০৬:৪১ পি.এম
ঢাকা, ২২ আগস্ট, ২০২৬ : বিতর্কিত দ্বীপগুলোর কাছে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেÑএই ঘোষণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান। চলতি মাসের শুরুতে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ওই দ্বীপগুলো সফর করেছেন।
কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে জাপান এবং রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘকালীন বিরোধ বিদ্যমান। জাপানে এসব দ্বীপকে ‘নর্দার্ন টেরিটরিজ’ বা ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখ-’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপগুলো দখল করে নেয় এবং সেখানকার জাপানি জনসংখ্যাকে উচ্ছেদ করে।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে জানা গেছে, জাপান সরকারের এক মুখপাত্র এফপিকে জানিয়েছেন, ‘দ্বীপগুলোর কাছে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনার বিষয়ে রাশিয়ার দেওয়া ঘোষণার প্রতিবাদ করেছি।’
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
তবে রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে ওই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। কিন্তু পরীক্ষাটি ঠিক কখন করা হয়েছে, তা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই।
রুশ নৌবহরের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে দক্ষিণ কুরিল দ্বীপপুঞ্জের উপকূলের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। আক্রান্ত লক্ষ্যবস্তুগুলো ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছিল, যেগুলোকে শত্রুপক্ষের জাহাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
বিবৃতিতে এছাড়া আরও বলা হয়েছে, রুশ নৌবাহিনীর ‘ভারিয়াগ’ যুদ্ধজাহাজ থেকে দুটি ‘ভুলকান’ জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন ‘ওমস্ক’ থেকে ‘গ্রানিট’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। একই সময়ে কুরিল দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত ‘বাষ্ট্ৰিয়ন’ উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি ‘অনিক্স’ ক্ষেপণাস্ত্রও ছোড়া হয়েছে।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি বৃহস্পতিবার ওমান সফরের সময় সাংবাদিকদের বলেন, ‘নর্দার্ন টেরিটরিজে রাশিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, যার মধ্যে এই ক্ষেপণাস্ত্র মহড়াও অন্তর্ভুক্ত, জাপানের অবস্থানের পরিপন্থী এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ
কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে এই দীর্ঘকালীন বিরোধ চলার কারণে ১৯৪৫ সাল থেকে রাশিয়া দ্বীপগুলো নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। গত ১৩ আগস্ট, পুতিন প্রথমবারের মতো ওই দ্বীপপুঞ্জে সরকারিভাবে সফর করেন। এই সফরের প্রতিবাদে জাপান রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করে। পরে মস্কোও পাল্টা জাপানি কূটনীতিককে তলব করে।
পুতিন, কাছের রুশ দ্বীপ সাখালিন সফরের পর কুরিল দ্বীপপুঞ্জে যান। সাখালিনে তখন রুশ নৌবাহিনীর সামরিক মহড়া চলছিল।
২০১০ সালে দিমিত্রি মেদভেদেভের সফরের পর পুতিনের সফর ছিল রুশ প্রেসিডেন্টের জন্য ওই দ্বীপপুঞ্জে প্রথম সফর। পুতিনের সফরের পরে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ীÑদুই দিক থেকেই দ্বীপগুলো জাপানের অবিচ্ছেদ্য ভূখ-।’
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের শুরু হওয়ার পর থেকেই জাপান এবং রাশিয়া সম্পর্কের অবনতি ঘটে। জাপান অন্যান্য জি-৭ দেশের সাথে মিলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং ইউক্রেনকে সহায়তা করে আসছে। ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রও বিতর্কিত দ্বীপগুলোতে জাপানের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
বিশ্লেষকদের মতে, কুরিল দ্বীপপুঞ্জে পুতিনের সফর ছিল জাপানকে সতর্ক করার একটি বার্তা। বিশেষ করে ইউক্রেনকে আরও শক্তিশালী সমর্থন, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি সরবরাহের সম্ভাবনা এবং ন্যাটোর সাথে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা থেকে জাপানকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে এ সফর হতে পারে।
বর্তমানে জাপান ইউক্রেনকে প্রাণঘাতী নয় এমন প্রতিরক্ষা সহায়তা প্রদান করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির উপর কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করলেও যুদ্ধরত কোনো দেশে সরাসরি প্রাণঘাতী সামরিক সরঞ্জামের সরবরাহের উপর এখনও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন