বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
১১:২২ পি.এম
পাবনার চাটমোহরে ভোজ্য তেল, কস্টিক সোডা, চিনি, জেলিসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল দুধ। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে চাটমোহর পৌর সদরে নকল এই দুধ বাজারজাত করা হচ্ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরী পৌর সদরের মধ্য শালিখা মহল্লার ঘোষ বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ৩০০ লিটার ভেজাল ও নকল দুধ জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় সুমন ঘোষ (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে প্রশাসন। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। দন্ডপ্রাপ্ত সুমন ঘোষ মধ্য শালিখা মহল্লার মিষ্টি ও ঘি ব্যবসায়ী অমল চন্দ্র ঘোষের ছেলে। এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে অমল ঘোষ, তার স্ত্রী ও ছেলে গোপনে ভেজাল ঘি ও দুধ তৈরি করে আসছেন।
চাটমোহর পৌরসভার সেনেটারি ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদ দুলাল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযানের সিদ্ধান্ত নেন। বুধবার রাতে অভিযানে সংশ্লিষ্ট বাড়িটি ঘিরে ফেলার পর সেখানে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ প্রস্তুতকৃত দুধ পাওয়া যায়। উদ্ধার করা হয় দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ। এর মধ্যে ছিল জেলি, ভোজ্য তেল, চিনি, কস্টিক সোডাসহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য। এসব উপকরণ মিশিয়ে কৃত্রিমভাবে দুধের মতো তরল নকল দুধ তৈরি করা হচ্ছিল। পরে তা বাজারে সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। ঘটনাস্থলেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, "জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা বরদাশত করা হবে না।" ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অবস্থান কঠোর। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল তার নির্বাচনী এলাকার বাজিতপুরে একটি কৃষি কলেজ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।
শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের একটি প্রস্তাবের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, 'আমি ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-৫ আসনের আব্দুল মান্নানের প্রস্তাবের সাথে আমার নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জ ৫-এ বাজিতপুরে একটি কৃষি কলেজ স্থাপনের লক্ষ্যে উনার প্রস্তাবের সাথে এই শব্দটি সংযুক্ত করা হোক। বাজিতপুর একটি কৃষি নির্ভর এলাকা। ওখানে রাস্তাঘাট নাই, কৃষি যন্ত্রপাতি সম্বন্ধে আমাদের এলাকার কৃষকরা কিছুই জানেন না। উপরে আসমান নিচে মাটি, কাঁধে জোয়াল হাতে কোদাল—এছাড়া তাদের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নাই।'
তিনি আরও বলেন,' এখানে প্রচুর পরিমাণ শাক সবজি, ধান, পাট সবকিছু আবাদ হয়। যদি একটি কৃষি কলেজ হয়, আমাদের কৃষক সন্তানরা, ছেলেরা যদি কৃষিতে শিক্ষিত হয়, তাহলে আবাদ বাড়বে, দেশের উন্নতি হবে, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। অতএব জরুরি ভিত্তিতে এই আব্দুল মান্নানের প্রস্তাবের সাথে আমি একাত্মতা পোষণ করে আমার এলাকায় একটি কৃষি কলেজ নির্মাণের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার চাঁড়ালডাঙ্গা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ৬ জন পুরুষকে ঠেলে পাঠানোর (পুশ-ইন) চেষ্টা করেছে। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে রহনপুর ইউনিয়নের ওই সীমান্তের ২১৬/এমপি পিলারের নিকটে এই ঘটনা ঘটে। বিজিবির প্রতিরোধের কারণে তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ১৬, বিজিবি নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম এক ক্ষুদে বার্তায় এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে রামদাসপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় ১২ ব্যাটালিয়নের শমসের নগর ক্যাম্পের সদস্যরা আন্তর্জাতিক পিলার ২১৬/এমপি পিলারের কাছ দিয়ে ৬ জন পুরুষকে বাংলাদেশী অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছিল। সেই সময় রামদাসপুর বিওপির টহল সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। সেখানে অনুপ্রবেশকারী ৬ জনকে ভারতীয় শূণ্য লাইনে অবস্থানরত শনাক্ত করা হয়। পরে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়। ১৬, বিজিবি নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, ওই ৬ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাধা প্রদানপূর্বক ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমানে সীমান্তে নজরদারী ও টহল জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জে একটি মানববন্ধন কর্মসূচিতে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে শহর বিএনপির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মো. মিন্টু শেখকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে জেলা বিএনপি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে একটি মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার পর ওই স্লোগান দেন মিন্টু শেখ। পরে তার স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্বশীল দলীয় পদে থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় স্লোগান দেওয়ার বিষয়টিকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ কারণে তাকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা বিএনপির পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, মিন্টু শেখ একটি মানববন্ধনে বক্তব্য শেষে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, বিএনপির দায়িত্বশীল পদে থেকে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতিত ও নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দলীয় স্লোগান দেওয়ায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক তানভীর মাহমুদ পলাশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর মান্দায় মেয়ে শিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের নামে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বিশেষ বরাদ্দের প্রায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আখতার জাহান সাথীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। কাগজে কলমে দুই দিনের পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ ও বড় অঙ্কের ভাতার হিসাব দেখানো হলেও বাস্তবে তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। একদিনেই দায়সারাভাবে প্রশিক্ষণের প্রকল্প হরিলুট করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভাতার টাকা না দিয়ে একটি স্যানিটারি প্যাড ও সামান্য নাস্তা দিয়েই বিদায় করা হয়েছে।
২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের (এডিপি)-র বিশেষ বরাদ্দ থেকে ৬৪ জন শিক্ষার্থী এবং ৪ জন প্রশিক্ষকের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ২৭৮ টাকা। বাজেটের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য দৈনিক ১,৫০০ টাকা হারে ২ দিনে ৩,০০০ টাকা পাওয়ার কথা। ৪ জন প্রশিক্ষকের প্রত্যেকের জন্য দৈনিক ৩,০০০ টাকা হারে ২ দিনে ৬,০০০ টাকা হিসাবে মোট ২৪,০০০ টাকা পাবে। অথচ কাগজে কলমে পূর্ণ উপস্থিতি দেখিয়ে সব জায়েজ করেছেন।
১৫ জুন আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নথি-কলমে শতভাগ উপস্থিতি দেখানো হলেও বাস্তবে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা কেউ কোন ভাতা পাননি অথচ ভুয়া স্বাক্ষর করে ২ দিন প্রশিক্ষণের পুরো ৬০ শিক্ষার্থীর টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষিকা পারভীন বেগম বলেন, "আমার প্রতিষ্ঠান থেকে ৩ জন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণে গিয়েছিলাম। তারা দুপুরের খাবার ছাড়া কোনো ভাতা দেওয়া হয়নি।" বিদ্যামাধুরী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভারতী রানী জানান, "শিক্ষার্থীদের কোন ভাতা দেওয়া হয়নি। তাদের হাতে খাবার প্যাকেট ও স্যানিটারি প্যাড দেখেছি। আর যাতায়াতের জন্য ১ হাজার টাকা খরচ দেওয়া হয়েছে।"
প্রশিক্ষক হিসাবে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. জয়নাল আবেদিন জানান, "১৫ জুন ১ দিনের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমি ১ দিনের ভাতা হিসেবে ৩ হাজার টাকা পেয়েছি। বাজেট অনুযায়ী ২ দিনের জন্য ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও ৪ জন প্রশিক্ষককে ১ দিনের ভাতা হিসেবে মোট ১২ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।" এ ব্যাপারে মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আখতার জাহান সাথীর বলেন, "শিক্ষার্থীদের নগদ ভাতা না দিয়ে স্যানিটারি প্যাড এবং খাবার দেওয়া হয়েছে। তবে কোন ভাতা দেওয়া হয়নি। ভাতার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কিছু খরচ দেওয়া হয়েছে।" তবে সরকারের নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ভুয়া স্বাক্ষর ও জাল বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি টাকা আত্মসাতের এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। সচেতন মহল পুরো বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ