ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এভারেস্টে ৩০ বছর ধরে পড়ে থাকা মৃ’তদেহ ‘গ্রিন বুটস’ এবার ফিরবে পরিবারের কাছে


এভারেস্টে ৩০ বছর ধরে পড়ে থাকা মৃ’তদেহ ‘গ্রিন বুটস’ এবার ফিরবে পরিবারের কাছে

মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ার নিকট প্রায় ৩০ বছর ধরে পড়ে থাকা ‘গ্রিন বুটস’ নামে পরিচিত একটি মৃতদেহ এবার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারত। কর্তৃপক্ষের ধারণা, মৃতদেহটি সেই ১৯৯৬ সালে এভারেস্টে তুষারঝড়ে নিহত ভারতীয় পর্বতারোহী দোরজে মোরুপের।

এভারেস্টে পড়ে থাকা শত শত মৃতদেহের মধ্যে, ‘গ্রিন বুটস’ সবচেয়ে পরিচিত মৃতদেহগুলোর অন্যতম। দীর্ঘ সময় ধরে এটি পর্বতারোহীদের কাছে চূড়ার পথে এক ভয়াবহ কিন্তু চেনা পথচিহ্ন হিসেবে পরিচিত ছিল। মৃতদেহটি প্রায় ৮ হাজার ৫০০ মিটার উচ্চতায় চীনের দিকে ঢালে বরফের মধ্যে পড়ে আছে।

দোরজে মোরুপ ইন্দো তিব্বত সীমান্ত পুলিশের ল্যান্স নায়েক ছিলেন। ১৯৯৬ সালে তিনি ছয় সদস্য সন্নিবেশিত ভারতীয় অভিযাত্রী দলের হয়ে এভারেস্টের বিপজ্জনক উত্তর দিক দিয়ে চূড়ায় ওঠার প্রয়াস করেন। তুষারঝড়ের কারণে দলের তিন সদস্য ফিরে গেলেও, মোরুপ এবং আরো দুই পর্বতারোহী চূড়ার দিকে আগানোর সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সে দাঙ্গা ও লুটপাট, ম্যাক্রোঁর কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

শেষ পর্যন্ত তারা ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার উচ্চতার এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হন। কিন্তু ফেরার সময় তীব্র তুষারঝড়ে তাদের তিনজনই মারা যান। এদের মধ্যে দুজনের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি, কিন্তু তৃতীয় মৃতদেহটি দীর্ঘদিন ধরে ‘গ্রিন বুটস’ নামে পরিচিত হয়ে আছে।

এখন পর্যন্ত, ধারণা করা হয়ে ছিল যে, ‘গ্রিন বুটস’ আসলে একই অভিযানের আরো এক সদস্য তসেওয়াঙ পালজোরের মৃতদেহ। কিন্তু ১৯৯৬ সালের অভিযানের জীবিত সদস্যদের তথ্য, পর্বতারোহীদের সঙ্গে সর্বশেষ রেডিও যোগাযোগ এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোরুপের পোশাক ও পর্বতারোহণের সরঞ্জাম পরীক্ষা করে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মোরুপের মৃতদেহ বলে মনে করছে।

ভারত মরদেহটি ফিরিয়ে এনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করেছে। এরপর মৃতদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সংশ্লিষ্ট পর্বতারোহীরা জানিয়েছেন, মৃত দেহ উদ্ধারের কাজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এভারেস্টের যে অঞ্চলটিকে ‘ডেথ জোন’ বলা হয়, সেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। সেখানে অক্সিজেনের পরিমাণ সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় প্রায় এক তৃতীয়াংশ।

আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

‘গ্রিন বুটস’ যেখানে পড়ে আছে, সেটি চীনের দিকের খাড়া ঢাল। সেখানে উদ্ধারকারী দলের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তুলনামূলকভাবে কমই রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র ওই জায়গায় পৌঁছাতেই ১০ থেকে ১২ জন দক্ষ পর্বতারোহীর প্রয়োজন হতে পারে।

মৃতদেহটি উপরে নামানোর সময় বিশেষ দড়ি স্থাপন করতে হবে এবং এরপর এমন উচ্চতায় পৌঁছাতে হবে যেখানে হেলিকপ্টারে করে তা সরানো সম্ভব। পুরো অভিযানে বিপুল অর্থ এবং জনবল প্রয়োজন হবে। তবে এবার দোরজে মোরুপকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে ইন্দো তিব্বত সীমান্ত পুলিশ নিজেই উদ্ধার অভিযানের অর্থায়ন করছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে এবং এ জন্য তারা অভিজ্ঞ পর্বতারোহী ও উদ্ধারকারী শেরপা দল খুঁজছে।

মোরুপের পরিবার প্রায় তিন দশক ধরে তাঁর ফিরে আসার অপেক্ষা করছে। তাঁর স্ত্রী কনচাক ইয়াংস্কিট বিবিসিকে জানিয়েছেন, তিনি কখনোই স্বামীর মৃত্যু পুরোপুরি মেনে নিতে পারেননি। তিনি বলেন, কিছু কিছু রাতে মনে হতো যে, মোরুপ দরজায় কড়া নাড়বে।

মোরুপের পরিবারের কাছে এখনো তাঁর কিছু পদক, ট্রফি, পুরোনো ছবি এবং এভারেস্ট জয়ের সনদ রয়েছে। চীনা সরকারের দেওয়া ওই সনদে উল্লেখ আছে যে, ১৯৯৬ সালের ১০ মে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে মোরুপ এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছিলেন।

আরও পড়ুন: ধর্মীয় উৎসব শিশুদের নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দেয়: ডেপুটি স্পিকার

পরিবারের পরিকল্পনা এটি, যদি মৃতদেহটি উদ্ধার করে দেশে আনা সম্ভব হয়, তবে লাদাখের লেহতে তাঁর শেষকৃত্য করার। মোরুপের ছেলে পুনচোক দোরজাই বলেছেন, তাঁর বাবাকে শহীদ হিসেবে স্মরণ করা উচিত।

তবে পরিবারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ‘গ্রিন বুটস’। মোরুপের ছেলে জানিয়েছেন, তাঁর বাবার এভারেস্ট জয়ের সনদের পাশে সেই বুটটিও স্মৃতি হিসেবে রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আমিরাতে ছুটি ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২৯ পি.এম


পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আমিরাতে ছুটি ঘোষণা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আগামী শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আমিরাত সরকারের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, এদিন দেশটির ফেডারেল সরকার ও বেসরকারি খাতের কর্মীরা বেতনসহ ছুটি পাবেন।

এদিকে, শুক্রবার ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি হওয়ার কারণে পরের দুদিন, অর্থাৎ শনি ও রবিবার (২৯-৩০ আগস্ট) সাপ্তাহিক ছুটি পাবেন দেশটির সরকারি চাকরিজীবীরা। এর পরিণামে ২৮ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ছুটি শেষে চাকরিজীবীদের সোমবার (৩১ আগস্ট) থেকে কর্মস্থলে ফিরে আসতে হবে।

হিজরি বর্ষের রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে মুসলিমদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটি পালিত হয়। ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিভিন্ন দেশে কোরআন তিলাওয়াত, ধর্মীয় আলোচনা ও দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সারাজীবন ‘ভুল নামেই’ খেলেছেন কাসেমিরো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৪ পি.এম


সারাজীবন ‘ভুল নামেই’ খেলেছেন কাসেমিরো

জীবনে অনেক ভুল কাসেমিরো শুধরে নিয়েছেন। তবে একটি ভুল তিনি কখনো ঠিক করতে চান না, সেটি হচ্ছে তার জার্সিতে থাকা নামের বানান।

কাসেমিরোকে যে ভুলটা করতে হয়েছিল, তা কিন্তু তিনি নিজে করেননি। বরং, এই ভুল করেছে তার শৈশবের ক্লাব সাও পাওলো। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকার পুরো নাম হচ্ছে কার্লোস হেনরিকে জোসে ফ্র্যান্সিসকো ভেনাসিও কাসেমিরো (Carlos Henrique Jose Francisco Venancio Casimiro)।

২০০২ সালে সাও পাওলোতে যোগ দেওয়ার সময় ক্লাব তার নামে একটি জার্সি বানায়। কিন্তু সেখানে ‘Casimiro’ এর পরিবর্তে ‘Casemiro’ ফোঁটানো হয়। প্রথম দিকে বিষয়টি কাসেমিরোর কাছে খারাপ লাগলেও, ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম করার পর তিনি নাম পরিবর্তন করতে চাননি। এই ভুল নাম নিয়েই তিনি বর্তমানে ব্রাজিল, রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং এখন ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন।

নামের বানান নিয়ে ইতালির সংবাদ মাধ্যম লা রিপাবলিকাকে কাসেমিরো বলেছেন, ‘সবার কাছে আমি আজীবন ‘কাসেমিরো’ (Casemiro) হয়ে থাকব। সব দোষ সাও পাওলোর! ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল তখন, যখন আমি সাও পাওলোর হয়ে আমার প্রথম ম্যাচ খেলছিলাম। আমি এই ক্লাবের বয়সভিত্তিক দল থেকে উঠে মূল দলে খেলেছি (২০০২ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত)। তারা দুর্ঘটনাবশত আমার জার্সিতে নামের বানান ‘i’-এর জায়গায় ‘e’ লিখেছিল। আর সেই ম্যাচে আমি দারুণ খেলেছিলাম!’

কাসেমিরো কুসংস্কারের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন বানান ঠিক না করার পেছনে। ব্রাজিলের মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘আমি খুবই কুসংস্কারাচ্ছন্ন একজন মানুষ। তাই ক্লাবকে বলেছিলাম, বানান আর বদলানোর দরকার নেই। যেভাবে চলছে বেশ ভালোই তো চলছে! ওটা ছিল স্রেফ একটা ম্যাচের ভুল, আর এখন সেই নামটাই সারা জীবনের জন্য বহন করছি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদায়ী অর্থবছরে রেকর্ডসংখ্যক কর্মী বিদেশে পাঠিয়েছে বোয়েসেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৫ পি.এম


বিদায়ী অর্থবছরে রেকর্ডসংখ্যক কর্মী বিদেশে পাঠিয়েছে বোয়েসেল

বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ ১৯ হাজার ১৯৭ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে পাঠিয়েছে। এটি প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ কর্মী প্রেরণ এবং আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩ হাজার ১৩১ জন বা ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

বোয়েসেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ১৬ হাজার ৬৬ জন কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থান লাভ করেন। এক বছরের ব্যবধানে এ সংখ্যা বেড়ে ১৯ হাজার ১৯৭ জনে পৌঁছেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বোয়েসেলের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ১৪ হাজার ৫৪৩ জন কর্মী জর্দানে গেছেন। এ ছাড়া ব্রুনাইয়ে ১ হাজার ৮১২ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১ হাজার ৪০৪ জন, মালয়েশিয়ায় ১ হাজার ৭ জন, রাশিয়ায় ৩৪২ জন, ইরাকে ৬৪ জন, জাপানে ১১ জন, হংকংয়ে ৪ জন, কুয়েতে ৫ জন এবং ফিজিতে ৫ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে।

বোয়েসেলের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ৩৬টি দেশে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩৮ জন বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরাক, হংকং, কুয়েত, ব্রুনাই, রাশিয়া, ফিজি, জাপান ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠাচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বেও বিভিন্ন দেশে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাশেদুল হক বলেছেন, ‘গত অর্থবছরের তুলনায় এ অর্থবছরে বোয়েসেলের মাধ্যমে বিদেশে জনশক্তি প্রেরণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

এর অন্যতম কারণ হলো, সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর কাছে বোয়েসেলের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পাওয়া।’

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট রেজিমের সময় জনশক্তি রপ্তানির বাজার একটি মাত্র সিন্ডিকেট ও মাফিয়া চক্রের দখলে ছিল। ফলে স্বল্প খরচে বিদেশে যেতে আগ্রহী সাধারণ মানুষের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। ফ্যাসিস্ট রেজিমের পতনের পর সেই সুযোগ আবার ফিরে এসেছে। শুধু ফিরে আসেনি, যেসব বাজারে সিন্ডিকেট ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে বোয়েসেল সফল হয়েছে।

বিশেষ করে সিন্ডিকেটের তৎপরতায় বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েকটি শ্রমবাজার বোয়েসেলের উদ্যোগে আবার উন্মুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

মোহাম্মদ রাশেদুল হক বলেন, ‘বোয়েসেল সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ভিত্তিতে জনশক্তি রপ্তানি করে। বিশ্বাস ও আস্থার এই সম্পর্ক অব্যাহত থাকলে বিএনপি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বিদেশে জনশক্তি প্রেরণের ক্ষেত্রে বোয়েসেল একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারবে।’

সরকারের ১০ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে বোয়েসেলের মাধ্যমে ঠিক কতজন কর্মী বিদেশে যেতে পারবেন, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তবে অতীতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া মোট কর্মীর মাত্র প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বোয়েসেলের মাধ্যমে গেছেন।’

বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘সরকার যদি স্বচ্ছ নীতিমালার মাধ্যমে সিন্ডিকেটের প্রভাব থেকে বৈদেশিক শ্রমবাজারকে মুক্ত করে স্বল্প খরচে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সুযোগ আরো বাড়াতে চায়, তাহলে বোয়েসেলকে কার্যকর করার কোনো বিকল্প নেই। দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। মানুষের সেবা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা যত ভালোভাবে মানুষকে সেবা দিতে পারব, ততই ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বিদ্যমান শ্রমবাজারগুলোকে আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি অতীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া বাজারগুলো পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় নতুন শ্রমবাজারও চিহ্নিত করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যমান, বন্ধ এবং সম্ভাবনাময়— এই তিনটি শ্রেণিতে বাজারগুলোকে ভাগ করে কোথায় কী ধরনের সুযোগ রয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরির ওপর।’

জানতে চাইলে বোয়েসেলের নির্বাহী পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. শওকত আলী জানান, চলতি অর্থবছরে ৪০ হাজার জনশক্তি পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বোয়েসেল।

বোয়েসেলের তথ্য অনুযায়ী, এ লক্ষ্য পূরণ হলে বোয়েসেল গত অর্থবছরের রেকর্ড ভেঙে দ্বিগণের বেশি জনশক্তি রপ্তানি করে অনন্য রেকর্ড করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (বৈদেশিক নিয়োগ) নূর আহমেদ জানিয়েছেন, গত জুলাই মাসে বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক হাজার ৪৩১ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। আমরা বর্তমানে আমাদের বিদ্যমান বাজারের বাইরে গিয়ে নতুন করে বাজার বর্ধিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

বর্তমানে মঙ্গোলিয়ায় বাজার বর্ধিত করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত শিগগিরই চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ থেকে বছরে ১৪ হাজার কোটি ডলার আয় করতে পারে ইরান!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৪০ পি.এম


হরমুজ থেকে বছরে ১৪ হাজার কোটি ডলার আয় করতে পারে ইরান!

ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য একটি কাঠামোগত সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে সম্ভাব্য এই সমঝোতা শুধু সমুদ্রপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডরে ইরানের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে।

ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, “যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে হবে।” তিনি আরও বলেছেন, “ইরান আর বেশিদিন চালিয়ে যেতে পারবে না।”

যুদ্ধের আগে স্বাভাবিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি থেকে ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি পরিবহন হতো। এটি বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চেমাংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশের সমান।

এছাড়া বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজিও এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালিকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ‘চোকপয়েন্ট’গুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর ইরান ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে জলপথটি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক ভূমিকা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

তবে ইরান ও ওমানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা হলেই হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত হবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি।

তেহরানের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে ইরানের একাধিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শর্ত পূরণ করতে হবে। এরপরই প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল পুরোপুরি পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি হতে পারে।

ঘারিবাবাদির এই বক্তব্য আসে তেহরান ও মাসকাট সরু জলপথটির মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট ভৌগোলিক রুটে একমত হওয়ার খবর প্রকাশের এক দিন পর। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ দ্রুত খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

৭ শতাংশ পর্যন্ত ‘সার্ভিস ফি’ চাইছে ইরান। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্যবাহী চালানের মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ‘ট্রানজিট’ বা ‘সার্ভিস ফি’ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।

অন্যদিকে, ওমান মালাক্কা প্রণালির আদলে একটি স্বেচ্ছামূলক ফি ব্যবস্থার কথা বলেছে। এ ধরনের ব্যবস্থায় নৌ-নিরাপত্তা, নেভিগেশন, পরিবেশ সুরক্ষা ও উদ্ধারসেবার মতো খাতের জন্য জাহাজগুলো স্বেচ্ছায় অর্থ প্রদান করে। এটি বাধ্যতামূলক টোলের চেয়ে ভিন্ন ব্যবস্থা।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নিয়ন্ত্রিত বাধ্যতামূলক ফি ব্যবস্থার বিরোধিতা করছে। এ নিয়ে আলোচনা চললেও হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পাশাপাশি বীমা ব্যয়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি, অর্থ পরিশোধের বৈধতা এবং সম্ভাব্য ফি বাস্তবে কীভাবে আদায় করা হবে- এসব প্রশ্নও এখনও অমীমাংসিত।

৭ শতাংশ টোল হলে বছরে কত আয়? হরমুজ দিয়ে যুদ্ধপূর্ব সময়ের মতো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং পণ্যের মূল্যকে ভিত্তি করে ৭ শতাংশ ফি আরোপ করা হয়- এমন একটি সম্ভাব্য হিসাব করা হয়েছে।

এই হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ৩৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং বছরে প্রায় ১৪০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত মোট রাজস্ব আদায় সম্ভব হতে পারে।

ফি আদায়ের ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় প্রায় ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত অর্থকে ‘নিট মুনাফা’ হিসেবে ধরলে বার্ষিক নিট আয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৩৬ বিলিয়ন ডলার।

তবে এটি কোনও নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়। বরং সম্ভাব্য পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে করা একটি হিসাব।

বাস্তবে ইরানের আয় নির্ভর করবে চূড়ান্ত ফি কত নির্ধারণ করা হয়, কত শতাংশ জাহাজ তা পরিশোধ করে, কোন কোন জাহাজ বা পণ্য ছাড় পায়, ফি আদায় কতটা কার্যকর হয় এবং বাড়তি খরচ বা আইনি ঝ Risks of that may possibly hinder shippers from continuing to use Hormuz.

এক জাহাজ থেকেই আয় কোটি ডলারের বেশি। বিষয়টি বোঝাতে একটি বড় তেলবাহী জাহাজ বা ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি)-এর উদাহরণ দেওয়া যায়। একটি ভিএলসিসিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা সম্ভব। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৮০ ডলার হলে পুরো চালানের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৬ কোটি ডলার।

এর ৭ শতাংশ ফি হলে একটি জাহাজের একবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতেই দিতে হতে পারে প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ থেকে ১ কোটি ১২ লাখ ডলার। অর্থাৎ, প্রতিটি বড় তেলবাহী জাহাজ থেকে আদায় করা অর্থই কয়েক কোটি ডলারের কাছাকাছি হতে পারে।

বিশ্বের বৃহৎ কোম্পানিগুলোর আয়ের সঙ্গে তুলনা। ৭ শতাংশ ফি থেকে বছরে প্রায় ১৩৬ বিলিয়ন ডলার নিট আয় সম্ভব হলে তা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও লাভজনক কয়েকটি কোম্পানির বার্ষিক নিট আয়ের সমপর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে। এমনকি এই কাল্পনিক আয় অ্যালফাবেট, এনভিডিয়া, অ্যাপল, মাইক্রোসফট এবং সৌদি আরামকোর মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক বার্ষিক নিট আয়ের সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে।

তবে হরমুজের সম্ভাব্য আয়কে এসব কোম্পানির নিট আয়ের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ করপোরেট মুনাফা ও একটি আন্তর্জাতিক নৌপথের ওপর আরোপিত ফি থেকে পাওয়া রাজস্বের প্রকৃতি এক নয়। সুয়েজ খালের আয়ের চেয়েও বহুগুণ বেশি? হরমুজের সম্ভাব্য আয়ের আরেকটি চমকপ্রদ তুলনা সুয়েজ খালের সঙ্গে। মিসরের সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খালটি প্রায় ৪ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করেছে। লোহিত সাগরে আগের সংকটের কারণে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার পর তা আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার হওয়ায় আগের বছরের তুলনায় রাজস্ব বেড়েছে।

এর তুলনায় হরমুজে ৭ শতাংশ ফি থেকে সম্ভাব্য ১৪০ বিলিয়ন ডলার বার্ষিক মোট আয় প্রায় ৩০ গুণের সমান। এমনকি সুয়েজ খালের ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়ের সময়ের সঙ্গেও এই কাল্পনিক অঙ্কের ব্যবধান অনেক বেশি। ইরানের অর্থনীতি বিবেচনায় কতটা বড়? হরমুজের সম্ভাব্য আয়ের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য ইরানের নিজস্ব অর্থনীতির সঙ্গে তুলনা করলে স্পষ্ট হয়। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০২৫ সালে ইরানের নামমাত্র জিডিপি ছিল আনুমানিক ৩৬৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ হরমুজ থেকে বছরে ১৪০ বিলিয়ন ডলার মোট রাজস্ব আদায় করা গেলে তা ইরানের পুরো অর্থনীতির প্রায় ৩৯ শতাংশের সমান হবে। ১৩৬ বিলিয়ন ডলার নিট আয়ের হিসাব ধরলেও তা ইরানের জিডিপির প্রায় ৩৭ শতাংশ।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এই আয় করতে ইরানকে অতিরিক্ত এক ব্যারেল তেলও উৎপাদন করতে হবে না। শুধু বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জ্বালানি পরিবহনপথে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করেই এত বিপুল অর্থ আদায়ের তাত্ত্বিক সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আগের হিসাব ছিল অনেক কম। তবে ৭ শতাংশ ফি থেকে ১৪০ বিলিয়ন ডলারের হিসাবটি ইরানের আগের কিছু প্রস্তাবের তুলনায় অনেক বেশি। এর আগে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা ‘নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও পরিবেশগত সেবা’ বাবদ মোট বার্ষিক আয় প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে ইরানের পক্ষ থেকে হিসাব দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া প্রতি ব্যারেলে ১ থেকে ২ ডলার বা প্রতিটি ভিএলসিসির জন্য প্রায় ২০ লাখ ডলারের মতো নির্দিষ্ট ফি নেওয়ার ধারণাও আলোচনায় এসেছে। এসব ব্যবস্থায় সম্ভাব্য আয় ৭ শতাংশের হিসাবের তুলনায় অনেক কম হবে।

সবচেয়ে বড় বাধা আন্তর্জাতিক আইন। হরমুজ প্রণালিতে ইরান ইচ্ছামতো ‘টোল বুথ’ বসিয়ে জাহাজ থেকে অর্থ আদায় করতে পারবে কি না—এ নিয়েই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের স্বাভাবিক চলাচলের জন্য অর্থ পরিশোধকে বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে আরোপ করতে গেলে ইরানকে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক আইনগত বাধার মুখে পড়তে হবে।

জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন বা ইউএনসিএলওএস অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে ব্যবহৃত প্রণালিতে জাহাজের ‘ট্রানজিট প্যাসেজ’-এর অধিকার রয়েছে এবং সেই চলাচল বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়। উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলো নৌ চলাচল, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়ে বিধি তৈরি করতে পারে। তবে এসব বিধি বিদেশি জাহাজের প্রতি বৈষম্যমূলক হতে পারে না এবং এর ফলে ট্রানজিট প্যাসেজের অধিকার কার্যত অস্বীকার, বাধাগ্রস্ত বা ক্ষতিগ্রস্তও করা যাবে না।

তবে সব ধরনের ফি বেআইনি নয়। এর অর্থ এই নয় যে জাহাজ থেকে কোনও ধরনের অর্থ নেওয়াই আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ। ইউএনসিএলওএসের ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনও জাহাজকে বাস্তবে দেওয়া নির্দিষ্ট সেবার বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ফি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এখানে ‘সার্ভিস ফি’ ও ‘টোল’-এর মধ্যে আইনি পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ইরান যদি নেভিগেশন, নিরাপত্তা, উদ্ধারসেবা বা পরিবেশ সুরক্ষার মতো বাস্তব ও শনাক্তযোগ্য সেবার বিনিময়ে যুক্তিসংগত ফি নেয়, সেটি এক ধরনের ব্যবস্থা। কিন্তু যদি কোনও জাহাজকে হরমুজ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার শর্ত হিসেবেই পণ্যের মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়, তাহলে সেটিকে কার্যত ‘টোল’ হিসেবে দেখা হতে পারে। এ ধরনের বাধ্যতামূলক ফি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না- সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

আইনি পরিস্থিতি আরও জটিল কারণ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র- কোনও দেশই ইউএনসিএলওএস চুক্তি অনুমোদন করেনি। তবে আন্তর্জাতিক প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা সম্পর্কিত বেশ কিছু নীতি আন্তর্জাতিক প্রথাগত আইনের অংশ হিসেবে ব্যাপকভাবে বিবেচিত হয়। একই সঙ্গে এসব নীতি ইরানের ওপর ঠিক কতটা এবং কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে তেহরানের ভিন্ন অবস্থান রয়েছে। ফলে শুধু কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তির একটি ধারা দেখিয়েই হরমুজের সম্ভাব্য ফি ব্যবস্থার পুরো আইনি বৈধতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

হরমুজে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই কি আসল লক্ষ্য? ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের ক্রিটিক্যাল থ্রেটস প্রজেক্ট ইরানের প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রিত ট্রানজিট ব্যবস্থাকে হরমুজের ওপর তেহরানের কার্যকর নিয়ন্ত্রণকে স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য করে তোলার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেছে। তাদের বিশ্লেষণে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, ইরানের এমন নিয়ন্ত্রণ স্বীকৃতি পেলে হরমুজে অবাধ নৌ চলাচলের নীতিই দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জলপথটি ব্যবহারের শর্ত নির্ধারণের জন্য তেহরানের হাতে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা চলে আসতে পারে। অর্থাৎ, হরমুজের ‘সার্ভিস ফি’ নিয়ে বিতর্কটি শুধু কয়েক বিলিয়ন বা শত বিলিয়ন ডলারের রাজস্বের প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও বড় একটি বিষয়- আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের কর্তৃত্ব কতটা প্রতিষ্ঠিত হবে।

৭ শতাংশ ফি: বিশাল সম্ভাবনা, কিন্তু নিশ্চিত আয় নয় কাগজে-কলমে হরমুজ প্রণালির ৭ শতাংশ ফি ইরানের জন্য অভাবনীয় রাজস্বের দরজা খুলে দিতে পারে। যুদ্ধপূর্ব বাণিজ্যিক প্রবাহ পুরোপুরি ফিরে এলে এবং সব জাহাজের ওপর ফি কার্যকর করা গেলে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় সম্ভব—এমনকি কিছু হিসাব অনুযায়ী তা ১৪০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এই হিসাব কার্যকর হওয়ার পথে বড় ধরনের বাধা রয়েছে।

ফি বেশি হলে জাহাজ মালিক ও বীমা কোম্পানিগুলো হরমুজ এড়িয়ে বিকল্প পথ বেছে নিতে পারে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু পাইপলাইন হরমুজের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। ইরানেরও সীমিত বিকল্প পরিবহন সক্ষমতা রয়েছে। এর পাশাপাশি রয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক বীমা ব্যবস্থা, অর্থ পরিশোধের বৈধতা এবং সম্ভাব্য আইনি বিরোধ।

ফি কমিয়ে আনা হলে, তা স্বেচ্ছামূলক করা হলে, কিছু জাহাজকে ছাড় দেওয়া হলে কিংবা ওমান ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি করতে হলে ইরানের প্রকৃত আয়ও নাটকীয়ভাবে কমে যাবে। তাই ৭ শতাংশের হিসাবকে নিশ্চিত রাজস্ব নয়, বরং হরমুজের ভৌগোলিক গুরুত্ব থেকে ইরানের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাবের একটি উচ্চমাত্রার তাত্ত্বিক চিত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত হরমুজ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জাহাজ চলাচল বজায় রাখা, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ফি কাঠামো তৈরি, অর্থ আদায়ের কার্যকর ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক ও আইনি সমঝোতা- এই চারটি বিষয় নিশ্চিত না হলে কাগজে-কলমের ১০০ থেকে ১৪০ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা বাস্তব রাজস্বে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই সীমিত। অর্থাৎ, হরমুজ নিয়ন্ত্রণ ইরানের জন্য বিশাল অর্থনৈতিক ‘লিভারেজ’ তৈরি করতে পারে; কিন্তু সেই লিভারেজকে বিশ্বের বৃহৎ কোম্পানিগুলোর সমপর্যায়ের স্থায়ী আয়ে রূপান্তর করা এখনও অনেক দূরের বিষয়। সূত্র: গালফ নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%