০৩:৪৫ পি.এম
নেপালের ভয়াবহ বন্যার ফলে ধ্বংসের মাত্রা কতটা ভয়াবহ ছিল, তার একটি চিত্র উঠে এসেছে ত্রাণকর্মীদের বর্ণনায়। ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের রন্ধন বিভাগের পরিচালক ক্রিস মিলার জানিয়েছেন, কিছু জনপদ মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
কাঠমান্ডু থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিএনএনকে মিলার বলেন, এই দুর্যোগের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক ছিল এর অস্বাভাবিক দ্রুততা। তাঁর ভাষায়, "এখানে যেটি আলাদা, তা হলো ঘটনাটি যেভাবে ঘটেছে তার গতি। ২০, ৩০ মিনিটের মধ্যে শহরটাই আর রইল না।"
দুর্যোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে গরম খাবার সরবরাহের কাজ করছে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন। মিলার জানান, সপ্তাহান্তে সংস্থাটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরাঞ্চলে পৌঁছানোর দিকে জোর দেবে।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
তিনি বলেন, স্থানীয় সংগঠনগুলোর সঙ্গে মিলে বিভিন্ন এলাকায় ফিল্ড কিচেন চালু করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা রান্না করে দুর্গতদের খাবার পৌঁছে দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।
এদিকে, বন্যার ভয়াবহতার আরেকটি চিত্র উঠে এসেছে রসুয়ায় নিখোঁজ এক প্রকৌশলীর পরিবারের বক্তব্যে। ২৬ বছর বয়সী যান্ত্রিক প্রকৌশলী প্রতীক গৌতম রসুয়ায় আপার ত্রিশূলী ১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করতেন। তিনি কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন।
প্রতীকের ভাই প্রভব গৌতম সিএনএনকে জানান, বুধবার সকাল ৯টা ৬ মিনিটে প্রতীক স্ন্যাপচ্যাটে একটি ছোট ভিডিও আপলোড করেছিলেন। সেখানে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্যাম্পে সাইরেন বাজতে এবং পাহাড়ের ঢালে থাকা লোকজনকে দৌড়াতে দেখা যায়।
এরপর থেকে প্রতীকের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। দুর্যোগের ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে যাওয়ায় তাঁর পরিবার ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে। প্রতীকের সহকর্মী ও একই কক্ষে থাকা আরেক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ
প্রভব জানান, ভিডিওটি ধারণের সময় প্রতীক তাঁর অফিসের বাইরে ছিলেন। এরপর তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছে, তা পরিবার নিশ্চিতভাবে জানে না।
আরেকটি ভিডিওতে প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তাকে দুটি ছোট গাড়ির সঙ্গে দেখা গেছে। প্রতীকের ভাইয়ের ধারণা ছিল, তাঁর ভাইসহ কয়েকজন প্রকৌশলী হয়তো ওই গাড়িতে ছিলেন। তবে গাড়িতে থাকা কারও উদ্ধার হওয়ার তথ্যও তিনি পাননি।
প্রতীকের পরিবার জানিয়েছে, ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আগেও জরুরি সতর্কসংকেত দেওয়া হয়েছিল। তখন কর্মীরা পাহাড়ের ওপরের দিকে বা উঁচু স্থানে উঠে নিরাপদে থাকার চেষ্টা করতেন।
বন্যার আকস্মিকতা ও প্রবল স্রোতের কারণে এবারও দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় হেলিকপ্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের সন্ধান ও দুর্গতদের কাছে খাবার পৌঁছাতে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন