ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

না জানিয়ে তৃতীয় দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশের ৩ গোয়েন্দা কর্মকর্তা


না জানিয়ে তৃতীয় দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশের ৩ গোয়েন্দা কর্মকর্তা

ভারতে বাংলাদেশের তিনটি মিশনে কর্মরত একটি গোয়েন্দা সংস্থার তিন কর্মকর্তা অভিযোগ উঠেছে যে, তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মিশন থেকে অন্য দেশে চলে গেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই মিশন থেকেও একটি গোয়েন্দা কর্মকর্তা তৃতীয় দেশে চলে গেছেন। এই চার কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করেননি।

চার কর্মকর্তার মধ্যে সর্বশেষ গত জুলাইয়ে নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ফিল্ড অফিসার আশরাফ হোসেন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এর আগে নয়াদিল্লি, কলকাতা ও দুবাই মিশন থেকে তিন কর্মকর্তা অন্য দেশে চলে যান। তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে সরকারের কাছে এখনও সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। কূটনৈতিক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে একাধিকবার হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। তবে উপহাইকমিশনার প্রীতি রহমান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন: সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের এগিয়ে নেবে স্বপ্নবুনন

সূত্রে জানা গেছে, চার কর্মকর্তা ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) বিভিন্ন পদে ছিলেন। এ ঘটনায় সরকার বিব্রত হয়ে পড়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের কনসুলার শাখায় কর্মরত আশরাফ হোসেন সপরিবারে বাংলাদেশে ফেরার কথা বলে মিশন ত্যাগ করেন। তাঁর বাংলাদেশে ফেরার জন্য টিকিটও করা হয়েছিল এবং তিনি মিশন থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেন। কিন্তু পরে তিনি বাংলাদেশে না ফিরে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না এবং তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রিপোর্টও করেননি।

কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, আশরাফ হোসেনের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লি মিশনের দেওয়া নোট ভারবাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেলেন এবং তাঁর নামে মিশন থেকে কিভাবে নোট ভারবাল দেওয়া হলো, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মিশনের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সুযোগ সীমিত বলে কূটনীতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, একইভাবে নয়াদিল্লি হাইকমিশনের উপপরিচালক (ডিডি) নাসিরউদ্দিনও যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তিনি ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দিল্লির হাইকমিশন থেকে দেশে ফিরে আসেন। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগ না দিয়ে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তাঁর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার ক্ষেত্রেও নয়াদিল্লি মিশনের কনসুলার শাখার মাধ্যমে নোট ভারবাল দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চাকরি দেবেন এ্যানি

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো কর্মকর্তা তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মিশনের নোট ভারবাল দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস ভিসাপ্রক্রিয়ায় মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ফলে নয়াদিল্লি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া দুই কর্মকর্তার ক্ষেত্রে কিভাবে নোট ভারবাল দেওয়া হয়েছিল এবং এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমোদন কিভাবে এসেছিল, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

কলকাতা ও দুবাই থেকেও দেশত্যাগের খবর এসেছে। কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনে কর্মরত মাহমুদুল হাসান পলাশও দেশত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। সূত্রের দাবি, ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তিনি লন্ডনে চলে যান। পরে সেখান থেকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে আয়োজিত শেখ হাসিনার একটি অনলাইন সংবাদ সম্মেলনেও তিনি বক্তব্য দেন। ছাত্রজীবনে তিনি বুয়েটে ছাত্রলীগের পদধারী ছিলেন।

এ ছাড়া দুবাই মিশনে কর্মরত যুগ্ম পরিচালক বদরুল ইসলাম ৫ আগস্টের পর দুবাই থেকে অন্য দেশে চলে যান বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রের মতে, কনসুলার শাখা বিদেশে মিশনের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ। ভিসা, কনসুলার সেবা, বিভিন্ন সরকারি যোগাযোগ ও নথিপত্র নিয়ে এ শাখায় কাজ হয়। ফলে এ শাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দেশত্যাগের প্রক্রিয়া এবং তাঁদের তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে মিশন থেকে নোট ভারবাল দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: হাফেজ্জী চ্যারিটেবলের উদ্যোগে অসহায় শহিদকে রিকশা উপহার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিনেসোটা: অভিবাসন অভিযানে মন্তব্য করায় ৭ বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ এম


মিনেসোটা: অভিবাসন অভিযানে মন্তব্য করায় ৭ বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সাত ফেডারেল বিচারকের বিরুদ্ধে বিচারিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে দেশটির বিচার বিভাগ। এই অভিযোগটি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) করা হয়, যা গত শীতের ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান নিয়ে সংবাদমাধ্যমে তাদের দেওয়া বক্তব্যের ফলস্বরূপ।

বিচার বিভাগের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, বিচারকেরা নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গত শীতের ‘মেট্রো সার্জ’ অভিযানের সময় আদালতে তৈরি হওয়া চাপ এবং অভিবাসনসংক্রান্ত বিপুলসংখ্যক মামলার অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই বিচারকদের মধ্যে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের প্রেসিডেন্টের মনোনীত বিচারক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

বিচার বিভাগের দাবি, চলমান বা আদালতের সামনে থাকা মামলাগুলো নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা এবং রাজনৈতিক বা নীতিগত বিষয়ে বিচারকদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নৈতিক বিধিনিষেধ রয়েছে। তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে বিচারকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেও অভিযোগ করেছে বিভাগটি।

মিনেসোটার ওই সাত বিচারককে অভিবাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বলা হয়েছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ দাবি করেছেন, সংবাদমাধ্যমে বিচারকদের বক্তব্যে পক্ষপাতের প্রকাশ ঘটেছে। তাঁর মতে, এ কারণে ওই বিচারকদের সংশ্লিষ্ট মামলায় বিচারক হিসেবে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগটি অষ্টম ফেডারেল আপিল আদালতের প্রধান বিচারকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা বিচারকদের মধ্যে প্যাট্রিক শিল্টজের বক্তব্য বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। গত জানুয়ারিতে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ কর্তৃপক্ষ প্রায় ১০০টি আদালতের আদেশ মানেনি।

একটি রায়ে শিল্টজ বলেছিলেন, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। পরে নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, গত শীতে মিনেসোটার ফেডারেল আদালতে যা ঘটেছে, তা আইনের শাসনের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছিল। উল্লেখ্য, শিল্টজকে সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ বিচারক হিসেবে মনোনীত করেছিলেন।

তবে মিনেসোটা ফেডারেল আদালতের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আইন বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে সংবাদমাধ্যমে কথা বলার সময় বিচারকেরা তাদের ওপর প্রযোজ্য নৈতিক বিধির মধ্যেই ছিলেন। শিল্টজও নিজের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার মন্তব্য কোনো নৈতিক বিধি লঙ্ঘন করেনি। তাঁর দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিচারিক আচরণবিধি–সংক্রান্ত একটি পরামর্শে বলা হয়েছে, বিচারকেরা আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন। তিনি ঠিক সেটিই করেছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেডারেল আদালতের সঙ্গে বিচার বিভাগের টানাপোড়েন এর আগেও দেখা গেছে। প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কিছু পদক্ষেপ আদালত স্থগিত করেছে। আবার কিছু উচ্চপর্যায়ের ফৌজদারি মামলাও আদালতে বাধার মুখে পড়েছে।

মার্কিন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে কিছু বিচারককে ‘প্রশাসনের নীতির পথে বাধা’ হিসেবে সমালোচনা করে আসছে। তবে সমালোচিত কিছু সিদ্ধান্ত আবার ট্রাম্প ও অন্যান্য রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের মনোনীত বিচারকদের কাছ থেকেও এসেছে।

নতুন অভিযোগের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও ফেডারেল বিচার বিভাগের মধ্যে চলমান টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্যে এসেছে।

সূত্র: দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইসিসির বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ এম


আইসিসির বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় আদালতটির পাশাপাশি এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির সঙ্গে ব্যবসা বা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে আদালতের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এক ইউরোপীয় কূটনীতিক দ্য টাইমসকে জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ যুদ্ধাপরাধের বিচার সমর্থনকারী ব্যক্তিদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। আইসিসির সমর্থকদের মধ্যে কেউ কেউ চিন্তিত যে, ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আদালতের কার্যক্রমকে দুর্বল করে দিতে পারে। তবে এটি এখনও শুধুমাত্র আশঙ্কা ও রাজনৈতিক মূল্যায়নের পর্যায়ে রয়েছে; আদালত বন্ধ হয়ে যাবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনও গৃহীত হয়নি।

এর আগে, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প আইসিসির কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের (ওএফএসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালেও আইসিসি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

অগাস্টে আইসিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আদালতের ১৮ বিচারকের মধ্যে ৯ জন, দুই উপ-প্রসিকিউটর, সাবেক প্রসিকিউটর ও একজন কর্মী রয়েছেন। আদালত এসব নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেছে, এগুলো আদালতের স্বাধীন বিচারিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতির খবরের মধ্যে আইসিসি মার্কিন চাপের সম্ভাব্য প্রভাব কমানোর জন্য নিজেদের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতটি ১ অক্টোবর থেকে ফরাসি বীমা প্রতিষ্ঠান এএক্সার সঙ্গে স্বাস্থ্যবীমা চুক্তি শেষ করেছে এবং নতুন একটি বীমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে।

আইসিসি নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক আদালত, যা গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও আগ্রাসনের মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আদালটির এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে ইউরোপের কয়েকটি দেশ আইসিসির প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। তথ্যসূত্র: তাস, দ্য টাইমস, রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৯ এম


তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ।

মন্ত্রী শুক্রবার (২ অক্টোবর) এক শোকবার্তায় বলেন, তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন বাংলাদেশের অনলাইন সংবাদমাধ্যমের অন্যতম পথিকৃৎ। দেশের গণমাধ্যমের বিকাশ ও আধুনিক অনলাইন সাংবাদিকতার প্রসারে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যু দেশের গণমাধ্যম জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

তথ্যমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এর আগে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার (বাংলাদেশ সময়) দিকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজর-সবজির স্যুপের পাত্রে মিলল মডেলের খুলি, আদালতে রোমহর্ষক বর্ণনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ এম


গাজর-সবজির স্যুপের পাত্রে মিলল মডেলের খুলি, আদালতে রোমহর্ষক বর্ণনা

হংকংয়ের মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাবি চোই হত্যার বিচার চলাকালে আদালতে নৃশংস হত্যার ভয়াবহ বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর অ্যাবির দেহকে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়।

পরে গাজর ও অন্যান্য সবজি দিয়ে রান্না করা স্যুপের একটি বড় পাত্রে তার খুলি পাওয়া যায়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত তার সাবেক স্বামীসহ তিনজন আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি নিয়ে বিরোধের জেরে অ্যাবিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে প্রসিকিউশনের। ২৮ বছর বয়সী এই মডেল ২১ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হন। তিন দিন পর হংকংয়ের তাই পো এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলায় অ্যাবির সাবেক স্বামী অ্যালেক্স কোয়ং, সাবেক শ্বশুর কোয়ং কাউ এবং দেবর অ্যান্থনি কোয়ংকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বুধবার হংকংয়ের হাইকোর্টে তারা তিনজনই হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রসিকিউশনের দাবি, অ্যাবির সাবেক শ্বশুর কোয়ং কাউ তার দুই ছেলেকে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এর পেছনে মূল কারণ ছিল একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে বিরোধ।

হো ম্যান টিনের কাদোরিয়া আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ফ্ল্যাটটির মূল্য ছিল ৭ কোটি ২০ লাখ হংকং ডলার। ২০১৯ সালে অ্যাবি ৬ কোটি হংকং ডলারে ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। তার দুই সন্তান যেন তাদের বাবার পরিবারের দাদা-দাদির কাছে থাকতে পারে, সেই সুবিধার কথা বিবেচনা করেই তিনি ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক সম্পত্তির মালিকদের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত স্ট্যাম্প ডিউটি এড়াতে ফ্ল্যাটটি কোয়ং কাউয়ের নামে নিবন্ধন করা হয়েছিল। পরে অ্যাবি ফ্ল্যাটটি বিক্রি করতে চাইলে বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে।

আদালতে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের পর অ্যাবির দেহ খণ্ডিত করা হয়েছিল। তাই পো এলাকার ভাড়া বাসাটি কার্যত অস্থায়ী কসাইখানার মতো ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।

পুলিশ ওই বাসা থেকে মাংস কাটার যন্ত্র, বৈদ্যুতিক করাত ও পোশাক উদ্ধার করে। অ্যাবির খুলি গাজর ও অন্যান্য সবজিসহ একটি বড় পাত্রে পাওয়া যায়। তার দুই পা উদ্ধার করা হয় বাসাটির একটি ফ্রিজ থেকে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, রক্তের দাগ আড়াল করতে বাসার দেয়াল ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। দেহ খণ্ডিত করার সময় রক্ত যাতে পোশাকে না লাগে, সে জন্য মুখের ঢাল ও রেইনকোটও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে আদালতে জানানো হয়।

শুনানিতে অ্যাবির মায়ের কাছে পাঠানো একটি ব্যক্তিগত অডিও বার্তাও শোনানো হয়। সেখানে সাবেক শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন অ্যাবি। কোয়ং কাউকে ‘প্রতারক’ এবং তার স্ত্রীকে ‘ভূত’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রসিকিউশনের দাবি, অ্যাবি মনে করতেন, কোয়ং কাউ তার সঙ্গে এবং তার দুই সন্তানের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি সাবেক শ্বশুরকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেন। এরপর কোয়ং কাউকে তার বড় ছেলের সঙ্গে শুং ম্যান কোর্টের একটি এক শয়নকক্ষের ফ্ল্যাটে থাকতে হয়।

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাবির পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিল। তার নতুন সঙ্গী ক্রিস টামের পরিবারও ধনী ছিল। বিপরীতে, কোয়ং পরিবার তুলনামূলকভাবে কম সচ্ছল ছিল। প্রসিকিউশনের দাবি, সম্পত্তি ও অর্থসংক্রান্ত বিরোধই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।

অ্যাবি চোই একটি সচ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠেন। ১৮ বছর বয়সে অ্যালেক্স কোয়ংকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে দুই সন্তান ছিল। পরে বিচ্ছেদ হলেও সাবেক স্বামীর পরিবারের সদস্যদের আর্থিকভাবে সহায়তা করতেন অ্যাবি।

পরবর্তী সময়ে নতুন সঙ্গীর সঙ্গে তার আরও দুই সন্তান হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফ্যাশন শো, ফটোশুট ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের ছবি প্রকাশের মাধ্যমে পরিচিতি পান তিনি। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও প্যারিস ফ্যাশন উইকে ক্রিশ্চিয়ান ডিওরের একটি শোতে অংশ নেওয়ার ছবি প্রকাশ করেছিলেন এই মডেল।

এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, অ্যাবির দেহের কিছু অংশ হয়তো ফেলে দেওয়া হয়েছিল। দেহের সব অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলেও ধারণা প্রকাশ করেছিলেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অ্যাবি চোই হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আরও আট সপ্তাহ চলতে পারে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে প্রসিকিউশন তাদের বক্তব্য উপস্থাপন অব্যাহত রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%