ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

চার ঘণ্টা পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যান চলাচল শুরু


চার ঘণ্টা পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যান চলাচল শুরু

শ্রমিকদের অবরোধের প্রায় চার ঘণ্টা পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যান চলাচল শুরু হয়েছে।

বেলা চারটার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর যান চলাচল শুরু হয়।

এর আগে দুপুর ১২টা থেকে লিংক রোডে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে, যা দুর্ভোগের সৃষ্টি করে।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাচন সম্পন্ন

পুলিশের সঙ্গে আলোচনা শেষে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এ সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা যানবাহন চলাচলে সহায়তা করতে কাজ শুরু করেন।

পরে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এবং পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লা বুড়িচংয়ে জমি নিয়ে বিরোধ, দলিল থাকার পরও দখলে যেতে পারছেন না ক্রেতারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৭ পি.এম


কুমিল্লা বুড়িচংয়ে জমি নিয়ে বিরোধ, দলিল থাকার পরও দখলে যেতে পারছেন না ক্রেতারা

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার আগানগর গ্রামে জমি কেনার পর বৈধ দলিল থাকার দাবি থাকা সত্ত্বেও ক্রয়কৃত জমির দখলে যেতে পারছেন না জমির মালিকরা। একই এলাকার অহিদুর রহমান, মনিরুল ইসলাম ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, জমিতে প্রবেশ ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে তাঁরা বাধা দিচ্ছেন। এই বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে স্থানীয় ব্যবসায়ী ডালিম, খোরশেদসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। তাঁদের দাবি, জমি কেনার পূর্বে আইনজীবীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে জমিটি ক্রয় করা হয়েছে। কিন্তু জমি কেনার পর থেকেই অহিদুর রহমান, মনিরুল ইসলাম, তাঁদের ভাই ও ভাতিজারা বিভিন্নভাবে বাধা প্রদান করে আসছেন। একাধিকবার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অপর পক্ষের অসহযোগিতার কারণে বিষয়টির নিষ্পত্তি হচ্ছে না।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে তাঁরা ক্রয়কৃত জমিতে বালু ফেলেন। পরদিন রোববার সকাল ১০টার দিকে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে ইট ও সিমেন্ট নিয়ে সেখানে গেলে অহিদুর রহমান, মনিরুল ইসলাম এবং তাঁদের ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাধা দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মারধরের চেষ্টা হলে পরিবারের নারী সদস্যদের উপস্থিতির কারণে ঝগড়া বা সংঘাতে না জড়িয়ে তাঁরা সেখান থেকে চলে আসেন বলে দাবি করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি কেনার আগে আইনজীবীর মাধ্যমে দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে সবকিছু সঠিক পাওয়ার পরই তাঁরা জমিটি ক্রয় করেন। কিন্তু জমি কেনার পর থেকে তাঁরা নিজেদের কেনা জমিতে প্রবেশ করতে পারছেন না। বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার বসার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি থানা-পুলিশের উদ্যোগেও দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা আসেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগানগর মৌজার ৩১৭ নম্বর দাগের ১২ শতাংশ জমি নিয়ে অহিদুর রহমান, মনিরুল ইসলাম গং এবং তাহেরা বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ভুক্তভোগী ক্রেতাদের দাবি, ওই জমি ছাড়াও তাহেরা বেগমের নামে আরও কিছু সম্পত্তি পাওনা রয়েছে, যা অহিদুর রহমান ও তাঁর ভাইয়েরা বুঝিয়ে দিচ্ছেন না।

তাদের দাবি অনুযায়ী, তাহেরা বেগমের নামে থাকা সম্পত্তির মধ্যে ৩১৭ নম্বর দাগের ১২ শতাংশ জমি তিনি তাঁর ছেলে আকবর হোসেনের কাছে সাফ-কবলা দলিলমূলে হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে আকবর হোসেনের কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ডালিম, খোরশেদসহ কয়েকজন। জমি ক্রয়ের পর থেকেই অপর পক্ষ বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের বাধা দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী ডালিম বলেন, "আমরা জমির সব কাগজপত্র সম্পূর্ণভাবে যাচাই-বাছাই করেই কিনেছি। আমাদের কাছে জমির দলিল রয়েছে। কিন্তু তাঁরা আমাদের জমিতে যেতে দিচ্ছেন না। আমি তাঁদের বলেছি, আপনাদের দলিলপত্র থাকলে সেগুলো নিয়ে থানায় আসেন। থানা থেকে পুলিশ তাঁদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তাঁরা আসেননি। তাই আমরা রোববার জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করতে যাই। এ সময় তাঁরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা বাধা পেয়ে সেখান থেকে চলে আসি।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা চাই, সঠিকভাবে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জমির বিষয়টি সমাধান করা হোক এবং আমাদের ক্রয়কৃত জমি বুঝিয়ে দেওয়া হোক। কাগজপত্র যাচাই করে যদি দেখা যায় জমির মালিকানা তাঁদের, তাহলে আমরাও তাঁদের জমি বুঝিয়ে দিয়ে চলে আসব। আমরা কোনো ঝামেলা চাই না, সঠিক সমাধান চাই।"

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অহিদুর রহমান বলেন, "আমরা ছয় ভাই এবং তাহেরা বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বণ্টন মামলা চলমান রয়েছে। প্রায় ২৭ বছর ধরে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। এ অবস্থায় ডালিম, খোরশেদরা জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি জানা সত্ত্বেও অধিক লাভের আশায় তুলনামূলক কম দামে জমিটি কিনেছেন। এখন তাঁরা বারবার জমির দখল নিতে আসছেন। মামলা চলমান থাকায় আমরা তাঁদের বাধা দিচ্ছি।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকেরগঞ্জে বিএনপি নেতার কেয়ারটেকারকে চলন্ত ইজিবাইক থেকে নামিয়ে হুমকির অভিযোগ, প্রাণনাশের আশঙ্কায় থানায় জিডি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব সংবাদদাতা, মোঃসানি

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৭ পি.এম


বাকেরগঞ্জে বিএনপি নেতার কেয়ারটেকারকে চলন্ত ইজিবাইক থেকে নামিয়ে হুমকির অভিযোগ, প্রাণনাশের আশঙ্কায় থানায় জিডি

বরিশালের বাকেরগঞ্জে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোহেল ফরাজীর বাসার কেয়ারটেকার সোহাগ হোসেনকে চলন্ত ইজিবাইক থামিয়ে জোরপূর্বক নামিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী আখ্যা দিয়ে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী সোহাগ হোসেন (২৮) উপজেলার পশ্চিম কৃষ্ণনগর, চামটা বাজার এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম দেলোয়ার হোসেন। তিনি নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোহেল ফরাজীর বাসার কেয়ারটেকার এবং সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একজন বাসিন্দা।

থানায় করা জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর নিয়ামতি থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি ইজিবাইক থামিয়ে সোহাগকে জোরপূর্বক নামানো হয়। এ সময় তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান ইমরান, নিয়ামতি ইউনিয়ন যুবদল নেতা উজ্জ্বল খান, হানিফ শিকদার ও আল-আমিন খানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

সোহাগের অভিযোগ, অভিযুক্তরা তাঁকে সোহেল ফরাজীর কোনো দলীয় কর্মসূচিতে মা-বাবাকে নিয়ে না যাওয়ার জন্য বলেন। ভবিষ্যতে এমন কর্মসূচিতে অংশ নিলে তাঁকে আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে বিতাড়িত করা, মারধরসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী বলে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগী সোহাগ হোসেন বলেন, ‘আমি একজন গরিব মানুষ। সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করি। সোহেল ফরাজী ভাইয়ের বাসা দেখাশোনা করি বলে আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও সেবনের মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, আমার ডোপ টেস্ট করা হোক এবং যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে, তাদেরও ডোপ টেস্ট করা হোক। তাহলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।

ছেলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সোহাগের মা হেলেনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার একটাই ছেলে। এতদিন কেউ তাকে কোনো হুমকি দেয়নি। এখন সোহেল ফরাজীর বাসায় কাজ করে এবং তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যায় বলে ছেলেকে মারধরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি কখনো আমার ছেলেকে মাদক সেবন করতে দেখিনি। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। আমার ছেলের কোনো ক্ষতি হলে এর দায় কে নেবে? আমি সরকারের কাছে আমার ছেলের জীবনের নিরাপত্তা চাই।

এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সোহাগ হোসেন বাকেরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। যার নম্বর ১৬৮৬।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, জিডির বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোরে নিষিদ্ধ আ. লীগের ৪১ নেতাকর্মী কারাগারে পাঠানো হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৭ পি.এম


যশোরে নিষিদ্ধ আ. লীগের ৪১ নেতাকর্মী কারাগারে পাঠানো হয়েছে

যশোরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগী সংগঠনের ৪১ জন নেতাকর্মীকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত।

সোমবার (২ নভেম্বর) ভোরে তাদের আটক করা হয় এবং বিকেলে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পর বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোববার ভোরে নিষিদ্ধ যুবলীগের একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। যুবলীগের নেতাকর্মীরা বেশ কিছু নারী ও পুরুষের সঙ্গে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের লালদিঘি থেকে শুরু করে মিছিলটি মাইকপট্টি প্রদক্ষিণ করছে। এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন নীলগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা যুবলীগকর্মী শেখ শহিদ।

এ ঘটনায় সোমবার ভোরে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করে শেখ শহীদসহ সন্দেহভাজন ৪১ জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে নাশকতা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে সোমবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আটককৃতদের মধ্যে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীও রয়েছেন। তাদের মধ্যে যশোর সদরের ১৭ জন, চৌগাছার দুজন, মণিরামপুরের তিন জন, শার্শার দুজন, অভয়নগরের চার জন, কেশবপুর তিন জন, বাঘারপাড়ার চার জন, বেনাপোলে চার জন এবং ঝিকরগাছার দুজন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হ্যালোইন উৎসবে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলা, নিহত ২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৮ পি.এম


হ্যালোইন উৎসবে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলা, নিহত ২৪

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে হ্যালোইন উৎসবের সময় একের পর এক বন্দুক হামলার ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ৯৪ জন আহত হয়েছেন।

হামলাগুলো ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ডেলাওয়্যারসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নাইটক্লাব, বিনোদন এলাকা, হ্যালোইন সামগ্রীর দোকান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে সংঘটিত হয়। টেক্সাসের ডালাস শহরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে। সেখানে প্রায় ৭৫ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি পৃথক গুলিবর্ষণে চারজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হন। তবে, সব হামলা হ্যালোইনকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) থেকে বোববার (১ নভেম্বর) এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে বন্দুক সহিংসতার একাধিক ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক টাইমস, এনবিসি এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু এবং ৯৪ জনের আহত হওয়ার সংখ্যা জানায়।

ডালাসের ডিপ এলাম এলাকায় শনিবার রাত পেরিয়ে রোববার (১ নভেম্বর) ভোরে তিনটি পৃথক স্থানে গুলির ঘটনা ঘটে। ডালাস পুলিশ বিভাগের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনা ঘটে রাত ১২টা ২০ মিনিটে এলম স্ট্রিটের ২৬০০ ব্লকে। দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে রাত ১টা ৫ মিনিটে মেইন স্ট্রিটের ২৬০০ ব্লকে। তৃতীয় গুলিবর্ষণ হয় রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সাউথ ক্রাউডাস স্ট্রিটের ২০০ ব্লকে।

ডালাস পুলিশ জানায়, তিনটি ঘটনায় মোট ১৯ জন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মধ্যে চারজন মারা যান এবং ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা হাসপাতালে নিয়ে যান, অন্যরা নিজেদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৌঁছান। পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউ আহত হননি। প্রাথমিকভাবে তিনটি ঘটনার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তবে, সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা এবং গুলিবর্ষণের উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চলছে।

ডালাসের ডিপ এলাম শহরটি পরিচিত বিনোদন এলাকা হিসেবে পরিচিত। সেখানে বার, রেস্তোরাঁ, সংগীত পরিবেশনার স্থান এবং নাইটক্লাব রয়েছে। হ্যালোইন উপলক্ষে শনিবার রাতেও বিপুলসংখ্যক মানুষ ওই এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। গুলির ঘটনার পর পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে এবং কয়েকটি রাস্তা বন্ধ করে দেয়। তদন্তকারীরা আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন।

ডালাসের পুলিশপ্রধান ড্যানিয়েল কোমো জানিয়েছেন, হ্যালোইন উপলক্ষে আগেই অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ফলে গুলির খবর পাওয়ার পর কাছাকাছি থাকা কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হন। একজন আহত ব্যক্তির জীবন রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার কথাও তিনি জানান। পুলিশপ্রধান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত থাকবে। তবে, তদন্তের জন্য আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করা ব্যক্তিরা সবাই অপরাধে জড়িত, এমন নয়।

এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার ফেয়ারফিল্ড শহরের সোলানো টাউন সেন্টার শপিং মলে অবস্থিত স্পিরিট হ্যালোইন দোকানে শুক্রবার রাতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় একজন নিহত এবং ছয়জন আহত হন। নিহত ব্যক্তি ৩১ বছর বয়সী এক অন্তঃসত্ত্বা নারী বলে পরবর্তী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটিকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা হিসেবে তদন্ত করছে। তবে হামলার পূর্ণ উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এখনো চলমান।

ক্যালিফোর্নিয়ার ঘটনার পাশাপাশি, মিশিগানের ম্যাডিসন হাইটসেও একটি স্পিরিট হ্যালোইন দোকানের কাছে গুলির ঘটনায় ২১ বছর বয়সী এক যুবক নিহত হন। দুটি ঘটনাই হ্যালোইন সামগ্রীর দোকানের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও একই অপরাধী চক্র বা পরিকল্পনার অংশ বলে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে দোকানের নামের মিল থেকে ঘটনাগুলোর মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের বার্মিংহাম শহরেও গুলির ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। লিজিয়ন ফিল্ড স্টেডিয়ামে ম্যাজিক সিটি ক্ল্যাসিক ফুটবল ম্যাচের পর আশপাশের এলাকায় পৃথক দুটি গুলির ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত এবং আটজন আহত হন। ম্যাচটি দেখতে প্রায় ৭০ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। তবে স্টেডিয়ামের ভেতরে খেলা চলাকালে গুলিবর্ষণ হয়েছিল, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্ক শহরে ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের কাছেও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সেখানে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হন। অন্যদিকে ইলিনয়ের ব্লুমিংটনে ইলিনয় ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটির কাছে গুলির ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী নিহত এবং আরও একজন গুরুতর আহত হন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে এসব ঘটনা ঘটলেও হামলার উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের ফায়েটভিলেও গুলিবর্ষণে ছয়জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি বিরোধের পর সেখানে গুলির ঘটনা ঘটে। তবে বিরোধের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত চলছিল। এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সংঘটিত পৃথক অপরাধ। কোনো একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে সব হামলা সংঘটিত হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উপলক্ষে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র, পার্টি, রাস্তাঘাট এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানে জড়ো হন। বিশেষ করে গভীর রাত পর্যন্ত চলা অনুষ্ঠানে জনসমাগম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে এবারের গুলিবর্ষণগুলোর ক্ষেত্রে মদ্যপান, মাদক গ্রহণ কিংবা উৎসবের ভিড়ই সরাসরি সহিংসতার কারণ ছিল, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।

অপরাধবিজ্ঞানী জেমস অ্যালান ফক্সের একটি পূর্ববর্তী বিশ্লেষণে হ্যালোইনসহ নির্দিষ্ট ছুটির দিনে সহিংসতার প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ২০০৫ থেকে ২০০৯ সালের বোস্টনের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে ৩১ অক্টোবরকে সহিংসতার ঝুঁকিপূর্ণ দিনগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ওই বিশ্লেষণে ৪ জুলাই ও ১ জানুয়ারির পর ৩১ অক্টোবরের অবস্থান ছিল। তবে এটি একটি নির্দিষ্ট শহরের পুরোনো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা গবেষণা।

হ্যালোইন উপলক্ষে ছোট শিশু ও কিশোরেরা সন্ধ্যায় বাড়ির বাইরে বের হয়, বিভিন্ন বাসায় গিয়ে মিষ্টি সংগ্রহ করে এবং পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। এ সময় যানবাহন চলাচল, ভিড় এবং অপরিচিত স্থানে যাতায়াতের কারণে নিরাপত্তার বাড়তি প্রয়োজন হতে পারে। তবে শিশুদের জন্য সব ধরনের ঝুঁকি একই নয়। বন্দুক সহিংসতা, সড়ক দুর্ঘটনা এবং অন্য অপরাধের পরিসংখ্যান আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এসব ঘটনা উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে যারা হ্যালোইন বা অন্যান্য বড় উৎসব উপলক্ষে জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় যান, তাদের স্থানীয় পুলিশ ও আয়োজকদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন। কোনো এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলে গুজবের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগের নিশ্চিত তথ্যের ওপর নির্ভর করা গুরুত্বপূর্ণ।

হ্যালোইন সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সংঘটিত বন্দুক সহিংসতায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। সংকলিত একটি হিসাবে অন্তত ২৪ জন নিহত ও ৯৪ জন আহত হওয়ার কথা বলা হলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মোট হিসাবে পার্থক্য রয়েছে। ডালাসের তিনটি ঘটনায় চারজন নিহত ও ১৫ জন আহত হওয়ার তথ্য পুলিশ নিশ্চিত করেছে। অন্য ঘটনাগুলোতেও তদন্ত চলছে। এসব সহিংসতার কারণ, সন্দেহভাজনদের পরিচয় এবং হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা সম্পর্কে পরবর্তী সরকারি তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%