ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খিলক্ষেত ও মিরপুরে ১,৯৫০ পিস ইয়াবাসহ চারজন গ্রেপ্তার


খিলক্ষেত ও মিরপুরে ১,৯৫০ পিস ইয়াবাসহ চারজন গ্রেপ্তার

রাজধানীর খিলক্ষেত ও মিরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একটি দম্পতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গতকাল সোমবার ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের খিলগাঁও সার্কেলের একটি টিম এই অভিযানগুলো সম্পন্ন করে। আজ মঙ্গলবার, ডিএনসি ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ)-এর উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।

ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, পরিদর্শক মো. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে প্রথম অভিযানটি খিলক্ষেত থানার কুড়াতলী পূর্বপাড়া এলাকায় পরিচালিত হয়। সেখানে স্থানীয় একটি জামে মসজিদসংলগ্ন হেলেন মিয়ার ভাড়াটিয়া মো. জুয়েল রানা (৫১) এবং তাঁর স্ত্রী হাসনা আক্তার (৩০) গ্রেপ্তার হন। তাঁদের বসতঘর তল্লাশি করে ১ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, গ্রেপ্তার হওয়া জুয়েল ও হাসনা স্বামী-স্ত্রী। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের সহযোগিতায় ইয়াবার ব্যবসা করে আসছিলেন। এই ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে ছাত্রদল নেত্রীর বিতর্কিত পোস্ট

একই দলের দ্বিতীয় অভিযানটি শাহ আলী থানার মিরপুর-১ এলাকায় পরিচালিত হয়। শাহ আলী মাজার বেষ্টনী প্রকল্প মার্কেটের ‘বিসমিল্লাহ বাণিজ্য ভাণ্ডার’ নামের দোকানের সামনে থেকে মৌসুমী বেগম (৩৭) এবং মো. আমির হামজা নূর (২৫) গ্রেপ্তার হন। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৩৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

ডিএনসি জানায়, এ দুজনের বিরুদ্ধেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়েছে।

উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, রাজধানীতে মাদকবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান দুটি পরিচালিত হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: শ্রমিকদের জন্য ৭ কোটি ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইনশৃঙ্খলার অবনতি, প্রতিমন্ত্রীকে অস্ত্র হাতে নামতে হচ্ছে: জামায়াত আমির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৮ পি.এম


আইনশৃঙ্খলার অবনতি, প্রতিমন্ত্রীকে অস্ত্র হাতে নামতে হচ্ছে: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে একজন প্রতিমন্ত্রীকে অস্ত্র হাতে বের হতে হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়িতে কক্সবাজারে একদিনে ৫০টি ট্রাকে ডাকাতি হয়েছে। দিস ইজ বাংলাদেশ। দিস ইজ বাংলাদেশ।’

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে শিবিরের সাথী ও সদস্য সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র হাতে বের হওয়া দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রমাণ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সরকারের কোনো নজর নেই। তারা বিরোধী দলকে নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত। সরকারের উচিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে মনোযোগী হওয়া।

ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ‘বিভিন্ন স্থানে সরকারি দলের এমপিরা বলছেন, আমরা আমাদের দলের কাছে গ্রেটফুল (কৃতজ্ঞ) না। আমরা আওয়ামী লীগের কাছে গ্রেটফুল। তারা আমাদের নির্বাচনে জয়ী করে দিয়েছেন। এক মুখে এত কথা বললে মানুষ এগুলো বোঝে। মানুষ এত বোকা নয়। আমাদের কোনো কাঁচা কথার জবাব দেওয়ার সময় নেই। জাতি জানে কে জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে আর কে করেনি।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নেতারা বলছেন, দলীয় প্রার্থীকে না জেতালে কোনো বরাদ্দ আসবে না। এটাকে সাংবাদিক সমাজ কীভাবে দেখে? সব সময় আমাকে প্রশ্ন করা হয়। আজ এই প্রশ্ন আমি সাংবাদিকদের করলাম।’ তিনি জানান, জাতি আর কোনো প্রহসন দেখতে চায় না। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তবে আলামত ভালো দেখছি না।

এর আগে, মঙ্গলবার সকালে ৯টায় হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান বিরোধীদলীয় নেতা। সেখান থেকে নগরের চকবাজারে সাফা অর্কিডে উত্তর জেলা জামায়াতের আয়োজিত ইউনিয়ন দায়িত্বশীল সমাবেশে যোগ দেন। পরে দুপুরে নগরের জিইসি কনভেনশন হলে মহানগর জামায়াতের আয়োজিত শিবিরের সাবেক সাথী ও সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।

এ সময় তিনি বলেন, ‘দেশে ৫৪ বছর ধরে পরিবর্তনের যে আন্দোলন, তার একটা হালকা ঝলক ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এসেছিল। কারণ জুলাই বিপ্লবকে এখনো সমাজ কোনো স্বীকৃতি দেয়নি। আবারও মানুষের ওপর পুরোনো অপশাসন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা আমাদের সঙ্গে মজলুম ছিলেন।’

জামায়াতের ওপর ১৭ বছর ধরে চলা আওয়ামী নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ১২ জন নেতাকে বিচারবহির্ভূতভাবে ফাঁসির কাষ্ঠে নেওয়া হয়েছে। ১১ জনকে বিনাদোষে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। একজনকে আল্লাহ রেখে দিয়েছেন সত্যের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য। তিনি হলেন এটিএম আজহার। তার সব মামলা মিথ্যা বলে তাকে খালাস দিয়েছেন আদালত। অন্য ১১ জন ন্যায়বিচার পেলে সেদিনই সেই রায় আসত।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হয়নি। কারণ বিএনপি জুলাই বিপ্লবের সময়ই বলেছিল, এই আন্দোলনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। জুলাইয়ের পরে তারা একবার বলেছিল তাদের দলীয় শহীদের সংখ্যা ৪২২ জন, আরেকবার বলেছিল ৮১৭ জন। পরে দেখা গেল তাদের তৈরি করা তালিকায় শিবিরের সাথী ও সদস্যের নামও রয়েছে। আর আমরা একবারও জুলাইয়ের ক্রেডিট নিইনি। আন্দোলনের সময় সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলাম, এই আন্দোলন জনগণের আন্দোলন। সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ো।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘জামায়াতকে আক্রমণ করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ জায়গা থেকেও কাঁচা কথাবার্তা আসছে। জামায়াত নাকি বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে! কই, আমাদের কারও হাতে তো টিকিট নেই! আমরা বলব, বেহেশতের টিকিট নয়, আমরা নিজেরা বেহেশতের রাস্তা চেনার চেষ্টা করি এবং সেই রাস্তা জনগণকে দেখাচ্ছি। কিন্তু চারদিক থেকে মৌচাকে ঢিল মারা হচ্ছে। বন্ধুরা, সব সময় মৌচাকের মধু খাওয়া যায় না। মৌচাকের মধু খাওয়া সব সময় সহজ নয়। কখনো কখনো এই মৌচাকের মৌমাছি ভিমরুলের দলের চেয়েও ভয়ংকর হয়ে ওঠে।’

তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতা লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য জুলাইয়ে রক্ত দেয়নি। জনগণ কোনোভাবেই লুটতরাজ, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার মেনে নেবে না। আগামীতে প্রত্যেকটি অপরাধের হিসাব দিতে হবে। মানুষের ওপর জুলুম করা, মানুষের অধিকার হরণ করা এবং অন্যের হক মেরে দেওয়ার জবাবদিহি করতে হবে।

মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।

মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুল আমিন ও সহকারী সেক্রেটারি এবং শিবির নেতাদের যৌথ সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস. এম. ফরহাদ হোসেন, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রণি, ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তরের সভাপতি মুমিনুল হক ও দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফরে যাচ্ছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফরে যাচ্ছেন

ঢাকা, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ : পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মঙ্গলবার তেহরান সফরে যাচ্ছেন বলে ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে শান্তিচুক্তির মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানান, মুনিরের সঙ্গে আলোচনা হবে ‘চলমান দর-কষাকষি-সংশ্লিষ্ট বিষয়’ নিয়ে। তবে আলোচনার মূল ফোকাস থাকবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদার করার উপর।

বার্তা সংস্থা এএফপি তেহরান থেকে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধের কারণে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মুনিরের সফর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মন্তব্য করেন, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তাহীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী। প্রণালীটি সাধারণত তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তবে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা যুদ্ধের পর ইরান সেখানে অবরোধ আরোপের চেষ্টা চালিয়েছে। যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। জুনে দেশটি একটি সমঝোতা স্মারক তৈরিতে সহায়তা করেছিল, কিন্তু ওই সমঝোতা বেশি দিন কার্যকর হয়নি।

তেহরান এখনো বিশ্বাস করে যে, যেকোনো শান্তিচুক্তির ভিত্তি হওয়া উচিত ওই সমঝোতা স্মারক। জুনের ওই সমঝোতার পর মুনিরের এটি হবে পঞ্চম সফর।

সেপ্টেম্বরের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আর কোনো হামলা চালায়নি। তবে দেশটিতে আবারও যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বাকাই বলেন, ‘আমরা দিনরাত এই আশঙ্কার মধ্যেই রয়েছি। এখন কথা বলার সময়ও আবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সফরের পর মুনিরের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে আখচাষীদের জন্য ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


রাজশাহীতে আখচাষীদের জন্য ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহী, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষীর মধ্যে ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা বিতরণ করেছেন।

আজ মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আখচাষীদের প্রণোদনা প্রদান ও জনসভায় প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারে বোতাম টিপে এই অর্থ সংশ্লিষ্ট চাষীদের মোবাইল একাউন্টে প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘এখন আমি কম্পিউটার একটা বোতাম চাপ দেব। চাপটা দেওয়ার সাথে সাথে কয়েক মিনিটের মধ্যে আখচাষী ভাইদের একাউন্টে সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া সহযোগিতা কয়েক মিনিটের মধ্যে ইনশাল্লাহ পৌঁছে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার আখচাষীদের সহযোগিতার জন্য মোট ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বরাদ্দের অর্থ ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। আমি আশা করছি কৃষকদের এ সহযোগিতা তাদের আখ চাষে সহায়তা করবে।’

প্রধানমন্ত্রী ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে কম্পিউটারের বোতাম চাপেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় জনসভাস্থলে উপস্থিত হাজারো মানুষও সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করে এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে ১৫ জন আখচাষীকে চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

এরা হলেন, আবু সাঈদ চান, আবদুল আউয়াল মালেক, আবদুল মান্নান মন্ডল, এমাজ উদ্দিন, মো. কাহার, গোলাম রাব্বানী, সবিতা রানী, জালাল উদ্দিন মৃধা, জিয়াউল হক, মহিদুল ইসলাম, আবদুল মাজেদ, নিরান্দ কুমার ঘোষ, শামীমুর রহমান, রীমা খাতুন ও রফিকুল ইসলাম।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এই সমাবেশে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন। জনসভায় সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী ও পুরুষরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তাঁকে স্বাগত জানান।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

জনসভা শেষে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সব ধর্মের মানুষ শান্তি-সম্প্রীতির বন্ধনে বসবাস করুক : প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৩ পি.এম


সব ধর্মের মানুষ শান্তি-সম্প্রীতির বন্ধনে বসবাস করুক : প্রধানমন্ত্রী

রংপুর রাধা গোবিন্দ মন্দির, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘হাজার বছর ধরে এ দেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। আগামী হাজার বছরও যেন তারা একইভাবে সম্প্রীতি ও শান্তির সঙ্গে বসবাস করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘এ লক্ষ্যে ধর্ম-বর্ণ, দল-মত ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার।’

আজ রংপুর ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পরিদর্শনের সময় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্মের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিয়েছেন। এই ঐক্য ধরে রেখেই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যেমন সব ধর্মের মানুষ মিলে এ দেশকে স্বাধীন করেছি, তেমনি সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

বর্তমান সরকার সব মানুষের সরকার হতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো এলাকায় বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন, আবার কোনো এলাকায় হননি। তবে সরকার সব নাগরিকের জন্য কাজ করতে চায়। যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন, তাদেরও সরকার হতে চাই; যারা ভোট দেননি, তাদেরও সরকার হতে চাই।’

তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সব এলাকার উন্নয়ন ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।’

তিনি জানান, রংপুর মহানগরের উন্নয়নে একনেক সভায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসব উদ্যোগের আওতায় মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সড়ক, সেতু, কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তবে একটি মহল বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। অতীতে মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান নিয়েও বিতর্ক তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষ থেকে বলতে চাই— দয়া করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করবেন না।’

তিনি বলেন, ‘কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য বা বক্তব্য থাকলে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা যেতে পারে। জনগণের প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণ যেন মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

অতীতের রাজনীতির পরিবর্তন আনতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ পরিবর্তন বাস্তবায়নে জনগণই সবচেয়ে বড় শক্তি। এক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

সম্প্রীতি ও উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে শারদীয় দুর্গাপূজার নবমীর শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ‘দেশের সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে হবে।’

এসময় প্রধানমন্ত্রী মন্দিরের পেছনে হোস্টেলের মতো অবকাঠামো নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান।

বেলা ১২টা ৪ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুর ধর্মসভা মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছালে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয়। এসময় শিশুরা নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে তাঁকে অভ্যর্থনা জানায়।

প্রধানমন্ত্রী মন্দিরের পূজারি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

পরে মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ভবতোষ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার তাঁকে একটি ক্রেস্ট উপহার দেন।

মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে ১০ লাখ টাকার একটি চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঞ্চালনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ড, সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল ও নিপুণ রায় চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া ছাত্রদলের পার্থ দেব, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং রংপুর ধর্মসভার স্বপন কুমার ভট্টাচার্যসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ রংপুরের সংসদ সদস্য ও জেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর।

মন্দিরের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন।

এর আগে সৈয়দপুর থেকে রংপুরে আসার পথে তিনি তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় দু’টি পথসভায় বক্তব্য রাখেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%