বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৪৬ এম
ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই অভিযানের লক্ষ্য হিসেবে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা জিবিইউ-৪৩/বি, যা ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামে পরিচিত, ব্যবহারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ‘মাদার অব অল বোম্বস’ বা ‘জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট’ মার্কিন অস্ত্রাগারের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা হিসেবে পরিচিত। এই বোমার ব্যবহার হলে চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত একটি নতুন ও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তারা সিএনএন-কে জানিয়েছেন, সম্ভাব্য অভিযানের পরিকল্পনায় এই বোমার ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে, এই ধরনের বৃহৎ সামরিক কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে ওয়াশিংটন কতটা সফল হবে, তা নিয়ে বাহিনীর মধ্যে কিছু প্রশ্ন ও সংশয় বিদ্যমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ছয় হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার, যার ৩১ শতাংশ এলাকা জলাভূমি। স্থলভাগের গাছপালা এবং রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারসহ বন্যপ্রাণীর বিশাল সম্ভার সম্পর্কে অনেকেই অবগত। তবে, বনের পানির নিচেও রয়েছে প্রাকৃতিক জলজ সম্পদের সমৃদ্ধ ভান্ডার।
সম্প্রতি একটি গবেষণায় ডিএনএ বারকোড প্রযুক্তি ব্যবহার করে সুন্দরবনে নতুন পাঁচ প্রজাতির মাছ এবং দুই প্রজাতির চিংড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর ফলে সুন্দরবনে মোট ৩৮২ প্রজাতির সাদা মাছ এবং ৮৮ প্রজাতির খোলসযুক্ত প্রাণী (যেমন চিংড়ি, কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক ও স্কুইড) চিহ্নিত করা হয়েছে।
‘সুন্দরবনের জলজ সম্পদের মূল্যায়ন’ শিরোনামে পরিচালিত এই গবেষণার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সরকারের সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় ১৬ মাস ধরে গবেষণাটি পরিচালনা করেছে সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) এবং আরণ্যক ফাউন্ডেশন। ১৩ আগস্ট খুলনায় এর খসড়া প্রকাশ করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, গত দেড় দশকে সুন্দরবনে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বড় সাদা মাছের উৎপাদন অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। জনপ্রিয় মাছগুলোর মধ্যে ভেটকি, পোয়া, পাঙাশ এবং বাগদা চিংড়ি বর্তমানে অতিরিক্ত আহরণের শিকার হয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে।
গবেষক দল ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ১৬ মাসের মধ্যে সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জের ৬৫টি নদী ও খাল জরিপ করেছেন। এ ছাড়া বনের ভেতরে ৪২৪ কিলোমিটার এলাকায় নৌকা দিয়ে এবং শ্যামনগর, কয়রা, মোংলা ও শরণখোলার সাতটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
গবেষকরা সুন্দরবনের ৩০ প্রজাতির মাছ ও ১১ প্রজাতির খোলসযুক্ত প্রাণীর ডিএনএ বারকোড তৈরি করেছেন। এর মধ্যে তিনটি মাছ এবং একটি কাঁকড়ার ডিএনএ সিকোয়েন্স আন্তর্জাতিক জিনব্যাংকে ডেটাবেজে আগে ছিল না, যা প্রথমবার জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
গবেষক দলের প্রধান ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. এম এনামুল হক বলেন, "সুন্দরবন উপকূলের জলভাগের অন্যতম নার্সারি। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে জলজ সম্পদ আরও বাড়ানো সম্ভব।"
তিনি আরও বলেন, "ছোট ও পোনা অবস্থায় অনেক মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। বিষের কারণে নষ্ট হচ্ছে অনেক প্রজাতি। এ জন্য সুন্দরবন জলজ সম্পদের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে ভেটকি, পোয়া, কাইন মাগুর, শিলা কাঁকড়াসহ অন্যান্য প্রজাতির আহরণের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।" পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা সীমা পুনর্বিবেচনা, ক্ষতিকর জাল ও বিষ প্রয়োগ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা, পারশে, নোনা ট্যাংরা, দাঁতিনার পোনা হ্যাচারিতে উৎপাদন এবং বননির্ভরশীল মানুষের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করতে হবে।
১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রথমবারের মতো জরিপে সুন্দরবনে ১৭৫টি মাছের প্রজাতি চিহ্নিত করে। গত তিন দশকে এ নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। নতুন এই গবেষণায় বনে ২৫১ প্রজাতির মাছ এবং ৫১ প্রজাতির খোলসযুক্ত প্রাণীর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আগের গবেষণার ফলাফল মিলিয়ে সুন্দরবনে মোট ৩৮২ প্রজাতির সাদা মাছ এবং ৮৮ প্রজাতির খোলসযুক্ত প্রাণী পাওয়া গেল।
গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনে সাধারণত ৫০-৬০ প্রজাতির মাছ জেলেদের জালে ঘন ঘন ধরা পড়ে। তবে সব মৌসুমে সব মাছ পাওয়া যায় না। শীতকালে পাঙাশ, কাইন মাগুর, চাকা চিংড়ি এবং হরিণা চিংড়ি বেশি পাওয়া যায়। বর্ষাকালে ভাঙন, ভোল, দাঁতিনা, জাওয়া, পারশে, পায়রা, নোনা ট্যাংরা, ভেটকি ইত্যাদির মতো অন্যান্য বেশিরভাগ মাছ বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে প্রজাতির প্রাচুর্য বেশি, সেখানে ১৬৪টি প্রজাতি মাছ শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সাতক্ষীরায় ১৫২টি, খুলনায় ১৪২টি এবং চাঁদপাই রেঞ্জে ১২৩টি প্রজাতির মাছ পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া বনের পানিতে ৮৮ প্রজাতির শেলফিশ পেয়েছে গবেষক দলটি। এর মধ্যে রয়েছে ২৭ প্রজাতির চিংড়ি, ২৪ প্রজাতির কাঁকড়া, ১৬ প্রজাতির শামুক, ১৫ প্রজাতির ঝিনুক, ৫ প্রজাতির অক্টোপাস এবং স্কুইড, এক প্রজাতির বার্নাকল এবং এক প্রজাতির কাইটন (শামুকের মতো অন্য প্রাণী)।
গবেষণায় ৮৩টি মাছের নমুনার ডিএনএ বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের উপকূলীয় জলসীমার জন্য সম্পূর্ণ নতুন পাঁচটি মাছ এবং দুটি চিংড়ির প্রজাতি নথিবদ্ধ করা হয়েছে।
নতুন পাওয়া মাছগুলো হলো— বড় আইশ পারশে (বৈজ্ঞানিক নাম: Planiliza macrolepis), ফোটা বাটা (Crenimugil seheli), বার্মিজ এক ঠু্ইটা (Dermogenys burmanica), কুলি বেলে বা চ্যাপ্টা মাথা বেলে (Butis humeralis) এবং ফোটা বেলে (Acentrogobius viridipunctatus)।
মাছ ছাড়াও, বনের পানিতে পাওয়া গেছে সম্পূর্ণ নতুন দুই প্রজাতির চিংড়ি। এর বৈজ্ঞানিক নাম Cloridos scorpio এবং Nematopalaemon tenuipes। গবেষকরা জানান, স্থানীয় জেলেরা এগুলোকে সাধারণ ছোট নদী চর চিংড়ির সঙ্গে মিশিয়ে ফেলতেন বলে এতদিন এদের আলাদা কোনো আঞ্চলিক নাম গড়ে ওঠেনি।
মাছ ছাড়াও সুন্দরবনের পানিতে বসবাসকারী অ-মৎস্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ওপর প্রথমবার নিবিড় জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। ৪২৪ কিলোমিটার নদী ও খালে জরিপ চালিয়ে মোট ৭৬টি বিশ্বজুড়ে বিপন্ন লবণ পানির কুমির দেখা গেছে।
অন্যদিকে, ৪৮৭ কিলোমিটার খাল জরিপে ৫১টি দলে মোট ১৭২টি ভোঁদড় দেখা গেছে। এ ছাড়া সুন্দরবনের জলজ ইকোসিস্টেমে চার প্রজাতির পানিনির্ভর সাপ (রাজগোখরা, গোখরা, মেটে সাপ এবং কুকুরমুখী জলসাপ), রামসংকে বা মেছো তক্ষক এবং স্বাদুপানির পুকুরগুলোতে ১৫ প্রজাতির উভচর ব্যাঙের প্রজনন ও উপস্থিতি উঠে এসেছে। সুন্দরবনের খালে মোট ১৫১ প্রজাতির ফাইটোপ্লাঙ্কটন এবং ১১০ প্রজাতির জুপ্লাঙ্কটন পাওয়া গেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনে আইড়, ভেটকি, ভোল এবং পাঙাশের মতো বড় বড় বাণিজ্যিক সাদা মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। বিপরীতে ধরা পড়ছে কম মূল্যের ছোট আকৃতির মাছ।
২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গত ১৫ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সুন্দরবনের শরণখোলা এবং চাঁদপাই রেঞ্জে ২০০৯ সালে চার হাজার ৩৬০ টন মাছ সংগ্রহ করা হয়। ২০২৩ সালে এটি কমে দাঁড়ায় এক হাজার ৫৭০ টনে। একইভাবে সাতক্ষীরা রেঞ্জে ২০১৪ সালে তিন হাজার ৭৯৭ টন মাছ সংগ্রহ করা হলেও ২০২৪ সালে কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮০ টনে।
বন বিভাগের মৎস্য বিশেষজ্ঞ মফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, "সুন্দরবনের জলজ সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগ নিয়মিত গবেষণাসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একসময় বনের ২৩ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য ছিল। জলজ সম্পদ সংরক্ষণের জন্য ২০১৭ সালে বনের ৫৩ দশমিক ৫২ শতাংশ এলাকাকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়। এর কারণেও সার্বিক মাছের আহরণ কমেছে।"
সুন্দরবনে স্বাভাবিক মৎস্য প্রজনন ত্বরান্বিত করতে ১৯৮৯ সালে ১৮টি খালকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়। সেখানে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ খালের তুলনায় এসব সংরক্ষিত খালের পরিবেশগত অবস্থা ও পানির মান ভালো এবং এগুলো পাঙাশ, বোয়াল, কই, টাকি, ট্যাংরা, পুঁটি, বাইম এবং চিংড়ির প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র ও আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে।
তবে দীর্ঘদিন পলি জমার কারণে শরণখোলা রেঞ্জের দাশেরভারণী খাল এবং সাতক্ষীরা রেঞ্জের ছোট কেয়াখালী খালের মতো কিছু সংরক্ষিত খাল বর্তমানে সম্পূর্ণ ভরাট ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এ কারণে প্রতিবেদনে নাব্য হারানো খালগুলোকে বাদ দিয়ে সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জ থেকে বাস্তুসংস্থানগতভাবে উপযুক্ত খোদিয়াখালী খাল, আঠারোবেকি খাল, আরমাল খাল এবং কাগাবোগা খাল নতুন সংরক্ষিত খাল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি বন বিভাগের ক্যাম্প বা স্টেশনগুলোর পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ৩০ মিটারের কম চওড়া ছোট খালগুলোকে এক বছর পরপর পর্যায়ক্রমে বন্ধ রাখার নতুন নীতি প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের পরিচালক এবং খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, "সুন্দরবন সংশ্লিষ্ট সব প্রকল্প প্রস্তাবনায় এই সুপারিশ যুক্ত করা এবং সুপারিশ বাস্তবায়নে তাৎক্ষণিক, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০১৭ সালে কুমিল্লার ১৭তম উপজেলা হিসেবে লালমাই যাত্রা শুরু করে। এই জনপদটির জনসংখ্যা ৩ লাখ, এবং এটি ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক কারণে দীর্ঘকাল নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। নতুন উপজেলা পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কিছুটা লাঘব হয়েছে। তবে, লালমাই নামের উপজেলায় লাল মাটির পাহাড় বা ঐতিহাসিক লালমাই পাহাড়ের কোনো অংশ না থাকার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আক্ষেপ বিদ্যমান। তাই, তিন লক্ষাধিক স্থানীয় মানুষ লালমাই পাহাড়ের ঐতিহাসিক অংশকে এই উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।
১৯৭১ সালের পর এই অঞ্চলের মানুষ বৃহত্তর লাকসাম উপজেলার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। প্রশাসনিক কাজ বা ভূমির দাপ্তরিক নথিপত্রের জন্য তাদের সব সময় দক্ষিণের লাকসামে যেতে হতো, যা ছিল দূরবর্তী এবং সময়সাপেক্ষ।
পরে রাজনৈতিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে ‘কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা’ গঠিত হলে এ অঞ্চলের প্রশাসনিক সংযোগ সদর দক্ষিণের সাথে যুক্ত হয়। কিন্তু দূরত্বের কারণে স্থানীয়দের যাতায়াত এবং নাগরিক সেবা পাওয়ার কষ্ট অব্যাহত থাকে।
পরবর্তীতে তৎকালীন সরকারের অধীনে ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘লালমাই উপজেলা’ গঠিত হয়। নতুন উপজেলা গঠনের ফলে সদর দক্ষিণ ও লাকসামের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরশীলতা কমে যায় এবং লালমাইবাসী নিজেদের ঘরের কাছে প্রশাসনিক সেবা পেতে শুরু করে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির নিশ্বাস দেখা যায়। নতুন উপজেলায় দ্রুত ও স্বল্প খরচে সেবা পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সন্তুষ্ট।
কামাল মিয়া, একজন চা বিক্রেতা, বলেন, "সদর দক্ষিণ উপজেলায় যখন বড় মেয়ের এনআইডি (NID) করতে গিয়েছিলাম, তখন যাতায়াতেই চার দিন সময় এবং প্রায় আটশত টাকা খরচ হয়েছিল। কিন্তু ছোট ছেলের এনআইডি করার সময় লালমাই উপজেলায় মাত্র ২০ টাকা ভাড়ায় সব কাজ শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের যে কত বড় শান্তি হয়েছে, তা বলে বোঝানো যাবে না।"
আমিন মিয়া, একজন কৃষক, জানান, "সদর দক্ষিণ দূরে থাকায় আগে কোনো সুযোগ-সুবিধা পেতাম না। যাতায়াত খরচের ভয়ে যেতামই না। এখন উপজেলা কাছে হওয়ায় সরকারের সব ধরনের সেবা ও সহায়তার খবরাখবর সহজেই পাই।"
যদিও উপজেলার নাম ‘লালমাই’, বাস্তবে লালমাই পাহাড়ের ভৌগোলিক উপস্থিতি এই উপজেলায় নেই। তাই স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ জনগণের দাবি, উপজেলার নামের ঐতিহাসিক তাৎপর্য রক্ষা করতে লালমাই পাহাড়ের অংশবিশেষ (বিশেষ করে সদর দক্ষিণ উপজেলার বাড়পাড়া ইউনিয়ন) লালমাই উপজেলার সাথে যুক্ত করা হোক। এর মাধ্যমে উপজেলার নামের পেছনের মূল ইতিহাস ও ঐতিহ্য পূর্ণতা পাবে।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক সম্প্রতি লালমাই উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদ রানা লালমাই পাহাড়ের অংশ বিশেষ হলেও লালমাইতে অন্তভূক্ত করার দাবি জানান এবং তাৎপর্যসহ এই দাবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন। উপস্থিত সুধীজন ও সর্বস্তরের মানুষ এই প্রস্তাবের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।
এ বিষয়ে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, "আমি লালমাই ও নাঙ্গলকোট এলাকার মানুষের অনুভূতি ও দাবির বিষয়ে পুরোপুরি অবগত। লালমাই পাহাড়ের অংশবিশেষকে এই উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করার যে গণদাবি উঠেছে, তার সাথে আমি একমত। জনগণের এই ন্যায্য দাবি আদায়ে প্রয়োজনে জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।"
উপজেলার নামকরণ এবং লাল মাটির পাহাড়ের ঐতিহ্যকে এক সুতায় বাঁধতে প্রশাসনিক সীমানা পুনর্নির্ধারণের এই দাবি এখন পুরো লালমাইবাসীর একচ্ছত্র প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্গাপূজা মানে উলুধ্বনি, ধুনুচি নাচ এবং ঢাক-ঢোলের তাণ্ডব। ষষ্ঠী থেকে বিসর্জন পর্যন্ত ঢাকের আওয়াজ ছাড়া সবকিছুই অসম্পূর্ণ। এই প্রয়োজনের কারণে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রায় ৫০০ বছর ধরে ঢাকের হাট বসছে।
যদিও নাম ‘ঢাকের হাট’, এখানে বাদ্যযন্ত্র কেনাবেচা হয় না। মূলত এটি বাদকদের জন্য একটি মঞ্চ। তারা এখানে নিজেদের বাদ্যযন্ত্র বাজায় এবং দক্ষতা প্রদর্শন করে। পূজা আয়োজকরা সেই বাজনা শুনে পছন্দের বাদকদল নির্বাচন করেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে এ হাট শুরু হয়েছে এবং এটি ষষ্ঠীর (শুক্রবার) গভীর রাত পর্যন্ত চলবে। স্থানীয়দের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি হাট নয়; বরং এটি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সকাল থেকেই কটিয়াদী পুরান বাজার ঢাকের হাটে জমে উঠেছে। চারদিক থেকে ঢাক, ঢোল, কাঁসি, ঝনঝনি, করতাল এবং মন্দিরার শব্দ ভেসে আসছে। সানাই ও বাঁশির সুরও শোনা যাচ্ছে। আধুনিক বাদ্যযন্ত্রও বাজছে। সব মিলিয়ে যেন তাল ও সুরের বাজার। দলে দলে বাদকদল বাদ্যযন্ত্র নিয়ে আসছে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে।
সরেজমিনে হাটে গিয়ে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুরের বাদকদলই সেখানে বেশি উপস্থিত। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদীসহ অন্তত ১০টি জেলা থেকে বাদকদল এসেছে। ঢাকের তালে চলছে প্রতিযোগিতা। কে বাজাবে সবচেয়ে ভালো এবং কার সুরে বেশি প্রাণ—এই লড়াই চলছে। পাশে দাঁড়িয়ে পূজা আয়োজকরা শুনছেন, দেখছেন এবং পছন্দ করছেন। দরদাম মিললে পছন্দের দলটিকে পূজামণ্ডপে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
দুই পক্ষের সম্মতিতে পারিশ্রমিক চূড়ান্ত হয়। পূজার দিনগুলোতে সেই দল মণ্ডপে গিয়ে বাজাবে ঢাক, সানাই, কাঁসি এবং করতাল।
হাটে গফরগাঁওয়ের কাজল চন্দ্র ভৌমিককে পাওয়া যায়। তিনি এক ঢাকির সঙ্গে ২২ হাজার টাকায় চুক্তি করেছেন। তিনি বলেন, ‘সবার বাজনা শুনেছি। যেটা মন ছুঁয়েছে, তাকেই নিয়েছি।’
হবিগঞ্জ থেকে জয়চন্দ্র কর্মকার ও আশীষ রবিদাস এসেছেন তাদের পূজায় একটি বাদক দল নেবেন বলে। তারা বলেন, ‘এই প্রথম ঢাকের হাটে এসেছি। খুব ভালো লাগছে। চেষ্টা করছি সাধ্যের মধ্যে ভালো একটা দল নিতে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাটে একজন ঢাকির পাশাপাশি দলগত বাজনদলও রয়েছে। একজন ঢাকির পারিশ্রমিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। দলের ক্ষেত্রে তা ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ এমনকি দুই লাখ টাকা পর্যন্ত যায়। বাদকদল প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত বাদ্য বাজাবে মণ্ডপে। এই কয়দিন তাদের সব দায়িত্ব আয়োজকদের।
বিক্রমপুর থেকে সুমন চন্দ্র দাস ও পরিমল দাস বলেন, ‘২০ বছর ধরে এখানে আসছি। আগে আমাদের বাপ দাদারা আসতেন। ফোনে চুক্তি করলেও পারতাম, কিন্তু ঢাকের হাটে না এলে মন মানে না।’ তবে তাদের অভিযোগ, ‘আমরা এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করি। বাজারে সবকিছুর দাম বেশি। খাটাখাটনির তুলনায় পারিশ্রমিক পাওয়া যায় না। তবু পূর্ব পুরুষের পেশা ধরে রেখেছি। আগে বাপ-দাদারা আসতেন, এখন আমি আসি।’
হাটে নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। খাবার পানি, শৌচাগার এবং থাকার সুব্যবস্থা নেই। যে যেখানে পারে, বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বসেছেন। বৃষ্টিবাদল হলে আশ্রয় নেওয়ার কোনো জায়গা নেই।
বাদকদলের সদস্য খোকন মণিঋষি বলেন, ‘ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে চাইলে দায়িত্বশীল হতে হয়। অবহেলায় ঐতিহ্য মরে যায়।’
৩০ বছর ধরে কটিয়াদীর ঢাকের হাটে আসছেন কাপাশিয়ার নন্দদুলাল দাস। তার ভাষ্য, ‘ফোনে অনেকে যোগাযোগ করেছে, কিন্তু যাইনি। হাটের টান তো অন্যরকম। তাই দলবল নিয়ে চলে এসেছি। এখানে না এলে আনন্দটা পাই না। আর বছরে একবার অনেক বাদকের সঙ্গে দেখা হয়।’ তিনি বলেন, ‘এবার এক আয়োজক এক লাখ ৩০ হাজার টাকা বলেছেন। সম্ভবত তার সঙ্গেই যাব।’ ছোট ও মাঝারি দল ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা চাচ্ছে।
ঢাকের হাটের তত্ত্বাবধানে রয়েছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শ্রী মা সংঘ। সংগঠনের সভাপতি শীতল চন্দ্র সাহা জানান, কটিয়াদীর ঢাকের হাট ষোড়শ শতকে শুরু হয়। সামন্তরাজা নবরঙ্গ রায়ের আমলে। একবার পূজার জন্য সেরা ঢাকি খুঁজতে বিক্রমপুরে বার্তা পাঠিয়েছিলেন তিনি। তখন নৌকাযোগে বহু ঢাকি আসে কটিয়াদীতে। রাজা নিজে বাজনা শুনে সেরা দলটি বেছে নেন। সেই থেকেই ঢাকের হাট চলমান।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, এবার জেলায় মোট ৪১৮টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব হচ্ছে। মণ্ডপের নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের একটি ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে, শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠসংলগ্ন এলাকায় এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
বগুড়া জেলা এনসিপির সদস্য সচিব সুলতান মাহমুদ জানান, ভিডিওতে দেখা যায়, তিনজন যুবক কার্যালয়ে তেল বা পেট্রোল জাতীয় কিছু ছিটিয়ে আগুন লাগাচ্ছেন এবং অপর একজন পুরো দৃশ্যটি মুঠোফোনে ধারণ করছেন। রাতের অন্ধকারের কারণে তাদের মুখমণ্ডল স্পষ্টভাবে চেনা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, বুধবার রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে দুর্বৃত্তরা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনকভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। সকালে এসে বিষয়টি দেখতে পেয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি দেখছে এবং কেন্দ্রীয় কমিটিতে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আসামিদের শনাক্তকরণের বিষয়ে সুলতান মাহমুদ বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা এখনো বিদ্যমান এবং তারাই এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে এই মুহূর্তে কারও নাম বলা মুশকিল। প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে।
বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান জানান, বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ