ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রেকর্ড বাজেট ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার যাত্রায় নতুন যুগে স্বাস্থ্য খাত


রেকর্ড বাজেট ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার যাত্রায় নতুন যুগে স্বাস্থ্য খাত

রেকর্ড পরিমাণ স্বাস্থ্য বাজেট, সর্বজনীন ডিজিটাল হেলথ কার্ড, ব্যাপক জনবল নিয়োগ এবং নতুন বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মতো একগুচ্ছ উচ্চাভিলাষী সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে এক নতুন যুগে পদার্পণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত। দেশব্যাপী সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা সেবার পরিধি বাড়ানো এবং রোগীদের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট এবং সাম্প্রতিক বেশ কিছু উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সরকারের একটি সমন্বিত কৌশলের প্রতিফলন ঘটেছে। যার উদ্দেশ্য রোগীদের আর্থিক বোঝা কমিয়ে একটি সহজে প্রাপ্য, রোগ প্রতিরোধ-কেন্দ্রিক এবং প্রযুক্তি-নির্ভর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

এই রূপান্তরের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত। বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে আগামী অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। এই বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১.০১ শতাংশ, যা স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন: মিষ্টির আসনে উপনির্বাচনের জন্য এমপিদের স্বাক্ষরের তালিকা চায় ইসি

গত ১১ জুন সংসদে বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্বাস্থ্য খাতের বিনিয়োগকে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জাতীয় সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

সরকার বিশ্বাস করে যে, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা এবং সমাজকল্যাণ বজায় রাখার জন্য স্বাস্থ্য সেবা জোরদার করা অপরিহার্য। সরকারের স্বাস্থ্য ভাবনার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—শুধু চিকিৎসা-কেন্দ্রিক মডেল থেকে সরে এসে রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক রোগ নির্ণয় এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

এই লক্ষ্য অর্জনে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার।

প্রতিটি কেন্দ্রকে কমিউনিটি ক্লিনিক এবং প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হবে, যারা তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক যত্ন, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি সহায়তা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করবেন।

আরও পড়ুন: রূপপুর পারমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমবে, অবহেলিত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি সহজ হবে এবং সাধারণ মানুষের পকেট থেকে চিকিৎসা বাবদ বাড়তি খরচ কমে আসবে।

স্বাস্থ্য খাতের এই সংস্কার পরিকল্পনার আরেকটি বড় অংশ হলো জনবল বৃদ্ধি। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণে সরকার অবিলম্বে ৫ হাজার এমবিবিএস ডাক্তার নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী।

এই বর্ধিত জনবল মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচি এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। এই উদ্যোগকে গতিশীল করতে সরকার ইতোমধ্যে শত শত নতুন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পদ তৈরি করেছে। সরকারের এই স্বাস্থ্য কৌশলের অন্যতম প্রধান অংশ জুড়ে রয়েছে ডিজিটাল রূপান্তরও।

সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কাঠামোর আওতায় প্রতিটি নাগরিক পর্যায়ক্রমে একটি করে ডিজিটাল হেলথ কার্ড পাবেন, যা একটি সমন্বিত রোগী ব্যবস্থাপনা ও রেফারেল সিস্টেমের সাথে যুক্ত থাকবে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা দেশের যেকোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে রোগীদের চিকিৎসার ইতিহাস, রোগনির্ণয়ের রেকর্ড এবং প্রেসক্রিপশন দেখতে পারবেন।

আরও পড়ুন: ইরানে অক্টোবরেই হামলার পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর, সায় নেই ট্রাম্পের

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ব্যবস্থা চিকিৎসার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে, একই চিকিৎসার পুনরাবৃত্তি কমাতে এবং পুরো স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কে জবাবদিহিতা জোরদার করতে সাহায্য করবে। সরকারের এই সংস্কার পরিকল্পনা শুধু সেবা প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং চিকিৎসা শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাতের মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্র পর্যন্ত বিস্তৃত।

২০৩০ সালের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং উন্নত ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ পদ্ধতির সমন্বয়ে একটি আধুনিক যোগ্যতা-ভিত্তিক (কম্পিটেন্সি-বেসড) এমবিবিএস শিক্ষাক্রম চালু করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসা শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যখাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম চিকিৎসক তৈরি করতেই এই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট লোন ও ব্যাংক লোনের সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে পারেন এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা যেন তাদের একাডেমিক অগ্রযাত্রায় বাধা না হয়, সেজন্য একটি বিশেষ অর্থায়ন কর্মসূচির কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

শিক্ষা সংস্কারের পাশাপাশি দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর একাডেমিক ভবন, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি, ডরমিটরি ও প্রশিক্ষণ সুবিধার আধুনিকায়নের ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহ যাকে চান ক্ষমতা দেন, আবার কেড়েও নেন’ - ড. খালিদ হোসেন

বাজেটে দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার খরচ কমানোর পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হার্টের স্টেন্ট, ডায়ালাইসিস ফিল্টার এবং আরও বেশ কিছু জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর থেকে ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রত্যাহার করায় হাজার হাজার রোগী বড় ধরনের স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা মনে করছেন, এর ফলে হার্টের স্টেন্টের দাম ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং প্রতি সেশনে ডায়ালাইসিস চিকিৎসার খরচ প্রায় ৮০০ টাকা কমে আসতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপগুলোকে পকেট থেকে হওয়া চিকিৎসা ব্যয় (আউট-অফ-পকেট এক্সপেন্ডিচার) কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।

এদিকে, সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবার এই সম্প্রসারণ কেবল নীতিগত ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে চলমান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর একটি হলো খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লায় ২০০ শয্যাবিশিষ্ট পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা।

আরও পড়ুন: বিএনপি দিল্লির মাধ্যমে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই হাসপাতালগুলো পুরোদমে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং উন্নত রোগনির্ণয়ের সুবিধাসম্পন্ন এই হাসপাতালগুলো রাজধানীর বাইরে শিশু স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে।

আসবাবপত্র ও চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান থাকায় হাসপাতালগুলো চালুর প্রস্তুতি দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সম্প্রতি জানিয়েছেন, এই হাসপাতালগুলোতে রোগীরা তাদের বাড়ির কাছাকাছি বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা পাবেন। ফলে পরিবারগুলোকে শিশু চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্তে ভ্রমণের ভোগান্তি পোহাতে হবে না।

এই শিশু হাসপাতালগুলো চালুর পরিকল্পনা মূলত সরকারের একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টারই অংশ, যার লক্ষ্য হলো অব্যবহৃত স্বাস্থ্য অবকাঠামো সচল করা এবং আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আরও বেশি বিশেষায়িত সেবা পৌঁছে দেওয়া।

আরও পড়ুন: জামায়াত মানুষকে যে পথ দেখাতে চায়, সেটা দাজ্জালের জান্নাত: রাশেদ খাঁন

সার্বিকভাবে দেখলে— স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, জনবল বৃদ্ধি, ডিজিটাল স্বাস্থ্য উদ্যোগ, চিকিৎসা শিক্ষা সংস্কার, কর রেয়াত সুবিধা এবং নতুন বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন বাংলাদেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতকে নতুন রূপ দেওয়ার একটি সমন্বিত প্রচেষ্টারই ইঙ্গিত দেয়।

বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যত সামনে এগোচ্ছে, নীতি-নির্ধারকরা আশা করছেন যে এই উদ্যোগগুলো এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে যা আরও বেশি সমতাভিত্তিক, দক্ষ এবং জনগণের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

একই সঙ্গে ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা অর্থনৈতিক অবস্থা নির্বিশেষে সবার জন্য মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম এইচ৫এন১ শনাক্ত, বার্ড ফ্লু এখন পৌঁছেছে সকল মহাদেশে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:২৪ এম


অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম এইচ৫এন১ শনাক্ত, বার্ড ফ্লু এখন পৌঁছেছে সকল মহাদেশে

 

অস্ট্রেলিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে যে, বার্ড ফ্লুর এইচ৫এন১ স্ট্রেইনটি প্রথমবারের মতো সেখানে শনাক্ত হয়েছে। এর মানে হলো যে, এই অত্যন্ত সংক্রামক প্রজাতিটি अब প্রতিটি মহাদেশে পৌঁছে গেছে।

শনিবার কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স জানান, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি পরিযায়ী সামুদ্রিক পাখি ‘ব্রাউন স্কুয়ার’-এর মধ্যে রোগটি শনাক্ত হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুসারে, পাখিটিকে পার্থ থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার (৪৩৪ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে এস্পেরান্স শহরের কাছে কেপ লে গ্র্যান্ড ন্যাশনাল পার্কের একটি সৈকতে পাওয়া গেছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ছিল এমন একমাত্র মহাদেশ যেখানে এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লু স্ট্রেইনটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এই স্ট্রেইন হাঁস-মুরগি এবং বন্য পাখিদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। যদিও এই রোগের কারণে মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বিরল। কলিন্স এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা সবাই জানতাম যে আমরা চিরকাল বার্ড ফ্লু-মুক্ত থাকতে পারব না।’

অস্ট্রেলিয়ায় বার্ড ফ্লুর আরেকটি সন্দেহজনক ঘটনা শনাক্ত হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এস্পেরান্সের একটি সৈকতে ক্লান্ত অবস্থায় একটি সাউদার্ন পেট্রেল পাখি পাওয়া গেছে, যা বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

তবে কর্মকর্তাগণ মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমানে ব্যাপক হারে পাখির মৃত্যুর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জাতীয় সম্প্রচারকারী সংস্থা এবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বিপন্ন প্রজাতি বিষয়ক কমিশনার ফিওনা ফ্রেজার জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য প্রাণীগোষ্ঠীর মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কয়েক দিনের মধ্যে নিশ্চিত তথ্য জানাতে পারবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশটির প্রধান পশুচিকিৎসা কর্মকর্তা বেথ কুকসন জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতির জন্য কর্তৃপক্ষ অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এজন্য জরুরি পশুরোগ বিষয়ক কমিটি শনিবার বৈঠক করেছে। গত বছরের অক্টোবর মাসে অস্ট্রেলিয়ার দূরবর্তী হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে বার্ড ফ্লুর এইচ৫এন১ ধরন শনাক্ত হয়েছিল।

এ সপ্তাহে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত আগস্ট থেকে হার্ড দ্বীপের ১৭ হাজার সীল শাবকের মধ্যে প্রায় ১৩ হাজারই এইচ৫এন১ সংক্রমণে মারা গেছে। এর মানে হলো, পুরো দলের ৭৫ শতাংশেরও বেশি শাবক মারা পড়েছে। গবেষকরা পেঙ্গুইনের মধ্যে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি মৃত্যুর ঘটনাও লক্ষ্য করেছেন।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রায় এক হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফরাসি নিয়ন্ত্রিত ক্রোজে দ্বীপপুঞ্জ থেকে পরিযায়ী পাখির মাধ্যমে গত আগস্টে এই দ্বীপগুলোতে বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়ে।

বার্ড ফ্লু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত পাখিদের আক্রান্ত করে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি শিয়াল, সীল ও উদবিড়ালের মতো অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে ছড়াতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বন্য পাখিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ছে যে ধরনের বার্ড ফ্লু, সেটি হলো এইচ৫এন১ ভাইরাস। এই ভাইরাসটি ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে চীনে প্রথম শনাক্ত হয়।

পরিযায়ী পাখিদের মাধ্যমে এই রোগ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং গৃহপালিত ও বন্য পাখিদের মধ্যে সংক্রমণ ঘটায়। খুব কম সংখ্যক ক্ষেত্রে, আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে এলে মানুষও এই ভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শহীদ জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ এম


শহীদ জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ির কাঠাদিয়ায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার ফ্রি স্পেশালাইজড হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার দিনব্যাপী টঙ্গীবাড়ীর কাঠাদিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসায় ডক্টরস আসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর উদ্যোগে ফ্রি স্পেশালাইজড হেলথ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। হেলথ ক্যাম্পের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ।

মুন্সীগঞ্জ জেলা ড্যাব এর আহ্বায়ক ডা.এ কে এম মফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গীবাড়ী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আসগর রিপন মল্লিক।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ডা. মো. খালিকুজ্জামান দীপু, উপদেষ্টা ডা. দেওয়ান নিজাম উদ্দিন হেলাল, মুন্সীগঞ্জ জেলা ড্যাবের সদস্য সচিব ডা. জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।

দিনব্যাপী এই ফ্রি স্পেশালাইজড হেলথ ক্যাম্পে ৭ শতাধিক দরীদ্র ও অসহায় রোগীকে স্বাস্থ্য সেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেনে নতুন বিমান হামলা, বহু হতাহতের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩৭ এম


ইউক্রেনে নতুন বিমান হামলা, বহু হতাহতের আশঙ্কা

রাশিয়া নতুনভাবে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলার জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। কিয়েভের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলায় শিশুসহ অন্তত কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও বহু ইউক্রেনীয় আহত হয়েছেন।

শনিবার (২০ জুন) টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যগুলো জানাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলীয় একাধিক অঞ্চলে একসঙ্গে এসব হামলা চালানো হয়েছে। দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে হামলায় আবাসিক বাড়িঘর, একটি পোস্ট অফিস এবং একাধিক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাভলোহরাদ শহরে ৮ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে এবং আরও একজন আহত হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চলে রশিয়ান হামলায় জ্বালানি ট্যাংকার ও একটি গ্যাস ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। এই ঘটনায় একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। টানা বিমান হামলার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে, পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক শহরে পৃথক হামলায় তিনজন নিহত হয়েছে এবং অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে।

দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার হামলাকে ‘বিমান সন্ত্রাস’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং মস্কো হামলা বন্ধ করার ইচ্ছা নেই বলে দাবি করেছে। সেইসঙ্গে ইউক্রেনের পশ্চিমা অংশীদারদের কাছে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্য দিকে, রাশিয়ায় দাবি করেছে, তারা রাতভর ড্রোন হামলার ফলে ইউক্রেনের ১৩৩টি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর দাবি, তারা ৭৯টি রুশ ড্রোন ধ্বংস করতে সফল হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই সংবাদমাধ্যমটির।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৫২ এম


ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার টেলকি এলাকায় একটি ছাগল পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্তে পড়ে যাওয়ার কারণে ছাগলটি উদ্ধার করতে গিয়ে চারজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এটি ঘটে শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার টেলকি এলাকায়। মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.কে এম ফজলুর হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন যে, একটি ছাগল গর্তে পড়ে গেলে সেটিকে উদ্ধার করতে প্রথমে একজন গর্তে নামেন। তবে, পরে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য কয়েকজনও গর্তে প্রবেশ করেন। তখন বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তারা গর্তের ভেতরেই আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু ঘটে।

মৃতরা সবাই গারো সম্প্রদায়ের সদস্য এবং একই পরিবারের সদস্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় এলাকার মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিচয় এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজে পুলিশ নিয়োজিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%