বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:৪১ পি.এম
পাকিস্তানের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত দূরত্ব ও উত্তেজনা হয়তো এবার কিছুটা শিথিল হতে চলেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বর্তমানে কারাবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। তিনি যদি মুক্তি পান, তবে সম্ভবত সামরিক বাহিনী বা সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে কোনো নতুন বিরোধে জড়াবেন না বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি উল্লেখ করেছেন, ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান মুক্ত হলে দেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। বরং দেশের বৃহত্তর স্বার্থে নিজেকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং তিনি সমঝোতার পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন। কঠোর বিরোধের রাজনীতি থেকে সরে এসে পিটিআইয়ের এমন নমনীয় অবস্থান সাম্প্রতিক সময়ে বেশ বিরল বলেই মনে হচ্ছে।
দেশটির শীর্ষ আদালত ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়ার পরপরই এই ইতিবাচক বার্তা এসেছে। দুবাইয়ে অবস্থানরত বুখারি সেনাপ্রধানকে দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সেনাপ্রধান যদি ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং ভালোবাসার হাত বাড়ান, তবে দ্রুতই সব রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তি সম্ভব। ইমরান খানের উপর একাধিক মামলা আগে থেকেই প্রায় সব দণ্ডই স্থগিত বা বাতিল হয়েছে, যা ২০২২ সালে ক্ষমতা হারানোর পর ঘটে।
পিটিআই জানিয়েছে যে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালের সামনে সমর্থকদের কোনো জমায়েত হবে না। তবে সমঝোতার আশ্বাসের পাশাপাশি পিটিআই তাদের কর্মসূচি বহাল রাখছে। বুখারি জানিয়েছেন, আত্মগোপনে থাকা নেতাদের যুক্ত করে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে পূর্বনির্ধারিত পদযাত্রা কর্মসূচি চলবে। সেই কর্মসূচি থেকে ইমরান খানের সুচিকিৎসা ও দ্রুত মুক্তির জোর দাবি জানানো হবে। যদিও সরকারি বা সামরিক পক্ষ এখনো কোনো মন্তব্য করেনি, বিশ্লেষকদের মতে, এই সুরবদল সংকটময় রাজনীতিতে নতুন আশার বাতাবরণ তৈরি করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার।
এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং Bangladesh ও ভারতের মধ্যে চলমান দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন প্রকল্প বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন এক বার্তায় জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, জ্বালানি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে।
দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার এবং উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরো কার্যকর করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরো বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের এই বৈঠক দুই দেশের পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ায় রুহুল কবীর রিজভীকে অভিনন্দন জানিয়ে কুড়িগ্রামে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার সময় শহরের কলেজ মোড় এলাকায় সাধারণ মানুষ, পথচারী এবং রিকশাচালকদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবুর পক্ষ থেকে এই আয়োজন করা হয়েছে। মিষ্টি বিতরণের সময় সেখানে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, রুহুল কবীর রিজভী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নির্বাচিত করায় কুড়িগ্রামে নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে।
সেই আনন্দ সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতেই এই মিষ্টি বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।
এ সময় নেতাকর্মীরা পথচারী, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে ঘোষণা করা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার অভিযান প্রত্যাখ্যান করে মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্পের কথিত ‘ইকোনমিক ডি-ডে’কে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর একটি চক্রান্ত বলে উল্লেখ করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ওয়াশিংটনের ‘নজিরবিহীন ঋণ ও দ্রুত বাড়তে থাকা সুদের ব্যয়’ থেকে দৃষ্টি সরাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ব্যর্থ নীতিতে আরও জোর দেওয়া হলে তা শুধু আরও পরাজয় ডেকে আনবে।’
এছাড়া, আরাঘচি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ বিশ্ব অর্থনীতি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।
ইরান আগের যুদ্ধ ছয় মাসেরও বেশি গড়িয়েছে। যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, কিন্তু সমাধানের কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে, নভেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের ভেতর ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। কারণ, যুদ্ধ ব্যয় মেটাতে মার্কিন ভোক্তাদের চাপের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পাশাপাশি, ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ট্রাম্প দেশে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
এমন অবস্থায়, ইরানের অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প একটি নতুন বড় নিষেধাজ্ঞার অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল বুধবার (১৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘আজ আমি কোনো দেশের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা করছি! এটি হবে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধ এবং একঘরে অবস্থা।’
তিনি হুমকি দিয়ে আরও বলেন, ইরানকে সহায়তা করে বা দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করে—এমন যেকোনো দেশকে ‘ভয়াবহ’ অর্থনৈতিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে। তার ভাষায়, ‘যে দেশ তার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থাকে ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা দেওয়ার সুযোগ দেবে, সেই দেশকেও ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।’
সম্প্রতি, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও একই ধরনের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধের পাশাপাশি ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা শিগগিরই আরও জোরদার করবে যুক্তরাষ্ট্র—এটি হবে দ্বিমুখী কৌশলের অংশ। রক্ষণশীল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক নিউজম্যাক্সকে বেসেন্ট আরও বলেন, ‘এটি অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার এমন এক সমন্বিত উদ্যোগ হবে, যা বিশ্ব আগে কখনও দেখেনি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানের মধ্যে গাঁজা ক্রয়-বিক্রয় ও সেবনের অভিযোগে দুইজনকে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, বুধবার নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহফুজুল হক এবং মোসাদ্দেক হোসেন।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন, নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত. কাজী ওয়াজী উল্ল্যার ছেলে আব্দুল কাদের (৫১) এবং একই এলাকার আলী হোসেনের ছেলে মো. নুর ইসলাম (২৩)।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, বুধবার নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষীনারায়ণপুর এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অংশগ্রহণে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে গাঁজা ক্রয়-বিক্রয় ও সেবনের মাধ্যমে জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট করার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে তাদের দুজনকে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ আরো জানান, মাদক নিমূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ