০৯:১৪ এম
ভারতের বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’ আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। এই বৈঠকের উদ্দেশ্য হচ্ছে রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করা এবং অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবেলা করা। বৈঠকে শুধুমাত্র সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশন বা বিজেপির মোকাবেলার কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে না, বরং জোটের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হতে পারে এমনটি জানা গেছে।
জোটের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে দুটি প্রধান কারণে। প্রথমত, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ভেঙে দক্ষিণ ভারতের প্রভাবশালী দল ডিএমকের ‘ইন্ডিয়া’ জোট ত্যাগ করা।
দ্বিতীয়ত, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় বিজয়ী বিরোধী রাজনীতির নেতৃত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে ধরেছে।
আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলামকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের আহ্বান রাশেদ খাঁনের
আজকের বৈঠকটি দিল্লির কন্টিনেন্টাল ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে রাহুল গান্ধী বা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এবার একটি নিরপেক্ষ স্থানে বৈঠক আয়োজন করা হলো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠকটি সহজ হবে না। কংগ্রেস ও ডিএমকের বিচ্ছেদের কারণে জোটের শরিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ডিএমকে ইতিমধ্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, তারা বৈঠকে অংশ নেবে না এবং ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অংশ হিসেবেও তাদের উপস্থিতি থাকবে না।
সম্প্রতি তামিলনাড়ু সরকারে অংশীদার হওয়ার বিষয়ে ডিএমকের অনীহার পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেস দীর্ঘসময় ধরে চলতে থাকা জোট ভেঙে দেয়। পরে তারা অভিনেতা বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)-এর নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয়।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী পরাজয় বিরোধী শিবিরের নেতৃত্ব প্রশ্নে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। অনেক দল পূর্বে কংগ্রেসের বাইরে কোনো নেতার হাতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতৃত্ব দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের সমর্থনের প্রয়োজন হতে পারে।
আরও পড়ুন: কড়া নিরাপত্তা উপেক্ষা করে ফ্রান্সের রাজপথে লাখ লাখ বিক্ষোভকারী
এই বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের নেতাকর্মীদের ওপর কথিত হামলা নিয়ে আলোচনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলটির নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও অভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে বৈঠক হচ্ছে। ‘ইন্ডিয়া’ ঐক্যবদ্ধ। বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে বৈঠকের জন্য অপেক্ষা করছে অনেক দল।’
এদিকে, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (আপ) ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে জোট থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে। তবে কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও সিপিএম বৈঠকে অংশ নেবে বলে জানিয়েছে।
সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি সম্প্রতি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে একটি চিঠি লিখেছেন, যেখানে রাহুল গান্ধীর এক মন্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। উক্ত মন্তব্যে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও বিজেপির মধ্যে আঁতাতের অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
কংগ্রেসের দাবি, আজকের বৈঠকে ২৩টি রাজনৈতিক দল যোগ দেবে। তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং ফারুক আবদুল্লাহর ন্যাশনাল কনফারেন্সসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দল এতে উপস্থিত থাকবে।
আরও পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আদালত এগিয়ে যাচ্ছে: ডেপুটি প্রসিকিউটর
এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার শিগগিরই সংবিধান সংশোধনী সংক্রান্ত দুটি বিল পুনরায় সংসদে উত্থাপন করতে পারে, যার মধ্যে সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) ও নারী সংরক্ষণ বিল উল্লেখযোগ্য। বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণে সরকার এই দুটি বিল পাস করাতে ব্যর্থ হয়েছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, আজকের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে এসব ব্যাপারগুলি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এর আগে গত এপ্রিল মাসেও একই ইস্যুতে জোটের নেতারা বৈঠকে বসেছিলেন।
সূত্র : এনডিটিভি
আরও পড়ুন: ঢাকা সৌদির কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব চেয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন