বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৮:৩৬ পি.এম
সরকারের সব বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত করে যদি এক টাকার দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারে, তবে জাতীয় সংসদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনাকালে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে তিনি এই চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।
এদিন সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এ সময় বাজেটে বরাদ্দ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ আহ্বান জানান যেন তার এলাকার মানুষকে কোনোভাবে বঞ্চিত না করা হয়।
বাজেটের ওপর নিজের বক্তব্য উপস্থাপনকালে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।
তিনি বলেন, ‘আমি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর একটি প্রসঙ্গ, যে আলাপটি তিনি করেছেন সেটি হলো- বাজেটে এবার তাকে আটকে দেয়া হবে কিনা। আপনাকে টাকা দেয়া হবে না-তো। আপনার এলাকায় টাকা দেয়া হবে, এলাকার মানুষের জন্য টাকা দেয়া হবে। সেজন্য আপনি ইন্টেরিম গর্ভনমেন্টে (অন্তর্বর্তী সরকারে) যেভাবে যেভাবে পেয়েছেন, আমরা অনেক কিছু শুনি, এলিগেশন আদান-প্রদানে অনেক কিছু বলা যায়। সেভাবেই চলবে হয়তো, কেননা জনগণের জন্যই সেই টাকা দেয়া হবে। কোনো ব্যক্তিকে দেয়া হয় না। কোনো এমপির আলাদা করে বরাদ্দ নিয়ে আমরা কিছু করি না।’
এরপর আরও একজন সংসদ সদস্যের বাজেটের ওপর বক্তব্য শেষে ২৭৪ বিধি অনুসারে ব্যক্তিগত কৈফিয়তের জন্য দাঁড়ান হাসনাত আবদুল্লাহ।
পরে ডেপুটি স্পিকার তাকে এক মিনিট সময় দিলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি আমার বক্তব্যের কোথাও এই শব্দ উচ্চারণ করিনি অথবা এই বাক্য বলিনি যে আমাকে যেন বরাদ্দবঞ্চিত না করা হয়। আমি বলেছি—আমার বক্তব্যের কারণে আমার এলাকার মানুষকে যেন কোনো কারণে বঞ্চিত না করা হয়।’
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘আজকেও এই সংসদে আমরা দেখেছি জুলাই সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্য করে কিছু কথা বলা হয়েছে যে, আমরা আগে রিকশায় চড়তাম এখন আমরা গাড়িতে চড়ি। এই সংসদে আজকে সরকারে যারা আছেন, আমি আপনাদের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করবো- এখন সরকারের যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আপনাদের নিয়ন্ত্রণে, ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশ, মিলিটারি সবাই আপনাদের নিয়ন্ত্রণে। আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করবো- আপনাদের মতো দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এলিগেশনের টোনে এলিগেশন না দিয়ে আপনারা তদন্ত করে ১ টাকার দুর্নীতি, ১ টাকার কোনো ধরনের অসৎ উপায়ের ন্যায়ের কোনো প্রমাণ দিতে পারলে আমরা এই সংসদ থেকে ইস্তফা দেবো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা করছেন।
স্থানীয় সময় অনুযায়ী আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় তাঁদের সাক্ষাৎ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘শুক্রবার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের শেষ দিনে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায়, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টায় ঐতিহাসিক গ্রেট হলে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।’
তিনি যোগ করেন, চীনের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও চীনের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় স্বাভাবিকভাবেই তুলে ধরবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা আরো সুসংহত করার লক্ষ্যে ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছেন, ইনশাআল্লাহ।
মাহদী আমিন আরও বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে সাধনাগামী হবে। কৌশলগত সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং উন্নয়ন প্রকল্প থেকে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আমাদের মনে হচ্ছে।
চারদিনের চীন সফর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুক্রবার বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকায় ফিরে যাবেন। এই সফরের সঙ্গে রয়েছে ২৪ জন সফরসঙ্গী।
সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন ৫ জন। তাঁদের মধ্যে হলেন— হুমায়ুন কবির, একেএম শামসুল ইসলাম, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মাহদী আমিন।
গত ২১ জুন প্রধানমন্ত্রী প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় যান। এরপর সোমবার রাতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকে যোগ দিতে চীনের দালিয়ানে পৌঁছান। দুইদিনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পর বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বেইজিং পৌঁছান।
সফরের শেষ দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সকালে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সাথে গ্রেট হলে সাক্ষাৎ এবং চীনের জাদুঘর পরিদর্শন। বিকেল ৫টায়, বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রীসহ সফরসঙ্গীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ায় আট বছর বয়সি এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুল আলীম (৪২) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে স্থানীয়রা গণপিটুনি দিয়েছে। পরে উত্তেজিত জনতার রোষানল থেকে পুলিশ আব্দুল আলীমকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে জেলা শহরের মালগ্রাম এলাকার বেলতলায় এই ঘটনাটি ঘটে।
অভিযুক্ত আব্দুল আলীম ওই এলাকার বেলতলা জামে মসজিদের ইমাম এবং জামিয়া ইসলামিয়া আল আকাবা মাদ্রাসার শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় মানুষেরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে যখন মাদ্রাসা ছুটি হয়, তখন শিশুটিকে নিতে পরিবারের কেউ আসেনি। এ সুযোগে বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে শিক্ষক আব্দুল আলীম শিশুটিকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যান। পথে একটি গলির ভিতরে শিশুটিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন তিনি। পরে তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
বাড়ি ফিরে শিশুটি ঘটনার বর্ণনা তার পরিবারের কাছে দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। তারা ওই শিক্ষকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে জানালা ভাঙচুর করেন এবং তাকে গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখেন।
আরও পড়ুন: স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের বগুড়া জেলা সভাপতি ডা. মিশু গ্রেফতার।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আব্দুল আলীমকে আটক করে হেফাজতে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও জনতার মারধরের শিকার হন। পরে ব্যাপক পুলিশি পাহারায় তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
বগুড়া সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, উত্তেজিত জনতার মাঝ থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানার হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এ ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে আয়োজিত 'ওরিয়েন্টেশন-২০২৬' নামের অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল লাইব্রেরি কার্ড ও কুয়েট ই-মেইল আইডি প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ।
এ সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) প্রফেসর ড. মো. হাসান আলী। প্রধান অতিথি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কুয়েটকে আমরা একটি শিক্ষার্থীবান্ধব, গবেষণাকেন্দ্রিক এবং আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে কাজ করছি। শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'কুয়েটকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তোমাদের অর্জিত জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবন দেশের উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।'
বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিআইটি, খুলনার সাবেক পরিচালক প্রফেসর এম. এ. হান্নান, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. খন্দকার মাহবুব হাসান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলাম, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ, সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান ভূঞা।
এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান ভূঞা। এছাড়া বক্তব্য দেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. খন্দকার মাহবুব হাসান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলাম, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ এবং সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে কুয়েটের শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ প্রফেসর এম. এ. হান্নানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
পরে ভাইস-চ্যান্সেলর তিনজন নবীন শিক্ষার্থীর হাতে ডিজিটাল লাইব্রেরি কার্ড ও কুয়েট ই-মেইল আইডি প্রদান করে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। নতুন এ ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য একটি ইউনিক আইডি থাকবে, যার মাধ্যমে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ই-মেইল, একাডেমিক নিবন্ধন, বিভিন্ন ফি ও অন্যান্য পেমেন্ট, হল ব্যবস্থাপনা, লাইব্রেরি সেবা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম একক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারবে।
নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অনুভূতি প্রকাশ করেন আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের শিক্ষার্থী আফিফ আদনান, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী প্রাঞ্জল ধর এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাইয়ারা ইসলাম নিপুন। তারা কুয়েটে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে নিজেদের দক্ষ প্রকৌশলী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা, নবীন শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হৃদরোগে মৃত্যু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতিদিন শতাধিক হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী মারা যাচ্ছেন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসা নয়, হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।’
আজ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ের রোগীকল্যাণ সমিতি আয়োজিত জন্মগত হৃদরোগীদের আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
জাহিদ হোসেন বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শের সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী এ দেশের অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশে ‘সকলের জন্য মানবিক বাংলাদেশ’ গড়তে আমরা সবাই মিলিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ‘করবো কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রত্যয়ে আমরা দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
জাহিদ হাসেন জানিয়ে দেন, জনগণের কাছে দেওয়া বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পাশাপাশি জনসচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান ত্যাগ, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করা হচ্ছে।
নারী ও শিশু হৃদরোগীদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ চালু করা হয়েছে। গত এক বছরে জটিল রোগীদের জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং এই বাজেটে তা ৬০০ কোটি করা হচ্ছে বিভিন্ন জটিল রোগীসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের জন্য।
তিনি বলেন, পয়সার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাবে, পয়সার জন্য শিক্ষা বন্ধ হয়ে যাবে এটা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বাস করেন না। প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হচ্ছে, যাতে কেউ চিকিৎসার অভাবে দুর্ভোগে না পড়ে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য খাতকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজাচ্ছে। হৃদরোগ চিকিৎসাকে আধুনিক ও সুলভ করার পাশাপাশি হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষ হৃদরোগ ও সংশ্লিষ্ট কারণে মারা যায়। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে সুসজ্জিত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত গাইড করছেন, যাতে দেশের অবহেলিত প্রতিটি মানুষ উপকৃত হয়, আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।
হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সারাদেশে ব্যাপক ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে। গ্রামে এবং গঞ্জে স্বাস্থ্য শিক্ষা, নিয়মিত স্ক্রিনিং ক্যাম্প, ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি জন্মগত হৃদরোগী শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরো বেশি সংখ্যক রোগীকে এই সহায়তার আওতায় আনা হবে এবং সারাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হবে।
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ১০০ জন জন্মগত হৃদরোগীর মাঝে ৫০ হাজার টাকা করে প্রদান করেন।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ