ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রেকর্ড দাবদাহে ইউরোপজুড়ে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা


রেকর্ড দাবদাহে ইউরোপজুড়ে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা

ইউরোপজুড়ে নজিরবিহীন দাবদাহে প্রাণহানি বাড়ছে। একের পর এক তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দেশটিতে মাত্র তিন দিনে এক হাজারের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। চরম গরমের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অবকাঠামো এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চাপে রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া এমন তাপপ্রবাহের ঘটনায় ঘটানো সম্ভব নয়।

২০ জুন থেকে শুরু হওয়া তীব্র তাপপ্রবাহ এখন জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য সংস্থার প্রদেয় তথ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে এক হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত মৃত্যু ঘটেছে। প্রতিদিনের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনে, যেখানে এপ্রিল ও মে মাসে গড়ে প্রতিদিন মৃত্যু ছিল ৯০০ থেকে ১ হাজার।

বিশেষত প্যারিস অঞ্চলের ইল-দ্য-ফ্রান্স, ব্রিটানি ও নরম্যান্ডিতে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। হাসপাতাল, নার্সিং হোম এবং বাসা-বাড়িতেও উল্লেখযোগ্যভাবে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

এখন জার্মানিতেও টানা তৃতীয় দিনের মতো জাতীয় তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। ব্রান্ডেনবুর্গে তাপমাত্রার পারদ উঠে গেছে ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। স্যাক্সনিতে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে রেললাইনের জোড়া প্রসারিত হয়ে যাওয়ার কারণে লাইপজিগে ট্রাম চলাচল সাময়িক বন্ধ করতে হয়েছে। পাশাপাশি, হ্রদ ও নদীতে গোসল করার ফলে কয়েকদিনে কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। কিছুটা স্বস্তির সন্ধানে মানুষ ছুটছে ফোয়ারা, ক্যাফে অথবা লেকের ধারে। হাঙ্গেরির বুদাপেস্টেও ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস গরমে বাসিন্দারা অস্থায়ী কুলিং স্টেশন ও পানির স্প্রে ব্যবহার করছেন।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। ইতালির রাজধানী রোমসহ ২২টি শহরে সর্বোচ্চ 'রেড হিট অ্যালার্ট' জারি রয়েছে, তবুও ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে পোপের প্রার্থনায় হাজার হাজার ক্যাথলিক অংশগ্রহণ করছেন। তারা গরমের বিরুদ্ধে মোকাবিলার জন্য ছাতা, টুপি এবং হাতপাখার সাহায্য নিচ্ছেন।

বিজ্ঞানীরা সতর্কবার্তা দিচ্ছেন যে, চলতি তাপপ্রবাহ ইউরোপের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন, অবকাঠামোর ক্ষতি, দাবানলের ঝুঁকির বৃদ্ধি এবং হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত রোগী নিয়েই হিমশিম খাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের গতির বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এমন তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাতিজা হত্যা মামলায় চাচার সর্বোচ্চ সাজা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ পি.এম


ভাতিজা হত্যা মামলায় চাচার সর্বোচ্চ সাজা

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে মুক্তিপণের দাবিতে ভাতিজাকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে আদালত আপন চাচার মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে, অপহরণ ও মরদেহ গুমের অভিযোগে তাকে আরও দুটি ধারায় কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ ন ম ইলিয়াস এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি মো. নুরনবী, যিনি গোপালপুর উপজেলার নবধূলটিয়া গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে, সেখানে আদালতে উপস্থিত ছিলেন রায় ঘোষণার সময়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও, অপহরণের দায়ে নুরনবীকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নিহতের মরদেহ গুমের দায়ে বিচারক তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকার জরিমানা করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি ওমরাও খান দিপু জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর মুক্তিপণের দাবিতে গোপালপুরের নাসির উদ্দিনের নাতি কে এম রাহেনুল ইসলাম আরাফকে কয়েকজন সহযোগিতায় অপহরণ করেছিলেন তার চাচা নুরনবী। এর ফলে ১১ অক্টোবর নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে গোপালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পরের দিন কালিয়াকৈর এলাকা থেকে শিশু আরাফের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষে, গত বছরের ২৭ মে গোপালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন ভূঁইয়া আদালতে আসামি নুরনবীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণের পর বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্কুল মাঠে মেলা, পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ: বরিশালের দুই কেন্দ্রের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

*স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল*

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫০ পি.এম


স্কুল মাঠে মেলা, পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ: বরিশালের দুই কেন্দ্রের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে

*স্কুল মাঠে মেলা, পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ: বরিশালের দুই কেন্দ্রের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে*

আগামী ২ জুলাই থেকে দেশব্যাপী একযোগে শুরু হচ্ছে এইচএসসি (বিএম/ভোকেশনাল) ও আলিম পরীক্ষা। এ অবস্থায় বরিশাল নগরীর পরেশ স্কুল মাঠে চলমান মাসব্যাপী মেলাকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, মেলার কারণে সৃষ্ট শব্দদূষণ ও জনসমাগমের প্রভাব পড়তে পারে পার্শ্ববর্তী পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর পরীক্ষার্থী এবং আশপাশের শিক্ষার্থীদের ওপর।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মেলা প্রাঙ্গণের পাশেই অবস্থিত বরিশাল সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং আলেকান্দা সরকারি কলেজ—যেখানে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া আশপাশে আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা থাকায় পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, মেলা চলাকালে উচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহার, বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম এবং দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে শিক্ষার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে বিঘ্নের মুখে পড়ছে। তাদের আশঙ্কা, পরীক্ষা চলাকালেও একই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পরীক্ষার্থীদের মনোযোগ ও স্বাভাবিক পরিবেশে পরীক্ষা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

মেলা-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত মাইকের উচ্চ শব্দ ও কোলাহল চলায় বাসাবাড়িতে অবস্থানরত পরীক্ষার্থীরাও মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে। তারা দ্রুত পরিস্থিতির সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।

এ বিষয়ে এক অভিভাবক শাহিদা আক্তার সাথী বলেন,
"সামনেই শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এই সময়ে স্কুল মাঠে মেলা চালু থাকায় সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত মেলা বন্ধ বা শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেলা-সংলগ্ন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক বলেন,
"পরীক্ষার সময় শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।"

স্থানীয়দের মতে, গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা কেন্দ্রের নিকটবর্তী স্থানে দীর্ঘমেয়াদি মেলা বা উচ্চ শব্দসৃষ্টিকারী অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে যথাযথ পরিকল্পনা ও পরিবেশগত বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনের বক্তব্য জানতে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে লিখিতভাবে যোগাযোগ করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় ৫৮ হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় ৫৮ হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের ফলে ৫৮ হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কিংবা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা প্রকাশিত স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী এই তথ্য উঠে এসেছে।

৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে অন্তত ১ হাজার ৭০০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটির তথ্য জানাচ্ছে।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার উচ্চ রেজোলিউশনের রাডার চিত্রগ্রহণকারী স্যাটেলাইট ‘সেন্টিনেল-১’-এর তথ্যের বরাত দিয়ে ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কোরি শের এবং জ্যামন ভ্যান ডেন হুক উল্লেখ করেন যে, ভূমিকম্পের পরদিন ২৫ জুন সংগৃহীত স্যাটেলাইট রাডার তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথবা ধ্বংস হয়েছে।

গবেষকদের মতে, ‘এটি একটি প্রাথমিক ও দ্রুত মূল্যায়ন। এতে ভূপৃষ্ঠের আকস্মিক পরিবর্তনের যে চিত্র পাওয়া গেছে, তা ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

তারা আরও বলেন, এই সংখ্যাকে শুধুমাত্র একটি প্রাথমিক সূচক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। কারণ, ঘটনাস্থলে গিয়ে এখনও এর সত্যতা যাচাই করা হয়নি।

এদিকে, জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রড্রিগেজ সোমবার জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৮৫৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৮৯টি ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।

নাসা জানিয়েছে, তাদের স্যাটেলাইটগুলো গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি ও তথ্যের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের দলগুলো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে এবং ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দখল ও দূষণে বিপন্ন গাইবান্ধার ঘাঘট-আলাই নদী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ পি.এম


দখল ও দূষণে বিপন্ন গাইবান্ধার ঘাঘট-আলাই নদী

একসময় যে নদী দিয়ে বড় বড় সওদাগরি নৌকা চলাফেরা করতো, সেই ঘাঘট ও আলাই নদী বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। দখল ও দূষণের ফলে নদী দুটি এখন সরু খালে পরিণত হয়ে গেছে।

নদীর পানি এতটাই দূষিত হয়েছে যে, এটি এখন মশার প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে রূপ নিয়েছে। মরা ঘাঘটকে নান্দনিক লেকে রূপান্তরের জন্য সরকারি উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, কিন্তু তা এখন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে। বর্তমানে নদী ও খাল খনন কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় বাসিন্দারা নদী দুটিকে দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন।

সরকারি মানচিত্র অনুযায়ী গাইবান্ধার একসময়ের খরস্রোতা নদী ছিল ঘাঘট। এ নদী দিয়েই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে নৌপথে ব্যবসাবাণিজ্য চলতো। নব্বইয়ের দশকে, জেলা শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য শহরের উত্তর প্রান্তে লুপ কাটিং করে মূল প্রবাহ ঘুরিয়ে দেয়া হয়। এরপর শহরের ভেতরের প্রায় ৪ কিলোমিটার অংশ মরা ঘাঘটে পরিণত হয়।

দখল ও দূষণের কারণে নদীটি এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে। ময়লা-আবর্জনাসহ কচুরিপানার স্তূপ নদীর বুককে ভরাট করে ফেলেছে। নদীর চারপাশে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। নদীর বুক চিরে তৈরি হয়েছে একের পর এক পাকা ভবন। শহরের সব ড্রেনেজ লাইন এবং হাটবাজারের বিষাক্ত বর্জ্যের জন্য নদীটি শেষ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। পানির রং কুচকুচে কালো হয়ে গেছে এবং সেখানে মাছসহ কোনো জলজ প্রাণীও নেই। নদীটি এখন রোগব্যাধি ছড়ানোর একটি কারখানায় পরিণত হয়েছে।

গাইবান্ধা পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল হক জনি জানান, মরা ঘাঘট নদীকে একটি দৃষ্টিনন্দন লেক হিসাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ প্রশাসন নিয়েছিল। কিন্তু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হওয়ায় কাজটি মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে দুটি ব্রিজ ও কিছু কাজ করে সেই মহাপরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়েছে।

জেলা শহরের পাশে বয়ে চলা আলাই নদীরও একই অবস্থা। শহরের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা ঘাঘট নদী থেকে উৎপন্ন আলাই নদীটি শহরের অংশে প্রায় ৩ কিলোমিটার এবং মোট ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ। নদীটির অস্তিত্ব এখন শুধুমাত্র সরকারি ম্যাপ ও খাতা-কলমে বিদ্যমান। বাস্তবচিত্র অনুযায়ী সেখানে আবাদি জমি এবং অধিকাংশ স্থানে স্থায়ী বাড়িঘর গড়ে উঠেছে। একসময়ের উত্তাল এই নদী বর্তমানে দূষণ ও দখলদারদের থাবায় মরা খালে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযান ও নদী খননের ঘোষণা বারবার এলেও তা কার্যকর হয়নি। বর্তমান সরকারের নদী ও খাল পুনঃখননের চলমান কার্যক্রমের আওতায় তারা এই নদী দুটির খনন চান।

ঘাঘট পাড়ের বাসিন্দা গোলাম হোসেন বলেন, 'শহরের বর্জ্য ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এ নদীটি এখন রোগব্যাধি ছড়ানো ও মশার তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে।'

আরেক বাসিন্দা রনি মিয়া বলেন, 'নদীটিকে পরিকল্পিতভাবে খনন করা হলে এটি শহরের পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হবে। দু-পাড়ের পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় শহরের কোলজুড়ে বয়ে চলা নদী দুটির দখল ও দূষণ বন্ধে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, 'নদী দুটি রক্ষায় বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদসহ দূষণ বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%