রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:০৭ পি.এম
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগণের জন্য সাশ্রয়ী ও দুর্যোগসহনশীল আবাসন ঋণের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে। বিশেষভাবে নারী এবং প্রচলিত ব্যাংক ঋণের বাইরে থাকা পরিবারগুলো এই ঋণের সুবিধা গ্রহণ করবে।
এডিবির এই অর্থ পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং এর আওতাধীন যোগ্য ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। এর আওতায় দীর্ঘমেয়াদি ও জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করা হবে, যা পরিবারগুলোকে নতুন ঘর নির্মাণ, পুরোনো ঘর মেরামত ও উন্নয়ন করতে সহায়তা করবে।
আজ প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি জানায়, দেশে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের অভাব এবং আবাসন ঋণ পাওয়ার সীমিত সুযোগ মোকাবিলায় এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো প্রচলিত আবাসন ঋণব্যবস্থার বাইরে থাকায় তাদের জন্য এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এডিবির বাংলাদেশে নিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বলেন, "আবাসন মানুষের মর্যাদা, সুযোগ ও দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি।" তিনি উল্লেখ করেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ ও দুর্যোগসহনশীল বাড়ি নির্মাণে সহায়তার মাধ্যমে এ প্রকল্প দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, মানবসম্পদের উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।
প্রকল্পের আওতায় ২০৩১ সালের মধ্যে অন্তত ৪০ হাজার পরিবারকে আবাসন ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩২ হাজার নারী এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় বসবাসকারী অন্তত ২৪ হাজার ঋণগ্রহীতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এছাড়া, প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক ও ভূমিসংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে এবং আবাসনের অধিকার সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করা হবে। নারীদের আবাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঋণগ্রহীতাদের স্বামী-স্ত্রীর বসবাসসংক্রান্ত ব্যবস্থার যথাযথ নথিপত্র সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দুর্যোগসহনশীল আবাসন নিশ্চিত করতে ঘর নির্মাণের নকশা, নির্মাণ প্রক্রিয়া ও দুর্যোগের ক্ষতি থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, তীব্র তাপপ্রবাহসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও চরম আবহাওয়ার প্রভাব মোকাবিলায় বাড়িগুলো আরও সক্ষম হয়ে উঠবে।
এডিবি জানাচ্ছে, প্রকল্পটি দেশের আবাসন অর্থায়নব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি এ খাতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে। এ লক্ষ্যে পিকেএসএফ ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তথ্য ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, দুর্যোগের ঝুঁকি যাচাই, ঋণ পোর্টফোলিও পর্যবেক্ষণ ও ডিজিটাল প্রতিবেদনব্যবস্থা উন্নত করা হবে।
১০ কোটি ডলারের এই ঋণের মধ্যে ৪ কোটি ডলার এডিবির জলবায়ু অভিযোজন তহবিল থেকে দেওয়া হবে। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা হিসেবে আরও ৬ লাখ ডলার অনুদান প্রদান করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ফাতেমা স্কুলের রাস্তাটি দীর্ঘ তিন যুগ ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয়দের তথ্য মতে, ফাতেমা স্কুল থেকে আলাম খাঁর ঘর পর্যন্ত প্রায় ২০০০ ফুট দীর্ঘ এই সড়কটি দিয়েই ১ নং ওয়ার্ডের প্রায় অর্ধশত পরিবারসহ হাজারো মানুষ এবং ফাতেমা স্কুলের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াত করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই ফাতেমা স্কুল থেকে আলাম খাঁর ঘর পর্যন্ত ২০০০ ফুট রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। হাঁটু সমান কাদা জমে যায় পুরো রাস্তায়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বসবাসরত এলাকাবাসী। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে। কাদায় তাদের স্কুলের পোশাক নষ্ট হয়ে যায় এবং প্রায়ই পিছলে পড়ে আহত হয় তারা। বর্ষা মৌসুমে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলেই আসতে পারে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাকেরগঞ্জ পৌরসভার প্রায় সকল রাস্তারই উন্নয়ন ও পাকাকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু নানা অবহেলার কারণে ১ নং ওয়ার্ডের ফাতেমা স্কুল থেকে আলাম খাঁর ঘর পর্যন্ত এই ২০০০ ফুট গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘ ৩০ বছরেও সংস্কারের ছোঁয়া পায়নি। বর্ষাকালে এই সড়ক দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না, এমনকি পায়ে হেঁটে চলাচল করাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
অবহেলিত এই রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণ ও সংস্কারের জন্য বাকেরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন চন্দ্র পাল এবং বাকেরগঞ্জের মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ১ নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় কসমেটিকস পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এ সময় চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সাতানীপাড়া ইউনিয়নের দিগলকোনা এলাকায় এ চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালানো হয়। জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন সাতানীপাড়া বিওপির একটি বিশেষ টহল দল অভিযানটি পরিচালনা করে।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিগলকোনা এলাকায় অভিযান চালায় সাতানীপাড়া বিওপির একটি বিশেষ টহল দল।অভিযানকালে সীমান্ত পিলার ১০৮৯/এমপি থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দিগলকোনা গ্রামের একটি স্থান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৫৬৭ পিস ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করা হয়। জব্দকৃত কসমেটিকস পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।
জামালপুর ব্যাটালিয়ন (৩৫ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসনুর রহমান জানান, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।তিনি আরও জানান, জব্দকৃত কসমেটিকস পণ্যের বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বড়ভাগ গ্রামের বহুল আলোচিত রবিউল ইসলাম শেখ ওরফে পাইচো (৫৫) হত্যা মামলার আসামি মারুফ শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে যশোরের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের গ্রাম্য বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। কাশিয়ানী সদর বাজারের চায়ের দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে রবিউল ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রবিউল গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত রবিউল ইসলাম শেখ টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে। তিনি কাশিয়ানী সদর বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন।
এর আগে গত ২৬ জুন একই ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া গ্রামের উকিল শেখের বাড়ির সামনে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় কলেজছাত্র সুমন শেখ (২৪)কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সুমন ছিলেন রবিউল ইসলামের ভাতিজা। তিনি আলাউদ্দিন শেখের ছেলে এবং কাশিয়ানী এম.এ. খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গ্রাম্য বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা ও মামলা হয়েছে।
সুমন হত্যা মামলায় কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তারের পর সম্প্রতি জামিনে বের হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। তবে তাঁদের কেউ রবিউল হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, তা পুলিশ নিশ্চিত করেনি।
উল্লেখ্য, আড়াই মাসের ব্যবধানে একই বিরোধের জেরে চাচা-ভাতিজা দুজন নিহত হওয়ায় বড়ভাগ গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল সরোয়ার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে যশোরের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে মামলার আসামি মারুফ শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের মোংলায় বিশ্ব পর্যটন দিবস নানা কর্মসূচির মাধ্যমে উদ্যাপিত হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের 'হোটেল পশুর'-এর আয়োজনে বর্ণাঢ্য র্যালি, নৌ-র্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়।
"ভ্রমণ করুন, দেশকে জানুন, পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে অংশ নিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করুন"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সকাল ৯টায় হোটেল পশুর চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি পিকনিক কর্নার এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এরপর মোংলা ও পশুর নদীতে একটি দৃষ্টিনন্দন নৌ-র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে পর্যটন করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
র্যালি শেষে হোটেল পশুর মিলনায়তনে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসার গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন হোটেল পশুরের ম্যানেজার মোঃ শাজাহান খান, নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান কবির, পর্যটন ব্যবসায়ী আ. কাদের তালুকদার, খান রুপম এবং কবি আফরোজা হিরা প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পে আগামী ৫ বছরের মধ্যে আমূল পরিবর্তন আসবে। সঠিক ও সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারলে এ খাতে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে এবং এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বক্তারা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ রেখে পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ