এস এম সাহান,ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
০৯:৫০ পি.এম
ফেসবুকে ড্রামস বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখে যশোরে গিয়ে পরিকল্পিত প্রতারণার ফাঁদে পড়ার অভিযোগ করেছেন ফরিদপুরের সংগীতশিল্পী ও ড্রামার ফ্রাংঙ্ক ব্রত। তার দাবি, অভিযুক্তদের সন্দেহজনক আচরণ এবং বারবার নগদ অর্থ সঙ্গে আছে কি না তা নিশ্চিত করার চেষ্টায় সতর্ক হয়ে যাওয়ায় তিনি সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, যশোর শহরের মনিহার বাঁশতলা এলাকার আতিব জুনায়েদ নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অ্যালেসিস ব্র্যান্ডের একটি ড্রামস বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন। বিজ্ঞাপন দেখে ফ্রাংঙ্ক ব্রত তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। উভয়ের মধ্যে দরদাম চূড়ান্ত হলে অভিযুক্ত তাকে যশোরে গিয়ে ড্রামস দেখে মূল্য পরিশোধ করে নিয়ে যেতে বলেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে ফ্রাংঙ্ক ব্রত একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। যশোরের মনিহার সিনেমা হল এলাকায় পৌঁছানোর পর অভিযুক্তের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তাকে বাঁশতলা মোড়ে যেতে বলা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ড্রামস পরীক্ষা করে দেখার কথা বলা হলেও ভুক্তভোগীর দাবি, সেখানে আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে কয়েকজন অবস্থান করছিল।
ফ্রাংঙ্ক ব্রতের অভিযোগ, বাসায় নেওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তরা বারবার জানতে চান তার কাছে নগদ টাকা রয়েছে কি না। একই সঙ্গে একজন অভিযুক্ত বারবার বিভিন্ন কক্ষে যাতায়াত করতে থাকলে তার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি জানান, তার কাছে কোনো নগদ অর্থ নেই; প্রয়োজন হলে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে পরিশোধ করবেন।
এরপরও আতিব জুনায়েদ তাকে আলাদা একটি কক্ষে নিয়ে যান, যেখানে আগে থেকেই আরেক ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। সেখানে আবারও তার কাছে নগদ অর্থ আছে কি না তা জানতে চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি নগদ টাকা সঙ্গে নেই বলে জানালে কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত হঠাৎ ঘোষণা দেন, তিনি আর ড্রামস বিক্রি করবেন না।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, এত দূর ফরিদপুর থেকে যশোরে ডেকে এনে হঠাৎ ড্রামস বিক্রি না করার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতে থাকেন।
ফ্রাংঙ্ক ব্রতের দাবি, পুরো ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত একটি প্রতারণার অংশ। প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাকে দূর-দূরান্ত থেকে ডেকে আনা হয়। এরপর বারবার নগদ অর্থ সঙ্গে আছে কি না তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। তার ধারণা, সঙ্গে নগদ অর্থ রয়েছে—এমনটি নিশ্চিত হতে পারলেই কৌশলে অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া বা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নগদ টাকা না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই অভিযুক্তরা বিক্রির সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ায় এবং উল্টো ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন শুরু করে।
তিনি আরও জানান, পরদিন (রোববার) তার কলেজের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা থাকায় নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ থেকে দ্রুত সরে এসে ফরিদপুরে ফিরে যেতে বাধ্য হন। ফলে ঘটনাস্থলেই যশোর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আতিব জুনায়েদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অনলাইন কেনাবেচার ক্ষেত্রে অপরিচিত ব্যক্তির ডাকে নির্জন স্থানে না যাওয়া, নগদ অর্থ বহন না করা, নিরাপদ স্থানে লেনদেন করা এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন মহল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফুটবল শুধুই প্রতিযোগিতার মঞ্চ নয়, এটি বিভিন্ন জাতি, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের মানুষের মিলনস্থলও। তবে এই আবেগঘন খেলাকে ঘিরে কখনো কখনো মাথাচাড়া দেয় বর্ণবাদ, বিদ্বেষ ও ধর্মীয় বিদ্রূপের মতো নেতিবাচক প্রবণতা। এমন এক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন স্পেনের তরুণ ফুটবল তারকা লামিনে ইয়ামাল। প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া একটি ধর্মীয় বিদ্রূপাত্মক স্লোগানের পর তিনি নিজের পরিচয় আড়াল না করে গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করেন— ‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ।’
ঘটনার সূত্রপাত হিসেবে দেখা যায়, গত ৩১ মার্চ ২০২৬ বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্পেন ও মিশরের মধ্যকার প্রীতি ফুটবল ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রতে শেষ হয়। দুই দলের পারফরম্যান্স ছিল বেশ কাছাকাছি। তবে ম্যাচকে কেন্দ্র করে স্পেনের কিছু সমর্থকের আচরণ নিয়ে সমালোচনা তৈরি হতে শুরু করে। ম্যাচ দেখতে আসা কয়েকজন স্প্যানিশ সমর্থক মিশরীয় খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে একটি স্লোগান দিতে থাকে—
“El que no bote es un musulmán”
যার অর্থ হচ্ছে—‘যে লাফাবে না বা ভালো খেলতে পারবে না, সে মুসলিম।’ স্প্যানিশ ফুটবল সংস্কৃতিতে প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে ‘যে লাফাবে না, সে…’ ধরনের ছড়া বা স্লোগান দেওয়ার প্রচলন দীর্ঘদিনের। কিন্তু ওই ঘটনায় সমালোচনার কারণ ছিল— মিশরের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বিদ্রূপ করতে তাদের মুসলিম পরিচয়কে ব্যবহার করা।
সমর্থকেরা হয়তো এটিকে শুধুই প্রতিপক্ষকে খোঁচা দেওয়ার একটি পদ্ধতি হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল, যে দলের সমর্থনে তারা এই স্লোগান দিচ্ছিল, সেই স্পেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, লামিনে ইয়ামাল, নিজেও একজন গর্বিত মুসলিম। তাই ‘মুসলিম’ শব্দটিকে বিদ্রূপ হিসেবে ব্যবহার করা শুধু মিশরীয় খেলোয়াড়দের নয়, ইয়ামালের নিজের পরিচয়ের প্রতি অসম্মান হিসেবে ধরা পড়ে।
ইয়ামালের জবাব ছিল— ‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ’। ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ১ এপ্রিল ২০২৬, ইয়ামাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি নিজের মুসলিম পরিচয়কে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরে লেখেন—
‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল স্টেডিয়ামে আমরা শুনেছি স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল—‘যে লাফাবে না সে মুসলিম’। আমি জানি, এটি প্রতিপক্ষ দলকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছিল, ব্যক্তিগতভাবে আমাকে লক্ষ্য করে নয়। কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে আমার কাছে এটি অত্যন্ত অসম্মানজনক। আমরা এমন আচরণ মেনে নিতে পারি না।’
ইয়ামাল এই প্রসঙ্গে আরও লেখেন, ‘আমি বুঝি, সব সমর্থক এমন নন। তবে যারা এই ধরনের স্লোগান দিয়েছেন, তাদের বলব— ফুটবল স্টেডিয়ামে মানুষকে উপহাস করার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করা আপনাদের অজ্ঞতা ও বর্ণবাদী মানসিকতার পরিচয় দেয়।’ তিনি ফুটবলের প্রকৃত চেতনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ফুটবল উপভোগ ও ভালোবাসার জায়গা। কার পরিচয় কী বা কে কোন বিশ্বাস ধারণ করে, তা নিয়ে অপমান করার জায়গা নয়।’
এখানে মনে করলে দেখা যায়, মুসলমান ইয়ামালের এই প্রতিক্রিয়া শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রতিবাদ ছিল না; বরং এটি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে একটি শক্ত অবস্থান হিসেবে দেখা হয়। তিনি দেখিয়েছেন যে, নিজের ধর্মীয় পরিচয় লুকিয়ে না, বরং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেও একজন ক্রীড়াবিদ বিশ্বমঞ্চে সফল হতে পারেন।
ইয়ামাল কখনোই তার মুসলিম পরিচয় গোপন করেননি। পেশাদার ফুটবলের কঠোর অনুশীলন, ব্যস্ত সূচি এবং শারীরিক চাপের মধ্যেও তিনি রমজান মাসে রোজা পালনের বিষয়টি আগেও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।
মিশরের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে দেওয়া ওই স্লোগান মূলত একটি নির্দিষ্ট দলকে লক্ষ্য করে হলেও এর মধ্যে থাকা ধর্মীয় বিদ্রূপ অনেকের কাছে আপত্তিকর হয়ে ওঠে। ইয়ামাল সেই জায়গাতেই মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, খেলাধুলার মাঠে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু ঘৃণা, বিদ্বেষ কিংবা কোনো মানুষের বিশ্বাসকে অপমান করার জায়গা সেখানে হওয়া উচিত নয়।
লামিনে ইয়ামালের ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন মুসলিম’— এই বক্তব্য শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রকাশ নয়; এটি সম্মান, সহনশীলতা ও বৈচিত্র্যের পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা। ফুটবল বিশ্বের কোটি মানুষের আবেগের জায়গা। এই আবেগ যেন কখনো বিদ্বেষে পরিণত না হয়, বরং পারস্পরিক সম্মান ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করে— ইয়ামালের প্রতিবাদ সেই প্রত্যাশাকেই সামনে রেখেছে।
সূত্র: রিলিজিয়ন আনপ্ল্যাগ্ড ডটকম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ব্যালন ডি’অর নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। স্পেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও এবার বর্ষসেরা ফুটবলারের লড়াইয়ে একক কোনো ফেভারিট নেই। ক্লাব ও জাতীয় দলের পারফরম্যান্স মিলিয়ে ব্যালন ডি’অরের সর্বশেষ পাওয়ার র্যাঙ্কিং প্রকাশিত হয়েছে স্পোর্টস স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ডিএজেডএন দ্বারা।
তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের তারকা হ্যারি কেইন। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তুলতে ৬ গোল করার পাশাপাশি, ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে পুরো মৌসুমে অবিশ্বাস্য ৭০ গোল করেছেন তিনি। বায়ার্নকে বুন্দেসলিগা শিরোপা এনে দেওয়ার কৃতিত্বও তার। যদিও তিনি বিশ্বকাপ জিততে পারেননি, তবুও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে তিনিই এখন ব্যালন ডি’অরের সবচেয়ে বড় দাবিদার।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। ইনজুরি কাটিয়ে, বিশ্বকাপে খেললেও স্পেনের শিরোপা জয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনাকে লা লিগা জেতানোর কৃতিত্বও তার রয়েছে।
তৃতীয় স্থানে আছেন স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে তুলনামূলক শান্ত মৌসুম কাটালেও, বিশ্বকাপে স্পেনের শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ‘গোল্ডেন বল’ জিতে, ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
চতুর্থ স্থানে রয়েছেন ফ্রান্স ও রিয়াল মাদ্রিদের তারকা কিলিয়ান এমবাপে। বিশ্বকাপে ১০ গোল করে তিনি ‘গোল্ডেন বুট’ জিতেছেন এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন। তবে রিয়াল মাদ্রিদের ট্রফিশূন্য মৌসুম এবং ফ্রান্সের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ায় তার সম্ভাবনা কিছুটা কমে গেছে।
পঞ্চম স্থানে জায়গা পেয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও, বিশ্বকাপে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে তুলতে তিনি বড় ভূমিকা রেখেছেন। যদিও ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে প্রত্যাশিত ছন্দে ছিলেন না। এছাড়া ইউরোপের বাইরে খেলার কারণে, ঝলমলে ফুটবল সত্ত্বেও, ভোটারদের মূল্যায়নে কিছুটা পিছিয়ে থাকতে পারেন তিনি। ফলে রেকর্ড নবম ব্যালন ডি’অর জেতার পথ এইবার মেসির জন্য কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে।
ডিএজেডএনের ব্যালন ডি’অর পাওয়ার র্যাঙ্কিং (শীর্ষ ৫):
১. হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ/ইংল্যান্ড)
২. লামিন ইয়ামাল (বার্সেলোনা/স্পেন)
৩. রদ্রি (ম্যানচেস্টার সিটি/স্পেন)
৪. কিলিয়ান এমবাপে (রিয়াল মাদ্রিদ/ফ্রান্স)
৫. লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি/আর্জেন্টিনা)।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মহানগর উত্তরের খিলক্ষেত থানার বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান মশিকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই), ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির দপ্তর থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মশিউর রহমান মশিকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক এবং সদস্যসচিব মোস্তফা জামান এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে দপ্তরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম এ রাজ্জাক স্বাক্ষর করেছেন।
এর আগে, গত ৬ জুলাই বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘বিএনপি নেতার সিন্ডিকেট: খিলক্ষেতে সরকারি জমিতে দোকানপাট, চাঁদা আদায়’ এবং ‘এককালীন ও দৈনিক ভিত্তিতে টাকা তোলে দখলকারীরা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে খিলক্ষেত থানার বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান মশির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, আমাদের দেশে শতাধিক রাজনৈতিক দল রয়েছে। তবে সকলেই সভা-সেমিনারে দেশপ্রেমের বয়ান নিয়ে আসছে; কিন্তু দেশের ক্রান্তিকালে কখনও তারা দেশপ্রেমের চিন্তায় সফল হতে পারেনি।
তিনি আরো বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময়, কেউ দলীয় ব্যানারে অথবা দলীয় বক্তৃতার মাধ্যমে সরাসরি আন্দোলন-সংগ্রামের সময়গুলোতে সামনে আসতে পারেনি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সবসময় কথা ও কাজের মিল রেখে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এসেছে। জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের দিনগুলোই এর জ্বলন্ত সাক্ষী। ইসলাম, দেশ ও মানবতার পক্ষের শক্তি হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কাজ করে।
তিনি এই বক্তব্য শনিবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ‘নগর সম্মেলন’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদান করেছেন। এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেছেন নগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহমদ আবদুল কাইয়ূম।
চরমোনাই পীর আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যাঁরা দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করেছেন, তাঁদের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। বরং বারবার এই দেশের মানুষকে রক্তের বিনিময়ে তাঁদের ক্ষমতাচ্যুত করতে হয়েছে। জাতি হিসেবে এগুলো কলঙ্কজনক অধ্যায়। আমাদের দেশের জন্য দুর্নীতির মতো ঘৃণিত বিষয়ের সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন হতে হচ্ছে। দেশের মানুষ এখন মুক্তি চায় এবং কোরআনের শাসন দেখতে চায়। আমাদের নাগরিকরা আর ভারত বা আমেরিকার গোলাম হয়ে থাকতে চায় না।
নগর সেক্রেটারি আবদুল আউয়াল মজুমদারের সঞ্চালনায় সম্মেলনে দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, কেন্দ্রীয় সদস্য আবদুর রহমান, কেন্দ্রীয় সদস্য মুফতি কেফায়াতুল্লাহ কাশফী আরো বক্তব্য রাখেন।
পরে চরমোনাই পীর দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নতুন সেশনের কমিটি ঘোষণা করেন। এতে সভাপতি হিসেবে শেখ ফজলুল করীম মারুফ, সহ-সভাপতি হিসেবে জিএম রুহুল আমীন, আনোয়ার হোসেন, এমএইচ মোস্তাফা, আব্দুল আউয়াল মজুমদার, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক এবং সেক্রেটারি হিসেবে কেএম শরীয়াতুল্লাহ নিয়োগ পেয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ