০৮:৪৮ এম
চ্যাম্পিয়নস লিগের এক নাটকীয় ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখকে ৩-৩ গোলে রুখে দিয়েছে নরওয়ের ভাইকিং, ফলে তারা একটি স্মরণীয় পয়েন্ট অর্জন করেছে। দুই গোল পিছিয়ে পড়ার পরও হ্যারি কেনের জোড়া গোলে ম্যাচে ফিরে আসে বায়ার্ন। এরপর লুইস দিয়াজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত জার্মান জায়ান্টরা জয় ধরে রাখতে পারেনি। মাইকেল অলিসের অপ্রয়োজনীয় লাল কার্ডের পর ৯০ মিনিটে হারমান হাউগেনের গোলেই সমতা ফেরায় ভাইকিং।
ম্যাচের শুরুতেই স্বাগতিকরা মাত্র ৭১ সেকেন্ডে এগিয়ে যায়। জ্লাতকো ত্রিপিচের কর্নার থেকে জিয়ান্নি স্টেনসনেস হেড করে বল পাঠান বায়ার্নের গোলরক্ষক ইয়োনাস উরবিগের জালে। শুরুতেই ধাক্কা খেয়ে বায়ার্ন আক্রমণে উঠলেও লুইস দিয়াজ, অলিস ও কেনের কয়েকটি চেষ্টা ভাইকিং গোলরক্ষক আরিল্ড অস্তব ঠেকিয়ে দেন।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ভাইকিং। এরিক বোথেইমের থ্রু বল ধরে বায়ার্নের নাথানিয়েল ব্রাউনকে কাটিয়ে গোল করেন পিটার ক্রিশ্চিয়ানসেন। ফলে বিরতিতে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল নরওয়ের দলটি।
আরও পড়ুন: লাউতারোর বদলে আর্জেন্টিনার একাদশে ব্রাজিলের ক্লাবে খেলা স্ট্রাইকার?
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বায়ার্ন পেনাল্টির আবেদন করলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর তা বাতিল হয়। তবে কিছুক্ষণ পর বায়ার্ন পেয়ে যায় পেনাল্টি। কনরাড লাইমারকে ফাউল করার ঘটনায় ভিএআরের পর স্পট কিকের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। ৫২ মিনিটে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান কমান কেন।
এক ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই আবার গোল করেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। জশুয়া কিমিখের চিপ করা ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বায়ার্নকে ২-২ সমতায় ফেরান কেন। এই গোলের পর মনে হচ্ছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি জার্মান ক্লাবটির হাতে চলে গেছে।
এরপর দিয়াজ একবার গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে। কেনের বাড়ানো বল থেকে লাইমার ভলি করে দিয়াজকে সুযোগ তৈরি করে দেন, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠিয়ে বায়ার্নকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন দিয়াজ।
কিন্তু মাত্র দুই মিনিট পরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন অলিস। প্রথমে হেনরিক হেগহেইমকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ফরাসি উইঙ্গার। এরপর ত্রিপিচের দিকে বল ছুড়ে দেওয়ায় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ১০ জনের বায়ার্নকে এরপর চেপে ধরে ভাইকিং।
আরও পড়ুন: ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন পুনম রাউত
শেষ পর্যন্ত ৯০ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোল। ত্রিপিচের বাঁ প্রান্ত থেকে উঁচু করে বাড়ানো ক্রসে বক্সের দূরের পোস্টে সবচেয়ে উঁচুতে উঠে হেড করেন বদলি খেলোয়াড় হারমান হাউগেন। তার সেই গোলেই ৩-৩ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। ইউরোপীয় ফুটবলে বড় এক দলের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এই ড্র ভাইকিং সমর্থকদের জন্য হয়ে থাকে স্মরণীয় রাত।
ম্যাচে বায়ার্নের আক্রমণাত্মক আধিপত্য থাকলেও ফল নিজেদের পক্ষে নিতে পারেনি তারা। বায়ার্নের প্রত্যাশিত গোল বা xG ছিল ৩.৫১, যেখানে ভাইকিংয়ের মাত্র ০.৫৬। তবু কার্যকর আক্রমণ এবং শেষ মুহূর্তের দৃঢ়তায় গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট তুলে নেয় স্বাগতিকরা।
এদিকে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কেন আরও একটি মাইলফলক গড়েছেন। ৩০ বছর বয়সের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ৪০ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬। একই বয়সের পর এই প্রতিযোগিতায় লিওনেল মেসির ৩৫ গোলের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। ইউরোপিয়ান কাপ/চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা নয় ম্যাচে গোল করেছেন কেন; তার চেয়ে দীর্ঘ গোলের ধারাবাহিকতা সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্ষেত্রে, ২০১৮ সালের এপ্রিলে টানা ১১ ম্যাচে।
কেনের দুর্দান্ত ফর্মে বায়ার্নও ইউরোপে গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে। কোনো দল তাদের বিপক্ষে ক্লিন শিট রাখতে পারার পর থেকে ২৩ ম্যাচে ৬৫ গোল করেছে তারা। তবে অলিসের লাল কার্ডের মূল্য এবার বড়ভাবেই দিতে হলো বায়ার্নকে। ভাইকিংয়ের বিপক্ষে দুই পয়েন্ট হারানোর পাশাপাশি পরের ম্যাচে গত মৌসুমের রানার্সআপ আর্সেনালের বিপক্ষে অলিসকে পাবে না ভিনসেন্ট কোম্পানি।
আরও পড়ুন: সৌদিতে হামলার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, এশিয়ান কাপ কি পিছিয়ে যাবে?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন