০৬:৫১ পি.এম
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের পেনশন ও বিভিন্ন ভাতা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত একটি কমিটি অটোমেশন পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করেছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কমিটির প্রতিবেদন এবং সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, পেনশন, উৎসব ভাতা এবং বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রদানের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনলাইন বা অটোমেশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এতে পেনশনভোগীদের প্রতি মাসে আলাদাভাবে বিল ফরম হিসাব শাখায় জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাজেক সড়কের অবরোধ সপ্তম দিনে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিদেশে অবস্থান করেন। ফলে নির্ধারিত সময়ে হিসাব শাখায় বিল ফরম জমা দিতে গিয়ে তাদের নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। এই সমস্যা দূর করার উদ্দেশ্যে পেনশন ব্যবস্থাকে অটোমেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
কমিটির সুপারিশে পেনশনভোগীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার সার্ভারে একটি সুরক্ষিত ডাটাবেস তৈরির উল্লেখ রয়েছে। এর মাধ্যমে পেনশনভোগীদের তথ্য সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে। একইসাথে, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবস্থান করলেও অনলাইনে ‘লাইভ ভেরিফিকেশন’ সম্পন্ন করে প্রচলিত নিয়মে পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণের সুযোগ তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে।
গত বছরের ২৭ মে উপাচার্যের আদেশে এই কমিটি গঠন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুককে সভাপতি, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রুস্তম আলী, হিসাব শাখার এডিশনাল ট্রেজারার মো. সাজ্জাদ হোসেন মণ্ডল এবং সংস্থাপন শাখা-৫ (পেনশন)-এর এডিশনাল রেজিস্ট্রার মো. সাহেবুল ইসলাম খান সদস্য হিসেবে যুক্ত হন। হিসাব শাখার (পেনশন গ্রুপ) ডেপুটি ট্রেজারার মো. দেলোয়ার হোসেন কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির ও রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন।
আরও পড়ুন: রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রতিবেদন গ্রহণের সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া এ কথা বলেন, 'অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সেবক এবং গর্বের অংশ। তাঁদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা যেন সহজ, দ্রুত এবং হয়রানিমুক্তভাবে দেওয়া যায়, এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।'
তিনি আরো বলেন, 'কমিটির সুপারিশগুলো গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করে অতিশীঘ্রই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অটোমেশন পদ্ধতি চালু হলে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ও অন্যান্য ভাতা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও গতিশীল হবে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন