০৭:৫৭ পি.এম
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের একটি সমঝোতা স্মারক সই হলেও সম্প্রতি কয়েকদিন ধরে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে থাকায় যুদ্ধবিরতি চাপের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। এতে বিষয়টিকে ভালোভাবে দেখছে না ইরানের কট্টরপন্থিরা। তারা বর্তমান শাসনব্যবস্থা নিয়ে শীর্ষ কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে ‘অভ্যুত্থানের’ অভিযোগ এনেছেন।
গত সপ্তাহে তেহরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির কফিনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের চারপাশে থাকা কালো পোশাক পরিহিত শোকাহতদের মধ্যে কয়েকজন প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নয়, বরং সরাসরি তাকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে থাকেন – ‘আপোষকারীর মৃত্যু হোক।’
সেই ঘটনাস্থল থেকে খুব বেশি দূরে নয়, ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক আব্বাস আরাঘচি, যিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে ভূমিকা রেখেছিলেন, তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক দালাল’ আখ্যা দিয়ে মৃত্যু-ধ্বনি করতে করতে একদল উন্মত্ত জনতা পাথর ছুঁড়ে মারলে তিনি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
আরও পড়ুন: এল-সায়েদের জয়ে উচ্ছ্বসিত মুসলিমরা, তবে ধর্মের কারণে নয়
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালীন শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি যে বৈরী আচরণ দেখা গেছে, তাতে এই ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যা গত কয়েক মাস ধরে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সবচেয়ে উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করছে: আর তা হলো, ইরানের যুদ্ধকালীন নেতারা, যারা ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনা করে চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছিলেন, তারা ইসলামী প্রজাতন্ত্র এবং এর বিপ্লবী আদর্শের বিরুদ্ধে একটি নরম ‘অভ্যুত্থান’ ঘটাচ্ছেন, আর নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিজের জীবনের ভয়ে—অথবা, যেমনটা কেউ কেউ বলছেন, তিনি অক্ষম বলে—প্রায় অদৃশ্য হয়ে আছেন।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত কট্টরপন্থি দলগুলো মনে করে যে, খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার পরিবর্তে, ইরানি কর্মকর্তারা প্রয়াত নেতার পুত্র ও উত্তরাধিকারী, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির আদেশ অমান্য করে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করেছেন। কিন্তু খামেনি জনসমক্ষে আড়ালে রয়েছেন; তিনি সরাসরি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন না বা দৃশ্যত নিজের কর্তৃত্ব জাহির করছেন না, যদিও কর্মকর্তারা তার নামেই আলোচনা বা শাসনকার্য পরিচালনা করছেন।
কট্টরপন্থিরা ইরানের দৃশ্যমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। যারা খামেনি আত্মগোপনে থাকায় দেশ পরিচালনা ও প্রতিনিধিত্ব করছেন—সংসদ স্থগিত করে কিংবা আলোচনায় তার আদেশ অমান্য করে। তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন কট্টরপন্থিরা।
‘ইরানের জনগণের প্রতি সতর্কবার্তা: অভ্যুত্থান কি আসন্ন?’ খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার কয়েক দিন আগে এই প্রশ্নটি করেছিলেন স্পষ্টভাষী র্যাডিক্যাল আইনপ্রণেতা মাহমুদ নাভাবিয়ান।
আরও পড়ুন: দুর্যোগের পর ৮০% শিশু অসুস্থ, ৪৯% স্কুল বন্ধ: সেভ দ্য চিলড্রেন
এদিকে, মোজতবার অনুপস্থিতিতে, প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ, পেজেশকিয়ান এবং আরাঘচি যুদ্ধ-পরবর্তী ইরানের দায়িত্বে থাকা সবচেয়ে দৃশ্যমান মুখ হয়ে উঠেছেন। নতুন সর্বোচ্চ নেতার কাছে প্রবেশাধিকার না থাকায়, তাদের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট কট্টরপন্থিরা উল্টো তাদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে, সিএনএন-কে এমনটাই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইরান বিশেষজ্ঞ এবং ‘হোয়াট ইরানিয়ানস ওয়ান্ট’ বইয়ের লেখক আরাশ আজিজি।
আজিজি বলেন, ‘মোজতবার ক্রমাগত অনুপস্থিতির অর্থ হলো, তারা তার কাছে পৌঁছাতে পারছে না এবং এর ফলে গালিবফ ও তার মিত্ররা কার্যত দেশের দায়িত্বে রয়েছে… তাই চরমপন্থিরা গালিবফ এবং পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে মোজতবার বিরুদ্ধে ‘অভ্যুত্থানের’ ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে।’
গত ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বিত ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত খামেনির সপ্তাহব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াটি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সবচেয়ে কট্টরপন্থি সমর্থকদের জন্য একটি শক্তিশালী প্রদর্শনীতে পরিণত হয়। তারা এই উপলক্ষটিকে ওয়াশিংটনের সাথে নতুন করে যুদ্ধের মাধ্যমে তাদের নেতার হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার দাবি জানান এবং ট্রাম্পের সাথে যেকোনো ধরনের চুক্তি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন।
আরও পড়ুন: মহাকাশ থেকে মার্কিন নির্বাচনে ভোট দিলেন নাসার তিন নভোচারী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন