১০:১৬ পি.এম
প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ ও মাইগ্রেশনের কারণে দেশের প্রায় ৩০টি ব্যাংকের বিভিন্ন ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কার্ড, এটিএম, পিওএস, এনপিএসবি, ই-কমার্স ও কিউআর। এ কারণে নির্দিষ্ট সময়ে এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা তোলা, কার্ডে কেনাকাটা, কিউআর পেমেন্ট ও অনলাইন লেনদেনে ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
ব্যাংকগুলো জানাচ্ছে, এটি স্থায়ী কোনো সমস্যা নয়। নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ শেষ হওয়ার পর ধাপে ধাপে এসব সেবা পুনরায় চালু হবে। গ্রাহকদের আগাম সতর্ক করতে অনেক ব্যাংক এসএমএস ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে।
সাময়িক সেবা বন্ধের আওতায় থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, বেসিক ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ব্যাংক আলফালাহ বাংলাদেশ, কমিউনিটি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও উরি ব্যাংক বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: মাছের বাজার চড়া, সবজিতে স্বস্তি
তবে সব ব্যাংকের সব সেবা একই সময়ে বন্ধ নেই। কোন ব্যাংকের কোন সেবা কতক্ষণ বা কত দিন বন্ধ থাকবে, তা ব্যাংকভেদে আলাদা। এ কারণে জরুরি প্রয়োজনে নগদ অর্থ তোলা, কার্ডে কেনাকাটা কিংবা অনলাইন লেনদেন করতে গিয়ে অনেক গ্রাহক সমস্যায় পড়ছেন।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অবহিত করেই ব্যাংকগুলো নিয়মিতভাবে এ ধরনের কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ ও সিস্টেম আপগ্রেডের কাজ করে থাকে।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ব্যাংক স্বাধীনভাবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে কাকতালীয়ভাবে ১৯টি ব্যাংকের সিস্টেম আপগ্রেডের সময়সূচি একই সময়ে পড়েছে।’ গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে আগাম বিজ্ঞপ্তি ও এসএমএসের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আলোচনা করেছে বলেও জানান তিনি।
তবে এবারের পরিস্থিতিকে কিছুটা ভিন্ন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র। তার ভাষ্য, এটি একটি ‘ইনসিডেন্ট’ বা অপ্রত্যাশিত ঘটনা। তৃতীয় পক্ষের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের আগেই সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ শুরু করতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: জাহাজভাড়া বাড়ল ৭০০ টাকা, দিতে হবে নতুন ‘পরিবেশ ফি’
আরিফ হোসেন খান বলেন, সাধারণত এ ধরনের কাজ বছরে একবার নিয়মিতভাবে করা হয়। ২৮ তারিখের দিকে সিস্টেমের কাজ করার পরিকল্পনা থাকলেও কিছুটা দেরি হওয়ায় এবং হঠাৎ সিস্টেম কোল্যাপসের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় কোনো ধরনের ওরিয়েন্টেশন ছাড়াই তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সিস্টেম মাইগ্রেশন শুরু করতে বা করতে বাধ্য হতে হয়েছে।
এই পরিস্থিতি কত দিন চলতে পারে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি ৫-৬ দিন লাগতে পারে। যেহেতু সিস্টেমটি রান করা শুরু করেছে, তাই মাঝপথে বন্ধ করা সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকগুলোর প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আহ্বান থাকবে, তারা যেন পরিস্থিতি গ্রাহকদের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তি দেয় এবং দ্রুত সেবা স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে।
আগাম জানানো হলে গ্রাহকেরা প্রস্তুতি নিতে পারতেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকগুলো সাধারণত আরও পরে বিষয়টি জানানোর কথা ছিল। তার ভাষ্য, আজ ৫-৬ তারিখে জানানোর কথা ছিল না; বরং ১৫-২০ তারিখের দিকে জানানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই মাইগ্রেশন শুরু হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: দুই অর্থবছরে রেলপথে কনটেইনার পরিবহন ৩২ শতাংশ কমেছে
গ্রাহকদের ব্যাপক ভোগান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গ্রাহক ও যারা কাজগুলো করতেছে তারাও বিপদে পড়েছে।’ তবে সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা বন্ধ হয়নি বলেও জানান তিনি।
আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘অন্যান্য ক্রেডিট কার্ড ও ডেবিট কার্ড বা অন্যান্য যেগুলো চালু আছে, যেমন ইএফটি এবং আরটিজিএস এগুলো কিন্তু চালু আছে।’
সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোও জানিয়েছে, সিস্টেম মাইগ্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ হলে বন্ধ থাকা সেবাগুলো ধাপে ধাপে চালু করা হবে। এ সময়ে ব্যাংকের নিজস্ব নির্দেশনা অনুযায়ী শাখাভিত্তিক কাউন্টার লেনদেন চালু থাকবে।
আরও পড়ুন: স্কলাস্টিকার নামে ৭২৭ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ, স্থানান্তর ৪২৫ কোটি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন