শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:১০ এম
শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে, যা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এই কর্মসূচি সফল হয়।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে লংমার্চের সূচনা সমাবেশের জন্য নির্মাণাধীন মঞ্চ এবং সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে তিনি এই আহ্বান জানান।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, "এ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায় করা এবং একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও সংস্কারকৃত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।" তিনি লংমার্চকে শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন এবং মঞ্চ নির্মাণসহ সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
আগামীকাল সকাল ৭টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা এবং জনগণের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও অভিবাদন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ শেষ হবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, "ভোটাধিকারের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, বিদ্যুৎ-গ্যাস-তেল ও সার সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের একটি গ্যাস-রাসায়নিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু ঘটেছে।
মাহিন উদ্দিন নামে ওই বাংলাদেশি শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা এখন চারজনে পৌঁছেছে।
মস্কোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মিজানুর রহমান এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। নিহত মাহিন উদ্দিনের বাড়ি নরসিংদী জেলায়।
গত ২৫ আগস্ট রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের সভোবোদনি শহরের কাছে আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরদিন এক বিবৃতির মাধ্যমে চীনের ছয় নাগরিকসহ সাতজনের মৃত্যুর খবর জানায় এজিসিসি। পরে প্রতিষ্ঠানটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক বার্তায় জানায়, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জন হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন বিদেশি নাগরিক।
দ্য মস্কো টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল জায়ান্ট সিবু এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস কোম্পানি সিনোপেকের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এজিসিসি প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পলিমার উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছরের শুরুতে প্রকল্পটি চালুর কথা থাকায় সেখানে শেষ ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিল।
এজিসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাইরোলাইসিস ইউনিটের একটি সহায়ক অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের দুই দিন পর, ২৭ আগস্ট এক বাংলাদেশির মৃত্যুর পাশাপাশি আরেক বাংলাদেশির নিখোঁজ থাকার তথ্য জানান দূতাবাসের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। পরে ওই দুজনের সঙ্গে আব্দুল কুদ্দুস নামের আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
নিহত জাকির হোসেনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এবং মো. আলাল হোসেন রাজুর বাড়ি মেহেরপুরের গাংনীতে। অপর নিহত আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হুগলবাড়ীয়ায়।
দূতাবাস কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, নিহত জাকির হোসেন ও আলাল হোসেন রাজুর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে কফিনবন্দি করা হয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্গো বিমানে করে লাশ দুটি ঢাকায় পরিবারের কাছে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অপরদিকে মস্কো হাসপাতালে আব্দুল কুদ্দুস ও মাহিন উদ্দিনের লাশের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও ছয় থেকে সাত দিন লাগতে পারে। এরপর তাদের লাশ বাংলাদেশে পাঠানো হবে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ৩৬ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন মারা গেছেন। গুরুতর আহত একজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছেন মিজানুর রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ আট ঘণ্টা বন্ধ থাকবে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দেবীগঞ্জ জোনাল অফিস থেকে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
দেবীগঞ্জ জোনাল অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বৈদ্যুতিক লাইনের আশপাশের গাছের ডালপালা পরিষ্কার করার জন্য কাজ করা হবে (রাইট অব ওয়ে)। এই কারণে নির্ধারিত সময়ে দেবীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
কিন্তু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যদি নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হয়, তাহলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করে দেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার বিষয়টি জানাতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের কাছে সাময়িক এই অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে, যাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিত করা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন, যিনি ইরান যুদ্ধ বন্ধে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে হরমুজ প্রণালির নাম নিজের নামে করার প্রস্তাব দিয়েছেন। স্যান্ডার্স বলেছেন, "যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।" তাই, তিনি মনে করেন, যুদ্ধ বন্ধ করা উচিত প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত, পরিবর্তে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নাম পরিবর্তনের চেয়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে ট্রাম্পকে স্যান্ডার্স সরাসরি উদ্দেশ্য করে বলেছেন, "আপনি প্রেসিডেন্ট, কোনো পাগল রাজা নন। সেভাবেই আচরণ করুন।" ট্রাম্পকে ‘পাগল রাজা’ হিসেবে অভিহিত করার মাধ্যমে স্যান্ডার্স যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। ঐতিহাসিকভাবে ‘ম্যাড কিং’ বা ‘পাগল রাজা’ বলতে বোঝানো হয় ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় জর্জকে। তার শাসনামলে আমেরিকার ১৩টি উপনিবেশ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং দীর্ঘ যুদ্ধের পর ১৭৮৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা লাভ করে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বিতর্কটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণপথ। এই প্রণালির নাম বহু শতাব্দী পুরোনো এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অনেক আগে থেকেই এর ঐতিহাসিক পরিচয় রয়েছে। তাই, ট্রাম্পের সমালোচকেরা মনে করেন, কোনো প্রেসিডেন্টের নামে এর নামকরণের উদ্যোগ ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যক্তিকেন্দ্রীকরণের উদাহরণ।
স্যান্ডার্সের বক্তব্যের মূল সুর হলো—ইরান যুদ্ধের কারণে যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতি চাপের মুখে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচিত যুদ্ধ বন্ধে মনোযোগ দেওয়া। ব্যক্তিগত ক্ষমতা প্রদর্শন বা ঐতিহাসিক কোনো স্থাপনা কিংবা জলপথের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত করার চেষ্টা নয়।
স্যান্ডার্সের মতে, সামরিক হুমকি ও সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ সব সময় রাজনৈতিক সমাধান এনে দেয় না। তৃতীয় জর্জের ইতিহাসও তার একটি উদাহরণ। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য রক্ষার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত আমেরিকার স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে বিপরীত ফল বয়ে এনেছিল।
সুতরাং, স্যান্ডার্সের বক্তব্য "আপনি প্রেসিডেন্ট, পাগল রাজা নন"—এটি শুধুমাত্র ট্রাম্পবিরোধী রাজনৈতিক কটাক্ষ হিসেবে দেখা হলে এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য উপেক্ষিত হবে। এর মাধ্যমে তিনি আমেরিকার অন্যতম মৌলিক রাজনৈতিক ধারণা—ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা ও জবাবদিহির—কথাই স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছেন।
তার বার্তা পরিষ্কার: মার্কিন প্রেসিডেন্ট যত শক্তিশালীই হোন, তিনি রাজা নন; এবং যুদ্ধ, হুমকি ও শক্তি প্রদর্শন যদি কূটনীতি ও রাজনীতির জায়গা দখল করে নেয়, ইতিহাসের মতোই তার ফল অনাকাঙ্ক্ষিত হতে পারে।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের উত্তর প্রদেশের সামুহি ভাটপুরওয়া গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাশ শুরুর সময় পেরিয়ে গেলেও ১২২ শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেনি। তবে তাদের উদ্দেশ্য ক্লাশ ফাঁকি দেওয়া নয়, বরং স্কুল কর্তৃপক্ষকে কিছু শেখাতে প্রতিবাদ জানানো।
লাল-সাদা চেকের ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকের বয়স মাত্র ছয় বছর। তারা দাবি জানায়, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করতে হবে, যা দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি। দাবি পূরণের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তারা শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করবে না বলে জানিয়ে দেয়। আট বছর বয়সী প্রিয়ার হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা ছিল।
পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবনটির একটি অংশ এখনও ধ্বংসস্তূপে পড়ে আছে। ২০২৩ সালে একটি দেয়াল ধসে এক ছাত্রী গুরুতর আহত হওয়ার পরও ভবনটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। এরপর থেকেই নিরাপদ ভবনের দাবিতে শিশুরা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে আসছিল। কিন্তু সাড়া না পেয়ে গত ২২ আগস্ট তারা ব্যতিক্রমী প্রতিবাদে নামে।
শিশুদের এই আন্দোলনের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষা বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে যান। ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক আওয়াস্থি শিক্ষার্থীদের নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস দিলে তারা বাড়ি ফিরে যায়।
প্রিয়া জানায়, স্কুল ভবনের দুরবস্থা তাদের সবসময় ভয়ের মধ্যে রাখে। ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে—এই আশঙ্কায় পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাই সবাই মিলে প্রতিবাদে নামার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
শুধু উত্তর প্রদেশ নয়, ভারতের অন্তত ১০টি রাজ্যে একই ধরনের প্রতিবাদ হয়েছে। মহারাষ্ট্র, বিহার, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড ও মধ্যপ্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্যের সরকারি স্কুলে জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে শিক্ষার্থীরা মৌলিক সুযোগ-সুবিধার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার জরাজীর্ণ সরকারি বিদ্যালয়গুলোতেই এসব প্রতিবাদ বেশি দেখা যাচ্ছে।
জেন জেড থেকে জেন আলফা
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে অনেকে জেন আলফার নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতার সূচনা হিসেবে দেখছেন। এর আগে চলতি বছরের জুন থেকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে হাজারো জেন জেড তরুণ বিক্ষোভ করেন। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেকারত্ব ও শিক্ষাব্যবস্থার নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে তারা জবাবদিহি দাবি করেন।
আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি), যা বড় আকারের বেকারত্ব ও শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যার প্রতিবাদে মে মাসে গঠিত হয়। বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের পর আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।
এরপর সিজেপি স্কুলগুলোর অবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। গত ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসে সংগঠনটি ‘স্কুল ঠিক করো’ নামে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মসূচি শুরু করে।
সিজেপির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিং বলেন, দিল্লির আন্দোলনের সময় গ্রামাঞ্চল থেকে আসা অনেক শিশু ও তাদের অভিভাবকের সঙ্গে তারা কথা বলেছেন। শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং স্কুলে যাওয়ার অনুপযোগী রাস্তার সমস্যার কথা তারা তুলে ধরেন। এসব সমস্যার সমাধানে স্কুলকেন্দ্রিক আন্দোলন তাদের বৃহত্তর কর্মসূচির স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা।
মৌলিক সুবিধার সংকটে বহু স্কুল
ভারতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। প্রায় ২৪ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থী ১৫ লাখ স্কুলে পড়াশোনা করে। এর প্রায় ৭০ শতাংশ স্কুল কেন্দ্র, রাজ্য বা স্থানীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত।
সরকারি হিসাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ও স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন। কোথাও স্কুল ভবন এতটাই জরাজীর্ণ যে সেখানে গবাদিপশুও রাখা হয়।
শিক্ষা অধিকারকর্মী নাগাসিমহা রাও বলেন, শিশুরা তাদের মৌলিক অধিকার চাইছে—শিক্ষক, বেঞ্চ, নিরাপদ ভবন, বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ ও শৌচাগার। দীর্ঘদিন ধরে এসব মৌলিক অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি রয়েছে সরকারি স্কুলগুলোতে।
উত্তর প্রদেশের সর্বোদয়া ইন্টার কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনোজ জানায়, তাদের স্কুলে বিদ্যুৎ নেই, গরমে পাখা চলে না, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই এবং পর্যাপ্ত বেঞ্চ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে মেঝেতে বসে ক্লাস করতে হয়। তাই তারা প্ল্যাকার্ড নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদে নামে।
শুধু অবকাঠামো নয়, শিক্ষক সংকটও বড় সমস্যা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতে এক লাখের বেশি স্কুলে মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। এসব স্কুলে প্রায় ২৯ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। আবার শিক্ষার্থী নেই এমন ‘ভূতুড়ে স্কুল’-এর সংখ্যাও পাঁচ হাজারের বেশি।
মিড-ডে মিলের খাবারের মান নিয়েও বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ হয়েছে। বিহারের সিমুয়ারা গ্রামের প্রায় ৫০ শিক্ষার্থী চার কিলোমিটার হেঁটে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে গিয়ে নিম্নমানের খাবারের অভিযোগ জানায়।
ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
শিক্ষাবিদ স্বর্ণা রাজাগোপালনের মতে, ভারতের স্কুলব্যবস্থায় প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার। সর্বত্র সমমানের অবকাঠামো, যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, পরিবারগুলোকে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে উৎসাহিত করা এবং নিয়ম না মানলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
ভারতের মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ১৮ বছরের নিচে। আজ যারা স্কুলের শিক্ষার্থী, তাদের অনেকেই ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় ভোট দেওয়ার বয়সে পৌঁছে যাবে।
শিক্ষা অধিকারকর্মী আকাশ সরকার বলেন, শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ। উপযুক্ত পরিবেশে শিক্ষা না পেলে ভারতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। আগামী দিনের ভোটাররা শিক্ষাব্যবস্থার স্বার্থ বিবেচনা করেই ভোট দিতে পারে।
ব্যাঙ্গালোর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুজাতা গৌড়ার মতে, জেন জেডের পর জেন আলফার প্রতিবাদও আকস্মিক নয়। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামছে।
তার ভাষায়, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন করে সাজানো প্রয়োজন। যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, সুষ্ঠু পরীক্ষা এবং উন্নত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। আর এসবের জন্য কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের কথা শুনতে হবে; তা না হলে দেশজুড়ে আরও বড় আন্দোলন দেখা দিতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ