১২:৩৮ পি.এম
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। তাঁরা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা প্রতিরোধে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতার তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানী তেল আবিবের ‘হোস্টেজেস স্কয়ার’ নামে পরিচিত স্থানে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গাজায় যুদ্ধের পর এটি ইসরায়েলের প্রথম সাধারণ নির্বাচন।
‘অক্টোবর কাউন্সিল’ নামের একটি সংগঠন এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি এবং সাবেক জিম্মিদের নিয়ে সংগঠনটি গঠিত হয়েছে। হামলার পূর্বে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে আসছেন।
আরও পড়ুন: সুষ্ঠু নির্বাচনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছে জামায়াত: রুহুল কবির রিজভী
বিক্ষোভের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অক্টোবর কাউন্সিল জানায়, নির্বাচনের তিন দিন আগে তাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাঁদের মূল দাবি হলো সত্য উদ্ঘাটন, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন।
ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অন্যান্য স্থানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভও হয়েছে। তেল আবিবের সমাবেশে বিরোধী দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট এবং ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান উল্লেখযোগ্য।
আইজেনকোটকে সমাবেশে স্বাগত জানিয়ে সমর্থকেরা ‘পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’ বলে স্লোগান দেন। তবে বিক্ষোভের মূল দাবি ছিল ৭ অক্টোবরের হামলার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দেখা যাচ্ছে। তবে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষ পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘বাবাকে হত্যা করতে চাইছে’ : ইমরান খানের ছেলের সতর্কবার্তা
বিক্ষোভের আগে সমাবেশে বাধা সৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলা ঘটানোর আশঙ্কার কথা পুলিশকে জানিয়েছিল অক্টোবর কাউন্সিল। সংগঠনটির দাবি, ক্ষমতাসীন জোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি সমাবেশে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করতে পারেন বলে তারা সতর্কবার্তা পেয়েছিল। এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনারের কাছে জরুরি চিঠিও পাঠানো হয়।
নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকার একটি তদন্ত কমিশনের প্রস্তাব দিয়েছে, যার অর্ধেক সদস্য নিয়োগ করবে সরকার এবং বাকি সদস্যদের নিয়োগ দেবেন বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা।
বিরোধী নেতারা জানিয়েছেন, রাজনীতিবিদদের নিয়োগ দেওয়া কোনো তদন্ত কমিশনে তাঁরা অংশ নেবেন না। তাঁদের দাবি, ৭ অক্টোবরের হামলার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা অনুসন্ধানে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
আরও পড়ুন: দিল্লির রেসকোর্স মসজিদে নামাজ বন্ধ করল সরকার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন