ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

গৌরনদীতে অ্যাম্বুলেন্স ও মাহিন্দ্রার সংঘর্ষে খাদিজা বেগম নি’হ’ত


গৌরনদীতে অ্যাম্বুলেন্স ও মাহিন্দ্রার সংঘর্ষে খাদিজা বেগম নি’হ’ত

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদীতে সংঘর্ষের ঘটনায় খাদিজা বেগম (৬০) নামের এক নারী মাহিন্দ্রা যাত্রী নিহত হয়েছেন।

এই দুর্ঘটনা ঘটে সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত সোয়া সাতটার দিকে মহাসড়কের দক্ষিণ কাসেমাবাদ এলাকায়।

নিহত খাদিজা বেগম উত্তর বিজয়পুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেকের স্ত্রী। গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বরিশালগামী অ্যাম্বুলেন্সের সাথে গৌরনদীগামী যাত্রীবাহি মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।

আরও পড়ুন: বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলো না সৌমিকের, দুই বাড়িতে শোকের মাতম

এ ঘটনায় মাহিন্দ্রা চালকসহ ৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে খাদিজা বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান। গৌরনদী হাইওয়ে থানার এসআই রোমান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত দুইটি যান জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ইউএনও মো. আলী সুজা তালপাতা ও দোয়াত-কালির শিক্ষকের বাড়িতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০০ এম


বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ইউএনও মো. আলী সুজা তালপাতা ও দোয়াত-কালির শিক্ষকের বাড়িতে

শিক্ষক মনিরুজ্জামান এলাহি, যিনি দশ টাকার মাস্টার নামে পরিচিত, প্রজন্মের প্রথম অক্ষর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তালপাতা ও দোয়াত-কালির মাধ্যমে শিক্ষার পথ শুরু হয়েছিল তার কাছে। বর্তমানে তিনি জীবনের শেষপ্রান্তে জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের হস্তিশুণ্ড গ্রামে তার বাড়িতে খাদ্য সহায়তা নিয়ে হাজির হন উপজেলার মানবিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজা। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান।

স্থানীয় প্রবীণদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, মনিরুজ্জামান এলাহি তালপাতায় অক্ষর লেখা ও দোয়াত-কালিতে শিশুদের পড়ানোর মাধ্যমে তাদের শিক্ষাজীবনের সূচনা করেছিলেন। তিনি মাত্র ১০ টাকা পারিশ্রমিক নিতেন, যার ফলে স্থানীয়রা তাকে ‘দশ টাকার মাস্টার’ নামে ডাকেন।

এখন বয়সের ভারে নুজ্য হয়ে পড়েছেন এই প্রবীণ শিক্ষক। তার দিন কাটছে আর্থিক সংকটের মধ্যে। তার দুরবস্থার খবর পেয়ে সোমবার (৫ অক্টোবর) উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজা এলাহির সঙ্গে কথা বলেন এবং তার শারীরিক ও পারিবারিক অবস্থার খোঁজখোঁজ নেন। পরে তিনি তাকে তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রবীণ শিক্ষককে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন ইউএনও মো. আলী সুজা। তিনি সমাজের বিত্তশালীদের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, “এ শিক্ষককে একটি ঘর করে দেয়ার জন্য আমাদের সকলকে এগিয়ে আসা উচিত।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নব্বইয়ের দশকে মনিরুজ্জামান এলাহি দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুদের শিক্ষার প্রথম পাঠ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তালপাতায় লেখা ও দোয়াতে কালি তৈরি করে শিশুদের হাতে ধরে অক্ষর শেখানোর মাধ্যমে তিনি তাদের শিক্ষার সূচনা করেন।

এলাহির কাছে হাতেখড়ি নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত। তবে, একটি প্রজন্মের শিক্ষার সূচনালগ্নে ভূমিকা রাখা সেই শিক্ষক এখন চরম আর্থিক দৈন্যদশায় পরেছেন।

স্থানীয় শিক্ষক নুরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, “মনিরুজ্জামান এলাহির কাছে হাতেখড়ি নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত। তিনি নিঃস্বার্থভাবে একটি প্রজন্মের জন্য কাজ করেছেন।” তিনি আরও জানান, এলাহি বিয়ে করেননি এবং শিক্ষাদানকে জীবনের বড় অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। কিন্তু এখন তার নেই স্থায়ী কোনো আয়ের উৎস এবং নিয়মিত সরকারি সহায়তা।

ইউএনও মো. আলী সুজা বলেন, “আমি বিষয়টি নজরে আসার পরই দশ টাকার মাস্টার এলাহির খোঁজ নিয়েছি। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে তার সাথে সাক্ষাত করতে বাড়িতে গিয়েছিলাম। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে। আমি সমাজের সামর্থ্যবান সকলকে আহবান জানাচ্ছি, যেন শিক্ষক মনিরুজ্জামান এলাহির জীবনের শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী তাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী দুই সাংবাদিক নেতার জামিন মঞ্জুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০১ এম


বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী দুই সাংবাদিক নেতার জামিন মঞ্জুর

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী আগৈলঝাড়ার দুই সাংবাদিক নেতা জামিন লাভ করেছেন। থানায় হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামি হয়ে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তর প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা টিভি’র বরিশাল ব্যুরো প্রধান এফএম নাজমুল রিপন উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন গ্রহণ করেছিলেন।

এরপর বরিশালের একটি আদালতে ওই দুই সাংবাদিক নেতা আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

সেই সময় থেকে কারাবন্দি থাকার পর সোমবার (৫ অক্টোবর) বরিশাল আদালতে ওই দুই সাংবাদিক নেতার পক্ষে আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। পরে বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্ঞানচর্চার বাতিঘর আ. জব্বার খান স্মৃতি পাবলিক লাইব্রেরি প্রত্যন্ত গ্রামে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০১ এম


জ্ঞানচর্চার বাতিঘর আ. জব্বার খান স্মৃতি পাবলিক লাইব্রেরি প্রত্যন্ত গ্রামে

প্রত্যন্ত গ্রামে জ্ঞানচর্চার আলো প্রায় ২৫ বছর ধরে ছড়িয়ে পড়ছে। গল্প, উপন্যাস, ইতিহাস, দর্শন ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের বই নিয়ে সমৃদ্ধ পাঠাগারটি বর্তমানে শুধু বই পড়ার স্থান নয়, বরং স্থানীয় শিক্ষার্থী ও বইপ্রেমীদের জন্য এটি জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বাবুগঞ্জের কৃতী সন্তান সাবেক বিচারপতি ও সাবেক স্পিকার মরহুম আব্দুল জব্বার খানের স্মৃতিকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত এই পাঠাগারটি দীর্ঘকাল ধরে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া স্টিমার ঘাট বাজারসংলগ্ন এলাকায় ২০০১ সালে স্পিকার আ. জব্বার খান স্মৃতি পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১৩ সালে পাঠাগারটি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে নিবন্ধন লাভ করে।

বাবুগঞ্জের এই কৃতী ব্যক্তিত্বের স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে সমাজসেবক নুরুল ইসলাম মানিক পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন। ‘পড়িলে বই আলোকিত হই, না পড়িলে অন্ধকারে রই’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

পাঠাগার কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে এখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন খ্যাতনামা লেখকের পাঁচ হাজারের বেশি বই রয়েছে। গল্প, উপন্যাস, ইতিহাস, দর্শন, সাহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের এসব বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন স্থানীয় শিক্ষার্থী, তরুণ ও বইপ্রেমীরা।

ডিজিটাল যুগে শিশু-কিশোর ও তরুণদের একটি বড় অংশ যখন মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত, তখন গ্রামীণ জনপদে বই পড়ার পরিবেশ ধরে রাখতে পাঠাগারটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

তাদের মতে, প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার যেমন প্রয়োজন, তেমনি বই পড়ার অভ্যাসও ধরে রাখা জরুরি। সেই জায়গায় পাঠাগারটি প্রত্যন্ত গ্রামের শিক্ষার্থী ও বইপ্রেমীদের জন্য বিকল্প জ্ঞানচর্চার সুযোগ তৈরি করছে।

পাঠাগারে বসে বই পড়ার পাশাপাশি সদস্যরা বই বাড়িতে নিয়েও পড়ার সুযোগ পান। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। স্থানীয় যুবসমাজকে জ্ঞানচর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রেও পাঠাগারটি ভূমিকা রেখে আসছে।

তবে দীর্ঘদিনের এই প্রতিষ্ঠানটির ভবন নিয়ে রয়েছে কিছুটা উদ্বেগ। পাঠাগারের দুইতলা ভবনের পাশেই একটি খাল রয়েছে। খালের অবস্থানের কারণে ভবনের পাশের মাটি ভবিষ্যতে ক্ষতিগ্রস্ত বা সরে গেলে স্থাপনাটি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ কারণে ঝুঁকি তৈরি হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই ভবনের পাশের অংশ সুরক্ষিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। পাঠাগার কর্তৃপক্ষের মতে, প্রয়োজন অনুযায়ী গাইডওয়াল নির্মাণ, খালের পাড় সংরক্ষণ, মাটি ভরাট কিংবা অন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবনটি সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। এজন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কারিগরি সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলাম মানিক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পাঠাগারটি এলাকার মানুষের বই পড়া ও জ্ঞানচর্চার সুযোগ করে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে খালের কারণে ভবনটি কোনো ধরনের ঝুঁকিতে না পড়ে, সেজন্য আগাম ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সরকারি সহযোগিতা পেলে পাঠাগারটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।

নিয়মিত পাঠক আরাফাত হোসেন মৃধা বলেন, অজপাড়াগাঁয়ে এমন একটি পাঠাগার এলাকার জন্য বড় সম্পদ। মোবাইল ফোনের অপব্যবহার থেকে তরুণদের দূরে রাখতে বই পড়ার পরিবেশ আরও সম্প্রসারিত করা দরকার। পাঠাগারের ভবন ও পরিবেশ সংরক্ষণে এখনই উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

পাঠাগারের উপদেষ্টা ও সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী সেলিমা রহমান (এমপি) বলেন, একটি গ্রামীণ পাঠাগার শুধু বই রাখার জায়গা নয়; এটি একটি এলাকার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। দীর্ঘদিনের এই প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, পাঠাগারটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জ্ঞানচর্চায় ভূমিকা রাখছে। ভবনের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লোকসানের ধকল নিয়েই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় কলাপাড়া উপকূলের হাজার হাজার জেলে পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০৩ এম


লোকসানের ধকল নিয়েই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় কলাপাড়া উপকূলের হাজার হাজার জেলে পরিবার

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে জাল গোছাচ্ছিলেন জেলে জয়নাল খলিফা ও আব্বাস মুসল্লী। তাঁরা জানান, সাগরের অগভীর এলাকায় ১০-১২ কিলোমিটার দূরে ইঞ্জিনচালিত বোট নিয়ে ইলিশ ধরতে যাচ্ছেন। তাঁদের মতে, ৬৫ দিনের অবরোধের পর ১৫-১৬ ট্রিপ সাগরে গেছেন। তবে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মেলেনি। প্রতিবার ৪-৫ টা থেকে সর্বোচ্চ ৩০টার বেশি ইলিশ কখনো মেলেনি। এই ১৬ বারে এক কেজি ওজনের মাত্র দুইটি ইলিশ পেয়েছেন। আর যা পেয়েছেন, তা সবই জাটকা। ৫-৬ থেকে ৮-৯ টা কেজি। গত দুই বছর ধরে ইলিশের এমন আকাল চলছে বলেও জানান এই দুই জেলে। তাঁদের ছোট্ট বোটে অন্তত আড়াই লাখ টাকার লোকসান রয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। এখন কীভাবে বেতনের টাকা নিয়ে বাড়িতে ফিরবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না জয়নাল খলিফা। কুয়াকাটা সৈকতের লেম্বুর বন থেকে গঙ্গামতি ও কাউয়ারচর পর্যন্ত অন্তত আড়াই হাজার খুটা জেলের সকলেরই দশা এক। যেন মানুষগুলো দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

গঙ্গামতি সৈকতের বেলাভূমে এখন ডাবসহ বিভিন্ন ধরনের ফল বিক্রি করছেন আলম মোল্লা (৫৫)। তিনি জানান, জীবনের ৪০টি বছর জেলের কাজে কাটিয়েছেন। জাল, ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ সব কিছু ছিল তাঁর। সাগর মোহনা ও রাবনাবাদ চ্যানেলে ইলিশ ধরতেন। ইলিশের খরায় আট লাখ টাকার দেনা মাথায় নিয়ে এখন বীচে ডাব বিক্রি করছেন। ছয় জনের সংসারে এখন তাঁর দূরবস্থা চলছে। বড় ছেলে প্রতিবন্ধী। সকলের জীবিকার যোগান দেওয়ার একমাত্র ব্যক্তি আলম মোল্লা জানান, সাগরে এখন আর ইলিশ মেলে না। গত চার বছর ধরে এমন অবস্থা হয়েছে। তাঁর দাবি, ট্রলিং বোটের কারণে কিনার থেকে ১০-১২ কিলোমিটার পর্যন্ত কোনো ধরনের মাছ আসতে পারে না। বাচ্চা পর্যন্ত মারা পড়ছে ট্রলিং বোটের ছোট্ট ফাঁসের জালে আটকে পড়ে।

কুয়াকাটা সৈকতের মম্বিপাড়া থেকে গঙ্গামতি পর্যন্ত সাত-আট কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধের বাইওে গাছের নিচে শত শত জেলে কেউ ছেড়া জাল সেলাই করছেন। কেউ জালসহ সব গোছগাছ করছেন। কেউ আবার আরেকটি ট্রিপের জন্য সাগরে ছুটছেন। মহাব্যস্ততার মধ্যে কাটছে সকলের একেকটি মুহূর্ত। সকল জেলের দাবি, এবারে ছোট্ট জাল দিয়ে অগভীর এলাকায় মাছ ধরা কোনো ট্রলার মালিক কিংবা জেলে লাভের মুখ দেখতে পারেননি। মঙ্গলবার দিনভর ঘুরে জেলেদের ২২ দিনের অবরোধ পালনের প্রস্তুতি দেখা গেছে। তবে এখনো শত শত মাঝারি ও বড় বোট সাগরবক্ষে রয়েছে। যারা আজ (বুধবার) দুপুর কিংবা সন্ধ্যায় ঘাটে ফিরবেন বলে জানা গেছে।

এহিপুর মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা জানান, এবছর যে পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েছে তার ৭০-৮৫ শতাংশ ছোট সাইজের ইলিশ, জাটকা। পরিমাণে মাছ ছিল খুব কম। তবে ট্রলিং বোট মালিকরা ও বড় দুই-চারটা বোটে কিছু ব্যবসা করেছে। ৯০-৯৫ শতাংশ জেলে, ট্রলারমালিকরা লোকসানের কবলে রয়েছেন। এর মধ্য দিয়েই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু করছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপকূলের অন্তত ৪০ হাজার জেলে পরিবার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%