ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ফলে চাপের মুখে মার্কিন নাগরিকরা


ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ফলে চাপের মুখে মার্কিন নাগরিকরা

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, ইরান যুদ্ধ এবং শুল্কনীতির প্রভাব সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ে পড়ছে। মার্কিন পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে জ্বালানি, গাড়ির ইঞ্জিন অয়েল, পরিবহন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি খরচ নিয়ে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, এই অর্থনৈতিক চাপ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। আল মায়াদিনে প্রকাশিত বিশ্লেষণে করিম শারারার মতে, বিদেশে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক মাশুল কিভাবে সাধারণ নাগরিকদের বহন করতে হচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মার্কিন ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় ছিল অর্থনীতি এবং স্বাস্থ্যসেবা। পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে ছিল। তবে ইরান যুদ্ধ এবং ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নিষেধাজ্ঞা ও ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ায় অর্থনৈতিক উদ্বেগের গুরুত্ব বেড়ে গেছে।

বিশ্লেষণটি উল্লেখ করেছে, যুদ্ধের প্রভাব শুধুমাত্র সামরিক ব্যয় বা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং এর ফলে ভোক্তাপণ্যের দামে প্রভাব পড়ে। ফলে, পররাষ্ট্রনীতিকে অনেক সময় অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি থেকে আলাদা করে দেখা হলেও বাস্তবে এ দুইয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।

আরও পড়ুন: আম্বানির তেল শোধনাগারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের পেছনের কূটনীতি

গাড়ির ইঞ্জিন অয়েলের বাজারের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের সময় কাতারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য উৎপাদকদের সরবরাহব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে সিনথেটিক লুব্রিকেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত বেস অয়েলের বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংকটের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লুব্রিকেন্টের দাম বৃদ্ধির কারণে গাড়ির তেল পরিবর্তনের খরচও বেড়েছে। গাড়ি সচল রাখা অনেক মার্কিন পরিবারের জন্য বিলাসিতা নয়, বরং কর্মস্থলে যাতায়াত এবং জীবিকা নির্বাহের অপরিহার্য অংশ। তাই গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হলে অনেক পরিবারকে অন্য খাতে খরচ কমাতে হচ্ছে।

জ্বালানির দাম বৃদ্ধিও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এএএ-র তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৬৮ শতাংশ বেড়েছে। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি শুধু ডিজেলচালিত গাড়ির মালিকদেরই প্রভাবিত করে না, বরং পণ্য পরিবহনে ডিজেল ব্যবহৃত হওয়ায় এর বাড়তি খরচ খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ ও দামের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

কৃষি খাতেও জ্বালানি এবং কাঁচামালের সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। ইউরিয়া এবং অন্যান্য নাইট্রোজেন সার উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাস প্রয়োজন হয়। আবার ফসফেট সার উৎপাদনেও বিভিন্ন শিল্প উপকরণের ভূমিকা রয়েছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি এবং কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হলে কৃষি উৎপাদনের ব্যয় বাড়তে পারে। সেই চাপ শস্য উৎপাদন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ এবং পরিবহনের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ভোক্তাদের ওপর এসে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

আরও পড়ুন: ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শুরুর পর চলতি মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চূড়ায় সউদীর তেল রপ্তানি

রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাও জ্বালানি বাজারের সমীকরণ বদলে দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপ রাশিয়ার জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজেছে, অন্যদিকে রাশিয়াকে নতুন বাজারের দিকে ঝুঁকতে হয়েছে। তবে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের রুশ ডিজেল সংক্রান্ত লেনদেনে সাময়িক অনুমোদনের খবর থেকে বোঝা যায়, বাজারের বাস্তবতা কখনো কখনো নিষেধাজ্ঞার নীতিকে পুনর্বিবেচনার মুখে ফেলে। অর্থনৈতিক চাপের পেছনে কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যাখ্যা এবং নীতিগত প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতিও মূল্যবৃদ্ধির বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের গবেষণা উদ্ধৃত করে বিশ্লেষণটিতে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ সালের শুল্কনীতি আমদানি করা অ-জ্বালানি ভোক্তাপণ্যের মূল্যস্ফীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। শুল্কের কারণে আমদানি ব্যয় বাড়লে তার একটি অংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বহন করতে পারে, আবার কিছু অংশ বেশি দামের মাধ্যমে ভোক্তাদের ওপরও পড়তে পারে। মূল্যবৃদ্ধির গতি কমে গেলেও আগে বেড়ে যাওয়া দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আগের অবস্থায় ফিরে আসে না।

মার্কিন জনমত জরিপেও যুদ্ধ এবং শুল্কনীতির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের প্রতিফলন দেখা গেছে। শিকাগো কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের ২০২৬ সালের জরিপে ৮৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক উত্তরদাতা বলেছেন, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রিপাবলিকানদের মধ্যেও ৭৬ শতাংশ এমন মত দিয়েছেন। একই জরিপে ৮১ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, শুল্কনীতি জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য ক্ষতিকর; রিপাবলিকানদের মধ্যে এ মত দিয়েছেন ৬২ শতাংশ।

তবে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব স্বীকার করা এবং যুদ্ধের সিদ্ধান্তকে ভুল মনে করা এক বিষয় নয়। শিকাগো কাউন্সিলের জরিপে রিপাবলিকান সমর্থকদের একটি বড় অংশ যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা বললেও যুদ্ধের পক্ষে অবস্থানও দেখা গেছে। এর অর্থ, ভোটারদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ব্যয়ের হিসাব দিয়ে নির্ধারিত হয় না। দলীয় আনুগত্য, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ধারণা এবং সরকারের নীতির প্রতি বিশ্বাসও তাদের অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চিকিৎসা সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য সমঝোতা স্মারক সই

দাম বৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করার ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক বিভাজন রয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-নরক সেন্টারের জরিপে ৬৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি দামের পেছনে ট্রাম্পের নীতির ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে ৬৭ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করেন, উচ্চমূল্যের জন্য প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণের বাইরের কারণ দায়ী। অর্থাৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও তার দায় কার ওপর বর্তাবে, সে বিষয়ে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য স্পষ্ট।

এই পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটরা মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কংগ্রেসীয় আসনগুলোতে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রচারিত ৬৫টি বিজ্ঞাপনের মধ্যে ৬১টিতে গৃহস্থালি ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত এসব বিজ্ঞাপন ৪৩ হাজারের বেশি বার প্রচারিত হয়; এতে আনুমানিক ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। বিজ্ঞাপনগুলোতে যুদ্ধের সঙ্গে জ্বালানি এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

তবে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি স্বয়ংক্রিয় সমর্থন তৈরি হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে কোন দলকে বেশি বিশ্বাস করা যায়, সে প্রশ্নে ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিরোধী দল হিসেবে ডেমোক্র্যাটদের সামনে সরকারের নীতির সমালোচনা করার সুযোগ থাকলেও, বিকল্প অর্থনৈতিক এবং পররাষ্ট্রনীতি কতটা কার্যকর হবে, তা প্রমাণ করাও তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

বিশ্লেষণটির মূল বক্তব্য হলো, পররাষ্ট্রনীতি ভোটারদের প্রধান নির্বাচনী উদ্বেগ না হলেও তার অর্থনৈতিক পরিণতি নির্বাচনের আলোচনায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কৃষককে সার উৎপাদনের জটিল প্রক্রিয়া বুঝতে না হলেও সারের দাম বাড়ার প্রভাব তিনি অনুভব করেন। একইভাবে, একজন গাড়িচালক আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের সব হিসাব না জানলেও গাড়ির তেল এবং রক্ষণাবেক্ষণের বাড়তি খরচ টের পান।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনের সেনা ও হুথিদের সংঘর্ষে দুই দিনে ১৮০ যোদ্ধা নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে একটি প্রশ্ন—যুদ্ধ এবং শুল্কনীতির কারণে বেড়ে যাওয়া ব্যয়ের দায় ভোটাররা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করে তাঁরা ক্ষমতাসীন দলের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করবেন, নাকি নিরাপত্তা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক বিবেচনায় রিপাবলিকানদের সমর্থন অব্যাহত রাখবেন, তা ভোটের ফলেই স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদেরও দেখাতে হবে, সমালোচনার বাইরে গিয়ে তাঁরা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং পররাষ্ট্রনীতির অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় কী বিকল্প দিতে পারেন। তথ্যসূত্র: আল মায়াদিন, এপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিচার্লিসনের অভিযোগ: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর দ্বীপের দখল আইনি প্রক্রিয়ায় হাতছাড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৮ পি.এম


রিচার্লিসনের অভিযোগ: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর দ্বীপের দখল আইনি প্রক্রিয়ায় হাতছাড়া

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন টটেনহামের ব্রাজিলিয়ান তারকা রিচার্লিসন। খেলোয়াড়টি দাবি করেছেন যে, ২০২০-২১ সালের মধ্যে রিও ডি জেনেইরোর কাছে আংরা দস রেইস এলাকার ইলহা কমপ্রিদা দ্বীপের একটি বিলাসবহুল সম্পত্তিতে তিনি প্রায় ১০ মিলিয়ন ব্রাজিলীয় রিয়াল বিনিয়োগ করেছিলেন। বলসোনারো পরে সেটি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও, রিচার্লিসন বিক্রি করতে রাজি হননি। এরপর আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পত্তির দখল তার হাতছাড়া হয় এবং তিনি কোনো অর্থ ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেছেন রিচার্লিসন।

রিচার্লিসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, বলসোনারো ও আইনজীবী উইলার তোমাজের সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে সম্পত্তির দখল অন্যদিকে চলে যায়। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, একটি গুরুত্বপূর্ণ আদালতের সিদ্ধান্তের পর প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দখল হস্তান্তরিত হয়। এ ঘটনায় তিনি ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশের তদন্তও দাবি করেছেন।

তবে বিষয়টি সরাসরি ‘দ্বীপ চুরি’র ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আদালতের নথি ও ইউওএল-এর প্রতিবেদনে দেখা যায়, সম্পত্তির দখল নিয়ে রিচার্লিসনের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও উইলার তোমাজের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘ আইনি বিরোধ চলছিল। ২০২৫ সালে আদালতের রায়ে তোমাজের প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সিদ্ধান্ত আসে এবং পরে রিচার্লিসনের পক্ষের প্রতিষ্ঠান মামলা থেকে সরে দাঁড়ায়। মামলার নথিতে উইটি প্রশাসনকে সম্পত্তির দখল ও ভোগাধিকারের অধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

উইলার তোমাজ রিচার্লিসনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, তার প্রতিষ্ঠান আইনগতভাবে সম্পত্তির দখলের অধিকার পেয়েছে। তিনি রিচার্লিসনকে এমন নথি দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যা প্রমাণ করবে যে ২০২২ সালের জুলাইয়ের আগে সম্পত্তির ওপর খেলোয়াড়টির বৈধ মালিকানা বা দখল ছিল। ফ্লাভিও বলসোনারোও সম্পত্তির দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, এ বিরোধে তার কোনো সরাসরি ভূমিকা ছিল না।

ইলহা কমপ্রিদার সম্পত্তিটি সাধারণ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির আওতায় পড়ে না; এটি ইউনিয়নের মালিকানাধীন ভূমির আওতায় আসে এবং সেখানে দখল ও ব্যবহারাধিকারের নিবন্ধন নিয়ে জটিলতা রয়েছে। ফলে রিচার্লিসনের অভিযোগের পাশাপাশি সম্পত্তির আইনি দখল, পূর্ববর্তী মালিকানা-শৃঙ্খল এবং আদালতের রায়—সবকিছুই এই বিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়েছে, কারণ ফ্লাভিও বলসোনারো বর্তমানে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী। তবে এখন পর্যন্ত রিচার্লিসনের অভিযোগ নিজে কোনো অপরাধ প্রমাণ করে না। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সত্য নির্ধারণ করতে আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলই গুরুত্বপূর্ণ হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদপুরে ইলিশ শিকারের দায়ে ২২ জেলের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৯ পি.এম


চাঁদপুরে ইলিশ শিকারের দায়ে ২২ জেলের কারাদণ্ড

নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ শিকারের অভিযোগে আটক ২৪ জেলের মধ্যে ২২ জনকে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় জেলেদের হেফাজতে থাকা ২৫ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টজাল, ৬টি মাছ ধরার নৌকা এবং ৫ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।

রবিবার দিবাগত রাতে তাদের আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত কারাদণ্ড প্রদান করেন।

কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন রিফাত (২৫), রাসেল খান (২৬), দেলোয়ার হোসেন (৬০), সুজন গাজী (৩০), ইদ্রিস আলী (৩৫), নজরুল বেপারী (২৮), মনির মিজি (২৮), শহীদ গাজী (২৯), দেলোয়ার হোসেন মোল্লা (৬০), জাহাঙ্গীর বেপারী (৩৫), সেলিম ফকির (৩০), মো. নজরুল (৩০), কামাল বেপারী (৩৪), লিটন বেগ (৪৫), মাইনুদ্দিন (৪৭), নয়ন শরীফ (১৮), নিজাম প্রধানিয়া (৩৬), মো. রাসেল (৩০), মনির বেপারী (২৮), মোহাম্মদ হোসেন (১৯), রাসেল গাজী (২৫) এবং মো. ইকবাল (২২)। এই জেলেদের বাড়ি চাঁদপুর ও পার্শ্ববর্তী শরীয়তপুর জেলায় অবস্থিত।

অভিযানে অংশগ্রহণকারী সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় গতকাল রবিবার বিকাল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সদর উপজেলার আনন্দ বাজার, লালপুর, কাচিকাটা, চিরাচর, হরিসভা, রনাগোয়াল, দোকানঘর এবং বহরিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় চিরাচর থেকে ১৮ এবং দোকানঘর এলাকা থেকে ৬ জেলেকে আটক করা হয়।

রাত ১২টায় কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ ইকবাল, মো. রহমত উল্লাহ এবং তানভীর রাব্বী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় আটক ২২ জেলেকে ১২ দিন করে কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। অপর দুই জেলে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা রেখে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান আরও জানান, জব্দ করা কারেন্টজাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। জব্দ করা ইলিশ এতিম খানায় বিতরণ করা হবে এবং ৬টি নৌকা কোস্টগার্ডের হেফাজতে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিরিরবন্দরে সাবেক কৃতি ফুটবলারের মৃত্যু, শোক প্রকাশ সংসদ হুইপের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৯ পি.এম


চিরিরবন্দরে সাবেক কৃতি ফুটবলারের মৃত্যু, শোক প্রকাশ সংসদ হুইপের

চিরিরবন্দর ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক, চিরিরবন্দর সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত ক্রীড়া শিক্ষক এবং এক সময়ের তারকা ফুটবলার মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন শাহ্ গত ১৮ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪ ঘটিকায় দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৬৫ বছর। তিনি স্ত্রী ও পুত্র সন্তান রেখে গেছেন। মরহুমের নামাজে জানাজা ১৯ অক্টোবর সোমবার সকাল ১০টায় তার নিজ বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, তিনি ৭ ভাইয়ের মধ্যে ৪ জনই আশি ও নব্বই দশকের কৃতি ফুটবলার ছিলেন।

মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি, যিনি জাতীয় সংসদের হুইপ এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, চিরিরবন্দর ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোরশেদ উল আলমসহ সাবেক কৃতি খেলোয়াড়গণ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান সমর্থিত ইয়েমেনী হুথির বিরুদ্ধে যারাই যাবে তারাই পরাজিত হবে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৯ পি.এম


ইরান সমর্থিত ইয়েমেনী হুথির বিরুদ্ধে যারাই যাবে তারাই পরাজিত হবে!

পৃথিবী আজ মহাপ্রলয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। শেষ জামানা সম্পর্কে মুসলমানদের কোরআন ও হাদিসে অসংখ্য বিষয় বর্ণিত হয়েছে। সবগুলো বিষয়ে এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আজকের মধ্যপ্রাচ্য যে অগ্নিগর্ভ তা কাদের কারণে হচ্ছে, কারা এতে ইন্ধন যোগাচ্ছে এবং কারা না বুঝে সেই যুদ্ধে জড়াচ্ছে তা জানা জরুরি।

বিশ্ব পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা করে সেই অগ্নিগর্ভের সূচনা করেছে। যার আগুনে পুড়ছে গোটা আরব ও মুসলিম জনগোষ্ঠী। জায়নবাদী ইহুদী ও নাসারা (পশ্চিমা খ্রিষ্টান সম্প্রদায় যারা রোমান ক্যাথলিক (Roman Catholic), যাদেরকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল লানত করেছেন অর্থাৎ তাদের প্রতি বদদোয়া করেছেন, ঘৃণা করেছেন। তবে এই খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে ওই লানতপ্রাপ্ত ও ঘৃণিত শ্রেণীরা নয় যারা প্রোটেস্ট্যান্ট (Protestant) ও ইস্টার্ন অর্থোডক্স (Eastern Orthodox)) খ্রিস্টান সম্প্রদায়।

এই পশ্চিমা জায়নবাদীদের উদ্দেশ্যই হল মুসলিম জাতি গোষ্ঠীকে পৃথিবীতে দাস শ্রেণীতে পরিণত করা এবং তাদেরকে ধ্বংস করা। আজকে ফ্রান্সে যা হচ্ছে তার পরিণতির কারণ হলো, এই ফ্রান্স ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। যে কারণে পশ্চিমা আধিপত্যবাদী মার্কিন শক্তি সেই ফ্রান্সে বিক্ষোভ উসকে দিয়ে ফ্রান্স সরকারকে পতন ঘটানোর পথে নিয়ে যাচ্ছে। একইভাবে যারা তাদের অনুসারী হতে চাচ্ছেনা তাদেরকেই ধ্বংস করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। দিকে দিকে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে, এই যুদ্ধই কেয়ামত ঘনিয়ে নিয়ে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শেষ জামানায় আল্লাহ তার বান্দাদেরকে পরীক্ষা করবেন। পরীক্ষা করবেন দাজ্জালের অনুসারীদের পক্ষের এবং বিপক্ষের শক্তি হিসেবে, পরীক্ষা করবেন ইয়াজুজ ও মাজুজ যারা মূলত পশ্চিমা শাসক শ্রেণী এবং ইহুদী তথা জায়নবাদী শ্রেণী হিসেবে ইতিমধ্যে আবির্ভূত হয়েছে। এর মধ্যে প্রকৃত আল্লাহ ও রাসূলের কোরআন ও হাদিসের অনুসারী মুসলিম কারা এবং তার লানত প্রাপ্ত বা অভিশপ্ত ইহুদী-নাসারা এবং তাদের অনুসারী কোন মুসলিম নামধারী মুশরিক এবং কাফেররা তা চিহ্নিত করার সময় হয়তোবা এখন চলছে।

এই সময়ে কোন মুসলিমরা প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমা জায়নবাদী ইহুদিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং কারা তাদের পদলেহন করছে - এ থেকেই দাজ্জালের পক্ষ শক্তি, ইয়াজুজ মাজুজ এর পক্ষ শক্তি এবং তার বিপক্ষে ইসলামের প্রকৃত শক্তি কোন মুসলিম জাতি গোষ্ঠী তা সহজেই নির্ধারণ করা যায় বলে মনে হচ্ছে। এই যুদ্ধ থেকেই তার প্রমাণ মিলবে। এখন মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর শাসকেরা কার অনুসারী হচ্ছে দাজ্জালের অনুসারীদের অনুসারী , ইয়াজুজ মাজুজ এর অনুসারীদের অনুসারী নাকি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রকৃত ইসলামের অনুসারী তা চিহ্নিত করার সময় এসেছে।

যে ইরান পশ্চিমা বিশ্বের গোলামী করবে না বলে দীর্ঘ অর্ধশতক ধরে লাঞ্চিত, অপমানিত এবং নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত হয়ে অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় পড়েও পশ্চিমা জায়নবাদী ইহুদিদের গোলামী করতে অস্বীকার করেছে, তাদের অনুসারী লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস, সিরিয়া ও ইরাকের ইসলামিক রেজিস্টেন্স, ও সর্বশেষ ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা, যারা না খেয়ে থেকে নিজেদের অর্থ ও জীবন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পথে ব্যয় করছে এবং দুনিয়ার দাজ্জাল তথা ইয়াজুজ ও মাজুজের পদলেহন করে তাদের অনুসারী হতে চায়নি। তাদের বিরুদ্ধে যারা হামলে পড়ছে, তাদেরকে ধ্বংস করছে, তাদেরকে হত্যা করতে চাচ্ছে সেই ইহুদি শক্তির গোলামী করছে কোন মুসলিম রাষ্ট্রগুলো? এ থেকেই খুব সহজেই চিনে নেওয়া যাবে কারা দাজ্জাল , ইয়াজুজ ও মাজুজের অনুসারী আর কারা প্রকৃত ইসলাম তথা মুসলমান এবং আল্লাহ ও রাসূলের অনুসারী। সুতরাং শেষ সময়ে আল্লাহ তার প্রকৃত বান্দা ও রাসূলের উম্মতগণকে সাহায্য করবেন।

কেন ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গেলেই সবাই পরাজিত হবে?

============================

মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ শাম (الشام) ও ইয়েমেন (اليمن)-এর জন্য বরকতের দোয়া করেছেন এবং ইয়েমেনবাসীর ঈমান, কোমল হৃদয়, ধর্মীয় প্রজ্ঞা ও হিকমতের প্রশংসা করেছেন। এ বিষয়ে সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে একাধিক সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য দোয়া করার সময় সেখানে তৎকালীন নাজদ বর্তমান সৌদি আরব তথা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের এই অঞ্চলের বাসিন্দারাও রাসূলের সামনে উপস্থিত ছিলেন তারা একাধিকবার রাসূল(সাঃ)কে তাদের অঞ্চলেও রহমত ও বরকতের জন্য দোয়া করার কথা বললেও তিনি তা করেননি। বরং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উত্তরে বলেছিলেন, "সেখানে ভূমিকম্প হবে এবং ফিতনা তৈরি হবে সেই সাথে সেখানে শয়তানের শিং উত্থিত হবে।"
তৎকালীন নাজদ নামক অঞ্চলটি মূলত আজকের সৌদি আরব ও তার রাজধানী রিয়াদকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সহিহ বুখারীর হাদিস নং ১০৩৭ এবং ৭০৯৪ দুটি হাদিসেই আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও রাসুল(সাঃ), আমাদের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'শাম' ও 'ইয়েমেন' বাসীদের জন্য আল্লাহর কাছে রহমত ও বরকতের দোয়া করেছিলেন, কিন্তু সৌদি বা 'নাজদে'র জন্য নয়। হাদিসে বর্ণিত শাম অঞ্চল বলতে প্রধানত বর্তমান সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান ও ফিলিস্তিন বোঝানো হয়।
সহিহ বুখারি: হাদিস নং ১০৩৭
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ:
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَامِنَا وَفِي يَمَنِنَا.
قَالَ: قَالُوا وَفِي نَجْدِنَا؟
قَالَ: اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَامِنَا وَفِي يَمَنِنَا.
قَالَ: قَالُوا وَفِي نَجْدِنَا؟
قَالَ: هُنَاكَ الزَّلَازِلُ وَالْفِتَنُ، وَبِهَا يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانِ.
অর্থ: আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ﷺ দোয়া করেছিলেন: "হে আল্লাহ! আমাদের শামে বরকত দান করুন এবং আমাদের ইয়েমেনে বরকত দান করুন!"
তৎকালীন নাজদ তথা বর্তমান সৌদি আরব ও রাজধানী রিয়াদের উপস্থিত লোকেরা রাসূলকে রহমত ও বরকতের জন্য বলছিলেন, ‘আমাদের নাজদেও?’
কিন্তু হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  আবারো বললেন, '‘হে আল্লাহ! আমাদের শামে বরকত দান করুন এবং আমাদের ইয়েমেনে বরকত দান করুন’'
ঐ লোকেরা আবারও বলল, ‘আমাদের নাজদেও(বর্তমান সৌদি আরব ও রাজধানী রিয়াদ অঞ্চল)’
তিনি তখন বললেন, '‘সেখানে ভূমিকম্প ও ফিতনা রয়েছে এবং সেখান থেকেই শয়তানের শিং উদিত হবে।’'
যা আজকের বর্তমান পশ্চিমা জায়নবাদী ইহুদি সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন-ইজরাইল রাষ্ট্রের শাসকদের পা চাটা গোলামেরা সেই সৌদি আরব তথা আরব রাষ্ট্রগুলোর শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। এটি তার বাস্তব প্রমাণ, যা প্রায় ১৪০০ কিংবা সাড়ে ১৪০০ বছর পূর্বে আল্লার রাসুল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গিয়েছিলেন।

অন্যান্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে তিন দিন শুধু শাম ও ইয়েমেন বাসীদের জন্য শুধু দোয়াই করেননি বরং তাদের প্রশংসা সূচক কথাও বলেছেন যা সহীহ হাদিসগুলোতে বর্ণিত হয়েছে নিম্নরূপঃ শাম ও ইয়েমেন বাসীদের প্রশংসায় মহানবী ﷺ-এর বাণী
সহিহ বুখারি: হাদিস নং ৪৩৯০
বর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)।
আরবি:
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ ذَكْوَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:
«أَتَاكُمْ أَهْلُ الْيَمَنِ، هُمْ أَرَقُّ أَفْئِدَةً وَأَلْيَنُ قُلُوبًا، الْإِيمَانُ يَمَانٍ وَالْحِكْمَةُ يَمَانِيَةٌ، وَالْفَخْرُ وَالْخُيَلَاءُ فِي أَصْحَابِ الْإِبِلِ، وَالسَّكِينَةُ وَالْوَقَارُ فِي أَهْلِ الْغَنَمِ».
অর্থ:আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন:
‘তোমাদের কাছে ইয়েমেনবাসীরা এসেছে। তারা অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের অধিকারী। ঈমান ইয়েমেনের এবং হিকমতও ইয়েমেনের। অহংকার ও আত্মম্ভরিতা উটের মালিকদের মধ্যে রয়েছে; আর প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য রয়েছে ছাগল-ভেড়ার পালকদের মধ্যে।’
এছাড়াও সহি মুসলিমে শাম ও ইয়েমেন বাসীদের সম্পর্কে বর্ণিত হাদিস নিম্নরূপ
সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ৫২
বর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)।
আরবি:
حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَحَسَنٌ الْحُلْوَانِيُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، وَهُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ الْأَعْرَجِ، قَالَ: قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
«أَتَاكُمْ أَهْلُ الْيَمَنِ، هُمْ أَضْعَفُ قُلُوبًا وَأَرَقُّ أَفْئِدَةً، الْفِقْهُ يَمَانٍ وَالْحِكْمَةُ يَمَانِيَةٌ».
অর্থ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
‘তোমাদের কাছে ইয়েমেনবাসীরা এসেছে। তারা কোমল হৃদয়ের অধিকারী এবং তাদের হৃদয় অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্বীনের গভীর উপলব্ধি ইয়েমেনের এবং হিকমতও ইয়েমেনের।’
সহীহ মুসলিমে আরও একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে:
সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ৯৩
এটি ইয়েমেনবাসীর প্রশংসার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা।বর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)।
আরবি :
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْيَمَانِ، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ:
«جَاءَ أَهْلُ الْيَمَنِ، هُمْ أَرَقُّ أَفْئِدَةً وَأَضْعَفُ قُلُوبًا، الْإِيمَانُ يَمَانٍ وَالْحِكْمَةُ يَمَانِيَةٌ، السَّكِينَةُ فِي أَهْلِ الْغَنَمِ، وَالْفَخْرُ وَالْخُيَلَاءُ فِي الْفَدَّادِينَ أَهْلِ الْوَبَرِ قَبْلَ مَطْلَعِ الشَّمْسِ».
অর্থ:আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি নবী ﷺ-কে বলতে শুনেছি:
‘ইয়েমেনবাসীরা এসেছে। তারা কোমল হৃদয়ের ও নম্রচিত্ত। ঈমান ইয়েমেনের এবং হিকমত ইয়েমেনের। প্রশান্তি রয়েছে ছাগল-ভেড়ার পালকদের মধ্যে। আর অহংকার ও আত্মম্ভরিতা রয়েছে উচ্চৈঃস্বরে চিৎকারকারী উটের মালিকদের মধ্যে, যারা সূর্যোদয়ের দিকের তাঁবুবাসী।’
শাম ও ইয়েমেনের বরকতের দোয়ার মূল আরবি
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَامِنَا وَفِي يَمَنِنَا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি শামিনা ওয়া ফি ইয়ামানিনা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের শামে বরকত দান করুন এবং আমাদের ইয়েমেনে বরকত দান করুন।
আরেকটি বর্ণনায় বাক্যটি এভাবে এসেছে:
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَأْمِنَا، اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي يَمَنِنَا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি শা'মিনা, আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি ইয়ামানিনা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের শামে বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদের ইয়েমেনে বরকত দান করুন।
এই হাদিসগুলো থেকে স্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায় বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি অনুযায়ী যখন ফিলিস্তিনের গাঁজায় জায়নবাদী বর্বর ইহুদী ইজরাইল ও তার মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ক্রমাগত বছরের পর বছর যুগের পর যুগ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তখন এই আরব রাষ্ট্রগুলো শুধুমাত্র তাদের ক্ষমতা নারী-লিপ্সা দুনিয়াবী ভোগ-বিলাস ইত্যাদি সুখের জন্য আল্লাহর গোলামীর পরিবর্তে তারা পশ্চিমা জায়নবাদী মার্কিন ইজরাইলিদের পা চাটা গোলাম হয়ে চিরস্থায়ী রাজতন্ত্রের বা পরিবার তন্ত্রের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য যুগের পর যুগ চুপ করে থেকেছে। নির্যাতিত নিপীড়িত গণহত্যায় জর্জরিত ফিলিস্তিনের গাঁজা, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন, ইরাক, ইরান, লিবিয়া পূর্ব দিকে আফগানিস্তান একের পর এক ধ্বংস করলেও আরব রাষ্ট্রগুলো মুখে কুলুপ এঁটে বসে রয়েছে। শুধু চুপ করে বসেই থাকেনি বরং এই মুসলমান অর্থাৎ প্রকৃত আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এর অনুসারীরা যখন এভাবে পশ্চিমা দেওয়ানবাতি শক্তির হাতে নির্যাতিত নিপীড়িত হয়ে নিহত হচ্ছে সেই কাজে নিজেদের দেশে ঘাঁটি করে তাদেরকে সহায়তা করছে এই আরব রাষ্ট্রগুলোই।
আরব রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা সালমান বিন আবদুল আজিজ বিন আবদুর রহমান আলে সৌদ বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ব্রিটেন যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা মিত্রদেরকে নিয়ে একটি নাকে ক্ষত দেওয়া চুক্তি করেন সেই চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিমারা এই আরব রাজতন্ত্রকে যুগের পর যুগ তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখবে এবং তেলের নিরাপত্তা দেবে বিনিময়ে তারা কাগজে মুদ্রা তথা ডলার ছাপাবে সেই ডলার দিয়ে এই আরব রাষ্ট্রগুলোকে ব্যবসা করতে হবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। যেই কাগজ ছাপিয়েই পশ্চিমা জায়নবাদীরা আজকে তেল গ্যাস ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে পা চাটা গোলামে পরিণত করেছে।

সুতরাং প্রকৃত ইসলাম ও মুসলিম সম্পর্কে ধারণা পেতে হলে উপরোক্ত হাদিসগুলোই যথেষ্ট বর্তমান সময়ের জন্য। এবং এ থেকেও স্পষ্ট হয় যে ইয়েমেন বাসীরা পায়ে স্যান্ডেল পড়ে, কারো গায়ে পোশাক আছে তো কারো গায়ে পোশাক নেই একেকজনের একেক পোশাক কোন সামরিক বাহিনীর কোন সুশৃংখল পোশাক নেই নেই কোন সুশৃংখল অস্ত্র তারপরেও 2025 সালে মার্কিন বাহিনীকে এমন পর্যদুস্ত করেছে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলতে বাধ্য হয়েছিলেন হয়তো ইয়েমেনের সাথে যুদ্ধে আমরা পেরে উঠব না। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয় ইয়েমেনের সাথে ইজরায়েল সহ পশ্চিমা বিশ্বের আরো কয়েকটি রাষ্ট্র যুদ্ধ করেছে কিন্তু কেউই টিকে থাকতে পারেনি। সুতরাং উপরোক্ত হাদিসগুলো থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় আজকের দিনে যে ইরান এবং তার মিত্র গোষ্ঠী বিশেষ করে ইয়েমেনের প্রতি বিদ্রোহীদের সাথে আল্লাহর রাসূলের দোয়া যা তিনি তাদের রহমত ও বরকতের জন্য করেছিলেন তা নিয়েই তারা আছে সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে যেখানে পশ্চিমা বিশ্ব শাসনকারী শক্তিরাই পেরে উঠতে পারেনি সেখানে এই ইয়েমেনি মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে অপর মুসলিম নামধারী কাফের মুশরেক ও বেইমান আরব রাষ্ট্রগুলো কিংবা তার সাথে নতুন করে মক্কা জোটের নাম করে আরো দুটি শক্তিশালী রাষ্ট্র যোগ দিয়েছে এমনকি মিশর এবং আরব আমিরাত নতুন করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে বলে শোনা যাচ্ছে। উক্ত হাদিস থেকে এ কথা স্পষ্ট ভাবে বলা যায় এই শক্তির বিরুদ্ধে গোটা পশ্চিমা ইহুদী জাওয়ানবাদের শক্তি কিংবা নামধারী মুসলিম যারা মূলত মুশফিক ও কাফেরদের দলবিবাহ তারা একত্রিত হয়ে যুদ্ধ করলেও ইয়েমেন বাসীদের কে পরাজিত করতে পারবেনা বরং তারা নিজেরাই যুদ্ধে পরাজিত হবে এবং নিজ নিজ দেশে নিজেদের সরকারের পতন ঘটবে এমন কথা আজকের দিনে বলা  মনে হয় অমূলক হবে না।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%