১০:০৩ পি.এম
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও স্টুডিও নির্মাণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন; তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসাও যুবদল সভাপতির
কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তাকে নিয়ে দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না। নিজের ফেসবুক পোস্টে সালমান মুক্তাদিরের ব্যক্তিগত অবস্থান, পারিবারিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে তার ভূমিকা এবং মিরপুরে স্টুডিও নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
পোস্টের শুরুতেই মোনায়েম মুন্না বলেন, সালমান মুক্তাদিরকে নিয়ে দেশে অনেক আলোচনা হচ্ছে। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে তিনি কথা বলতে চাননি। তবে সালমান মুক্তাদিরকে নিয়ে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড দেখার পর নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে বাধ্য হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: কোনো সেক্টর থেকেই চাঁদাবাজির সুযোগ দেওয়া হবে না: এমপি জসিম উদ্দিন
সালমান মুক্তাদিরের ধূমপান, মদ্যপান ও মাদকবিরোধী অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন মোনায়েম মুন্না। তিনি জানতে চান, নিজেকে ভিন্নধর্মী ও ‘সুফি প্রকৃতির’ মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করা সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে কেন এত বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
শ্বশুরবাড়ির সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন
সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুরুল ইসলামকে নিয়েও বিভিন্ন দাবি করেন মোনায়েম মুন্না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোর বয়স থেকেই তিনি শেখ নুরুল ইসলামকে চেনেন এবং সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় তাকে ‘মাস্তান’ হিসেবে চিনতেন।
এ ছাড়া শেখ নুরুল ইসলামের পারিবারিক ও আত্মীয়তার সম্পর্ক নিয়েও পোস্টে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন তিনি। সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে কথিতভাবে সম্পৃক্ত আরও কয়েকজনের নামও উল্লেখ করেন মোনায়েম মুন্না।
আরও পড়ুন: ঢাকার ধামরাইয়ে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে ৫ শিশু আহত, এক শিশু আইসিইউতে ভর্তি
তবে এসব অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং মোনায়েম মুন্নার পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে অভিযোগ
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গেও সালমান মুক্তাদিরের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন যুবদল সভাপতি।
মোনায়েম মুন্নার দাবি, ওই নির্বাচনে আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার সুমনের নির্বাচনী প্রচারণায় সালমান মুক্তাদির অংশ নিয়েছিলেন। এ কারণে তিনি সালমান মুক্তাদিরের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে
নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়েও প্রশ্ন
২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে সালমান মুক্তাদিরের ভূমিকা নিয়েও বিস্তর প্রশ্ন তোলেন মোনায়েম মুন্না।
তার দাবি, ওই সময়ের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে দুর্বল বা ব্যর্থ করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের ‘প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী’ সালমান মুক্তাদির তিনটি কনটেন্ট তৈরি করেছিলেন। এসব কনটেন্টের মাধ্যমে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তৌফিক জোয়ারদারের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের উল্লেখ করেন মোনায়েম মুন্না। তার দাবি, ওই স্ট্যাটাসে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ডান পাশে বালুচোর-বাম পাশে মামলাবাজ নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না: রুমিন ফারহানা
স্টুডিও নির্মাণ নিয়েও প্রশ্ন
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও নির্মাণের স্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন যুবদল সভাপতি। তার দাবি, যে জায়গায় স্টুডিও নির্মাণ করা হয়েছে, সেই জায়গার মালিকানা ও ভূমি-সংক্রান্ত বিষয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে।
একজন পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিও সাধারণত শহরের ভালো ও সুবিধাজনক এলাকায় হওয়ার কথা—এমন যুক্তি তুলে ধরে মোনায়েম মুন্না প্রশ্ন করেন, মিরপুরের কথিত ‘সমস্যা সংকুল’ এলাকায় কেন স্টুডিও নির্মাণ করা হলো।
তিনি আরও দাবি করেন, ওই এলাকার জমি নিয়ে একজন কথিত ‘ভূমিদস্যু’ নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেলের বিরোধ ছিল। এ বিরোধের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন: সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার, দুই মেরুতে বিএনপি-জামায়াত
বিএনপিকে জড়ানোর অভিযোগ
মোনায়েম মুন্না অভিযোগ করেন, সালমান মুক্তাদির উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপিকে একটি বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়েছেন। তার ভাষ্য, ব্যক্তিগত বা স্থানীয় কোনো বিরোধের সঙ্গে বিএনপির নাম যুক্ত করে দলটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে দেশের গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করে আসছে। তার বক্তব্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতিও আস্থা প্রকাশ করেন তিনি।
মোনায়েম মুন্নার ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দেশের মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ব্যক্তির স্বার্থের চেয়ে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয় এবং দলের নেতাকর্মীরা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।
আরও পড়ুন: শনিবার পদত্যাগ করলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানম
সালমান মুক্তাদিরের প্রতি একাধিক প্রশ্ন
পোস্টের একপর্যায়ে সালমান মুক্তাদিরের উদ্দেশে সরাসরি কয়েকটি প্রশ্ন রাখেন মোনায়েম মুন্না।
প্রথমত, নিজের শ্বশুরের বিরুদ্ধে থাকা কথিত অভিযোগ সম্পর্কে সালমান মুক্তাদির কতটা অবগত ছিলেন—তা জানতে চান তিনি। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এসব বিষয় জানা সত্ত্বেও কেন ওই পরিবারের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে যুক্ত হয়েছেন।
দ্বিতীয়ত, স্টুডিও নির্মাণের জায়গা নির্বাচন নিয়েও ব্যাখ্যা চান তিনি। জায়গাটির মালিকানা ও কথিত ভূমি বিরোধ সম্পর্কে সালমান মুক্তাদির জানতেন কি না—সে প্রশ্নও তোলেন যুবদল সভাপতি।
তৃতীয়ত, কথিত ভূমি বিরোধের সঙ্গে বিএনপিকে কেন সম্পৃক্ত করা হলো—এ বিষয়েও সালমান মুক্তাদিরের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।
সবশেষে মোনায়েম মুন্না সতর্ক করে বলেন, দেশের মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান কিংবা জনপ্রিয়তার আড়ালে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড থাকলে জনগণ তা চিহ্নিত করতে সক্ষম।
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘অতএব সাধু সাবধান! বাংলাদেশের মানুষ এই সমস্ত ছদ্মবেশী দুষ্ট লোকদের অবশ্যই চিহ্নিত করতে পেরেছে।’
তবে মোনায়েম মুন্নার এসব বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে সালমান মুক্তাদিরের কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সালমান মুক্তাদিরের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন