০৪:১৪ পি.এম
ইরানের সাথে আমেরিকার চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে যে, সউদী আরবের সামরিক এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাতে রাশিয়ার স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের সহায়তা নিচ্ছে ইরানের মিত্র হুতিরা। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে সৃষ্টি হয়েছে চরম অস্থিরতা।
সউদী আরব সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার এবং হুতিদের মধ্যে সংঘর্ষ গত জুলাই মাস থেকে অব্যাহত রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর সহিংসতা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
গত মাসে হুতিরা সউদী আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন অবকাঠামো 'ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের' পাম্পিং স্টেশনগুলোতে নিখুঁতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। জেনেভাভিত্তিক বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা অরোরা জিওসিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স-এর একটি অনুসন্ধানে জানা গেছে, হামলার কয়েক দিন আগে থেকেই রাশিয়ার স্যাটেলাইটগুলো ওই অঞ্চলের ওপর নজরদারি চালিয়ে লক্ষ্যবস্তুর যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করছিল।
আরও পড়ুন: বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলার চুরি করেছে উত্তর কোরিয়ার ‘ট্রেডারট্রেইটর’: এফবিআই
ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হুতি ও সউদী সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের যুদ্ধ অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে—হুতিদের প্রতি রাশিয়ার এই সমর্থন কতটা প্রভাবশালী? এবং যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সউদী আরব কেন হুতিদের মতো একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে?
রাশিয়ার স্যাটেলাইট ব্যবহারের অনুসন্ধানে কী উঠে এসেছে? চলতি সপ্তাহে সংবাদ সংস্থা 'অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস' (এপি)-এর একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ১৯ অক্টোবরের মধ্যে অরোরা জিওসিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স সউদী আরবে হুতিদের চালানো ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বিশ্লেষণ করেছে। প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, হামলার আগে এবং পরে রাশিয়ার সরকারি ও সামরিক স্যাটেলাইটগুলো লক্ষ্যবস্তু এলাকাগুলোর ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছিল।
জিওসিগন্যাল গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা নওয়াফ ওবাইদ আল জাজিরাকে জানান, রাশিয়ার সামরিক পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইটের নেটওয়ার্ক ট্র্যাক করে তাঁরা প্রতিটি স্যাটেলাইটকে আলাদাভাবে শনাক্ত করতে পেরেছেন। তাঁদের কক্ষপথের গতিপথ হিসাব করে পর্যবেক্ষণ সময় বের করার পর দেখা গেছে, এগুলোর গতিবিধির সাথে সউদী আরব, জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেনের সাম্প্রতিক সামরিক গতিবিধির হুবহু মিল রয়েছে।
তিনি জানান, শনাক্ত হওয়া কৃত্রিম উপগ্রহগুলোর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার 'বার্স-এম' সামরিক মানচিত্র স্যাটেলাইট, 'পারসোনা' অপটিক্যাল নজরদারি স্যাটেলাইট, 'লোটোস-এস১' ইলেকট্রনিক গোয়েন্দা স্যাটেলাইট, 'পিয়ন-এনকেএস' সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং 'কোনডোর-এফকেএ' রাডার-ইমেজিং স্যাটেলাইট। এছাড়া তাঁরা রাশিয়ার 'ইকেএস/টুন্ড্রা' ইনফ্রারেড ওয়ার্নিং স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কও পরীক্ষা করে দেখেছেন।
আরও পড়ুন: চীনের শীর্ষ ধনী নারী হলেন লেন্স টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা ঝোউ চুনফেই
ওবাইদ বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোনো একক স্যাটেলাইটের উপস্থিতি নয়, বরং একাধিক স্যাটেলাইটের সমন্বিত তথ্যের চমৎকার বিন্যাস। আমাদের মূল্যায়নে এটি স্পষ্ট যে, রাশিয়ার সামরিক ও ভূ-উপগ্রহের দেওয়া তথ্য হুতিদের হামলায় ব্যবহৃত ইরানি গোয়েন্দা নেটওয়ার্ককেই শক্তিশালী করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালীর দিকে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুতিদের সাম্প্রতিক সফল সামরিক অভিযানের পেছনে রুশ স্যাটেলাইটের গোয়েন্দা তথ্য, ইরানি কমান্ডের কৌশল এবং স্থানীয় তথ্যদাতাদের দেওয়া সংবাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।
সউদী আরবের 'ইস্ট-ওয়েস্ট পেট্রোলাইন'-এ সেপ্টেম্বরের হামলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ওই পশ্চিমাঞ্চলের পাম্পিং স্টেশন-৮ (আফিফ), পাম্পিং স্টেশন-৯ (আল-দেকরা) এবং পাম্পিং স্টেশন-১১ (আল-মেসবা)-কে টার্গেট করা হয়েছিল। এটি নির্দেশ করে যে, হুতিরা কেবল পাইপলাইনের ভৌগোলিক অবস্থানই নয়, বরং এর প্রযুক্তিগত দুর্বলতা সম্পর্কেও পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জানত।
এই তথ্যগুলো কতটা তাৎপর্যপূর্ণ?
আরও পড়ুন: এপস্টেইনকাণ্ডে আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প
ব্রাসেলসভিত্তিক সামরিক বিশ্লেষক এলিজাহ ম্যাগনিয়ার অবশ্য বলছেন, অরোরা-এর এই পর্যবেক্ষণ চূড়ান্ত সত্য না-ও হতে পারে। তাঁর মতে, ‘গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান মাঝপথে আটকানো না গেলেও এটি নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় যে তথ্যটি রাশিয়া সরাসরি দিয়েছে, নাকি ইরান তাদের নিজস্ব মাধ্যমে সংগৃহীত রুশ ডেটা ব্যবহার করেছে।’ তিনি সম্ভাব্য চারটি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন:
১. রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের সাথে এসব তথ্য শেয়ার করে থাকতে পারে।
২. ইরান বাণিজ্যিক উপায়ে এসব ছবি সংগ্রহ করতে পারে। তবে রাশিয়ার সামরিক স্যাটেলাইটের ছবি খুব সহজে উন্মুক্ত বাজারে মেলে না।
৩. কোনো তৃতীয় পক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রুশ গোয়েন্দা তথ্য এনে হুতিদের কাছে পৌঁছে দিতে পারে।
আরও পড়ুন: ২০২৭ সালে ইসলামী বিশ্বের সাংস্কৃতিক রাজধানী তুর্কিস্তান ঘোষণা
৪. আবার হুতিরা নিজেদের স্বাধীন গোয়েন্দা সূত্রও ব্যবহার করে থাকতে পারে।
তবে সউদী আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন কূটনীতি বিষয়ক উপ-মন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের কাছে সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, হুতিরা রাশিয়া এবং চীন উভয়ের কাছ থেকেই কৌশলগত সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছে। এ নিয়ে চীন ও রাশিয়ার সাথে নিয়মিত আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানান।
রাশিয়া ও হুতিদের সম্পর্কের গভীরতা
রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ নিয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেননি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাকাশ গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে রাশিয়া ও ইরানের সামরিক সম্পর্ক নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। 'ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ'-এর ইয়েমেন বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আহমেদ নাজি আল জাজিরাকে বলেন, ‘হুতিদের প্রতি রাশিয়ার সমর্থন ইয়েমেন সংঘাতকে স্থানীয় গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ভৌগোলিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। হুতিদের সমর্থন করা এখন আর কেবল ইরানের একার স্বার্থের বিষয় নয়। আমরা এখন দেখছি রাশিয়াও গোয়েন্দা তথ্য ও অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে তাদের পরোক্ষ সাহায্য করছে।’
আরও পড়ুন: সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে চলছে নীরব কূটনীতি
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেও রাশিয়া কূটনৈতিকভাবে হুতিদের বিরুদ্ধে যেকোনো কড়া আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের ভেটো বা বিরোধিতা করে আসছে।
সউদী আরবে হুতিদের হামলার পরিধি
গ্রীষ্মকাল থেকে সংঘাত বৃদ্ধির পর হুতিরা সউদী আরবের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূল থেকে শুরু করে রাজধানী রিয়াদ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকা পর্যন্ত একাধিক স্থানে বড় ধরনের আক্রমণ চালিয়েছে।
গত শুক্রবার হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, তাঁরা সউদী আরবের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সামরিক স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে রস তানুরা তেল শোধনাগার (ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র), আবকাইকে অবস্থিত আরামকোর স্থাপনা, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র), দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ড্রোন), রাবিঘ তেল শোধনাগার এবং নাজরান অঞ্চলের একটি সউদী সামরিক সদর দফতর। স্বাধীন সূত্রে এসবের সব কটির সত্যতা শতভাগ নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, এ মাসের শুরুতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জন আহত হন। এই হামলার কারণে বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সউদী আরবের বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থগিত করতে বাধ্য হয় সউদী কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফিরে যাওয়া উচিত : র্যাচেল রিভস
হুতিদের এত বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার এলো কোথা থেকে? ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর হুতিরা দেশটির বিশাল সামরিক অস্ত্রাগার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এর পাশাপাশি তারা সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহের অনুগত সামরিক বাহিনীর সাথে জোট গঠন করে রাতারাতি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
এক সময় খালি পায়ের সাধারণ বিদ্রোহী হিসেবে গণ্য হওয়া হুতিদের আজকের এই শক্তিমত্তার পেছনে প্রধান তিনটি কারণ দেখছেন বিশ্লেষকরা। ১. সানা দখলের পর সরকারি সমস্ত ভারী অস্ত্র তাদের হাতে চলে আসে। ২. সামরিক বিশেষজ্ঞ সাজ আহমেদের মতে, বিশ্বব্যাপী অবৈধ অস্ত্রের বাজার থেকে যন্ত্রাংশ জোগাড় করে নিজেদের প্রযুক্তি উন্নত করেছে হুতিরা। দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে তারা এখন স্বাবলম্বী এবং ৩। হুতিরা ইরান থেকে অত্যাধুনিক ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ধ্বংসাত্মক ড্রোন (যেমন: প্যালেস্টাইন-২ এবং তুফান সিস্টেম) ও প্রযুক্তির সুবিধা পাচ্ছে। এছাড়া লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর থেকে তারা দীর্ঘ সামরিক প্রশিক্ষণ পেয়েছে।
সউদী আরব কীভাবে পাল্টা জবাব দিচ্ছে?
সউদী নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটও ইয়েমেনে হুতিদের লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিনিয়ত বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সউদী আরবের মক্কা অঞ্চল, রাজধানী রিয়াদ এবং পূর্বাঞ্চলকে লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া ডজনখানেক ব্যালাস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন আকাশে থাকা অবস্থাতেই ধ্বংস করেছে।
সউদী সামরিক মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, জোট বাহিনী ইয়েমেনের ভেতরে হুতিদের চারটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং অস্ত্র সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত পাঁচটি সুড়ঙ্গ পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। ইয়েমেন সরকারি বাহিনীও হুতিদের হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে 'অপারেশন ইয়েমেন ডন' নামে এক পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে।
কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র নিয়েও কেন হুতিদের ঠেকাতে পারছে না সউদী আরব? আমেরিকা ও ইউরোপ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সর্বাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র কেনা সত্ত্বেও হুতিদের থামাতে সউদী আরবের এই ব্যর্থতাকে সামরিক বিশ্লেষকরা কয়েকটি কোণ থেকে দেখছেন। সামরিক বিশ্লেষক এলিজাহ ম্যাগনিয়ারের মতে, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে কোনো যুদ্ধ জেতা সম্ভব নয়। বিমান বাহিনী পথ তৈরি করে দেয় ঠিকই, কিন্তু ভূমিতে লড়াইরত পদাতিক বাহিনীকে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হয়। সউদী সমর্থিত স্থানীয় ইয়েমেনি পদাতিক বাহিনী ততটা সংগঠিত বা আত্মত্যাগে প্রস্তুত নয়।
সাজ আহমেদ মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে নামীদামী অস্ত্র কিনলেও তা গেরিলা বাহিনীর বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, সেই দক্ষতা বা অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে সউদী বাহিনীর। অন্যদিকে হুতিরা দশকের পর দশক ধরে গেরিলা যুদ্ধ এবং ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তির নিখুঁত মিশ্রণে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। সউদী জোটের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সুনির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব হুতিদের বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ যেভাবে হুতিদের টানা হামলার মুখে পড়ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো সউদী আরবও হয়তো এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে সরে আসতে বাধ্য হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন