ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হাইকোর্টের নির্দেশে ঢাবি ছাত্র তাসমিম মাহিদকে ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে


হাইকোর্টের নির্দেশে ঢাবি ছাত্র তাসমিম মাহিদকে ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী তাসমিম মাহিদ চঞ্চলকে ৩০ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে একাধিকবার ধর্ষণ এবং আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ঘটনা ঘটেছে।

সম্প্রতি বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি মো. রফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশ প্রদান করেন।

মামলার আসামিপক্ষে শুনানিতে আইনজীবী সজিব চন্দ্র বণিক অংশ নেন। অপরদিকে, ভুক্তভোগীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শিকদার গুলজার আহমেদ। উল্লেখ্য, ভুক্তভোগীও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে আসামি তাসমিম মাহিদ চঞ্চলের সঙ্গে ভুক্তভোগীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে আসামি ভুক্তভোগীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি রেস্টুরেন্টের স্মোকিং জোনে প্রথম ধর্ষণ করেন। ওই সময় আসামি গোপনে ভুক্তভোগীর আপত্তিকর ছবি তুলে রাখেন এবং পরবর্তীতে সেই ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধ্য করেন।

এর ধারাবাহিকতায়, গত বছরের ৩১ আগস্ট মধ্যরাতে আসামির প্রলোভনে ভুক্তভোগী ধানমন্ডির একটি হোটেলে যান এবং সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তারা শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। এরপর থেকেই আসামি ভুক্তভোগীকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন এবং বিয়ের কথা বললে তার পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেবে না বলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতে থাকেন। উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে গত বছরের ১৫ অক্টোবর আপস-মীমাংসার জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হলেও আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ভুক্তভোগী একই বছরের ১৮ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

একই বছরের ২০ অক্টোবর ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে শারীরিক সম্পর্কের আলামত বিদ্যমান থাকার কথা বলা হলেও তা সাম্প্রতিক বা জোরপূর্বক নয় বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া, মেডিকেল বোর্ড ভুক্তভোগীর বয়স আনুমানিক ২০ বছর বলে নির্ধারণ করে।

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

পুলিশি তদন্ত শেষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(খ) ধারায় চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বর্তমানে মামলাটি অভিযোগ গঠনের জন্য ঢাকার ৬ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।

মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল আসামি স্বেচ্ছায় ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার যুক্তিতে আদালত ১০ মে পর্যন্ত তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। পরে ১০ মে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

২৪ মে ট্রাইব্যুনাল থেকে পুনরায় জামিন নামঞ্জুর হলে আসামি হাইকোর্টে আপিল করেন। সে সময় আসামির চতুর্থ বর্ষের প্রথম সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা এবং আপস-মীমাংসার মৌখিক আবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট তাকে শর্তসাপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন।

তবে নির্ধারিত তারিখে মামলার শুনানি শেষে দেখা যায়, আসামির পরীক্ষা শেষ হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের আপস-মীমাংসা হয়নি। এরপর জামিন আবেদনের আর কোনো আইনগত ভিত্তি না থাকায় হাইকোর্ট গত ১০ সেপ্টেম্বর আসামির জামিন আবেদন খারিজ করে রায় দেন এবং রায়ের অনুলিপি প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আসামিকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি আত্মসমর্পণ না করলে আইনানুযায়ী আসামিকে গ্রেফতারের বিষয়ে বিচারিক আদালত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে বলেও রায়ে বলা হয়।

আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফুটপাত দখলমুক্তের পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসন হবে: প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২২ পি.এম


ফুটপাত দখলমুক্তের পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসন হবে: প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান

রাজশাহী মহানগরীকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানালেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে নগরীর সাহেব বাজার এলাকায় সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন মার্কেট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

রাসিক প্রশাসক উল্লেখ করেন, নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ভদ্রা, মহিলা কলেজ রোড ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের একাংশের ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে।

তবে লক্ষ্মীপুর, জিরোপয়েন্ট, সোনাদিঘী মোড়, রেলগেট ও গণকপাড়াসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এখনও ফুটপাত দখল হয়ে আছে। এসব এলাকা দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের যে ক্ষতি হচ্ছে, তাঁদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। এ জন্য সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন মার্কেটে উপযুক্ত স্থান খোঁজা হচ্ছে।

মার্কেট পরিদর্শনকালে প্রশাসক সাহেব বাজার কাঁচাবাজার, মাছপট্টি, মাংসপট্টি, কসাইখানা এবং মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত পরিত্যক্ত দোকানগুলো ঘুরে দেখেন। এ সময় হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।

মাহফুজুর রহমান রিটন জানান, রাজশাহী মহানগরীকে শুধু নামেই নয়, বাস্তব অর্থেই ক্লিন ও গ্রিন সিটিতে পরিণত করতে চান তারা। নগরীকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একজন কর্মী হিসেবে তিনিও কাজের মাধ্যমে রাজশাহীকে নতুনভাবে সাজাতে চান।

ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গিয়ে বাধা ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি পাওয়ার কথাও জানান রাসিক প্রশাসক। তিনি বলেন, এসব হুমকিতে তিনি ভীত নন। জীবন থাকা পর্যন্ত রাজশাহীকে গুছিয়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাবেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নগরীকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, দখলমুক্ত, বাসযোগ্য, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ করে গড়ে তুলতে চান তিনি।

মার্কেটের অব্যবহৃত দোকানগুলো প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, সাহেব বাজার কাঁচাবাজার ও মাছপট্টির দ্বিতীয় তলায় ৮৯টি দোকান অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সরেজমিনে এসব দোকানের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে। দোকানগুলো ব্যবহার উপযোগী করার পাশাপাশি মার্কেটটি নতুনভাবে নির্মাণ বা আধুনিকায়ন করা যায় কিনা, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এতে ব্যবসায়ীদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

পরিদর্শনকালে রাসিকের সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ঈ সাঈদ, নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান ইমন, নিলুফার ইয়াসমিন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিকল্পনা) জসীম উদ্দীন আরজুসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া চন্দ্রিমা থানা বিএনপির সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম জনি, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক মুঈদুর রহমান মুঈদ, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন বিপ্লব, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবার আলী জ্যাকি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান সৌরভ, ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ শান্ত এবং মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবিরসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অডি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম গাড়ি কারখানায় ৪২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৩ পি.এম


অডি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম গাড়ি কারখানায় ৪২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে: ট্রাম্প

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অডি যুক্তরাষ্ট্রে তাদের প্রথম কারখানা স্থাপনে ৪২০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। শনিবার, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ১০ দিন আগে তিনি এই ঘোষণা দেন।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, অডি তাদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিনিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, নতুন কারখানাটিতে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি অসাধারণ কোম্পানির বিপুল গাড়ি উৎপাদন বিনিয়োগের ঘোষণা দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘অডি জর্জিয়ার ম্যাকন শহরের কাছে ৪২০ কোটি ডলার বিনিয়োগে সম্মত হয়েছে। আগামী মাসে সেখানে একটি বিশাল কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু হবে, যেখানে বছরে ২ লাখ গাড়ি উৎপাদন করা হবে।’

তবে ফক্সভাগেন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অডি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কারখানাটির নির্মাণকাজ আগামী বছর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকে সেখানে উৎপাদন শুরু হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এই পরিকল্পিত বিনিয়োগের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটানো এবং ইউরোপ ও চীনের পাশাপাশি উত্তর আমেরিকাকে অডির বৈশ্বিক উৎপাদন নেটওয়ার্কের তৃতীয় প্রধান স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।’

জার্মান শিল্প খাতের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ভক্সওয়াগেন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক, চীনা প্রতিযোগিতা এবং ইউরোপে অনিয়মিত চাহিদার কারণে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে ১০টি ব্র্যান্ডের সমন্বয়ে গঠিত ভক্সওয়াগেন গ্রুপ ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ ১ লাখ কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়ে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছায়। এর ফলে পুরো গ্রুপে প্রত্যাশিত চাকরি কমানোর সংখ্যা ৫০ হাজার বেড়েছে।

বৈশ্বিক গাড়ি শিল্পে এ ছাঁটাইকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পুনর্গঠন কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প তার কঠোর বাণিজ্যনীতির সাফল্য তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি উৎপাদন খাতে ‘জোরালো প্রত্যাবর্তন’ ঘটেছে বলে দাবি করেছেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে ট্রাম্প নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশ ও পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন। এর মধ্যে গাড়িও রয়েছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় জেনারেল মোটরস, টয়োটা ও ফোর্ডসহ বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কারখানার উৎপাদন সম্প্রসারণ কিংবা বিদেশ থেকে উৎপাদন কার্যক্রম সরিয়ে আনার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির বিরুদ্ধে অসন্তোষ মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের অনুকূলে কাজ করতে পারে বলে দলটি আশা করছে।

জনমত জরিপে প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতেও প্রত্যাশার চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ের মুখে ট্রাম্প নির্বাচনের আগে প্রচারণায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শুধু বিচারপতি বাড়ালেই কমবে না মামলাজট: অ্যাটর্নি জেনারেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৩ পি.এম


শুধু বিচারপতি বাড়ালেই কমবে না মামলাজট: অ্যাটর্নি জেনারেল

শুধু বিচারপতি বা বেঞ্চের সংখ্যা বৃদ্ধি করে উচ্চ আদালতের মামলাজট সমাধান করা সম্ভব নয়। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল মন্তব্য করেছেন যে, বিদ্যমান বেঞ্চগুলোর মামলা নিষ্পত্তির গতি বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত জরুরি। তিনি গাজীপুরের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনায় আবেগের পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) তিনি নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন। মামলাজট সমাধানে বেঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে বিদ্যমান বেঞ্চগুলোর কার্যকারিতা ও মামলা নিষ্পত্তির হার মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত মামলার জন্য গঠিত একটি বেঞ্চ ৩০ থেকে ৩৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রায় ২৪টি মৃত্যুদণ্ডাদেশসংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি করেছে। তবে, একই ধরনের এখতিয়ারসম্পন্ন অন্যান্য বেঞ্চগুলো একই সময়ে সমপরিমাণ মামলা নিষ্পত্তি করতে পারছে কি না, তা পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মামলার নিষ্পত্তি দ্রুত হওয়া প্রয়োজন। যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁকে সাজা ভোগ করতে হবে, আর নির্দোষ প্রমাণিত হলে খালাস পেতে হবে। তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমানো অত্যন্ত জরুরি।

অ্যাটর্নি জেনারেল উল্লেখ করেন, মামলার চাপ বিবেচনায় প্রধান বিচারপতি প্রয়োজন অনুসারে বেঞ্চ বা বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। তবে, শুধুমাত্র বেঞ্চের সংখ্যা বৃদ্ধি করে মামলার স্তূপ কমানো সম্ভব নয়। কোন বেঞ্চ কতসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করছে এবং কোথায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে, তা পর্যালোচনা করে বিচারিক কার্যক্রমের গতি বাড়াতে হবে।

এদিকে, গাজীপুরের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার সমাধান আবেগের বশবর্তী হয়ে না করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত। ঘটনার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির জন্য আইন ও যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।

অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এজলাসে জায়গার স্বল্পতা এবং আইনজীবীদের বিপুল উপস্থিতির কারণে সাংবাদিকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক প্রতিনিধিকে এজলাসে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তিনি জানান, সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারের বিষয়টি গতকালও সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। এ সময় দুইজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। বিষয়টি সমাধানে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আনিসুল হকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার চার্জশিট গ্রহণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৪ পি.এম


আনিসুল হকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার চার্জশিট গ্রহণ

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ : আদালত সাবেক আইনমন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেছে। চার্জশিটে অপর আসামিরা হলেন— আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেছা বেগম হক কলি, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবাল।

আজ রোববার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবীর এই চার্জশিট গ্রহণ করেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ সালাম বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম। মামলাটির তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর, তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, আনিসুল হকের স্বনামে ও বেনামে মোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে তার বৈধ আয় থেকে পারিবারিক ব্যয় বাদ দিয়ে নিট গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৮ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা। ফলে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়।

চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে, আনিসুল হকের নিজ নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকা মূল্যের সম্পদ এবং তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে আরও ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেছা বেগম হকের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।

দুদক জানায়, জেবুন্নেছা বেগম হকের নামে থাকা সম্পদের মধ্যে সিটিজেনস ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার শেয়ার এবং ১৩ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে সিটিজেনস ব্যাংকের ২০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার রয়েছে।

তদন্তে আনিসুল হক ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে মোট ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%