ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

হুতিরা কি সউদী আরবের ওপর হামলায় রুশ স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে?


হুতিরা কি সউদী আরবের ওপর হামলায় রুশ স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে?

ইরানের সাথে আমেরিকার চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে যে, সউদী আরবের সামরিক এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাতে রাশিয়ার স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের সহায়তা নিচ্ছে ইরানের মিত্র হুতিরা। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে সৃষ্টি হয়েছে চরম অস্থিরতা।

সউদী আরব সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার এবং হুতিদের মধ্যে সংঘর্ষ গত জুলাই মাস থেকে অব্যাহত রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর সহিংসতা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

গত মাসে হুতিরা সউদী আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন অবকাঠামো 'ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের' পাম্পিং স্টেশনগুলোতে নিখুঁতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। জেনেভাভিত্তিক বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা অরোরা জিওসিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স-এর একটি অনুসন্ধানে জানা গেছে, হামলার কয়েক দিন আগে থেকেই রাশিয়ার স্যাটেলাইটগুলো ওই অঞ্চলের ওপর নজরদারি চালিয়ে লক্ষ্যবস্তুর যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করছিল।

আরও পড়ুন: বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলার চুরি করেছে উত্তর কোরিয়ার ‘ট্রেডারট্রেইটর’: এফবিআই

ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হুতি ও সউদী সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের যুদ্ধ অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে—হুতিদের প্রতি রাশিয়ার এই সমর্থন কতটা প্রভাবশালী? এবং যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সউদী আরব কেন হুতিদের মতো একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে?

রাশিয়ার স্যাটেলাইট ব্যবহারের অনুসন্ধানে কী উঠে এসেছে? চলতি সপ্তাহে সংবাদ সংস্থা 'অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস' (এপি)-এর একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ১৯ অক্টোবরের মধ্যে অরোরা জিওসিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স সউদী আরবে হুতিদের চালানো ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বিশ্লেষণ করেছে। প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, হামলার আগে এবং পরে রাশিয়ার সরকারি ও সামরিক স্যাটেলাইটগুলো লক্ষ্যবস্তু এলাকাগুলোর ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছিল।

জিওসিগন্যাল গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা নওয়াফ ওবাইদ আল জাজিরাকে জানান, রাশিয়ার সামরিক পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইটের নেটওয়ার্ক ট্র্যাক করে তাঁরা প্রতিটি স্যাটেলাইটকে আলাদাভাবে শনাক্ত করতে পেরেছেন। তাঁদের কক্ষপথের গতিপথ হিসাব করে পর্যবেক্ষণ সময় বের করার পর দেখা গেছে, এগুলোর গতিবিধির সাথে সউদী আরব, জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেনের সাম্প্রতিক সামরিক গতিবিধির হুবহু মিল রয়েছে।

তিনি জানান, শনাক্ত হওয়া কৃত্রিম উপগ্রহগুলোর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার 'বার্স-এম' সামরিক মানচিত্র স্যাটেলাইট, 'পারসোনা' অপটিক্যাল নজরদারি স্যাটেলাইট, 'লোটোস-এস১' ইলেকট্রনিক গোয়েন্দা স্যাটেলাইট, 'পিয়ন-এনকেএস' সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং 'কোনডোর-এফকেএ' রাডার-ইমেজিং স্যাটেলাইট। এছাড়া তাঁরা রাশিয়ার 'ইকেএস/টুন্ড্রা' ইনফ্রারেড ওয়ার্নিং স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কও পরীক্ষা করে দেখেছেন।

আরও পড়ুন: চীনের শীর্ষ ধনী নারী হলেন লেন্স টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা ঝোউ চুনফেই

ওবাইদ বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোনো একক স্যাটেলাইটের উপস্থিতি নয়, বরং একাধিক স্যাটেলাইটের সমন্বিত তথ্যের চমৎকার বিন্যাস। আমাদের মূল্যায়নে এটি স্পষ্ট যে, রাশিয়ার সামরিক ও ভূ-উপগ্রহের দেওয়া তথ্য হুতিদের হামলায় ব্যবহৃত ইরানি গোয়েন্দা নেটওয়ার্ককেই শক্তিশালী করেছে।

তিনি আরও বলেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালীর দিকে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুতিদের সাম্প্রতিক সফল সামরিক অভিযানের পেছনে রুশ স্যাটেলাইটের গোয়েন্দা তথ্য, ইরানি কমান্ডের কৌশল এবং স্থানীয় তথ্যদাতাদের দেওয়া সংবাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।

সউদী আরবের 'ইস্ট-ওয়েস্ট পেট্রোলাইন'-এ সেপ্টেম্বরের হামলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ওই পশ্চিমাঞ্চলের পাম্পিং স্টেশন-৮ (আফিফ), পাম্পিং স্টেশন-৯ (আল-দেকরা) এবং পাম্পিং স্টেশন-১১ (আল-মেসবা)-কে টার্গেট করা হয়েছিল। এটি নির্দেশ করে যে, হুতিরা কেবল পাইপলাইনের ভৌগোলিক অবস্থানই নয়, বরং এর প্রযুক্তিগত দুর্বলতা সম্পর্কেও পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জানত।

এই তথ্যগুলো কতটা তাৎপর্যপূর্ণ?

আরও পড়ুন: এপস্টেইনকাণ্ডে আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প

ব্রাসেলসভিত্তিক সামরিক বিশ্লেষক এলিজাহ ম্যাগনিয়ার অবশ্য বলছেন, অরোরা-এর এই পর্যবেক্ষণ চূড়ান্ত সত্য না-ও হতে পারে। তাঁর মতে, ‘গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান মাঝপথে আটকানো না গেলেও এটি নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় যে তথ্যটি রাশিয়া সরাসরি দিয়েছে, নাকি ইরান তাদের নিজস্ব মাধ্যমে সংগৃহীত রুশ ডেটা ব্যবহার করেছে।’ তিনি সম্ভাব্য চারটি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন:

১. রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের সাথে এসব তথ্য শেয়ার করে থাকতে পারে।

২. ইরান বাণিজ্যিক উপায়ে এসব ছবি সংগ্রহ করতে পারে। তবে রাশিয়ার সামরিক স্যাটেলাইটের ছবি খুব সহজে উন্মুক্ত বাজারে মেলে না।

৩. কোনো তৃতীয় পক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রুশ গোয়েন্দা তথ্য এনে হুতিদের কাছে পৌঁছে দিতে পারে।

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালে ইসলামী বিশ্বের সাংস্কৃতিক রাজধানী তুর্কিস্তান ঘোষণা

৪. আবার হুতিরা নিজেদের স্বাধীন গোয়েন্দা সূত্রও ব্যবহার করে থাকতে পারে।

তবে সউদী আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন কূটনীতি বিষয়ক উপ-মন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের কাছে সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, হুতিরা রাশিয়া এবং চীন উভয়ের কাছ থেকেই কৌশলগত সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছে। এ নিয়ে চীন ও রাশিয়ার সাথে নিয়মিত আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানান।

রাশিয়া ও হুতিদের সম্পর্কের গভীরতা

রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ নিয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেননি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাকাশ গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে রাশিয়া ও ইরানের সামরিক সম্পর্ক নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। 'ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ'-এর ইয়েমেন বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আহমেদ নাজি আল জাজিরাকে বলেন, ‘হুতিদের প্রতি রাশিয়ার সমর্থন ইয়েমেন সংঘাতকে স্থানীয় গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ভৌগোলিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। হুতিদের সমর্থন করা এখন আর কেবল ইরানের একার স্বার্থের বিষয় নয়। আমরা এখন দেখছি রাশিয়াও গোয়েন্দা তথ্য ও অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে তাদের পরোক্ষ সাহায্য করছে।’

আরও পড়ুন: সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে চলছে নীরব কূটনীতি

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেও রাশিয়া কূটনৈতিকভাবে হুতিদের বিরুদ্ধে যেকোনো কড়া আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের ভেটো বা বিরোধিতা করে আসছে।

সউদী আরবে হুতিদের হামলার পরিধি

গ্রীষ্মকাল থেকে সংঘাত বৃদ্ধির পর হুতিরা সউদী আরবের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূল থেকে শুরু করে রাজধানী রিয়াদ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকা পর্যন্ত একাধিক স্থানে বড় ধরনের আক্রমণ চালিয়েছে।

গত শুক্রবার হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, তাঁরা সউদী আরবের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সামরিক স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে রস তানুরা তেল শোধনাগার (ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র), আবকাইকে অবস্থিত আরামকোর স্থাপনা, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র), দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ড্রোন), রাবিঘ তেল শোধনাগার এবং নাজরান অঞ্চলের একটি সউদী সামরিক সদর দফতর। স্বাধীন সূত্রে এসবের সব কটির সত্যতা শতভাগ নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, এ মাসের শুরুতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জন আহত হন। এই হামলার কারণে বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সউদী আরবের বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থগিত করতে বাধ্য হয় সউদী কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফিরে যাওয়া উচিত : র‍্যাচেল রিভস

হুতিদের এত বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার এলো কোথা থেকে? ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর হুতিরা দেশটির বিশাল সামরিক অস্ত্রাগার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এর পাশাপাশি তারা সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহের অনুগত সামরিক বাহিনীর সাথে জোট গঠন করে রাতারাতি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

এক সময় খালি পায়ের সাধারণ বিদ্রোহী হিসেবে গণ্য হওয়া হুতিদের আজকের এই শক্তিমত্তার পেছনে প্রধান তিনটি কারণ দেখছেন বিশ্লেষকরা। ১. সানা দখলের পর সরকারি সমস্ত ভারী অস্ত্র তাদের হাতে চলে আসে। ২. সামরিক বিশেষজ্ঞ সাজ আহমেদের মতে, বিশ্বব্যাপী অবৈধ অস্ত্রের বাজার থেকে যন্ত্রাংশ জোগাড় করে নিজেদের প্রযুক্তি উন্নত করেছে হুতিরা। দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে তারা এখন স্বাবলম্বী এবং ৩। হুতিরা ইরান থেকে অত্যাধুনিক ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ধ্বংসাত্মক ড্রোন (যেমন: প্যালেস্টাইন-২ এবং তুফান সিস্টেম) ও প্রযুক্তির সুবিধা পাচ্ছে। এছাড়া লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর থেকে তারা দীর্ঘ সামরিক প্রশিক্ষণ পেয়েছে।

সউদী আরব কীভাবে পাল্টা জবাব দিচ্ছে?

সউদী নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটও ইয়েমেনে হুতিদের লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিনিয়ত বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সউদী আরবের মক্কা অঞ্চল, রাজধানী রিয়াদ এবং পূর্বাঞ্চলকে লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া ডজনখানেক ব্যালাস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন আকাশে থাকা অবস্থাতেই ধ্বংস করেছে।

সউদী সামরিক মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, জোট বাহিনী ইয়েমেনের ভেতরে হুতিদের চারটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং অস্ত্র সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত পাঁচটি সুড়ঙ্গ পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। ইয়েমেন সরকারি বাহিনীও হুতিদের হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে 'অপারেশন ইয়েমেন ডন' নামে এক পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে।

কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র নিয়েও কেন হুতিদের ঠেকাতে পারছে না সউদী আরব? আমেরিকা ও ইউরোপ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সর্বাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র কেনা সত্ত্বেও হুতিদের থামাতে সউদী আরবের এই ব্যর্থতাকে সামরিক বিশ্লেষকরা কয়েকটি কোণ থেকে দেখছেন। সামরিক বিশ্লেষক এলিজাহ ম্যাগনিয়ারের মতে, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে কোনো যুদ্ধ জেতা সম্ভব নয়। বিমান বাহিনী পথ তৈরি করে দেয় ঠিকই, কিন্তু ভূমিতে লড়াইরত পদাতিক বাহিনীকে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হয়। সউদী সমর্থিত স্থানীয় ইয়েমেনি পদাতিক বাহিনী ততটা সংগঠিত বা আত্মত্যাগে প্রস্তুত নয়।

সাজ আহমেদ মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে নামীদামী অস্ত্র কিনলেও তা গেরিলা বাহিনীর বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, সেই দক্ষতা বা অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে সউদী বাহিনীর। অন্যদিকে হুতিরা দশকের পর দশক ধরে গেরিলা যুদ্ধ এবং ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তির নিখুঁত মিশ্রণে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। সউদী জোটের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সুনির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব হুতিদের বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ যেভাবে হুতিদের টানা হামলার মুখে পড়ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো সউদী আরবও হয়তো এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে সরে আসতে বাধ্য হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শহিদ কাপুরের স্ত্রী মীরা কারিনা কাপুরের শোতে অতিথি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৯ পি.এম


শহিদ কাপুরের স্ত্রী মীরা কারিনা কাপুরের শোতে অতিথি

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খানের চ্যাট শো ‘হোয়াট উইমেন ওয়ান্ট’-এ অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছেন শহিদ কাপুরের স্ত্রী মীরা রাজপুত। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানের ষষ্ঠ মৌসুমের একটি পর্বে দুজনের মধ্যে আলোচনা হয়েছে সংসার, দাম্পত্য জীবন এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। বিশেষ করে মীরার তৃতীয় সন্তান নেওয়ার গুঞ্জন এবং কারিনার ‘ওয়ান্নাবি বলিউড ওয়াইফ’ মন্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

শোয়ের একটি প্রোমোতে কারিনা মীরার কাছে জানতে চান, তার সম্পর্কে শোনা সবচেয়ে হাস্যকর গুঞ্জন কোনটি। মীরার উত্তর ছিল, শহিদ ও তার তৃতীয় সন্তান আসার খবরই সবচেয়ে হাস্যকর। এ সময় কারিনা মজা করে প্রশ্ন করেন, সত্যিই কি তেমন কিছু হতে পারে? মীরা স্পষ্টভাবে বলেন, ‘কোনোভাবেই না, আমাদের আর সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা নেই।’

আড্ডার একপর্যায়ে মীরা কারিনাকে বলিউড তারকা হিসেবে প্রশংসা করেন। কারিনা তার জবাবে নিজেকে ‘ওয়ান্নাবি বলিউড ওয়াইফ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার এই মন্তব্যে হাসির পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

দাম্পত্য জীবনের ছোটখাটো বিষয় নিয়েও তারা আলোচনা করেন। মীরা জানান, তার কয়েকজন বান্ধবীর স্বামীরা প্রায়ই জানতে চান, স্ত্রীকে কী উপহার দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে বছরের শুরুতেই পছন্দের উপহারের একটি তালিকা তৈরি করে রাখার পরামর্শ দেন মীরা। এতে স্বামীদের জন্য বিষয়টি সহজ হয়ে যায়। কারিনা মীরার এই পরামর্শকে বেশ ভালো বলে মন্তব্য করেন।

এ ছাড়া নারীদের সঙ্গে তর্কের সময় পুরুষদের প্রথম কী করা উচিত, তা জানতে চান কারিনা। মীরার সংক্ষিপ্ত উত্তর ছিল, ‘মেনে নাও। তর্ক কোরো না।’

উল্লেখ্য, শহিদ কাপুর ও মীরা রাজপুত ২০১৫ সালে বিয়ে করেন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে—মেয়ে মিশা ও ছেলে জেইন। অন্যদিকে, কারিনা ২০১২ সালে সাইফ আলী খানকে বিয়ে করেন এবং তাদের দুই ছেলে তৈমুর ও জেহ।

কারিনা ও শহিদ একসময় সম্পর্কে ছিলেন। ২০০৪ সালে তাদের সম্পর্ক শুরু হয় এবং ২০০৭ সালে বিচ্ছেদ ঘটে। পরে দুজনই নিজেদের জীবনে এগিয়ে গেছেন। এবার কারিনার শোতে শহিদের স্ত্রী মীরার উপস্থিতি বিনোদন অঙ্গনে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুরে দুই গ্রামের সংঘর্ষ পুলিশসহ আহত প্রায় ১০ জনেরও বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২০ পি.এম


শেরপুরে দুই গ্রামের সংঘর্ষ পুলিশসহ আহত প্রায় ১০ জনেরও বেশি

শেরপুরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের ডাকপাড়া ব্যাঙের মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় ভোর ৬টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন দুই গ্রামের লোকজন। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে সাতপাকিয়া পাইকারি কাঁচাবাজারে সবজি বহনকারী একটি গাড়ির সঙ্গে শরীরে ঘষা লাগাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে ডাকপাড়া এলাকার এক কৃষককে মারধর করেন সাতপাকিয়া এলাকার কয়েকজন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরে সংঘর্ষের আশঙ্কায় শুক্রবার রাতেই মাইকিং করে শনিবার সকালে লোকজনকে জড়ো হওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। সকালে দুই গ্রামের লোকজন মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে তিন পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার ও সদর থানার ওসি খোকন চন্দ্র ঘোষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুই পক্ষ সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ওসি খোকন চন্দ্র ঘোষ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ দোকান পুড়ে গেছে, ক্ষতি অর্ধ কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৮ পি.এম


সুন্দরগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ দোকান পুড়ে গেছে, ক্ষতি অর্ধ কোটি টাকা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে পাঁচটি দোকান সম্পূর্ণরূপে ভষ্মীভূত হয়েছে, যার ফলে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকার। এই ঘটনা ঘটেছে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসানগঞ্জ বাজারে।

বামনডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর জব্বার শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যেখানে মিজান মিয়ার দোকানসহ মোট পাঁচটি দোকান আগুনে পুড়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দোকানগুলো ভস্মীভূত হওয়ার ফলে দোকানদারদের স্বপ্ন, স্মৃতি এবং মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয় সবকিছুই হারিয়ে গেছে।

আগুনের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, তবে এর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ করে আগুনের সূত্রপাত ঘটলে তা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে আশপাশের মানুষ দ্রুত ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ততক্ষণে মিজানুর রহমানের একটি দোকান ও দুটি গোডাউন, মোঃ হাফিজুর রহমানের একটি দোকান এবং এরশাদ মিয়ার একটি দোকানসহ মোট পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। তবে স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় আশপাশের দোকানঘরগুলো আগুন থেকে রক্ষা পায়, ফলে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এসিআই মোটরসে ৪০ বছর বয়সীদের জন্য চাকরির সুযোগ, আবেদন ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


এসিআই মোটরসে ৪০ বছর বয়সীদের জন্য চাকরির সুযোগ, আবেদন ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত

এসিআই মোটরস লিমিটেড জনবল নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদনকারীরা আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

পদের নাম: ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর

পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএ

অন্যদিকে, অন্যান্য যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে বিশ্বমানের মোবিলিটি সলিউশন (পরিবহন সমাধান) নিয়ে কাজ করার দক্ষতা।

অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১৮ বছর

চাকরির ধরন: ফুলটাইম

কর্মক্ষেত্র: অফিসে

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)

বয়সসীমা: কমপক্ষে ৪০ বছর

কর্মস্থল: ঢাকা (তেজগাঁও)

বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

এছাড়া, অন্যান্য সুবিধার মধ্যে বছরে ২টি উৎসব বোনাস এবং পূর্ণকালীন কাজের জন্য কোম্পানির দেওয়া গাড়ি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%