ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, মুখ খুলে একাধিক প্রশ্ন মোনায়েম মুন্নার


সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, মুখ খুলে একাধিক প্রশ্ন মোনায়েম মুন্নার

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও স্টুডিও নির্মাণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন; তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসাও যুবদল সভাপতির

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তাকে নিয়ে দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না। নিজের ফেসবুক পোস্টে সালমান মুক্তাদিরের ব্যক্তিগত অবস্থান, পারিবারিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে তার ভূমিকা এবং মিরপুরে স্টুডিও নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

পোস্টের শুরুতেই মোনায়েম মুন্না বলেন, সালমান মুক্তাদিরকে নিয়ে দেশে অনেক আলোচনা হচ্ছে। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে তিনি কথা বলতে চাননি। তবে সালমান মুক্তাদিরকে নিয়ে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড দেখার পর নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে বাধ্য হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: কোনো সেক্টর থেকেই চাঁদাবাজির সুযোগ দেওয়া হবে না: এমপি জসিম উদ্দিন

সালমান মুক্তাদিরের ধূমপান, মদ্যপান ও মাদকবিরোধী অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন মোনায়েম মুন্না। তিনি জানতে চান, নিজেকে ভিন্নধর্মী ও ‘সুফি প্রকৃতির’ মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করা সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে কেন এত বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

শ্বশুরবাড়ির সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুরুল ইসলামকে নিয়েও বিভিন্ন দাবি করেন মোনায়েম মুন্না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোর বয়স থেকেই তিনি শেখ নুরুল ইসলামকে চেনেন এবং সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় তাকে ‘মাস্তান’ হিসেবে চিনতেন।

এ ছাড়া শেখ নুরুল ইসলামের পারিবারিক ও আত্মীয়তার সম্পর্ক নিয়েও পোস্টে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন তিনি। সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে কথিতভাবে সম্পৃক্ত আরও কয়েকজনের নামও উল্লেখ করেন মোনায়েম মুন্না।

আরও পড়ুন: ঢাকার ধামরাইয়ে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে ৫ শিশু আহত, এক শিশু আইসিইউতে ভর্তি

তবে এসব অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং মোনায়েম মুন্নার পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে অভিযোগ

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গেও সালমান মুক্তাদিরের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন যুবদল সভাপতি।

মোনায়েম মুন্নার দাবি, ওই নির্বাচনে আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার সুমনের নির্বাচনী প্রচারণায় সালমান মুক্তাদির অংশ নিয়েছিলেন। এ কারণে তিনি সালমান মুক্তাদিরের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়েও প্রশ্ন

২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে সালমান মুক্তাদিরের ভূমিকা নিয়েও বিস্তর প্রশ্ন তোলেন মোনায়েম মুন্না।

তার দাবি, ওই সময়ের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে দুর্বল বা ব্যর্থ করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের ‘প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী’ সালমান মুক্তাদির তিনটি কনটেন্ট তৈরি করেছিলেন। এসব কনটেন্টের মাধ্যমে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তৌফিক জোয়ারদারের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের উল্লেখ করেন মোনায়েম মুন্না। তার দাবি, ওই স্ট্যাটাসে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ডান পাশে বালুচোর-বাম পাশে মামলাবাজ নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না: রুমিন ফারহানা

স্টুডিও নির্মাণ নিয়েও প্রশ্ন

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও নির্মাণের স্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন যুবদল সভাপতি। তার দাবি, যে জায়গায় স্টুডিও নির্মাণ করা হয়েছে, সেই জায়গার মালিকানা ও ভূমি-সংক্রান্ত বিষয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে।

একজন পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিও সাধারণত শহরের ভালো ও সুবিধাজনক এলাকায় হওয়ার কথা—এমন যুক্তি তুলে ধরে মোনায়েম মুন্না প্রশ্ন করেন, মিরপুরের কথিত ‘সমস্যা সংকুল’ এলাকায় কেন স্টুডিও নির্মাণ করা হলো।

তিনি আরও দাবি করেন, ওই এলাকার জমি নিয়ে একজন কথিত ‘ভূমিদস্যু’ নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেলের বিরোধ ছিল। এ বিরোধের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন: সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার, দুই মেরুতে বিএনপি-জামায়াত

বিএনপিকে জড়ানোর অভিযোগ

মোনায়েম মুন্না অভিযোগ করেন, সালমান মুক্তাদির উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপিকে একটি বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়েছেন। তার ভাষ্য, ব্যক্তিগত বা স্থানীয় কোনো বিরোধের সঙ্গে বিএনপির নাম যুক্ত করে দলটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে দেশের গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করে আসছে। তার বক্তব্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতিও আস্থা প্রকাশ করেন তিনি।

মোনায়েম মুন্নার ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দেশের মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ব্যক্তির স্বার্থের চেয়ে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয় এবং দলের নেতাকর্মীরা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।

আরও পড়ুন: শনিবার পদত্যাগ করলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানম

সালমান মুক্তাদিরের প্রতি একাধিক প্রশ্ন

পোস্টের একপর্যায়ে সালমান মুক্তাদিরের উদ্দেশে সরাসরি কয়েকটি প্রশ্ন রাখেন মোনায়েম মুন্না।

প্রথমত, নিজের শ্বশুরের বিরুদ্ধে থাকা কথিত অভিযোগ সম্পর্কে সালমান মুক্তাদির কতটা অবগত ছিলেন—তা জানতে চান তিনি। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এসব বিষয় জানা সত্ত্বেও কেন ওই পরিবারের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে যুক্ত হয়েছেন।

দ্বিতীয়ত, স্টুডিও নির্মাণের জায়গা নির্বাচন নিয়েও ব্যাখ্যা চান তিনি। জায়গাটির মালিকানা ও কথিত ভূমি বিরোধ সম্পর্কে সালমান মুক্তাদির জানতেন কি না—সে প্রশ্নও তোলেন যুবদল সভাপতি।

তৃতীয়ত, কথিত ভূমি বিরোধের সঙ্গে বিএনপিকে কেন সম্পৃক্ত করা হলো—এ বিষয়েও সালমান মুক্তাদিরের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।

সবশেষে মোনায়েম মুন্না সতর্ক করে বলেন, দেশের মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান কিংবা জনপ্রিয়তার আড়ালে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড থাকলে জনগণ তা চিহ্নিত করতে সক্ষম।

পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘অতএব সাধু সাবধান! বাংলাদেশের মানুষ এই সমস্ত ছদ্মবেশী দুষ্ট লোকদের অবশ্যই চিহ্নিত করতে পেরেছে।’

তবে মোনায়েম মুন্নার এসব বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে সালমান মুক্তাদিরের কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সালমান মুক্তাদিরের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, মুখ খুলে একাধিক প্রশ্ন মোনায়েম মুন্নার
পরবর্তী খবর

কোটি টাকার ব্রিজে কাঠের সাটারিং! কাঠালিয়ায় তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধা ও হুমকির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১০ পি.এম


কোটি টাকার ব্রিজে কাঠের সাটারিং! কাঠালিয়ায় তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধা ও হুমকির অভিযোগ

ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় সরকারি বিধিমালা ও চুক্তি লঙ্ঘন করে কোটি টাকা ব্যয়ের একটি নির্মাণাধীন ব্রিজে স্টিলের পরিবর্তে মানহীন কাঠ ও বাঁশের সাটারিং ব্যবহারের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, এই অনিয়মের তথ্য ও ভিডিও চিত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কথিত সাইট ম্যানেজারের হাতে সাংবাদিকরা বাধা ও হুমকির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১ নম্বর চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চেচরি গ্রামের বান্দাকাটা-কৈখালী সংযোগ সড়কে একটি ছোট নালার ওপর প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে এই ব্রিজটি নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি)। সরকারি নকশা ও চুক্তি অনুযায়ী, ব্রিজের শতভাগ কাজে লোহার (স্টিল) সাটারিং ব্যবহার বাধ্যতামূলক। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মাত্র ২০ শতাংশ স্টিল সাটারিং ব্যবহার করে বাকি পুরো অংশে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠ ও বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে। সদ্য ঢালাই হওয়া এই ব্রিজে দুর্বল ও মানহীন কাঠের সাটারিং ব্যবহারের ফলে ব্রিজটির দীর্ঘস্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে ব্রিজের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।                                                                                                             
  এদিকে, সরকারি তদারককারী প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঢালাইয়ের সময় সাইটে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা কিছু জায়গায় কাঠ ব্যবহারের কথা অকপটে স্বীকার করলেও, চুক্তির বাইরে গিয়ে কেন কাঠের সাটারিং মেনে নেওয়া হলো—সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ও সদুত্তর দিতে পারেননি।

অন্যদিকে, এই কাঠামোগত অনিয়মের খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি দল ঘটনাস্থলে অনুসন্ধানে গেলে তারা বাধার মুখে পড়েন। অভি নামের এক ব্যক্তি নিজেকে সাইট ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহে সরাসরি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। উল্টো সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখাতে তিনি নিজের মোবাইল দিয়ে সাংবাদিকদের ভিডিও চিত্র ধারণ করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করেন।

কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পে এমন ভয়াবহ জালিয়াতি এবং সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ব্রিজের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতি রুখতে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ী ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গৌরনদীতে এসিল্যান্ডের উদ্যোগে দুই ভিক্ষুকের পুনর্বাসন, সরকারি জায়গায় দোকান পেলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৭ পি.এম


গৌরনদীতে এসিল্যান্ডের উদ্যোগে দুই ভিক্ষুকের পুনর্বাসন, সরকারি জায়গায় দোকান পেলেন

‘ভূমি সেবার শুদ্ধতাই কমাতে পারে সামাজিক বিরোধ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বরিশালের গৌরনদীতে হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পুনর্বাসনে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেহেদী হাসান। তাঁর উদ্যোগের ফলে দুই ভিক্ষুক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, যা ভিক্ষাবৃত্তি থেকে ফিরে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে পিঙ্গলাকাঠী বাজারে সরকারি খাসজমির চান্দিনা ভিটিতে নির্মিত দোকানঘর দুই ভিক্ষুকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তাঁদের ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে স্বাভাবিক ও কর্মমুখী জীবনে ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

পুনর্বাসনের জন্য নির্বাচিত দুই ব্যক্তি হলেন পিঙ্গলাকাঠী এলাকার মোঃ মনির সরদার এবং কুতুপুর এলাকার মোঃ মজিবর সরদার। স্থানীয়দের মতামতের ভিত্তিতে তাঁদের নির্বাচন করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক জনাব মোঃ ইব্রাহিম। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নলচিড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ জামাল ফকির, মোঃ ফুয়াত হোসেন এ্যনি এবং বাজার কমিটির সভাপতি মোঃ হারুন অর রশিদ।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে তাঁদের ফিরিয়ে এনে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নরসিংদীতে বন্ধ জুট মিলের যন্ত্রপাতি লুটের অভিযোগ, ক্ষতি ২১ কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৮ পি.এম


নরসিংদীতে বন্ধ জুট মিলের যন্ত্রপাতি লুটের অভিযোগ, ক্ষতি ২১ কোটি টাকা

নরসিংদীর মাধবদীতে একটি বন্ধ হয়ে থাকা রপ্তানিমুখী জুট মিলের মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রিক সাবস্টেশনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম অস্ত্রের মুখে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মিলটির প্রায় ২১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্কাইল্যান্ড এন্ড ফ্যাম লিমিটেডের (জুট মিলস) চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন।

মাধবদীর শিলমান্দি ইউনিয়নের আহমেদনগরে অবস্থিত স্কাইল্যান্ড এন্ড ফ্যাম লিমিটেড ১০০ শতাংশ রপ্তানিমুখী পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বলে জানান তিনি। মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের দিলকুশা শাখার অর্থায়নে মিলটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০৩ সালে তৎকালীন পাটমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী উদ্বোধন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আর্থিক সংকটের কারণে গত ছয় মাস ধরে মিলটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সরকার বন্ধ মিলগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃ অর্থায়ন সংক্রান্ত উদ্যোগের আওতায় মিলটি পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছিল। যদি মিলটি চালু করা সম্ভব হতো, তবে প্রায় এক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো বলেও দাবি করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয় যে, গত ৫ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নরসিংদীর স্থানীয় এক প্রভাবশালী পাট ব্যবসায়ী মোঃ আদিল মিয়া তার দুই ছেলে আকাশ ও আশিক, মেয়ের জামাতা মোঃ লাজমিল হোসেন স্নেহ এবং বড় ভাই মোঃ আদরসহ ২০-২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মিলের প্রধান ফটকে তালা দেয়। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং মিলের দুই কর্মচারীকে অস্ত্রের মুখে একদিন আটকে রাখে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর দিন-রাত ট্রাকে করে মিলের ইলেকট্রিক সাবস্টেশন, মূল্যবান মেশিনারি ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মহিউদ্দিন আহমেদ।

এসব যন্ত্রপাতির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২১ কোটি টাকা এবং পুরোনো ক্রয়মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। মিলের চেয়ারম্যান আরও বলেন, ঘটনার আগেই গত ৪ আগস্ট মাধবদী থানায় সশরীরে গিয়ে অভিযোগ করা হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। পরে গত ৩ অক্টোবর অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা সম্ভব হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনকে জানানো হলে তিনি দুই স্থানীয় নেতাকে মিলের যন্ত্রপাতি বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব দেন। তাদের একজন সরেজমিনে মিল পরিদর্শন করলেও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। বর্তমানে একটি সন্ত্রাসী দল মিলের ভেতরে অবস্থান করে টিন, লোহা, অ্যাঙ্গেল ও ইট-বালুসহ স্থাপনার বিভিন্ন অংশ খুলে বিক্রির চেষ্টা করছে।

এ অবস্থায় মিলের সম্পদ রক্ষা, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্কাইল্যান্ড এন্ড ফ্যাম লিমিটেডের চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে তিনি নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার যখন বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে, তখন একটি প্রতিষ্ঠিত জুট মিলের মেশিনারি ও সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংকের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ লুটের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান বাস্তুচ্যুত লেবানিজদের সহায়তায় হিজবুল্লাহকে ২০০ মিলিয়ন ডলার দিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৮ পি.এম


ইরান বাস্তুচ্যুত লেবানিজদের সহায়তায় হিজবুল্লাহকে ২০০ মিলিয়ন ডলার দিল

ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ফলে বাস্তুচ্যুত হওয়া লেবানিজ নাগরিকদের সহায়তার উদ্দেশ্যে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর কাছে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২ কোটি ডলার) পাঠিয়েছে ইরান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সরাসরি এই অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে অবগত দুটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। চলমান সংঘাতের পর হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত সমর্থকদের কাছে এটি প্রথম বড় ধরনের সরাসরি সাহায্য হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এবং তেহরান থেকে হিজবুল্লাহর কাছে অর্থ পাঠানো ক্রমবর্ধমান জটিল হয়ে ওঠার পরও গত মাসে হিজবুল্লাহর হাতে এই নগদ অর্থ পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তবে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তরের ঝুঁকি ছিল বেশ উচ্চ। সূত্রগুলো জানায়, এই অর্থ পৌঁছানোর জন্য মধ্যস্থতাকারীরা প্রায় ২০ শতাংশ ফি বা কমিশন গ্রহণ করেছে, যা সাধারণ ফি-এর তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।

অর্থের উৎসের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তা জানান, প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বিতরণের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে। এদিকে, এই বিষয়ে মন্তব্য করতে ইরান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশন, মার্কিন অর্থ বিভাগ এবং লেবানন সরকার অবিলম্বে কোনো সাড়া দেয়নি।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে হিজবুল্লাহকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে তেহরান। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ১০ মাসে হিজবুল্লাহকে প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার দিয়েছে ইরান। যদিও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে হিজবুল্লাহকে অর্থায়নের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করে না। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%