বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:৫২ পি.এম
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ আকাশচুম্বী ভবন সিটিক টাওয়ারে ছোট একটি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার তারা জানায়, বিমানটির ৬৬ বছর বয়সী পাইলট অতীতে আত্মহত্যার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই আসনের একটি সানওয়ার্ড এসএ ৬০এল অরোরা বিমান বিশ্বের অন্যতম কঠোর বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এড়িয়ে ১০৯ তলা ও ৫২৮ মিটার উঁচু সিটিক টাওয়ারে আঘাত হানে। এতে পাইলট নিহত হন এবং আরও ১৩ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কেউ আশঙ্কাজনক নয়। তাদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
চাওইয়াং জেলা সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লিউ নামের ওই পাইলট শুক্রবার বিকেলে উত্তর পূর্ব বেইজিংয়ের একটি সাধারণ বিমানবন্দর থেকে প্রথমে একজন সঙ্গীকে নিয়ে উড্ডয়ন করেন। পরে তিনি একাই বিমান চালিয়ে নির্ধারিত ফ্লাইটপথ থেকে সরে যান। বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর রাজধানীর কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক এলাকায় অবস্থিত সিটিক টাওয়ারে বিমানটি আঘাত করে।
২০২১ সালে পাইলটের লাইসেন্স পাওয়া লিউ ছিলেন স্বনিযুক্ত, তালাকপ্রাপ্ত এবং একাকী জীবনযাপনকারী। তদন্তে তাঁর ব্যক্তিগত ডায়েরিতে একাধিকবার জীবন শেষ করার ইচ্ছার উল্লেখ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তাদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা ও উদ্বেগজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি এমন কাজ করেছেন, যা জননিরাপত্তাকে গুরুতরভাবে বিপন্ন করেছে।
দুর্ঘটনার সময় ভবন থেকে কাচের টুকরো এবং বিমানের ধ্বংসাবশেষ নিচের সড়কে ছিটকে পড়ে। এতে সাপ্তাহিক ছুটির আগে অফিস ত্যাগ করা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে বেইজিংয়ের আকাশ প্রতিরক্ষা ও বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এদিকে ঘটনার পরপরই চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এ সংক্রান্ত ভিডিও এবং বিভিন্ন পোস্ট সরিয়ে ফেলা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমও প্রথমদিকে এ বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি। পরে প্রায় এক দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ঘটনার তথ্য প্রকাশ করে চীনা কর্তৃপক্ষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের টঙ্গীতে অস্ত্রের মহড়ার ঘটনা নিয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের মধ্যে আরো আটজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মোট গ্রেপ্তারকৃতদের সংখ্যা বেড়ে ১১ জন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) এই তথ্য জানায়।
গ্রেপ্তার হওয়া আটজন ব্যক্তির নাম হল রিয়াজ (ওরফে রাজন), জাহাঙ্গীর শেখ, জহির, বায়েজিদ, রাজিব, হোসাইন, রাসেল ও সাগর। এর আগে একই মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে মানোয়ার হোসেন, কাজী তৌহিদুল ইসলাম সজিব এবং রনি খাককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৮ জুন টঙ্গীর শিল্পাঞ্চলের পাগার এলাকায় একটি ঝুট ব্যবসার পালা কেন্দ্র করে কয়েকশ মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে অস্ত্রের মহড়া দেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানার যুবদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন মণ্ডলসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা তার বাহিনীকে আটক করা হয়েছে, মামলাটির আওতায় ৭০ থেকে ৮০ জনের নামে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ আছে যে, পাগার এলাকার ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেড কারখানা থেকে মালামাল বের করার সময় অভিযুক্তরা মোটরসাইকেল নিয়ে এসে কারখানাকে ঘিরে ফেলে। তারপর তারা ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং অনুমতি ছাড়া ঝুট বিক্রি না করার জন্য হুমকি দেয়।
টঙ্গী পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তুহীন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে অভিযান চলাকালে চারজনকে আটক করা হয়েছে। অস্ত্র প্রদর্শনকারী কিশোরসহ অন্য জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনায় প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, কয়েকশ মোটরসাইকেলের বহর কারখানার সামনে অবস্থান নিয়েছে। একটি মোটরসাইকেলের পেছনে বসা এক কিশোরকে দেশীয় লম্বা অস্ত্র হাতে প্রদর্শন করতে দেখা যায়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর ফাঁসির আদেশ আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আদালত দিয়েছেন। উপজেলার কাঁচিয়া উইনিয়েনের আলোচিত গৃহবধূ আফজুন বেগম হত্যা মামলার রায়ে তার স্বামী মোক্তার হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ভোলা জেলা ও দায়রা জজ শরীফ এ এম রেজা জাকের এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আফজুন বেগম পারিবারিকভাবে মোক্তার হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ১৫ বছরের সাংসারিক জীবনে দুই সন্তান রয়েছে। মোক্তার হোসেন তার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া শালিকে বিভিন্ন সময়ে খারাপ ইঙ্গিত দিতেন।
আফজুন বেগম তার বড় বোনের কাছে বিষয়টি জানালে স্বামীকে জিজ্ঞেস করায় তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে আফজুন বেগমকে মোক্তার হোসেন প্রায়ই মারধর ও নানা ধরনের নির্যাতন করতেন।
২০১৯ সালের ৩০ জুন রাতে, মোক্তার হোসেন আফজুন বেগমকে ঘরের মধ্যে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে নিহতের বাবা বাদী হয়ে জামাতা মোক্তার হোসেনকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় দীর্ঘ সাত বছর পর বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এবং আসামির ১৬৪ ধারা জবানবন্দির আলোকেই আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. তৈয়ব বলেন, এই মামলায় আসামি তার স্ত্রীকে গলাটিপে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। মামলাটি তদন্তের পর আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সাক্ষী এবং নিহতের ময়নাতদন্তের রিপোর্টসহ সব বিষয় পর্যালোচনা করে আদালত সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেন এবং রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন। তিনি আরও জানান, এ রায়ে আমরা খুশি, আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি।
মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. ফরিদুর রহমান বলেন, মামলায় যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তারা কেউ বলেননি যে আসামি হত্যার সঙ্গে জড়িত। তবে আসামি নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি স্ত্রীর মৃত্যু ঘটিয়েছেন। এ আলোকেই হাকিম তাকে ফাঁসির আদেশ দেন। তিনি জানিয়েছেন, এ মামলা আপিলে গেলে সাজা কমে আসতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভ্যাটিকান জানিয়েছে যে, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক রক্ষণশীল ক্যাথলিক গোষ্ঠী সোসাইটি অব সেন্ট পিয়াস এক্স (এসএসপিএক্স)-এর ছয়জন ধর্মযাজককে ধর্মচ্যুত করা হয়েছে পোপ চতুর্দশ লিওর অনুমতি ছাড়া বিশপ অভিষিক্ত করার কারণে।
বিশপ হলেন খ্রিস্টধর্মের একজন উচ্চপদস্থ যাজক বা ধর্মীয় নেতা। তিনি একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার (ডায়োসিস) গির্জা ও যাজকদের তত্ত্বাবধান করেন।
বৃহস্পতিবার, ভ্যাটিকানের ধর্মীয় মতবাদবিষয়ক দপ্তর ‘ডিকাস্টারি ফর দ্য ডকট্রিন অব দ্য ফেইথ’ এক ডিক্রিতে উল্লেখ করেছে যে, গোষ্ঠীটি বর্তমানে চার্চের অনুমোদন ছাড়া ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ডিক্রিতে বলা হয়েছে, এসএসপিএক্স ক্যাথলিক চার্চের কিছু মৌলিক শিক্ষা প্রত্যাখ্যান করেছে। আর এর ফলে, তারা বৈধভাবে বিবাহ অনুষ্ঠান পরিচালনা করার কিংবা স্বীকারোক্তি গ্রহণ করার মত ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে না।
পোপ লিওর অনুরোধকে উপেক্ষা করে, গোষ্ঠীটি বুধবার চারজন নতুন বিশপকে অভিষিক্ত করে। এর এক দিন পরই ভ্যাটিকান এই সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করে। ক্যাথলিক চার্চের নিয়ম অনুসারে, নতুন বিশপ নিয়োগের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র পোপের। চার্চের ঐতিহ্য ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য এই নিয়ম পালন করা হয়।
ভ্যাটিকান জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অননুমোদিত অনুষ্ঠানে নেতৃত্বদানকারী দুই বিশপ এবং নতুন অভিষিক্ত চার ধর্মযাজকসহ মোট ছয়জনকে ধর্মচ্যুত করা হয়েছে।
তবে, সোসাইটি অব সেন্ট পিয়াস এক্স তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বুধবার গোষ্ঠীটি দাবি করেছিল যে, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে তারা পোপের অনুমোদন ছাড়াই বিশপ অভিষেকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রয়টার্সের ছবির মাধ্যমে জানা যায় যে, তেহরানে যাওয়ার উদ্দেশে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ রয়েছেন। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তার যাত্রা শুরু হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য ডনে উল্লেখ করে, বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এফও) মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আগামী ৩ জুলাই থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত ইরান ও তুরস্ক সফর করবেন।
এ সফরের প্রথম পর্বে, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে অংশগ্রহণ করবেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকবেন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা।
তিনি আরও জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ইরানের নেতৃত্বের প্রতি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানাবেন। এ কঠিন সময়ের মধ্যে ভ্রাতৃপ্রতীম ইরানি জনগণের প্রতি পাকিস্তানের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করবেন।
এখন উল্লেখযোগ্য যে, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি ৩৬ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। তিনি ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের প্রথম দিনে শহিদ হন। তার জানাজা ৪ জুলাই তেহরানে অনুষ্ঠিত হবে এবং ৯ জুলাই, মাশহাদ শহরে নিজ শহরে দাফনের মাধ্যমে শেষ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ