ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরান যুদ্ধের কারণে ইউরোপের ১০০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি ক্ষতি: পেদ্রো সানচেজ


ইরান যুদ্ধের কারণে ইউরোপের ১০০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি ক্ষতি: পেদ্রো সানচেজ

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের ফলে ইউরোপীয়দের ইতোমধ্যে ১০০ বিলিয়ন ইউরোরও বেশি ক্ষতি হয়েছে। তার মতে, এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়ছে।

এই যুদ্ধ আট মাস ধরে চলমান। যদিও হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা কমে এসেছে, তবে হুমকি পাল্টা হুমকির মধ্যে তীব্র উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সানচেজ বলেন, যারা যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদের আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারালেন চান্দিনার সাগর

তিনি যুদ্ধের বিরোধিতা করে বলেন, ‘যারা যুদ্ধের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলাম, তারা সঠিক ছিলাম যখন আমরা যুদ্ধকে না বলেছিলাম। আমরা জানতাম, শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই এর মূল্য দিতে হবে।’

ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সম্মেলন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে যুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের অবস্থানের পক্ষে কথা বলেন সানচেজ।

তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর পাশাপাশি এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিণতির কারণে যুদ্ধের বিরোধিতাকারীরা সঠিক ছিলেন।

সানচেজ বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই এর মূল্য দিতে হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এর প্রভাব ইতোমধ্যে অনুভূত হচ্ছে।’

আরও পড়ুন: সৌদি-হুথি সংঘাত সমাধানে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত ইরান

যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় স্পেনের পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। সানচেজ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোকে সহায়তা দেওয়ার জন্য এবং গাড়ি ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় ১২ বিলিয়ন ইউরোর বেশি মূল্যের একটি সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদন করেছে দেশটির পার্লামেন্ট।

তিনি বলেন, ‘এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যত দ্রুত সম্ভব এই বিপর্যয়ের অবসান ঘটানো।’

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

আরও পড়ুন: কলকাতার পূজামণ্ডপে পদদলনে ২০ জন নিহত, আহত অনেকে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারের অপরিচ্ছন্নতায় ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, দুই সপ্তাহের সময় দিলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ পি.এম


আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারের অপরিচ্ছন্নতায় ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, দুই সপ্তাহের সময় দিলেন

রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টারের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, পুরো এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং এর জন্য দুই সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার আকস্মিক পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী কোয়ার্টারের এলাকা, চলাচলের পথ ও সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন। পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি দেখে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এর কারণ জানতে চান। কোয়ার্টারের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কোয়ার্টারের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে কোয়ার্টারের বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এলাকার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা আবাসিক এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বাসিন্দাদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে কোয়ার্টারে বসবাসরত শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেক্সিকোর হত্যার ঘটনায় তিন নাগরিকের ১৫৯ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ পি.এম


মেক্সিকোর হত্যার ঘটনায় তিন নাগরিকের ১৫৯ বছরের কারাদণ্ড

মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে অস্ট্রেলিয়ার দুই ভাই ও তাদের এক মার্কিন বন্ধুকে হত্যার দায়ে তিনজনকে ১৫৮ বছর ৯ মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। ২০২৪ সালে সার্ফিং করতে গিয়ে ওই তিনজন হত্যার শিকার হন।

শুক্রবার, উপকূলীয় শহর এনসেনাদার একটি আদালত এ রায় ঘোষণা করে।

দণ্ডিত তিনজনের মধ্যে রয়েছেন হেসুস গেরার্দো গার্সিয়া, যিনি ‘এল কেকাস’ নামে পরিচিত। অন্য দুই আসামি হলেন ইরিনেও ফ্রান্সিসকো ‘এন’ এবং অ্যাঞ্জেল হেসুস ‘এন’।

হত্যা, সহিংসতার মাধ্যমে ডাকাতি এবং সহিংসতার মাধ্যমে গাড়ি চুরির দায়ে তাদের সাজা প্রদান করা হয়েছে। রায়ের এক সপ্তাহ আগে তাদের বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

নিহত দুই অস্ট্রেলীয় ভাই হলেন ক্যালাম রবিনসন (৩৩) ও জেক রবিনসন (৩০)। তাদের মার্কিন বন্ধু জ্যাক কার্টার রোডের বয়স ছিল ৩০ বছর। ২০২৪ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে তারা সার্ফিং করতে মেক্সিকোর এনসেনাদার কাছে পুন্তা সান হোসে এলাকায় যান। ২৭ এপ্রিল রাতে তারা সেখানে তাঁবু খাটিয়ে ছিলেন।

কয়েক দিন তাদের খোঁজ না পেয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইও তল্লাশিতে যুক্ত হয়। কয়েক দিনের অনুসন্ধানের পর ৩ মে ১৫ মিটারের বেশি গভীর একটি কূপ থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের সবার মাথায় গুলির ক্ষত ছিল।

মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল তিন আসামির প্রত্যেকের জন্য ২১০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিলেন। তবে আদালত তাদের প্রত্যেককে ১৫৮ বছর ৯ মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করে।

স্থানীয় সার্ফারদের সংগঠনের সভাপতি আন্তোনিও ওতানেজ এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "ন্যায়বিচার হয়েছে।" তবে হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে তিনি জানান। বিশেষ করে সার্ফিং করতে আসা পর্যটকের সংখ্যা কমেছে।

নিহতদের বাবা মার্টিন রবিনসন গত সপ্তাহে বলেছিলেন, দোষী সাব্যস্ত করার রায় তার দুই ছেলে ও তাদের বন্ধুর জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হুথিদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা সমর্থিত সরকারি বাহিনীর টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৯ পি.এম


হুথিদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা সমর্থিত সরকারি বাহিনীর টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ

ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা সমর্থিত সরকারি বাহিনীর ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযান ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সরবরাহপথ দখল এবং সরকারি শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এই অভিযানের সাফল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। রাজধানী সানা পুনর্দখলের লক্ষ্যে পরিচালিত এই অভিযানের ভবিষ্যৎ এখন অনেকাংশে সৌদি আরবের সামরিক সহায়তা, রসদ সরবরাহের সক্ষমতা এবং বিভিন্ন সরকারি বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করছে।

সম্প্রতি ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ আল-মাশিকের কাছে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। হামলার সময় দেশটির পশ্চিমা সমর্থিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি প্রাসাদে উপস্থিত ছিলেন, তবে তিনি অক্ষত রইলেন। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সরকারি বাহিনী ও তাদের সমর্থনে নিয়োজিত সরঞ্জাম লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হুথিদের স্থল অগ্রযাত্রা সরকারি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ বৃদ্ধি করেছে।

গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে লোহিত সাগর উপকূল বরাবর দ্রুত অগ্রসর হয়ে হুথিরা মোখা বন্দর দখল করে। পশ্চিম তাইজ অঞ্চলে সরকারি বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরটি রসদ সরবরাহের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। পাল্টা অভিযানে সরকারি বাহিনী হারানো কিছু এলাকা পুনর্দখল করতে সক্ষম হলেও মোখা এখনো হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ফলে উপকূলীয় এলাকায় সরকারি বাহিনীর সরবরাহব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অবকাঠামোও হুমকির মুখে রয়েছে।

তাইজ শহরের পরিস্থিতি এই সংকটের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ। হুথিরা শহরটির সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সদর দপ্তর এডেনের সংযোগকারী প্রধান সড়ক বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। আশপাশের পাহাড়ি এলাকার বিকল্প পথগুলোও বাধাগ্রস্ত হওয়ায় শহরটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং গত সপ্তাহে পেট্রলের দাম তিন গুণ বেড়ে গেছে। দীর্ঘস্থায়ী এই পরিস্থিতি বেসামরিক মানুষের জীবনযাত্রার পাশাপাশি সরকারি বাহিনীর গোলাবারুদ, জ্বালানি ও অতিরিক্ত সেনা সরবরাহেও বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

তবে সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, সরবরাহপথে বাধা সৃষ্টি হলেও অভিযান বন্ধ হবে না। পশ্চিম ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জয়েন্ট ফোর্সেসের মুখপাত্র কর্নেল ওয়াদাহ আল-দুবাইশের মতে, হুথিরা সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত করার চেষ্টা করলেও পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি। স্থল, নৌ ও আকাশপথ ব্যবহার করে বিকল্প উপায়ে রসদ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। তবে এতে সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে এবং কিছু কিছু রণাঙ্গনে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় পশ্চিমা সমর্থিত সরকারি বাহিনী বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ইয়েমেনের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী ফয়সাল আল-মাজিদির ভাষ্য অনুযায়ী, শাবওয়া, মারিব, তাইজের হুথিমুক্ত এলাকা, লোহিত সাগর উপকূল এবং দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন কেন্দ্রকে কাজে লাগিয়ে পৃথক রণাঙ্গনে রসদ পৌঁছানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য কৌশলগত পাহাড়ি এলাকাগুলো দখলে রাখার চেষ্টা চলছে।

তাইজের আল-ওয়াজিয়াহ পার্বত্য জেলাটি এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এলাকাটি লোহিত সাগর উপকূলের ওপর নজরদারির সুযোগ দেয় এবং পশ্চিম দিক থেকে তাইজ শহরের অবরোধ ভাঙার সম্ভাব্য প্রবেশপথ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এ এলাকায় সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। তবে বিকল্প সরবরাহপথ থাকলেই যে দীর্ঘমেয়াদে একটি বড় সামরিক অভিযান চালানো সম্ভব হবে, তা নিশ্চিত নয়। কারণ, প্রতিটি রণাঙ্গনে নিয়মিত গোলাবারুদ, জ্বালানি, চিকিৎসাসামগ্রী ও নতুন সেনা পাঠাতে হলে কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা বজায় রাখা জরুরি।

এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সামরিক সহায়তা সরকারি বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, অক্টোবরের শুরু থেকে তাদের হামলায় হুথিদের শত শত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।

আল-দুবাইশের মতে, ইরানের সরবরাহ করা উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সক্ষমতাসম্পন্ন হুথিদের মোকাবিলায় সৌদি সহায়তা ছাড়া ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পক্ষে বড় ধরনের অভিযান চালানো কঠিন। সৌদি বিমান হামলা হুথিদের শক্তিবৃদ্ধি ঠেকানো, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণব্যবস্থা ধ্বংস করা এবং স্থলবাহিনীকে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে তাইজ অবরোধের সাম্প্রতিক পর্যায়ে সরকারি বাহিনীর কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পৌঁছাতে আগের মতো আকাশপথে সরবরাহের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

সরকারি বাহিনীর জন্য শুধু রসদ সংকটই নয়, অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতাও বড় সমস্যা। হুথিবিরোধী শিবিরের বিভিন্ন সামরিক ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে পৃথক নেতৃত্ব, অর্থায়ন ও কমান্ড কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়েছে। ফলে কোনো এলাকায় হুথিরা দ্রুত অগ্রসর হলে অন্য বাহিনীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। গত সেপ্টেম্বরে লোহিত সাগর উপকূলে সরকারি বাহিনীর পরাজয়ের পেছনেও এ দুর্বলতা ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ সমস্যা দূর করতে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল জানুয়ারিতে সুপ্রিম মিলিটারি কমিটি (এসএমসি) গঠন করে। জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমির নেতৃত্বাধীন কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো বিভিন্ন হুথিবিরোধী বাহিনীকে একটি কেন্দ্রীয় কমান্ডের অধীনে এনে সরকারি সামরিক কাঠামোর সঙ্গে সমন্বিত করা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থনপুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের বাহিনী পরাজিত হওয়ার পর এ উদ্যোগ আরো গুরুত্ব পায়।

ইয়েমেনের সামরিক বিষয়ে গবেষক আদনান আল-জাবারনির মতে, বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আগের তুলনায় উন্নত হচ্ছে। তবে নতুন কমান্ড কাঠামো কার্যকর করতে সময় প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক বিভাজন, পৃথক অর্থায়ন এবং নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। তাই কাগজে-কলমে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হলেও যুদ্ধক্ষেত্রে তার বাস্তব প্রতিফলন কতটা ঘটছে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

ইরান সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর অভিযান এখন একাধিক রণাঙ্গনে ছড়িয়ে রয়েছে। লোহিত সাগর উপকূল, তাইজ শহরের আশপাশ এবং সানার পূর্বাঞ্চলে মারিব ও আল-জাওফ এলাকায় লড়াই চলছে। এসব এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করতে হলে বিপুল পরিমাণ রসদ, নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং সমন্বিত সামরিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। হুথিরা যদি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সরবরাহকেন্দ্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরো বাড়াতে পারে, তাহলে সরকারি বাহিনীর পক্ষে একই সঙ্গে সব রণাঙ্গনে চাপ বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠবে।

অন্যদিকে, সৌদি বিমান সহায়তা এবং বিকল্প সরবরাহপথের ব্যবহার সরকারি বাহিনীকে অভিযান অব্যাহত রাখার সুযোগ দিতে পারে। সরকারি কর্মকর্তারা মনে করছেন, হুথিদের হামলা তাদের অভিযান থামানোর বদলে আরো জোরদার করতে পারে। তবে এ দাবি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানো, তাইজের অবরোধ ভাঙা এবং মোখার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পুনর্দখলের সক্ষমতার ওপর।

সব মিলিয়ে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী আপাতত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখলেও হুথিদের পরাজিত করে সানা পুনর্দখলের লক্ষ্য অর্জন এখনো অনিশ্চিত। সৌদি আরবের সামরিক সহায়তা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই একমাত্র নির্ধারক নয়। সরবরাহপথ সচল রাখা, যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং বিভিন্ন বাহিনীকে কার্যকর একক কমান্ডের অধীনে পরিচালনা করতে পারাই হবে অভিযানের স্থায়িত্ব ও সাফল্যের প্রকৃত পরীক্ষা।

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উন্নত দেশের অর্থায়ন ও দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান গুতেরেসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৯ পি.এম


জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উন্নত দেশের অর্থায়ন ও দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান গুতেরেসের

ঢাকা, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বিশ্বজুড়ে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেমের ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য উন্নত দেশগুলোর পক্ষ থেকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের ঐতিহাসিক জীববৈচিত্র্য সম্মেলন (কপ-১৬)-এর অগ্রগতি পর্যালোচনার সময় তিনি এ সতর্কবার্তা প্রদান করেন।

মহাসচিব গুতেরেস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের এই অভূতপূর্ব ক্ষতি মানবজাতির অস্তিত্বকে সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, "এই মহামূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় কেবল কাগুজে প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এই মুহূর্তেই উন্নত দেশগুলোর তরফ থেকে দৃশ্যমান ও বাস্তবসম্মত আর্থিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।"

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জীববৈচিত্র্য রক্ষা বা কুমিং-মন্ট্রিল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক (জেবিএফ) বাস্তবায়নে অর্থায়ন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর অন্তত ২০০ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য তহবিল গঠনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, কিন্তু উন্নত দেশগুলোর গড়িমসির কারণে তার সরবরাহ এখনও অত্যন্ত ধীরগতির।

মহাসচিব গুতেরেস ক্ষতিগ্রস্ত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধার এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এই তহবিলের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি সতর্ক করেন যে, অর্থায়নের এই বিশাল ঘাটতি পূরণ না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতির ক্ষতি রোধ করার বৈশ্বিক লক্ষ্য অধরাই থেকে যাবে।

তহবিল সরবরাহে উন্নত দেশের ধীরগতি:

২০২২ সালের চুক্তির আলোকে ২০২৫ সালের মধ্যে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রতি বছর অন্তত ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিশ্চিত করার কথা ছিল। তবে ক্যালি সম্মেলনে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, প্রতিশ্রুত এই আন্তর্জাতিক সরকারি অর্থায়নের একটি বড় অংশ এখনও অবমুক্ত হয়নি।

২০৩০ সালের বিশাল বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা:

২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি উৎস মিলিয়ে প্রতি বছর অন্তত ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল গঠনের লক্ষ্য রয়েছে। মহাসচিব গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, "এখনই উন্নত দেশগুলো অর্থায়নের গতি না বাড়ালে এই লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।"

উন্নয়নশীল দেশের ওপর চাপ:

বাংলাদেশ, কলম্বিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মতো চরম জীববৈচিত্র্য ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক অনুদান না পাওয়ায় তাদের নিজস্ব বনাঞ্চল ও জলাভূমি রক্ষা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জাতীয় পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারছে না।

জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্েযর আন্তঃসম্পর্ক:

মহাসচিব গুতেরেস তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি—এই দুটি সংকট একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটির সমাধান করা সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আগে ক্যালির এই জীববৈচিত্র্য সম্মেলনে উন্নত দেশগুলো অর্থায়নের ক্ষেত্রে কতটা আন্তরিকতা দেখায়, তার ওপরই বহুপাক্ষিক কূটনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%