহায়তা তাদের পরিবারের আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অপরাধবিষয়ক জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে কোটি দর্শকের প্রশংসা অর্জন করা মিসরের তারকা উপস্থাপিকা সারা খলিফা এখন অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির মঞ্চে যেতে চলেছেন। মাদক চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্র এবং একটি আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র পরিচালনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৯ বছর বয়সী এই উপস্থাপিকাসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মিসরের একটি আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে।
মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘আল-আহরাম’-এর তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা একটি বিশাল সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্র গঠন করেছিল। তারা বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক উপাদান আমদানি করে দেশে কৃত্রিম মাদক তৈরি এবং তা বিক্রির উদ্দেশ্যে সরবরাহ করত।
বিচার চলাকালে আদালত জানতে পারে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই চক্রের কাছ থেকে সাড়ে ৭০০ কেজি (১,৬৫৩ পাউন্ড) মারাত্মক মাদকদ্রব্য, তৈরির কাঁচামাল এবং বিপুল পরিমাণ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে।
মামলায় ২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দির পাশাপাশি আসামিদের মধ্যকার অডিও রেকর্ড ও ভিডিও ক্লিপ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণের পর আদালত সারা খলিফাসহ ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। একই মামলায় আরও ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় ৭ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মিসরের আইনি বাধ্যবাধকতা অনুসারে, এই মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় গুরু ‘গ্র্যান্ড মুফতি’র কাছে ধর্মীয় মতামত চাওয়া হয়েছিল। মুফতির অনুমোদনের পর আদালত এই ঐতিহাসিক রায় নিশ্চিত করেন।
জনপ্রিয় টিভি শো ‘মিশন ইম্পসিবল’-এর মাধ্যমে ক্রাইম রিপোর্টিংয়ে আলোড়ন তোলা সারা খলিফা শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। আদালতে তিনি দাবি করেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর কার্যালয়ে নিয়ে ছবি তোলার আগে তিনি কখনো মাদক চোখেও দেখেননি।
সারা খলিফার আইনজীবী জানিয়েছেন, আদালতের এই কঠোর রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করা হবে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে অপরাধ দমনে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ